ধর্ষিতা বউ
সমাজের নির্মম পাশবিকতার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া তরুণী প্রাপ্তি কি পারবে অপবাদের বোঝা মুছে নতুন জীবনের আলো দেখতে? সমাজের ভ্রুকুটি ও পরিবারের অহংকারকে তুচ্ছ করে আয়ানের নিঃশর্ত ভালোবাসা কি ক্ষতের গভীর দাগ মুছে দিতে পারবে, নাকি অবিশ্বাসের বিষাক্ত ছোঁয়ায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে?
উপন্যাসটির দুটি সিজনই (সিজন ১: মোট ৪৬ পর্ব এবং সিজন ২: মোট ৯ পর্ব) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকল পর্ব অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
সামাজিক ট্যাবু ও নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে লড়াই
ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীর প্রতি সমাজের বক্রদৃষ্টি ও অপবাদের বিরুদ্ধে ভালোবাসার এক অবিচল এবং প্রতিবাদী আখ্যান।
নিঃশর্ত ভালোবাসার আত্মত্যাগ
পারিবারিক আভিজাত্য ও রক্তের সম্পর্ক ত্যাগ করে স্ত্রীর আত্মসম্মান রক্ষায় একজন স্বামীর অনন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত।
দীর্ঘ বিরহ ও আবেগময় প্রজন্মের মেলবন্ধন
একটি ভুল বোঝাবুঝির ফলে ২৬ বছরের দীর্ঘ ব্যবধান এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে পিতা-মাতার পুনর্মিলনের হৃদয়স্পর্শী সমাপ্তি।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5মিফতাহুল জান্নাত প্রাপ্তি
নায়িকা (Protagonist)অতীতের দুঃসহ নির্যাতনের শিকার হয়েও আত্মসম্মান ও সংবেদনশীলতা বুকে চেপে বেঁচে থাকা এক অপরাজেয় নারী, যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় পরিবারকে আগলে রাখে।
ইকবাল মাহমুদ আয়ান
নায়ক (Male Lead)ধনী পরিবারের আত্মমর্যাদাবান সন্তান; সমাজের নির্মম লোকলজ্জা ও পারিবারিক অহংকারকে উপেক্ষা করে প্রাপ্তিকে নিঃশর্ত ভালোবাসায় বরণ করে নেওয়া এক অনন্য জীবনসঙ্গী।
আবিদ চৌধুরী
আয়ানের পিতা (Antagonist turned Mentor)প্রভাবশালী ও অহংকারী ব্যবসায়ী; আভিজাত্যের মোহে প্রথমে প্রাপ্তিকে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রাপ্তির মহত্ত্ব ও সেবায় অনুতপ্ত হয়ে তাকে মেয়ের মর্যাদা দেন।
আসিফ
প্রাপ্তির বড় ভাইবোনের সুখের জন্য নিজের সর্বস্ব বাজি রাখা স্নেহশীল ও দায়িত্ববান ভাই, যিনি বোনকে সমাজের অপবাদ থেকে বাঁচাতে অবিচল ঢাল হয়ে দাঁড়ান।
আদর ও আশফি
পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানপ্রাপ্তি ও আয়ানের আত্মজ; বহু বছরের বিচ্ছেদ আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর পিতা-মাতার বিচ্ছেদের অবসান ঘটাতে আবির্ভূত হওয়া দুই তরুণ প্রাণ।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
55 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: অন্ধকার থেকে ভালোবাসার আলো
সমাজের নির্মম লাঞ্ছনা সহ্য করা প্রাপ্তির পাশে দাঁড়িয়ে আয়ানের পারিবারিক বিদ্রোহ, সত্যের মুখোমুখি লড়াই এবং এক যৌথ পরিবারের আত্মিক রূপান্তর।
মেঘাচ্ছন্ন বিকেলে মৌন আর্তনাদ
অফিস শেষে মেঘলা বিকেলে পরম ভালোবাসার মানুষকে একনজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে ঘরে ফেরে আয়ান। কিন্তু মায়াবী মুখের প্রাপ্তির বিষণ্ণ নীরবতা এবং দূরত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা করুণ সত্য কি কখনো মুছে যেতে পারে?
