
প্রত্যাখান
শত তরুণীর স্বপ্নকে হেলায় ঠেলে দেওয়া আত্মবিশ্বাসী শুভ্রকে এক পলকেই প্রত্যাখান করে বসে শান্তশিষ্ট লাবণ্য। সেই অপমানের প্রতিশোধ আর নিয়তির কূটচালে যখন তারা অপ্রত্যাশিতভাবে এক ছাদের নিচে বাঁধা পড়ে, তখন কি অন্ধকার সত্যের পর্দা সরিয়ে ভালোবাসার আলো ফুটবে নাকি জমে থাকা বিদ্বেষ সবকিছু জ্বালিয়ে দেবে?
উপন্যাসটির প্রথম ১৫টি পর্ব সফলভাবে প্রকাশিত হয়েছে। শুভ্র ও লাবণ্যের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নিয়মিত পরবর্তী পর্বের আপডেট পেতে গল্পহাবে যুক্ত থাকুন।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
অহংকার বনাম আত্মসম্মানের সংঘাত
বারংবার প্রত্যাখানের মানসিক আঘাত কীভাবে একজন আত্মবিশ্বাসী পুরুষের মনকে তিক্ততায় রূপ দেয়।
পারিবারিক চক্রান্ত ও গোপন সত্য
দুই পরিবারের মান-সম্মানের আড়ালে গড়ে ওঠা এক বাধ্যবাধকতার বিয়ের জটিল সমীকরণ।
বিবেকের দহন ও প্রেমের পুনর্জাগরণ
এক নির্মম ভুল বোঝাবুঝির অবসান এবং চোখের জলের মধ্য দিয়ে অপরাধবোধ থেকে খাঁটি ভালোবাসার উত্তরণ।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5শুভ্র
নায়ক (Male Lead)আত্মবিশ্বাসী, অভিমানী ও পরিবারের অনুগত তরুণ। প্রথম দেখায় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ক্ষতে অন্ধ হয়ে সত্য জানার আগেই লাবণ্যের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণে লিপ্ত হয়।
লাবণ্য
নায়িকা (Protagonist)রূপবতী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ধীরস্থির তরুণী। অতীতে ঘটে যাওয়া এক তিক্ত স্মৃতি ও হীনমন্যতার কারণে শুভ্রর ভালোবাসাকে বারবার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
হেনা ভাবি
সহায়ক চরিত্র (Sister-in-law)লাবণ্যের বড় ভাইয়ের স্ত্রী। স্পষ্টভাষী, প্রতিবাদী এবং লাবণ্যের সুখ-দুঃখের একমাত্র নির্ভরযোগ্য অভিভাবক।
শুভ্রর মা
সহায়ক চরিত্র (Mother)স্নেহময়ী কিন্তু দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব। লাবণ্যের অতীত জানা সত্ত্বেও মমতার ছায়ায় তাকে পুত্রবধূ করার কূটকৌশল সফল করেন।
আশা
সহায়ক চরিত্র (Sister)শুভ্রর প্রাণচঞ্চল ছোট বোন, যে বাড়ির প্রতিটি খুশির মুহূর্তকে হাসিখুশি ও আড্ডায় ভরিয়ে রাখে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
15 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: প্রত্যাখ্যান ও অনুশোচনা
অহংকারের আঘাত, বারবার প্রত্যাখ্যান, এক নাটকীয় বিয়ে এবং গোপন অতীত প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুভ্র ও লাবণ্যের সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েন।
অহংকারের পতন
এক অতি সাধারণ তরুণীর কাছ থেকে আসা অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখানের ধাক্কা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না অহংকারী শুভ্র। কৌতূহল মেটাতে এবং মেয়ের ছবি ফিরিয়ে দিতে গিয়ে যখন শুভ্র তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন লাবণ্যের গভীর চোখের মোহময় দৃষ্টি কি শুভ্রর জীবনের সমস্ত হিসাব-নিকাশ নিমেষেই ওলটপালট করে দেবে?
দূরত্বের মাঝে মায়াজাল
হৃদয়ের তীব্র টান অস্বীকার করতে না পেরে আবারও বিয়ের পয়গাম পাঠায় শুভ্র, কিন্তু এবারও মেলে নির্মম অস্বীকৃতি। ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাসে ঢাকার রাজপথে আবার দেখা হলে একই ছাদের তলায় শুরু হয় বসবাস। লাবণ্যের এই স্বেচ্ছানির্বাচিত মানসিক দূরত্বের পেছনে লুকিয়ে থাকা দ্বিধা কি শুভ্রর ব্যাকুলতাকে আরও উসকে দেবে?
