শেষের পাতায় শুরু
চরম প্রতারণা ও পারিবারিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আচমকা এক অপ্রত্যাশিত পরিণয়ে বাঁধা পড়ে আত্মঘাতী ঝিনুক ও নিঃস্বার্থ হৃদয়ের অর্থোপেডিক সার্জন অম্বরীশ। যে দাম্পত্যের সূচনা হয়েছিল কেবল লোকলজ্জা নিবারণ ও দায়িত্বের তাড়নায়, সেখানে জমে থাকা অতীতের ক্ষত আর অহংবোধ কি অচেনা দূরত্বের জন্ম দেবে, নাকি চরম আত্মাহুতির ভেতর দিয়েই লেখা হবে এক নতুন জীবনের আনন্দবার্তা?
উপন্যাসটির প্রথম সিজন (মোট ৫৫ পর্ব) সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ কাহিনীর প্রতিটি পর্ব কোনো চার্জ ছাড়াই নিচে বিনামূল্যে পড়া যাবে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
দায়িত্ববোধ বনাম ব্যক্তিসুখের দ্বন্দ্ব
সামাজিক প্রতিকূলতায় হারিয়ে যেতে বসা একটি জীবনকে মমতার স্পর্শে উদ্ধার করে আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে আসার মানবিক আখ্যান।
শহুরে জীবনের মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা
আধুনিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আবেগের স্খলন এবং সেখান থেকে পুনরায় দাম্পত্যের গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও পারস্পরিক নির্ভরতায় উত্তরণ।
নিখাদ পারিবারিক মূল্যবোধ
মাতৃস্নেহ, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং বন্ধুত্বের এমন এক অটুট বন্ধন যা যেকোনো ঝড়ে পরিবারকে সুরক্ষিত আশ্রয় দিতে পারে।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6ডক্টর অম্বরীশ সান্যাল (রিশু)
নায়ক (Male Lead)দিল্লির এইমস-এর মেধাবী অর্থোপেডিক সার্জন। শান্ত, আত্মসংযমী ও মাতৃভক্ত। অতীতের ক্ষত আর নিঃসঙ্গতাকে নিজের ভেতর লুকিয়ে পরিবার ও কর্তব্যের প্রতি সর্বোচ্চ দায়বদ্ধ থাকে।
সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ (ঝিনুক)
নায়িকা (Female Lead)উচ্ছল, জেদি ও স্পর্শকাতর স্বভাবের তরুণী। জীবনের ভুল মোড়ে প্রতারিত হয়ে আত্মসম্মান হারিয়ে ফেলেছিল, পরে অম্বরীশের ভালোবাসায় নতুন করে আত্মমর্যাদা ও বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পায়।
আম্বালিকা সান্যাল
মাতৃমূর্তি ও পথপ্রদর্শকরিশুর মা তথা জ্যেষ্ঠ ভগিনী। পরিবারের চরম দুর্যোগের দিনে ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে রক্ত ও স্নেহের সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা করা এক মহীয়সী নারী।
ঝিলিক
ঝিনুকের কনিষ্ঠা ভগিনীচঞ্চল ও দিদির প্রতি গভীরভাবে অনুগত। দিদির প্রতিটি সংকট ও সুখ-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থেকেছে।
দীপান্বিতা (দিয়া)
রিশুর ছোট বোনআধুনিকা ও ভালোবাসায় আগলে রাখা বোন। দাদার আদর্শ ও আদরে বড় হওয়া প্রাণবন্ত তরুণী।
ডক্টর শালিনী ও ডক্টর ইন্দ্রজিৎ
সহকর্মী ও বিশ্বস্ত সুহৃদরিশুর চিকিৎসাজীবনের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু দম্পতি, যারা রিশু ও ঝিনুকের মানসিক মেলবন্ধনে অভিভাবক ও পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করেছে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
54 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: ভাঙা স্বপ্নের পুনর্জন্ম
আকস্মিক এক দুর্ঘটনার স্মৃতি, অচেনা দুটি জীবনের অপ্রত্যাশিত পরিণয় এবং দীর্ঘ বিরহের পর আত্মিক পুনর্মিলনের সম্পূর্ণ পর্বমালা।
ঝড়ের পূর্বাভাসে শৈশব
শরতের কালো মেঘ দেখে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় আম্বালিকা। ছোট ভাই অম্বরীশের জন্মদিনে যখন উৎসবের আলো জ্বলার কথা, তখনই প্রিন্সিপালের ঘর থেকে ভেসে আসে এক ভয়াল দুর্ঘটনার দুঃসংবাদ। রক্তমাখা স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে আম্বালিকা কি পারবে সদ্য এতিম শিশুটিকে আগলে রাখতে?
