
তোমাতেই পূর্ণ আমি
অল্প বয়সে বিধবা হয়ে সমাজের লাঞ্ছনা ও অপবাদের শিকার হওয়া শ্রেয়সী ক্যাম্পাসে পা রাখতেই মুখোমুখি হয় প্রভাবশালী ছাত্রনেতা তূর্য চৌধুরীর কঠোর শাসনের। কিন্তু এই তীব্র ক্ষোভ আর রক্তচক্ষুর আড়ালে কি লুকিয়ে আছে কোনো গোপন চিরকুট প্রেমিকের নিভৃত প্রার্থনা? অতীতের বিষাক্ত ক্ষত পেরিয়ে এক নিঃস্ব নারী কি খুঁজে পাবে ভালোবাসার পরম আশ্রয়, নাকি অপয়া অপবাদের নির্মম বেড়াজালে হারিয়ে যাবে সব?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ২৯ পর্ব)। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই এখানে পড়তে পারবেন।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
গোপন চিরকুট প্রেম ও সুরক্ষার চাদর
সামনে না এসে কেবল চিরকুটের ভালোবাসায় কিশোরী শ্রেয়াকে আগলে রাখা এবং পরবর্তীতে আড়ালে থেকে তার সমস্ত বিপদ নিজের বুকে তুলে নেওয়ার রোমাঞ্চকর উপাখ্যান।
সামাজিক কুসংস্কার ও বিধবা নারীর লড়াই
স্বামীর মৃত্যুতেই একজন নারীর জীবনের সব অধিকার শেষ হয়ে যায় না—শ্রেয়ার লড়াই ও তূর্যর মর্যাদাপূর্ণ ভালোবাসা সমাজের তথাকথিত অপবাদের গালে এক চপেটাঘাত।
উন্মাদ অধিকারবোধ ও নিখাদ আত্মত্যাগ
তূর্যর হিংস্র পজেসিভনেস, আয়ুশের নীরব আত্মত্যাগ এবং সকল ভুল বোঝাবুঝি ভেঙে এক হয়ে ওঠার হৃদয়ছোঁয়া রোমান্টিক মহাকাব্য।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6শ্রেয়সী (শ্রেয়া)
নায়িকা (Protagonist)অল্প বয়সে বৈবাহিক নির্যাতন ও বৈধব্যের শিকার হওয়া এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণী। সমাজের নির্মম অপবাদ অগ্রাহ্য করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লড়াইয়ে অবিচল।
তূর্য চৌধুরী
নায়ক (Male Lead)বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী, তুখোড় ও রাশভারী সিনিয়র। বাহ্যিক কঠোরতা ও বদমেজাজের অন্তরালে শ্রেয়সীর প্রতি এক অতল, আত্মঘাতী ও পজেসিভ প্রেম ধারণকারী গোপন চিরকুট লেখক।
আহনাফ হাসান আয়ুশ
সহ-নায়ক (Supporting Lead)তূর্যর পরম বিশ্বস্ত বন্ধু। শ্রেয়াকে মনেপ্রাণে ভালোবেসেও বন্ধুর ভালোবাসার সম্মানে নিজের অনুভূতি বিসর্জন দেওয়া এক উদার ব্যক্তিত্ব, যে পরবর্তীতে প্রিয়ুর অনুরাগে সিক্ত হয়।
প্রিয়ু
নায়িকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী (Best Friend)শ্রেয়ার ছায়াসঙ্গী ও নির্ভীক সহায়িকা। হাসিখুশি ও স্পষ্টভাষী স্বভাবের এই মেয়েটি শ্রেয়ার বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় এবং আয়ুশের ভালোবাসায় নিজেকে সমর্পণ করে।
তোহাশ চৌধুরী ও আরিয়ানা
অভিভাবক ভ্রাতা ও ভাবি (Guardians)তূর্যর বড় ভাই ও ভাবি। প্রজ্ঞাবান, স্নেহশীল ও সহানুভূতিশীল এই দম্পতি তূর্য ও শ্রেয়ার ভাঙা হৃদয়কে জোড়া লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