অচেনা দূরত্ব ও বাপের ভিটে
বাবার অসুস্থতার খবর শুনেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে আয়ান, কারণ প্রাপ্তিকে একা ফেলে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু প্রাপ্তির চোখে যখন অপরাধবোধের অশ্রু নামে, তখন কি তারা পারবে পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যেতে?
বুকের ভেতর লুকানো ক্ষত
স্বজনদের ভালোবাসার হাসিমুখের মাঝে হঠাৎ কেঁদে ফেলে প্রাপ্তি, নিজেকে ধর্ষিতা বলে ধিক্কার জানায় আয়ানের সামনে। আয়ানের দুহাতের শক্ত বন্ধন কি প্রাপ্তির দীর্ঘদিনের জমিয়ে রাখা দুঃসহ ভয় কাটিয়ে তুলতে পারবে?
অতীতের কালো ছায়া
সংবাদপত্রের পাতায় একটি ধর্ষণের খবর দেখেই অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে প্রাপ্তি। তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই অভিশপ্ত এপ্রিলের সকালে কী এমন বিভীষিকা ঘটেছিল, যা আজও প্রাপ্তির অস্তিত্বকে তিলে তিলে পোড়ায়?
তিন দিনের বিভীষিকা ও নিঃস্ব প্রাপ্তি
তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর এক শিক্ষিকার বাড়ির সামনে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রাপ্তি। সমাজের চোখে ধর্ষিতা তকমা লাগার পর ভাই আসিফের কোলে মুখ গুঁজে প্রাপ্তির এক বুকভাঙা আকুতি—এই সমাজে কি তার বাঁচার অধিকার নেই?
বিয়ের প্রস্তাব ও চাপা দীর্ঘশ্বাস
এক বছর পর প্রাপ্তিদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাত্রপক্ষের আগমন ঘটে। সিয়ামের নাম শুনেই অরণীর কেন হাত কেঁপে প্লেট ভেঙে পড়ে? বোনের সুখের জন্য কোন গোপন সত্যকে নিজের বুকে চেপে নিল অরণী?
বৃষ্টিভেজা ছাদে নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ
বৃষ্টিভেজা ছাদে একা দাঁড়িয়ে নিজেকে বৃষ্টির জলে ভাসিয়ে দিতে চায় প্রাপ্তি। জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়লে তাকে আগলে নেয় আয়ান। কিন্তু পরিবারের সবার সামনে প্রাপ্তির এই অসহায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ কি নতুন কোনো বিপদ ডেকে আনবে?
অভিমানী চোখের আঁধার ও অতীত স্মৃতি
পরিবারের সবাই যখন বিয়ের দায়িত্ব ও খরচের তর্কে আয়ানকে পর করে দেয়, তখন অভিমানে চোখ ভেজে আয়ানের। সেই চোখের জল মুছিয়ে দিতে গিয়ে প্রাপ্তি কি আয়ানকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে সেই প্রথম দেখার স্মৃতিতে?
বাগানের অপ্সরী ও ভাগ্যের খেলা
বিয়ের পাত্রী দেখতে এসে ফুলবাগানে দাঁড়িয়ে নিজের মনে কথা বলা এক অপ্সরীকে দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় আয়ানের। সেই মায়াবী কন্যাটি কে ছিল, আর কার জন্য আবিদ চৌধুরী আংটি রেখে এসেছিলেন?
দুই বোনের বিয়ে ও নীরব হাহাকার
দুই বোনের একসাথে বিয়ের পাকা কথা হয়ে যায় চার দিনের মাথায়। কিন্তু অরণী কেন সিয়ামের নাম শুনে ছটফট করে আর একা একা কাঁদে? প্রাপ্তির মনের ভেতরে জাগা সন্দেহ কি কোনো অশুভ সংকেত দিচ্ছে?