নিঃশব্দ রাতের কান্না
দীর্ঘ ছয় মাসের বিদেশ সফর শেষে বাড়ি ফিরে এক অচেনা, নিস্তব্ধ লাবণ্যকে দেখে থমকে যায় শুভ্র। গভীর রাতে যখন চারপাশ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই ব্যালকনি আর বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসে চাপা কান্নার স্বর। ডায়েরি আঁকড়ে ধরে মেঝের ওপর মাথা ঠেকিয়ে কাঁদা লাবণ্যের এই যন্ত্রণার কারণ কি কোনো গোপন প্রেম, নাকি বুকের গভীরের কোনো না-বলা ক্ষত?
সংশয়ের বিষাক্ত ছায়া
রাতের কান্নার দৃশ্য শুভ্রর অন্তরে জন্ম দেয় তীব্র সংশয় ও অন্ধ অভিমান। লাবণ্যের চোখের নীরব আবেদন উপেক্ষা করে অফিসের ব্যস্ততার আড়ালে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সে। পরিবারের ভবিষ্যৎ যখন এক নতুন ফ্ল্যাটের ঠিকানায় বাঁধতে চলেছে, তখন তাদের দুই হৃদয়ের মাঝের দূরত্ব কি কোনো চিরস্থায়ী ফাটলের সূচনা করতে যাচ্ছে?
ঝড়ের পূর্বাভাস
রিকশার সংক্ষিপ্ত যাত্রায় ক্ষণিকের নীরব স্পর্শ আর চোখে চোখ রাখা মুহূর্ত শুভ্রর হৃদয়ে এক অজানা হাহাকার জাগিয়ে তোলে। কিন্তু সেই অনুভূতির রেশ কাটতে না কাটতেই আসে নরসিংদীর গ্রাম থেকে এক আকস্মিক জরুরি ডাক। পাত্রপক্ষ লাবণ্যকে দেখতে আসার খবর শুনে শুভ্র কি নিজের বুকচাপা যন্ত্রণাকে সামলে রাখতে পারবে?
অন্যায়ের মুখোমুখি
দুই সন্তানের জনক এক বিবাহিত পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে নিষ্পাপ লাবণ্যকে। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে পরিবারের জন্য লাবণ্য যখন সেই অসম প্রস্তাবে সম্মতি দিতে উদ্যত হয়, তখনই এক মহিলার বিষাক্ত বাক্যবাণে ফাঁস হয়ে যায় এক গোপন অতীত। কী সেই বিস্ফোরক তথ্য যা মুহূর্তে স্তব্ধ করে দিল পুরো বাড়িকে?
বিশ্বাসের চরম বিপর্যয়
“হ্যাঁ, আমি ডিভোর্সি”—লাবণ্যের এই একটিমাত্র স্বীকারোক্তি শুভ্রর পায়ের তলার মাটি কেড়ে নেয়। অতীতে পাওয়া প্রতারণার ক্ষতের সাথে মিশে যায় বর্তমানের তীব্র অন্ধ ঘৃণা আর চরম বিশ্বাসভঙ্গের জ্বালা। নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে এসেও মনকে শান্ত করতে না পেরে, ফোনের ওপারে থাকা লাবণ্যকে তিক্ত বাক্যে জর্জরিত করে শুভ্র কি নিজের দহন থামাতে পারবে?
ভেঙে যাওয়া আসর
বিয়ের আসরে তড়িঘড়ি করে অনুষ্ঠান শেষ করার চেষ্টার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক মারাত্মক প্রতারণার জাল। কনের সাজে প্রস্তুত লাবণ্যের জীবনে যখন আইনের হাত হানা দেয়, তখন বরযাত্রীদের আসল চেহারা খসে পড়ে নিমেষেই। বিয়ের মণ্ডপ থেকে পুলিশের গাড়িতে বরের প্রস্থান আর বাবার হার্ট অ্যাটাক—লাবণ্যের ভাগ্যে কি তবে কেবলই ধ্বংস লেখা?
এক সাজানো প্রহেলিকা
মায়ের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে বুকভরা আতঙ্ক নিয়ে কাজিনদের সাথে নরসিংদী ছুটে আসে শুভ্র। কিন্তু শোকের পরিবেশের বদলে সেখানে গিয়ে সে দেখে এক মহোৎসবের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন। মায়ের অদ্ভুত সুস্থতা আর পরিবারের সবার রহস্যময় হাসির পেছনে কোন অকল্পনীয় নাটক সাজানো রয়েছে, যার বিন্দুমাত্র আঁচও করতে পারছে না শুভ্র?