মেহরিমা চৌধুরী ও অহমিকা
খলচরিত্র (Antagonists)তূর্যর স্বার্থপর বিমাতা ও তার দাম্ভিক ভাইঝি। পারিবারিক অহমিকা ও অর্থলিপ্সার কারণে তূর্য ও শ্রেয়াকে চিরতরে আলাদা করার কুচক্রী ষড়যন্ত্রকারী।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
29 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: শুভ্রপরী ও চিরকুট লেখকের প্রণয়
বৈধব্যের সামাজিক লাঞ্ছনা ও চরম দারিদ্র্যের মাঝে শ্রেয়সীর বেঁচে থাকার লড়াই, তূর্যর গোপন অনুরাগের আত্মপ্রকাশ এবং সকল দ্বিধা ভেঙে ভালোবাসায় পূর্ণতা পাওয়ার রোমাঞ্চকর আখ্যান।
কাঁদা মাখা সংঘাত
ক্যাম্পাসে বিধবা অপবাদের গ্লানি বুকে চেপে হাঁটা শ্রেয়সীর সাদা পোশাকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বিলাসবহুল গাড়ির কাঁদা। অহংকারী সিনিয়র তূর্য টাকার দাপট দেখালে ইটের আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে জবাব দেয় শ্রেয়া। কিন্তু ভার্সিটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে এই দুঃসাহসের মূল্য তাকে কীভাবে চোকাতে হবে?
ক্ষোভের কঠিন শর্ত
শ্রেয়ার স্পর্শ লেগেছে বলে নিজের গাড়িটাই আক্রোশে ভেঙে ফেলে তূর্য। এদিকে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল টিউশনি হারিয়ে ক্যাম্পাসে ক্ষমা চাইতে যায় শ্রেয়া। কিন্তু তূর্যর ক্ষমার বিনিময়ে মেলে নবীনবরণের মঞ্চে নাচার এক অবিশ্বাস্য শর্ত। এই অবাস্তব দাবির পেছনে অহংকারী তূর্যর আসল খেলাটা ঠিক কী?
অন্ধকারের নিষিদ্ধ স্পর্শ
আলতা রাঙা পায়ে নবীনবরণের উৎসবে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রেয়ার দিকে অপলক চেয়ে এক মোহময় গানে হৃদয় উজাড় করে দেয় তূর্য। কিন্তু মঞ্চে ওঠার ঠিক আগেই এক নিঝুম অন্ধকার কক্ষে শ্রেয়াকে দেয়ালে চেপে ধরে এক অচেনা মাতাল স্পর্শ। কান ঘেঁষে ভেসে আসে চিরচেনা ডাক—'শুভ্রপরী'। কে এই মানুষটি, যে মুহূর্তেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেল?
লাইব্রেরির নীল চিরকুট
নাচের শর্ত পূরণ না করায় একগাদা প্র্যাকটিক্যাল খাতার বোঝা শ্রেয়ার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় ক্ষিপ্ত তূর্য। বিষাদে ঘেরা লাইব্রেরির টেবিলে হঠাৎ ভেসে আসে এক বেনামী চিরকুট—যেখানে ফুটে আছে অবিকল অতীতের সেই চিরকুট লেখকের উন্মাদ শব্দমালা। তবে কি ক্যাম্পাসের চেনা কেউ-ই সেই অদৃশ্য অনুরাগের অধিকারী?
চেনা ছায়ায় অচেনা রূপ
নতুন টিউশনি পেয়ে শাশুড়ির খোঁজ নিতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় শ্রেয়া। সেখানে খালার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকা যুবকটি আর কেউ নয়, স্বয়ং তূর্য চৌধুরী! কিন্তু ডাইনিং টেবিলে শ্রেয়াকে অপয়া বলে অপমানকারী জা-দের সামনে তূর্য যেভাবে রুখে দাঁড়ায়, তা কি শ্রেয়ার প্রতি ঘৃণার নাকি অজানা কোনো অধিকারের বহিঃপ্রকাশ?