গায়ের হলুদের শাড়ি বদল
দুই বাড়ি থেকে পাঠানো শাড়ি ও গহনা অদলবদল হয়ে যায় অজান্তেই। আয়ানের বাবার হঠাৎ বিদেশযাত্রার সিদ্ধান্তে কেন পুরো পরিবারে নেমে এলো এক অজানা বিষণ্ণতার ছায়া?
হলুদ সন্ধ্যায় কান্নার দাগ
হলুদের সাজে বোনকে দেখে ডুকরে কেঁদে ওঠে আসিফ। অতীত কি কখনো একজন নারীর সাজপোশাকের পেছনে চিরদিনের জন্য আড়াল হতে পারে, নাকি কোনো অপ্রকাশিত সত্যের বিস্ফোরণ ঘটবে বিয়ের আসরে?
বিয়ের আসরে চেনা অচেনার ফাঁদ
বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগমুহূর্তে কনেপক্ষের ঘরে ঢোকে সিয়াম। অরণী ভেবে প্রাপ্তির কাঁধে হাত রাখতেই মুখ ফিরিয়ে তাকায় প্রাপ্তি। আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে সিয়াম—'আপনি কে?'
মঞ্চের মাঝে সত্যের গর্জন
ড্রয়িংরুমে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে প্রাপ্তি টেনে আনে বোন অরণীকে। চার জীবনের ধ্বংস ঠেকাতে নিজের বিয়ে ভেঙে দিয়ে সিয়াম-অরণীর ভালোবাসার কথা ফাঁস করতেই পেছনের এক অচেনা কণ্ঠ বলে ওঠে—'দাঁড়ান!'
চিৎকার করে ওঠা সত্য ও জেদি পাণিপ্রার্থী
বন্ধ ঘরের ভেতরে চিৎকার করে প্রাপ্তি জানিয়ে দেয়—'আমি ধর্ষিতা!' এই নির্মম সত্যি শোনার পরও আয়ান কেন তার হাত ধরে পুরো সমাজের সামনে টেনে নিয়ে এলো?
নতুন সংসারে অপবাদের ফিসফাস
বিদায়ের পর শ্বশুরবাড়ির আঙিনায় পা দিতেই শুরু হয় আত্মীয়দের তীব্র কানাঘুষা। শ্বশুরবাড়ির মা আদর করে ঘরে তুললেও আয়ান কেন দরজা আটকে মায়ের কোলে মাথা রেখে কেঁদে ফেলল?
বাসর রাতে নিঃশব্দ প্রতিশ্রুতি
ফুলে সাজানো বাসরঘরে থ্রি-পিস এগিয়ে দিয়ে আয়ান কেন প্রাপ্তিকে ফ্রেশ হতে বলল? যেখানে সব পুরুষ অধিকার খোঁজে, সেখানে আয়ানের এই অদ্ভুত সংযম কি কেবলই করুণা নাকি স্বর্গীয় প্রেম?
ভোরের প্রার্থনায় অনাকাঙ্ক্ষিত আগমন
ফজরের নামাজ শেষে ঘুমন্ত আয়ানের দিকে অপলক তাকিয়ে ভালোবাসার দোলাচল অনুভব করে প্রাপ্তি। কিন্তু সকাল হতেই আমেরিকা থেকে আসা আধুনিক মেয়ে অধরা কেন আয়ানকে জড়িয়ে ধরে অধিকার খাটায়?
অধিকারের লড়াই ও শাশুড়ির মমতা
টেবিলে নাস্তার মাঝে অধরার ন্যাকামি আর ঝিনুকের কড়া হুঁশিয়ারি—'নিজের স্বামীকে ধরে রাখতে শেখো!' রান্নাঘরে শাশুড়ির স্নেহের কাছে কেঁদে ফেলা প্রাপ্তির জীবন কোন নতুন মোড়ে এগোচ্ছে?