শোকের মাঝে অঙ্গীকার
মা-বাবার নিথর দেহের সামনে সবাই যখন ভেঙে পড়েছে, তখন আম্বালিকা শক্ত মুখে এক অদ্ভুত পণ করে বসে। আত্মীয়দের রোষ ও সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে এক রত্তি শিশুর হাসিমুখ বাঁচাতে গিয়ে সে কি নিজের ভবিষ্যৎকে চিরতরে অন্ধকারে ঠেলে দিল?
ভালোবাসার কঠিন বিসর্জন
নীলাদ্রির ভালোবাসা আম্বালিকার অন্তরে এখনো অমলিন, কিন্তু কোলে থাকা রিশু তাকে মা ছাড়া আর কিছু চেনে না। সমাজের বাঁকা চোখ আর যৌথ পরিবারের শাসনের ভয়ে কি নিজের প্রথম প্রেমকে হাতজোড় করে চিরতরে বিদায় জানাতে বাধ্য হবে সে?
দশ বছর পরের চিঠি
কলকাতা শহরের ভিটেমাটি বিক্রি করে অচেনা রাঁচিতে একা মা হিসেবে জীবন শুরু করে আম্বালিকা। দশ বছর পর ক্লাস সেভেনে পড়া রিশুর জন্মদিনের সন্ধ্যায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অচেনা ভদ্রলোক কি আবার কোনো পুরোনো তুফান বয়ে আনল?
বন্ধ দরজার মায়াজাল
পরিবারের অনুশাসন এড়িয়ে পার্থের ফ্ল্যাটে পার্টির নেশায় মেতে ওঠে অবাধ্য ঝিনুক। লাস্যময়ী নাচের তালে শরীরে শিহরণ জাগলেও ঝিনুক কি বুঝতে পারছে যে বন্ধুত্বের আড়ালে তার জন্য পাতা হয়েছে এক চরম সর্বনাশের ফাঁদ?
হারিয়ে যাওয়া সখ্যের ছায়া
বিয়ের আগের দিনগুলোতে পার্থের মোহে অন্ধ হয়ে আছে চঞ্চলা ঝিনুক। অন্যদিকে ছোট বোনের বান্ধবীর বাড়ি নিমন্ত্রণ করতে গিয়ে পিয়ালী আবিষ্কার করে তার বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া সখীকে। এই পুনর্মিলন কি আসন্ন কোনো ধ্বংসের পূর্বাভাস?
মুখোশের আড়ালে প্রতারণা
হঠাৎ করেই মিষ্টি ভালোবাসার রূপ বদলে দাবি ওঠে পনেরো লাখ টাকার। গোপন ছবি ও ভিডিও ফাঁস করার চরম হুমকিতে ভেঙে পড়া ঝিনুক কি নিজের সম্মান বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে?
ভেঙে পড়া সম্মানের ডাক
ক্ষতবিক্ষত শরীরে বাড়ি ফিরে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ঝিনুক। লোকলজ্জা আর আত্মহত্যার চরম হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আম্বালিকা যখন নিজের বড় ছেলের প্রস্তাব তোলে, তখন কি এক অচেনা জীবনে সায় দেবে সে?
বৃষ্টিভেজা পুরোনো স্মৃতি
ভাইয়ের মিথ্যা দুর্ঘটনার কথা শুনে মাঝরাতে দিল্লি থেকে কলকাতায় পাড়ি জমায় ডা. অম্বরীশ। বিমানে বসে এক অচেনা বিমানসেবিকার নাম দেখে তার মনে কি ভেসে উঠবে দিল্লির সেই বর্ষার প্রথম প্রেম চন্দ্রিকার স্মৃতি?