প্রকাশ্য শাসন ও গোপন যত্ন
শ্রেয়াকে জোর করে গাড়িতে তুলে এনে ক্ষোভের বশে গালে চড় বসায় তূর্য, অথচ পরক্ষণেই ব্যথানাশক ওষুধ খাইয়ে দিয়ে নিভৃতে আগলে রাখে। এরপর ক্লাসরুমে শ্রেয়ার চুরি যাওয়া খাতা উদ্ধারে নিজের বান্ধবীর বিরুদ্ধে যে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তূর্য, তা গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাকরুদ্ধ করে দেয়। শ্রেয়ার ওপর কেবল তারই কি সব অধিকার?
শ্বাসরুদ্ধকর সেই আলিঙ্গন
আয়ুশের দেওয়া বইয়ের ভাঁজে আবারো একটি বেনামী চিরকুট খুঁজে পায় শ্রেয়া। তবে কি আয়ুশই তার সেই অদৃশ্য ভালোবাসার মানুষ? সন্দেহের তোলপাড় নিয়ে ওয়াশরুমের আঁধারে ঢুকতেই অতর্কিতে শ্রেয়ার গলা চেপে ধরে রক্তচক্ষু এক উন্মাদ প্রেমিক। রুক্ষ শ্বাসের ভেতরেই জড়িয়ে ধরে যখন কান্নার পরশ আঁকে, তখন শ্রেয়া নিজেকে কীভাবে বাঁচাবে?
মায়াবী প্রাসাদের সন্ধানে
ভীতি আর অনিশ্চয়তা ভুলে ছোট্ট তিতিশাকে পড়াতে এক সুবিশাল রাজপ্রাসাদে পা রাখে শ্রেয়া। সেখানে আরিয়ানা আপুর আন্তরিকতা আর তিতিশার নিষ্পাপ কথায় নিমেষেই জুড়িয়ে যায় সব ক্লান্তি। কিন্তু তিতিশার কথার ভাঁজে নিজের কথিত 'চাচ্চু'র প্রশংসার আড়ালে কার ছায়া দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায় অপলক কফির মগ হাতে?
সমুদ্র সৈকতে রাতের শাসন
কক্সবাজারের সমুদ্রযাত্রায় তূর্যর ঠিক পাশের সিটেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বন্দি হতে হয় শ্রেয়াকে। দীর্ঘ পথ চলায় রুক্ষ শাসনের ভিড়েও তূর্যর শরীরের নীরব যত্ন দোলা দেয় হৃদয়ে। তবে রাতের নির্জন হোটেলের বারান্দায় সমুদ্রের গর্জনের মাঝে পেছন থেকে শ্রেয়াকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরা সেই পুরুষের চরম ঘোষণা—কারো হতে চাইলে মেরে ফেলবে!
পাথুরে সৈকতে রক্তক্ষরণ
সুইমিং পুলের ধারে আয়ুশ তার একতরফা ভালোবাসার স্বীকারোক্তি জানাতেই দূরে গিটার হাতে বুকফাটা গানে নিজের যন্ত্রণার সুর তোলে তূর্য। পরদিন ইনানীর পাথুরে সৈকতে শ্রেয়ার পা কেটে রক্তে লাল হয়ে উঠতেই সবাইকে তাজ্জব করে দিয়ে তূর্য নিজের হাতে বেঁধে দেয় রক্তক্ষরণ এবং সর্বসমক্ষে শ্রেয়াকে নিজের কোলে তুলে নেয়!
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
ক্ষতের মলম ও বিষাক্ত বাক্য
ডাক্তারের কাছে শ্রেয়াকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরম মমতায় সেবা করে তূর্য। কিন্তু আয়ুশের নাম উঠতেই অন্ধ ঈর্ষায় হিংস্র হয়ে ওঠে সে; দেয়াল ভেঙে রক্তাক্ত করে নিজের হাত আর মুখে ছুড়ে দেয় চরম অপবাদ। ডুকরে কেঁদে ওঠা শ্রেয়া রাতের আঁধারে কপালে অনুভব করে সেই রক্তচক্ষু প্রেমিকেরই কান্নাভেজা ওষ্ঠের স্পর্শ!