বাইক ভ্রমণ ও সমাজের বিষাক্ত ছোবল
নতুন বউকে বাইকে বসিয়ে বাপের বাড়ি আসতেই পাড়ার মহিলারা ছুটে এসে আয়ানকে খোঁটা দেয়—'ধর্ষিতা মেয়েকে জেনে বুঝে গলায় ঝুলিয়েছ?' প্রচণ্ড ক্ষোভে কী জবাব দিল আয়ান?
জোনাকির আলো ও ফিরে আসা ঝড়
রাস্তার ধারে বাইক থামিয়ে জোনাকি পোকার আলোয় প্রাপ্তির মুখে অদ্ভুত হাসি এনে দেয় আয়ান। কিন্তু সপ্তাহ না পেরোতেই এক মাস পর আচমকা আবিদ চৌধুরীর ফিরে আসা কি সাজানো সংসার ভেঙে দেবে?
অহংকারের আঘাত ও গৃহত্যাগ
অধরা ফাঁস করে দেয় প্রাপ্তির অতীতের সত্য। আবিদ চৌধুরীর কড়া নির্দেশ—'এই পতিতা আমার ঘরে থাকবে না!' বাবার পায়ের ধুলো তুচ্ছ করে প্রাপ্তির হাত ধরে কেন ঘর ছাড়ল আয়ান?
অজানা রাজপথে নিঃস্ব পদচিহ্ন
গাড়ি, ক্রেডিট কার্ড, বাবার দেওয়া চাকরি সব কেড়ে নেওয়া হলো। মায়ের আর্তনাদ আর কান্নার মাঝে প্রাপ্তিকে সঙ্গে নিয়ে অজানা পথের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল আয়ান। ভালোবাসা কি পারবে দারিদ্র্যের আঘাত সইতে?
নতুন নীড়ের স্বপ্ন ও রেশীর আগমন
বন্ধু অভ্রর সাহায্যে নতুন চাকরি ও একটি ছোট বাসা খুঁজে পায় আয়ান। কয়েক দিন পর তাদের সংসারে যুক্ত হয় আরেক অসহায় মেয়ে রেশী। কিন্তু অরণীর হঠাৎ বাঁকা প্রশ্ন কি তাদের দাম্পত্যে নতুন দ্বিধা আনবে?
শপিং মলে অস্বস্তিকর দৃষ্টি
বিয়ের পর প্রথমবার একসাথে শপিং মলে যায় আয়ান আর প্রাপ্তি। রেস্তোরাঁয় বসে থাকা এক অচেনা ব্যক্তিত্বের রাগী চাহনি দেখে কেন বারবার কেঁপে উঠছিল প্রাপ্তির মন?
পিতার নিঃশব্দ পরাজয়
রেস্তোরাঁর পাশের টেবিলে বসে নিজের ছেলের স্ত্রীর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করে বাড়ি ফেরেন আবিদ চৌধুরী। ঘরে ফিরে চিৎকার করে কেঁদে ওঠা অহংকারী পিতার মনে কি কোনো পরিবর্তন আসছে?
ছাদের কোণে নতুন সম্পর্কের সুর
আসিফের জন্য নিশানদের বাড়ি কনে দেখতে যায় সবাই। ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে নীরার মিষ্টি স্পষ্টভাষিতা কি আসিফের দীর্ঘদিনের নীরব মনকে জয় করে নিতে পারবে?
অফিসের টেবিলে চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রিজ
অফিসের নতুন ক্লায়েন্টের নাম শুনে চমকে ওঠে আয়ান—চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আবিদ চৌধুরী আসছেন মিটিংয়ে! যে পিতাকে একসময় ছেড়ে এসেছিলেন, তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কীভাবে প্রেজেন্টেশন দেবে আয়ান?
বাবার চোখে মুগ্ধতার আলো
ছেলের ব্যবসায়িক প্রতিভা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান আবিদ চৌধুরী। ঘরে ফিরে আঁধারে ডুবে থাকা পিতা নিজের অজান্তেই কি আয়ানের অনুপস্থিতি তীব্রভাবে অনুভব করছেন?
