এক অভিমানীর গল্প
চঞ্চল ও একগুঁয়ে মায়ার সাথে শান্ত স্বভাবের চিকিৎসক বাঁধনের বৈবাহিক জীবন একরাশ মান-অভিমান ও অনুচ্চারিত দ্বন্দ্বে ঘেরা। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত ও ভুলের জেরে যখন তাদের মধ্যে জন্ম নেয় বরফশীতল দূরত্ব, তখন তীব্র লুকানো ভালোবাসা কি পারবে এই অভিমানের দেয়াল ভেঙে দিতে, নাকি চিরতরে দূরে সরে যাবে মায়া?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ১৩ পর্ব)। সিজন ২ সম্পর্কিত যেকোনো ঘোষণা এখানে সরাসরি প্রকাশ করা হবে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
তীব্র অভিমান ও দাম্পত্য মনস্তত্ত্ব
দাম্পত্য জীবনের অপ্রকাশিত ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি এবং মান-অভিমানের এক জীবন্ত ও হৃদয়স্পর্শী আখ্যান।
খুনসুটি ও নির্ভেজাল রোম্যান্স
কান্না আর দূরত্বের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা খুনসুটি, পারিবারিক উষ্ণতা ও এক মিষ্টি প্রেমের রসায়ন।
সহজপাঠ্য ধারাবাহিক বিন্যাস
প্রথম পর্ব থেকে সমাপ্তি পর্ব পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ও অনুভূতির নিখুঁত মেলবন্ধন।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5মায়া
নায়িকা (Protagonist)চঞ্চল, আবেগপ্রবণ ও ভীষণ অভিমানী এক তরুণী। পড়াশোনা ও নিজের আত্মমর্যাদাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাঁধনের প্রতি লুকানো ভালোবাসা প্রকাশে প্রতিনিয়ত লড়াই করে।
বাঁধন
নায়ক (Male Lead)পেশায় একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক। মায়ার পাগলামি ও একগুঁয়েমির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা থাকলেও রাগের মুহূর্তে করা এক ভুলেই তার হৃদয় অনুশোচনায় দগ্ধ হয়।
হৃদয়
সহায়ক চরিত্র (Best Friend)বাঁধনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী, যে তাদের ভুল বোঝাবুঝি ও দাম্পত্য সংকট নিরসনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে।
হিয়া
সহায়ক চরিত্র (Sister)মায়ার প্রাণোচ্ছল ছোট বোন, যে বড় বোনের সংসারের খুনসুটি ও ঝগড়ায় এক চতুর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়।
শাহিদ মাহমুদ
পারিবারিক চরিত্র (Uncle)বাঁধনের রসিক চাচা ও হোটেল ব্যবসায়ী, যার সান্নিধ্যে মায়া ও বাঁধনের সম্পর্কের মধ্যকার শীতলতা উষ্ণতায় রূপ নেয়।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
13 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: অভিমান ও অনুভূতির বন্ধন
বাঁধন ও মায়ার দাম্পত্যের সূচনা, আকস্মিক সংঘাত, গভীর অভিমানের নীরবতা এবং শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার চূড়ান্ত জয়ের গল্প।
খাটের নিচে লুকানো কান্না
দেরিতে বাড়ি ফেরা বাঁধনকে শায়েস্তা করতে গিয়ে ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে মায়া। নিখোঁজ ভেবে পুরো ফ্ল্যাটে যখন চরম হুলস্থুল আর বাঁধনের দিশেহারা অবস্থা, ঠিক তখনই বেরিয়ে আসতেই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত মারাত্মক আঘাত। আকস্মিক এই চড়ে কি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে মায়ার নিষ্পাপ ভালোবাসা?
পোড়া অভিমান ও রক্তাক্ত আঙুল
আগের রাতের অপমানের দহন বুকে চেপে জীবনে প্রথমবারের মতো রান্নাঘরে নামে অনভিজ্ঞ মায়া। বাঁধনের অনুশোচনাময় ক্ষমা প্রার্থনা আর ক্ষতবিক্ষত আঙুলের রক্ত কি পারবে মায়ার জমে থাকা জেদ গলাতে? নাকি ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দিতে গিয়ে বাঁধন পাবে আরও এক হিংস্র আঘাত?
মধ্যরাতের নীরব দূরত্ব
তীব্র ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে গভীর রাতে বাঁধনের ঘরে গিয়ে একটু আশ্রয়ের মিনতি জানায় মায়া। কিন্তু বাঁধনের এক নির্মম বাক্যবাণে ছিটকে বেরিয়ে আসে সে। পরদিন সকালে রান্নাঘরে পোড়া ওড়নার লেলিহান শিখা এবং শ্বশুর-শাশুড়ির আকস্মিক আগমনে মায়া কোন চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে?
এক অদ্ভুত পরিবর্তনের আড়ালে
বাবার বাড়ি ফিরে গিয়ে আচমকা এক শান্ত ও অনুগত বালিকা হয়ে ওঠে অবাধ্য মায়া। মাঝরাতের রহস্যময় ভিডিও কলে সে বাঁধনকে এমন এক বিদ্রূপাত্মক প্রস্তাব দিয়ে বসে যা বাঁধনের আত্মাকে নাড়িয়ে দেয়। মায়ার এই অস্বাভাবিক আত্মসমর্পণের আড়ালে কি নিদারুণ কোনো প্রতিশোধ লুকিয়ে আছে?