স্মৃতির ডানায় শুভ্রপরী
বেদনার ভিড়ে শ্রেয়ার মনে উঁকি দেয় ফেলে আসা কলেজজীবনের পুরোনো সোনালী দিনগুলো। কলেজের দারোয়ান চাচার হাত দিয়ে আসা 'আমার শুভ্রপরী' খোদাই করা কাঠের বাক্সে পাওয়া হীরার পায়েল আর উন্মাদ চিরকুটের স্মৃতি। না দেখেও অচেনা এক চিরকুট লেখকের মায়ায় বন্দি হওয়া কিশোরী শ্রেয়া কি আজও ভুলতে পেরেছে সেই অনুরাগ?
চেনা ছোঁয়ার নীরব ক্ষরণ
সব সংশয় ভেঙে শ্রেয়া উপলব্ধি করে তূর্যই তার সেই হারিয়ে যাওয়া চিরকুট লেখক! ঢাকা ফেরার পথে নির্জন হাইওয়েতে তূর্য যখন এক হাঁটু গেড়ে শ্রেয়ার ব্যান্ডেজ বদলে দেয়, তখন সব অভিমান চোখের জলে গলে যায়। তবে ভার্সিটিতে পা রাখতেই কিছু উশৃঙ্খল ছেলের হাত শ্রেয়ার ওড়না টেনে ধরে সম্ভ্রম নিয়ে নোংরা উল্লাসে মেতে ওঠে!
রক্তমাখা উন্মাদ ঘোষণা
শুভ্রপরীর গায়ে হাত তোলার স্পর্ধা দেখানো বখাটেটাকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয় তূর্য। সমগ্র ক্যাম্পাসের সামনে চিৎকার করে ঘোষণা করে শ্রেয়াই তার একমাত্র জীবন। পুলিশ তূর্যকে আঘাত করে হাতকড়া পরালে শ্রেয়ার সমস্ত দ্বিধা ভেঙে সে আছড়ে পড়ে তূর্যর বুকে। এই রক্তের প্রতিশোধ কীভাবে থামবে?
মধ্যরাতের মাতাল আর্তি
থানা থেকে ছাড়া পেয়ে গভীর রাতে মদের নেশায় শ্রেয়াকে ফোনে কল করে এক বুকফাটা আর্তি জানায় তূর্য—কেন সে অন্য কারো হয়েছিল? পরদিন সকালে তূর্যর হাত থেকে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করতেই শ্রেয়াকে শূন্যে তুলে গাড়িতে তোলে সে। রক্তচক্ষু প্রেমিকের চোখের এই উন্মাদ আগুন শ্রেয়াকে আজ কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলবে?
কাজী অফিস ও ভ্যানিলা স্মৃতি
কাজী অফিসের নাম শুনতেই আতঙ্কে দম বন্ধ হয়ে আসে শ্রেয়ার। তবে কি জোর করে তাকে বিয়ে করবে তূর্য? কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই দৃশ্যপট বদলে যায়—আয়োজনটি আসলে ফুহাদ আর মিথির গোপন বিয়ের! এরপর আইসক্রিম পার্লারে তূর্যর জেদ শ্রেয়ার হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে আকাশের সেই নির্মম লালসা আর আইসিইউতে যাওয়ার পুরোনো ট্রমা।
বৃষ্টিভেজা অতীতের মোহ
তোহাশ চৌধুরীর দেওয়া ২৪ ঘণ্টার অভিভাবকত্বের চাকরির সুযোগে আশ্রয়ের পথ খুঁজে পায় শ্রেয়া। পরমুহূর্তেই ক্যাম্পাসে শ্রেয়াকে নিজের বাইকে তুলে নিয়ে সোজা তাদের পৈতৃক গ্রামের সেই পুরোনো রিসোর্টে হাজির হয় তূর্য। ক্লান্ত তূর্য যখন শ্রেয়ার কোলে পরম শান্তিতে মাথা এলিয়ে দেয়, তখন বাতাসে ভেসে ওঠে জামতলার সেই বৃষ্টিস্নাত প্রথম দেখার স্মৃতি!
আইসিইউ করিডোরে আঘাত
জামগাছের তলে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অচেনা শুভ্রপরীকে প্রথম দেখেই তূর্য কীভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল, সেই জবানবন্দি শেষ হতে না হতেই আসে ফুহাদের চরম দুর্ঘটনার খবর। হাসপাতালের করিডোরে যখন এতিম অপয়া বলে মিথিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন চড় মারতে যায়, তখন তূর্যর বজ্রকঠিন হাত কীভাবে চূর্ণ করে দেয় সেই স্পর্ধা?