বেনামী পার্সেল ও অটুট জেদ
চৌধুরী বাড়িতে কুরিয়ারে আসে সবার জন্য চমৎকার সব পোশাক। সবাই বুঝতে পারে এটা আয়ানের পাঠানো। ভাই আসিফের বিয়েতে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে উপস্থিত করানোর এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে প্রাপ্তি।
অপ্রত্যাশিত অতিথি ও পুরনো চেনা মুখ
বিয়ের ঠিক আগের দিন হঠাৎ প্রাপ্তিদের বাড়িতে এসে হাজির হয় সুমি, আকাশ ও ঝিনুক। কিন্তু ঝিনুকের স্বামী নিহাদ কেন রেশী ও অভ্রকে দেখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল?
হলুদ রাতের অস্ফুট আর্তনাদ
আসিফের গায়ে হলুদের রাতে রেশীকে দেখে ঝিনুককে গোপন তথ্য জানায় নিহাদ—এই সেই মেয়ে যে অভ্রকে ফেলে পালিয়েছিল! অন্যদিকে সিঁড়িতে অভ্রর বুকে পড়ে গিয়ে কাঁপতে থাকে রেশী। অতীত কি তাদের ক্ষমা করবে?
ভাঙ্গা বাঁধ ও ভালোবাসার ডাক
একান্তে আয়ানের ঠোঁটের কাছে এসে ধরা দেয় প্রাপ্তি, কিন্তু অভ্রর আকস্মিক আগমনে ছন্দপতন ঘটে। ছাদের আড্ডায় ভোর হতে না হতেই শুরু হয় আসিফের বিয়ের মূল আয়োজন।
দরজার ওপাশে পুরোনো শকুন
নীরাদের বাড়িতে বিয়ের সব কাজ শেষ হওয়ার মুখে একটি ছেলের সাথে ধাক্কা লাগে প্রাপ্তির। ছেলেটির চেহারা দেখেই ভয়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে প্রাপ্তি। কে এই ভয়ঙ্কর অতীত?
প্রতিশোধের নীরব আগুন
হাসপাতাল থেকে ফিরে অন্ধকার ঘরে গুটিসুটি মেরে থাকা প্রাপ্তিকে আশ্বস্ত করে আয়ান। নীরার কাছে জানা যায় ছেলেটি তার কাজিন জয়। ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিশোধের ছক কষতে শুরু করে আয়ান।
খুলে যাওয়া মুখোশ ও বিয়ের প্রস্তাব
সবার সামনে রেশী ও অভ্রর অতীতের বিয়ের সত্য ফাঁস করে নিহাদ। সৎমায়ের ষড়যন্ত্রে বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল রেশী। সত্য জানার পর সবার সম্মতিতে কি অভ্র ও রেশীর নতুন যাত্রা শুরু হবে?
নিখোঁজ প্রাপ্তি ও স্তব্ধ হৃদয়
অফিস থেকে ফিরে শূন্য ঘরে প্রাপ্তিকে না পেয়ে পাগলের মতো ছোটাছুটি করে আয়ান। রেশীও জানে না প্রাপ্তি কোথায় চলে গেছে। আবারও কি কোনো ভয়ানক বিপদে পড়ল প্রাপ্তি?
শ্বশুরবাড়ির দরজায় সাহসী বধূ
আবিদ চৌধুরী দরজা খুলতেই পা ছুঁয়ে ভেতরে ঢোকে প্রাপ্তি—'আমি আমার শ্বশুরবাড়ি থাকতে এসেছি!' মামলার হুমকি ও বুদ্ধির চালে অহংকারী শ্বশুরকে নাজেহাল করে কীভাবে নিজের জায়গা করে নিল প্রাপ্তি?
