ছায়া
একটি অভিশপ্ত মধ্যরাতে হঠাৎ দেখা দেওয়া কৃষ্ণবর্ণ ছায়া কি কেবলই দৃষ্টিভ্রম, নাকি এক নির্মম অতীতের প্রতিশোধ? নির্যাতিত গৃহবধূ মিরা যখন অতিলৌকিক অস্তিত্বের মুখোমুখি হয়, তখন শুরু হয় বাঁচা-মরার এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। সে কি পারবে অন্ধকারের এই মরণফাঁদ ছিঁড়ে সত্য উন্মোচন করতে?
ছায়া উপন্যাসের ১ম সিজন সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৬ পর্ব)। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি কোনো চার্জ ছাড়াই অনলাইনে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
প্যারানরমাল থ্রিল ও কুফরি রহস্য
অতিলৌকিক ছায়ার আনাগোনা, কবরস্থানের মধ্যরাতের শিহরণ এবং তান্ত্রিক চক্রান্তের রুদ্ধশ্বাস আবহ।
সামাজিক বাস্তবতা ও নারীর প্রতিরোধ
যৌতুক-লোভী ও আধিপত্যকামী শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের বিরুদ্ধে এক আত্মসম্মানী নারীর মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রতিবাদী আখ্যান।
দ্রুতগতির বিনোদন
অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা ছাড়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পর্বে তীব্র সাসপেন্স ও মোচড়পূর্ণ ক্লাইম্যাক্স।
প্রধান চরিত্রসমূহ
4মিরা
কেন্দ্রীয় চরিত্র (Protagonist)অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক তরুণী। শ্বশুরবাড়ির অমানুষিক অত্যাচার ও ভয়ংকর অতিপ্রাকৃত চক্রান্তের মুখে দাঁড়িয়ে যিনি জীবনের লড়াইয়ে অবিচল।
মাসুদ
রহস্যময় সত্তা (The Shadow / Spirit)একটি অকালমৃত নিষ্পাপ প্রাণ, যার আত্মাকে কুফরি তন্ত্রের মাধ্যমে অপব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছিল; কিন্তু মিরার প্রতি সহমর্মিতায় সে রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
নয়ন
বিশ্বস্ত বন্ধু ও সহযাত্রীমিরার বিপদের দিনে অটল সহায়তাকারী নিঃস্বার্থ বন্ধু, যে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মিরাকে রক্ষা করতে চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হয়।
আসগর
মূল খলনায়ক (Antagonist)মিরার নিষ্ঠুর ও অহংকারী প্রাক্তন স্বামী, যে নিজের পাপ ঢাকতে এবং প্রতিশোধ নিতে তান্ত্রিকের মাধ্যমে নিকৃষ্টতম অপরাধ করতেও পিছপা হয়নি।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
6 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: অশরীরী সংকেত ও অন্ধকারের উৎস
মধ্যরাতের রক্তচক্ষু ছায়ার আবির্ভাব থেকে শুরু করে কবরস্থানের তান্ত্রিক অভিশাপ ভাঙার রুদ্ধশ্বাস আখ্যান।
নিশুতি রাতের রক্তচক্ষু
গভীর রাতে ভৌতিক গল্প পড়ার উন্মাদনায় মগ্ন হয়ে পড়ে মিরা। হঠাৎ অন্ধকারে ভেসে ওঠে এক ধোঁয়াটে কুচকুচে কালো শরীর, যার জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টিতে জমে ওঠে জমাট আতঙ্ক। ঘরে ফেরা পথচারী যুবকের সঙ্গে দেখা হতেই কি তবে ঘনীভূত হতে চলেছে আরো বড় কোনো বিপদ?
রক্তাক্ত অতীত ও অশরীরীর স্বীকারোক্তি
নিজের শয়নকক্ষে হঠাৎ সেই ছায়াহীন যুবকের আবির্ভাব স্তব্ধ করে দেয় মিরাকে। কিন্তু এক নির্মম খুনের উদ্দেশ্যে আসা অস্তিত্বটি কেন থেমে গেল মিরার নিষ্পাপ চোখের দিকে তাকিয়ে? শ্বশুরবাড়ির গোপন আক্রোশ আর তান্ত্রিকের শিকল কি তবে মিরাকে পাগল বানিয়ে দেওয়ার নীল নকশা?
কবরের তাবিজ ও এক নির্মম শর্ত
হাসপাতালের ইলেকট্রিক শকের ফাঁদ থেকে বেঁচে ফিরলেও বিপদ একচুলও কমেনি। এক অভিজ্ঞ কবিরাজের কাছে পৌঁছাতেই ফাঁস হয়ে যায় কবরস্থানের মাটিতে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর তাবিজের রহস্য। তবে কি মুক্তি পেতে হলে পা বাড়াতে হবে এক সদ্যমৃত লাশের গলার দিকে?
মুখোশের আড়ালে নরপিশাচ
মাসুদের মুখে নিজের শৈশব ও পালক পিতার ভালোবাসার স্মৃতি এক মুহূর্তে বিষিয়ে যায় শ্বশুরের আসল চেহারার বর্ণনায়। ধর্মভীরুতার ছদ্মবেশে কীভাবে নিজের ঘরেই রচিত হয়েছিল এক নিষ্পাপ যুবকের মৃত্যুবাণ? সেই আত্মাকে মুক্ত করতে গিয়ে মিরা কি নিজের নিয়তিকেই ডেকে আনছে?
খাটতলে লুকানো নীল নকশা
সন্ধ্যার নির্জনতায় অতর্কিতে মিরার গলায় চেপে বসে এক হিংস্র হাত—তবে কি শত্রুপক্ষ জেনে গেছে তাদের গোপন ছক? ঠিক তখনই মাসুদের প্রকাশ করা সেই অমানুষিক হত্যাকাণ্ডের সত্য শুনে কেঁপে ওঠে নয়ন আর মিরা। খাটের তলায় লুকিয়ে শোনা সেই তান্ত্রিকের নির্দেশ কতটা বিষাক্ত ছিল?
অমাবস্যার চিতাগ্নি ও রক্তিম ভোর
নিশীথ রাতে গোরস্তানের বুক চিরে বাঁশের কঞ্চি আর কাফন সরাতেই জীবন্ত হয়ে ওঠে লাশের হিমশীতল পাঞ্জা। তান্ত্রিকের হিংস্র অদৃশ্য প্রহারের মুখে দাঁড়িয়ে নয়ন ও মিরা কি পারবে অভিশপ্ত তাবিজটি আগুনে ছাই করতে? ফজরের আজানের পূর্বেই রচিত হয় এক অবিশ্বাস্য সমাপ্তি।
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।