আড়ালে গড়া নির্ভরতা
ভোররাতে গেটের সামনে ক্লান্ত তূর্যর মুখে নিজের হাতে খাবার তুলে দেয় শ্রেয়া। পাঁচ দিনের ব্যবসায়িক সফরে যাওয়ার আগে না ঘুমিয়ে শ্রেয়ার সম্পূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট নিজ হাতে তৈরি করে রেখে যায় তূর্য। এত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে শ্রেয়ার চোখে জল নামে। সে কি পারবে তোহাশ চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে এই ভালোবাসাকে দূরে ঠেলতে?
রুদ্ধদ্বারের অপ্রত্যাশিত ফাঁদ
তিতিশাকে খুঁজতে গিয়ে 'অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ নিষেধ' লেখা অন্ধকার ঘরে ঘুমন্ত তূর্যর বুকের ওপর আছড়ে পড়ে শ্রেয়া! নিমেষেই তাকে চেপে ধরে গলার খাঁজে কামড়ের দাগ বসিয়ে তীব্র শাসন কায়েম করে তূর্য। আর ডাইনিং টেবিলে সবার সামনে তূর্যর ঘোষণা—শ্রেয়াকে এই বাড়িতে আনার পুরো পরিকল্পনাটাই ছিল তার নিজের সাজানো!
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
জোছনা রাতে বকুল ফুলের মালা
অহমিকার নির্লজ্জ আবদার ছুড়ে ফেলে শ্রেয়ার সম্মানে তাকে নিজের হবু স্ত্রী হিসেবে দাঁড় করায় তূর্য। আর গভীর রাতে চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে শ্রেয়াকে বকুল ফুলের মালায় রাজকন্যার মতো সাজিয়ে তোলে। শূন্যে তুলে তূর্য যখন শেষবারের মতো প্রশ্ন করে—'বিয়ে করবে আমায় শুভ্রপরী?' তখন কি আর পিছু হটা সম্ভব?
না-বলা অন্ধকারের হাহাকার
ছাদের নির্জনে তূর্যর বুকে মাথা রেখে শ্রেয়া খুলে দেয় তার জীবনের সবচেয়ে নারকীয় অতীত—বাসর রাতের নির্মম ধর্ষণ, পরকীয়ায় লিপ্ত স্বামীর নির্যাতন আর নিজের গর্ভের নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যার বিষাক্ত সত্য। বুকফাটা চিৎকারে ফেটে পড়ে তূর্য; শ্রেয়ার প্রতিটি ফোঁটা রক্তের ঋণ শোধ করতে কোন চরম প্রতিশোধের শপথ নেবে সে?
হলুদ সন্ধ্যার অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব
ঘুম ভাঙতেই বালিশের পাশে পাওয়া চিরকুটে গায়ে হলুদের বার্তা পেয়ে বিহ্বল হয়ে পড়ে শ্রেয়া। কিন্তু প্রিয়ুদের অনুষ্ঠানে পা রাখতেই দীর্ঘদিনের গোপন ভালোবাসার দাবি নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় শিহাব ভাইয়া। ঠিক সেই মুহূর্তে সাবলীল ভঙ্গিতে তূর্যর প্রবেশ এবং শিহাবের চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা হুমকি—'বউ আমার, প্রাণের চেয়ে প্রিয়!'
মধ্যরাতের রক্তচক্ষু ও ছুরির ফলা
গোলাপি জামদানিতে সাজানো শুভ্রপরীর গলায় 'TS' খোদাই করা লকেট পরিয়ে সবার সামনে কোলে তুলে নেয় তূর্য। অথচ উৎসবের শেষেই রাতের অন্ধকারে তূর্যর ঘরে অহমিকাকে জড়িয়ে থাকতে দেখে ভেঙে পড়ে শ্রেয়া। কিন্তু মুহূর্তেই অহমিকার গলায় তূর্যর ধারালো ছুরি চেপে ধরা দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে সে—তবে কি এবার রক্তপাত ঘটবে?