শ্বশুরের শাসন বনাম বউমার স্নেহ
সকালের খালি পেটে চা খাওয়া বন্ধ করে আবিদ চৌধুরীর খাবারের রুটিন বদলে দেয় প্রাপ্তি। অন্যদিকে আটকে রাখা জয়কে ভয় দেখিয়ে বাকি ধর্ষকদের মুখোশ উন্মোচনের পথে অনেকখানি এগিয়ে যায় আয়ান ও অভ্র।
মিথ্যা ডিভোর্স ও বাবার চড়
আয়ানের অফিসে গিয়ে মিথ্যা ডিভোর্সের নাটক সাজায় প্রাপ্তি। কিন্তু আবিদ চৌধুরী উঠে এসে আয়ানের গালে কষে চড় বসিয়ে ঘোষণা দেন—'আজ থেকে ও আমার মেয়ে, তোর সাথে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই!'
অন্ধকার ঘরের নীরব অপরাধবোধ
আবিদ চৌধুরীর ঘরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে গিয়ে প্রাপ্তি দেখে শ্বশুর জ্ঞানহীন অবস্থায় পড়ে আছেন। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশের কাছে সায়মনের বিরুদ্ধে কেস রি-ওপেন করায় আয়ান।
হাসপাতালের বারান্দায় অশ্রুর মেলবন্ধন
দুই বছর পর মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জলে ভেসে যায় আয়ান। দিনরাত এক করে অসুস্থ শ্বশুরের সেবা করে প্রাপ্তি। সুস্থ হয়ে আবিদ চৌধুরী কেন হঠাৎ সোজা গাড়ি বের করে অফিসের দিকে ছুটলেন?
পূর্ণতার বাসর ও বহুদিনের তৃষ্ণা
ছেলে ও বউকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসে আবিদ চৌধুরী। রেশীকেও নিজ পরিবারের কন্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বহুদিনের বাধা পেরিয়ে চাঁদের আলোয় বাসরঘরে কি এক হবে আয়ান ও প্রাপ্তির নিঃস্বার্থ প্রেম?
পুরোনো ভুলের প্রায়শ্চিত্ত ও বাপের বাড়ি নিমন্ত্রণ
আবিদ চৌধুরী নিজে গিয়ে প্রাপ্তির বাপের বাড়ির সবার সাথে আত্মীয়তার সুতো মজবুত করেন। কিন্তু আনন্দের এই মহাসমুদ্রের মাঝে হঠাৎ চৌধুরী বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ানো জামিল সাহেবের ছেলের পরিচয় কী?
পার্টির আলোয় সেই চেনা বিভীষিকা
রেশী ও অভ্রর আংটি বদলের বর্ণাঢ্য পার্টিতে জামিল সাহেবের সঙ্গে হাজির হয় তার ছেলে—সায়মন! সেই মুখ দেখেই ভয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরে পালিয়ে যায় প্রাপ্তি। পেছনে পেছনে রুমে ঢুকে সায়মন কী বলল?
রক্তাক্ত চক্রান্তের সমাপ্তি ও পরীর আগমন
চিলেকোঠায় আটকে রেখে সায়মনকে চিরতরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে আয়ান। কয়েক মাস পর যখন প্রাপ্তি কোল আলো করে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান, তখন অফিস থেকে ফেরার পথে কার গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হলো?
দ্বিতীয় খণ্ড: দীর্ঘ বিচ্ছেদ ও রক্তঋণের সমাপ্তি
একটি গোপন চিঠি ও নির্মম ভুল বোঝাবুঝিতে ছিন্নভিন্ন হওয়া সম্পর্কের মাঝে ২৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে মধুর পুনর্মিলন।
শার্টের পকেটে সেই বিষাক্ত চিঠি
দুই বছরের মেয়ে আশফির জন্মদিনের আগের দিন আয়ানের শার্টের পকেট থেকে একটি উড়ো চিঠি পায় প্রাপ্তি। তানিয়া নামের মেয়ের প্রেমের সেই চিঠি পড়ে প্রাপ্তির বিশ্বাস কি চিরতরে চুরমার হয়ে গেল?