অনাকাঙ্ক্ষিত বিব্রতবোধ
কাদামাটিতে পা পিছলে পড়ে গিয়ে বিয়ের বাড়ির হাসির খোরাক বনে যায় পরিপাটি শুভ্র। বাধ্য হয়ে গায়ে জড়াতে হয় লুঙ্গি আর শুরু হয় কাজিনদের অবিরাম খুনসুটি ও টিপ্পনী। সেই চরম অপ্রস্তুত ও অস্বস্তিকর মুহূর্তে লাবণ্য যখন ভীরু পায়ে শার্ট-প্যান্ট নিয়ে সামনে দাঁড়ায়, তখন দুজনের অপলক দৃষ্টিতে কোন না-বলা কাঁপন বয়ে যায়?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
নিয়তির অদৃশ্য সুতো
অন্যের বিয়ের বাজার ভেবে লাল লেহেঙ্গা আর স্বর্ণালঙ্কার কিনে বাড়ি ফেরে শুভ্র, অথচ জানে না এই উপঢৌকনের নেপথ্যে কার নাম জড়ানো। উঠোনে পা রাখতেই কাজিনদের বালতিভর্তি পানির ঝাপটা আর দাদুর মুখে 'জামাই প্রস্তুত' টিপ্পনীতে কেঁপে ওঠে শুভ্রর হৃদয়। তবে কি নিজের অজান্তেই সে কোনো সুনিপুণ জালে জড়িয়ে পড়েছে?
অপ্রত্যাশিত বন্ধন
“লাবণ্যর বিয়েটা তোর সাথেই হচ্ছে”—মায়ের এই একটি বাক্যেই শুভ্রর মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। পরিবারের মান-সম্মান আর অভিভাবকদের জেদের কাছে নতিস্বীকার করে যখন বিয়ের আসরে কবুল বলতে বাধ্য হয় শুভ্র, তখন নতুন বউকে নিয়ে গাড়িতে ফেরার নিঃশব্দ যাত্রায় তাদের ভেতরে কোন উত্তাল দাবানল জ্বলছিল?
অন্ধকারের দীর্ঘ প্রহর
বাসর রাতের পুষ্পশয্যায় ভালোবাসার বদলে বিষাক্ত অপমানে লাবণ্যকে ক্ষতবিক্ষত করে শুভ্র। বছর গড়িয়ে যায়, লাবণ্য নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে সংসার সেবা করলেও স্বামীর মন পায় না। বছরের পর বছর জমে থাকা এই পাথরচাপা কষ্টের মাঝে হঠাৎ নরসিংদীতে এসে হেনা ভাবির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শুভ্র কোন অমোঘ সত্যের মুখোমুখি হতে চলেছে?
বিবেকের দহন
“মিথ্যে আপনি বরদাস্ত করেন না বলেই সেদিন সরে দাঁড়িয়েছিল লাবণ্য”—হেনা ভাবির এই স্বীকারোক্তি শুভ্রর বুক চিরে অনুশোচনার বন্যা বইয়ে দেয়। নিজের নিষ্ঠুরতার জন্য বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উন্মাদপ্রায় শুভ্র যখন ক্ষমা চাইতে বাড়ি ফেরে, তখন দেখে ঘর শূন্য! এই দুর্যোগপূর্ণ রাতে লাবণ্যকে খুঁজে পাওয়ার আকুলতা কি শুভ্রকে শান্ত করতে পারবে?
শ্রাবণের মেঘভাঙা আলো
রাতের অন্ধকারে মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে পিয়াদের বাড়ি পৌঁছে অধিকারবোধ ও ক্ষোভের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে শুভ্র। একা ভিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যখন নিজের ভুলের বোঝা বইছিল সে, তখনই ছাতা হাতে নিচে নেমে আসে লাবণ্য। বৃষ্টির জলে পুরোনো অভিমান ধুয়ে ফেলে ছাতা উড়িয়ে দেওয়ার এই দুরন্তপনা কি তাদের দূরত্ব ঘুচিয়ে নতুন করে এক সুতোয় বাঁধবে?
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রত্যাখান (Prottyakhan) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
প্রত্যাখান উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কারা?
প্রত্যাখান উপন্যাসের লেখিকা কে?
প্রত্যাখান উপন্যাস কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায় নাকি PDF ডাউনলোড করতে হবে?
প্রত্যাখান উপন্যাসের পরবর্তী পর্ব কবে আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ
রকমারি বেস্টসেলার: বইমেলা কালেকশন
পাঠকদের জন্য এই ঘরানার শীর্ষ ট্রেন্ডিং ও পছন্দের বইসমূহ সংগ্রহ করুন রকমারি থেকে