তিন মাসের কোমা ও মধ্যরাতের নিকাহ
শ্রেয়ার শেষ পরীক্ষার দিন কেন আসেনি তূর্য? আরিয়ানা আপুর মুখে বাবার মৃত্যু আর তূর্যর সাড়ে তিন মাস কোমায় থাকার মর্মান্তিক সত্য শুনে বুক ফেটে যায় শ্রেয়ার। অনুশোচনায় ভেসে মাঝরাতে ছাদে গিয়ে তূর্যর পিঠে আছড়ে পড়তেই ঘরে কাজী ডেকে এনে মধ্যরাতেই শ্রেয়ার সঙ্গে নিকাহ সম্পন্ন করে ক্ষিপ্ত অথচ প্রেমময় তূর্য!
ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন
সকালে ড্রইংরুমে বিমাতা মেহরিমা চৌধুরী শ্রেয়াকে বিধবা বলে অপমান করতেই ফাঁস হয়ে যায় অতীতের চরম ষড়যন্ত্র—গোপন ক্যামেরা ও ফোন চুরির মাধ্যমে কে পাঠিয়েছিল সেই নকল বিচ্ছেদের বার্তা! লোভী বিমাতাকে বাড়িছাড়া করে শুভ্র লেহেঙ্গায় সাজা শ্রেয়াকে বুকে জড়িয়ে তূর্য ঘোষণা করে এক অন্তহীন চিরন্তন প্রণয়!
ভাঙা আসরে প্রেমিক সত্তা
আয়ুশ ফিরিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভে অন্য পাত্রের সাথে বিয়েতে রাজি হয়ে যায় প্রিয়ু। কিন্তু বিয়ের আসরে যখন কাজী আসার ক্ষণ গণনা চলছে, তখনই আসরে ঝড়ের মতো প্রবেশ করে আয়ুশ—'গার্লফ্রেন্ড আমার, আর বউ হবে অন্য কারো?' প্রিয়ুর হাত থেকে আংটি খুলে নিয়ে আয়ুশের এই পাগলামি কি এক নতুন প্রেমের জন্ম দিল?
সুরক্ষার বজ্রকঠিন দেয়াল
শ্রেয়া সন্তান ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করতেই চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে তূর্য—সে কোনোভাবেই শ্রেয়াকে হারাতে পারবে না। কিন্তু প্রিয়ুর হলুদে শ্রেয়ার দিকে এক লম্পট হাত বাড়াতেই তূর্য ছেলেটার গলা চেপে ধরে দেয়ালে পিষে দেয়—'আমার কলিজায় হাত দেওয়ার সাহস তোর কীভাবে হলো?'
তোমাতেই পূর্ণতার চিরন্তন ভোর
সিনথিয়া ড্রাগ কেসে শ্রীঘরে আর প্রিয়ুর বিয়ের গেটে বিশ হাজার টাকার মিষ্টি খুনসুটি শেষে মাঝরাতে এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে কেঁপে ওঠে শ্রেয়া। চোখ মেলতেই বারান্দার ড্রিম লাইটের আলোয় তূর্যর কব্জিতে জ্বলজ্বল করে ওঠে 'শুভ্রপরী' উল্কি। অনন্ত ভালোবাসার আলিঙ্গনে সমাপ্তি ঘটে এক জীবনের সকল হাহাকারের!
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
তোমাতেই পূর্ণ আমি (Tomatei Purno Ami) উপন্যাসটির মূল পটভূমি কী?
তোমাতেই পূর্ণ আমি উপন্যাসে মোট কতটি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সমাপ্ত?
তোমাতেই পূর্ণ আমি উপন্যাসের লেখিকা কে?
উপন্যাসটি কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়া যাবে নাকি কোনো পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড করতে হবে?
তোমাতেই পূর্ণ আমি উপন্যাসের রহস্যময় 'চিরকুট লেখক' আসলে কে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ
রকমারি বেস্টসেলার: বইমেলা কালেকশন
পাঠকদের জন্য এই ঘরানার শীর্ষ ট্রেন্ডিং ও পছন্দের বইসমূহ সংগ্রহ করুন রকমারি থেকে