অবিশ্বাসের ক্ষত ও নীরব বারান্দা
মেয়ের জন্মদিনের ভোরে ভালোবাসতে গিয়েও প্রাপ্তির শীতল দূরত্বে ধাক্কা খায় আয়ান। জামিল সাহেব এসে ছেলের মুক্তির আকুতি জানালেও তাকে তাড়িয়ে দেয় আয়ান। কিন্তু প্রাপ্তির অন্তর্দহন কি কেউ থামাতে পারবে?
ক্যান্সারাক্রান্ত তানিয়া ও ফেলে আসা জন্মদিন
কলেজের বন্ধু তানিয়ার মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ের সত্য আয়ান যখনই প্রাপ্তিকে জানাতে যাবে, ঠিক তখনই আসে তানিয়ার জরুরি কল। মেয়ের জন্মদিনের আলোঝলমলে পার্টি ফেলে হাসপাতালে কেন ছুটে গেল আয়ান?
নিশুতি রাতের চড় ও চিরতরে ঘরছাড়া
রাত তিনটায় ফিরে আসা আয়ানকে অন্য নারীর স্পর্শের অপবাদ দেয় প্রাপ্তি। আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আয়ানের হাতের কড়া চড় এবং তার পরই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে অন্ধকারের রাজপথে মিলিয়ে যায় প্রাপ্তি।
ছাব্বিশ বছরের ব্যবধান ও অচেনা তরুণ
আমেরিকার এয়ারপোর্টে মধ্যবয়সী আয়ানের সাথে আলাপ হয় তরুণ ডাক্তার আদরের। দেশে ফিরে একা কলেজ শিক্ষিকা প্রাপ্তি কেন কেঁদে ওঠে সাবিত সাহেবের সামনে—তার গর্ভে ছিল আয়ানের আরেক রক্তঋণ!
চেনা শহরের ব্রিজে অদ্ভুত কম্পন
বদলি হয়ে পুরনো শহরে ফিরে আসে প্রাপ্তি। ব্রিজের ওপর ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে আয়ান ও প্রাপ্তি দুজনেরই মন কেন অজ্ঞাত টানে ছটফট করে ওঠে—তারা কি নিঃশ্বাসের দূরত্বেই দাঁড়িয়ে ছিল?
ফটোকপি ম্যাডাম ও একাকী বাড়ি
যে বাড়িটি আয়ান তার স্ত্রীর জন্য সাজিয়ে পরে বিক্রি করে দিয়েছিল, ঘটনাচক্রে সেই বাড়িতেই ওঠে প্রাপ্তি। ক্লাসের নতুন ম্যাডাম প্রাপ্তিকে দেখে কেন মুনিয়া চেঁচিয়ে ওঠে—'কাকাইয়ের ঘরের ফটোকপি!'
হাসপাতালের কেবিন ও জন্মদিনের নিমন্ত্রণ
অসুস্থ আবিদ চৌধুরীকে চিকিৎসা করে তরুণী ডাক্তার আশফি। কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আদরের মুখে মায়ের জন্মদিনের কথা শুনে আয়ান নিমন্ত্রণ পায়—সেই চেনা বাড়িরই ড্রয়িংরুমে!
ছাব্বিশ বছরের তৃষ্ণা ও এক জোড়া চাঁদ
ড্রয়িংরুমে চোখাচোখি হতেই আয়ানের বুকে আছড়ে পড়ে প্রাপ্তি। ছাব্বিশ বছর পর জানা যায় তানিয়ার মৃত্যুর করুণ সত্য এবং নিজের ঔরসজাত সন্তান আদরের পরিচয়। পূর্ণিমার চাঁদের নিচে কি চিরদিনের মতো পূর্ণ হলো ভালোবাসা?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
ধর্ষিতা বউ (Dhorshita Bou) উপন্যাসটির মূল উপজীব্য কী?
ধর্ষিতা বউ উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব ও সিজন রয়েছে?
ধর্ষিতা বউ উপন্যাসের লেখিকা কে?
ধর্ষিতা বউ উপন্যাস কি অনলাইনে বিনামূল্যে পড়া যায়?
ধর্ষিতা বউ সিজন ২ কি সমাপ্ত হয়েছে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