অসুস্থ রাতের লুকানো স্পর্শ
বন্ধুর পরামর্শে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে শ্বশুরবাড়িতে পা রাখতেই স্তব্ধ হয়ে যায় বাঁধন। তীব্র জ্বর আর মচকানো পায়ে বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছে মায়া। মাঝরাতে বিছানার মাঝের কোলবালিশের দেয়াল সরে গিয়ে যখন দুজন কাছে আসে, তখন কি মিটবে দূরত্ব, নাকি বাঁধন দেওয়ালে আছড়ে ফেলবে নিজের হাত?
বিয়ের আসরে মৌন প্রস্থান
অভিমানের লড়াই গড়ায় মামাতো ভাইয়ের বিয়ের আনন্দোৎসবে। সবাই যখন গানের আসরে মেতে, তখন বাঁধনের নীরব অবহেলা সইতে না পেরে মায়া কি নিজেকে হারিয়ে ফেলছে? না খেয়ে থাকা স্ত্রীর সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডার পর কাউকে না জানিয়ে বাঁধনের আচমকা সিএনজি নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ কী?
অচেনা গন্তব্যে আকস্মিক মুখোমুখি
শাশুড়ির অসুস্থতার খবর শুনে পরীক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই অজানা গ্রামের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় অসুস্থ মায়া। পথ হারিয়ে অচেনা বাজারের এক ছোট্ট হোটেলে বসে যখন পরম তৃপ্তিতে খাচ্ছে, ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে আসে এক অতি-পরিচিত কণ্ঠ। এই অপ্রত্যাশিত মিলন কি অভিমানের আগুনে জল ঢালবে?
যৌথ বাড়ির রঙিন কোলাহল
রসিক চাচার দোকান পেরিয়ে যৌথ শ্বশুরবাড়িতে পা রাখতেই মায়াকে ঘিরে তৈরি হয় আনন্দোৎসব। অসুস্থ শরীরে রান্নাঘরে মাছ ভাজতে যাওয়া মায়াকে পেছন থেকে গভীর মোহে জড়িয়ে ধরে বাঁধন। ঠিক সেই সময়ে ননদ ফারহানা কিচেনে ঢুকে পড়লে দুজনের লজ্জার পরিণতি কী দাঁড়ায়?
দাদীমার ওষুধ ও তোতলানো ক্ষমা
দাদী শাশুড়িকে ওষুধ খাওয়ানোর মজার কাণ্ড শেষে গভীর রাতে বাঁধনের কাছে সমস্ত ভুলের ক্ষমা চাইতে যায় মায়া। কিন্তু চরম লজ্জায় তোতলে উঠে সে যখন কিছুই বলতে পারে না, তখন বাঁধন জুড়ে দেয় এক অদ্ভুত শর্ত। এই মাঝরাতে কম্বল ছাড়া মায়াকে কাছে টানার খেলায় কে জিতবে?
মধ্যরাতের আতঙ্ক ও উষ্ণ আশ্রয়
মাঝরাতে পলি ভাবির কাছে কাপড় চাইতে গিয়ে চরম অপ্রস্তুত লজ্জায় পড়ে মায়া। তবে লজ্জা কাটতে না কাটতেই লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে বাঁধনের ওপর আছড়ে পড়া এবং রুমভর্তি তেলাপোকার আক্রমণে মায়ার সব প্রতিরোধ ভেঙে যায়। বাঁধনের বুকের খাঁচায় আশ্রয় খুঁজে পাওয়া মায়া কি শেষ পর্যন্ত ধরা দেবে?
অতীতে আসা চিরচেনা ছায়া
বাঁধনের শার্টের বোতামে চুল আটকে যাওয়ার পর ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলে মুক্তি পায় মায়া। নিজের অনুভূতির একটি নাতিদীর্ঘ কবিতা লিখে মান ভাঙাতে গিয়েও যখন বিফল হয়, তখন বাঁধনের ফোনে প্রাক্তন প্রেমিক আরিফের চ্যাট দেখে মায়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। এই ক্ষতের কারণে বাঁধন কি তাকে চিরতরে পর করে দেবে?
ঝুম বৃষ্টিতে ব্রেকআপ লেটার
বৃষ্টির দিনে পুরনো টিনশেড ঘরে ঘুমন্ত মায়াকে দেখতে এসে এক অভাবনীয় ঘটনার মুখোমুখি হয় বাঁধন। আচমকা এক গভীর চুম্বনের রেশ কাটতে না কাটতেই মায়া তার হাতে তুলে দেয় একটি 'ব্রেকআপ লেটার'। লুডু খেলার তীব্র লড়াই আর চিরকুটের গোপন আবদারে এই অদ্ভুত সম্পর্কের মোড় কোন দিকে ঘুরবে?
প্রকাশ্য রাজপথে ভালোবাসার জয়
চিরকুটের শর্ত অনুযায়ী বাঁধন দাবি করে মায়ার জীবনের একটি আস্ত বিকেল। কিন্তু পরদিন সকালেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠে রাগ দেখিয়ে কলেজের পথ ধরে মায়া। কলেজ গেটের ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মায়া যখন শত শত পথচারীর সামনে বাঁধনকে জাপটে ধরে, তখন কি উচ্চারিত হবে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বীকারোক্তি?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।