হাসপাতালের অলিন্দে অনুরাগ
দিল্লির এইমসের জরুরি বিভাগে ব্যস্ত রিশুর জন্য পরম যত্নে মাছ রান্না করে নিয়ে আসে চন্দ্রিকা। নির্জন করিডোরে প্রথম ঘনিষ্ঠ স্পর্শের সেই আবেগ কি রিশুর জীবনে চিরস্থায়ী হতে পেরেছিল?
মায়ের ছায়া বনাম অধিকার
রিশুর জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় পরিবার ও তার মা। চন্দ্রিকার অধিকারবোধ ও অভিযোগের সামনে দাঁড়িয়ে রিশু কি নিজের পারিবারিক শিকড়কে বিন্দুমাত্র অস্বীকার করতে পারবে?
অবিশ্বাসের বিষাক্ত ছোবল
বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতায় বিধ্বস্ত শালিনীকে আশ্রয় দিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে রিশু। কিন্তু ভুল সময়ে সেখানে পৌঁছে চন্দ্রিকা যে নোংরা সন্দেহ ছুঁড়ে দেয়, তার জবাবে রিশু কি নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেবে?
অতীতের শেষ চিঠি
চন্দ্রিকার শেষ চিঠি ছিঁড়ে ফেলে কলকাতায় পা রাখে ডা. অম্বরীশ। বিমানবন্দরে বোনদের মুখে অচেনা এক মেয়ের ছবি দেখে রিশুর নির্লিপ্ত হৃদয়ে কি কোনো নতুন অনুরণন জাগবে?
অচেনা পথের সীমানায়
বন্ধ ঘরে অন্ধকারের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে বিধ্বস্ত ঝিনুক। মায়ের সান্ত্বনা আর প্রবোধের পর অচেনা অর্থোপেডিক সার্জনের সাথে নিজের ভাঙা জীবন সঁপে দিতে প্রস্তুত হওয়া কি কোনো নতুন ভুলের সূচনা?
প্রথম দেখার বিস্ময়
চোখের জল মুছে ঝিনুকের সামনে এসে দাঁড়ায় শান্ত, রাশভারী অম্বরীশ। কোনো বড়াই নয়, ঝিনুকের গালের নখের আঁচড় দেখে একজন খাঁটি চিকিৎসকের মতো তার প্রথম কথাই কি ঝিনুকের অন্ধকার হৃদয়ে আলোর পরশ বুলিয়ে দিল?
অগ্নিসাক্ষী আর চোখের জল
দুই দিনের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে বসে বিয়ের আসর। জ্বলন্ত যজ্ঞের সামনে অচেনা পুরুষের হাতে হাত রেখে সিঁদুর পরার মুহূর্তে বাবার পা জড়িয়ে ঝিনুকের কান্নায় কি শুধু অনুতাপের হাহাকার ছিল?
ফুলশয্যার শীতল দূরত্ব
বিয়ের রাতে বাসর ঘরে ঢুকে তীব্র আক্রোশে গর্জে ওঠে ঝিনুক—'আপনি আমাকে কিনে নেননি!' স্ত্রীর এই অপ্রত্যাশিত বিষোদ্গারে কি রিশুর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবে, নাকি সারা রাত সোফায় বসে সে গড়ে তুলবে এক পরম নীরবতার প্রাচীর?
দিল্লির পথে দুই মেরু
কলকাতার মায়া কাটিয়ে নতুন বউকে নিয়ে দিল্লির উড়ানে ওঠে রিশু। বিমানে পাশাপাশি বসে থাকা দুটি মানুষ কি কোনোদিন মনের ভেতরের অচেনা দূরত্ব মুছে এক হতে পারবে?
অচেনা নম্বর আর পুরনো ছায়া
দিল্লি বিমানবন্দরে নেমে ওয়াশরুমে যাওয়ার পথে হঠাৎ অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে ঝিনুকের কাছে। পার্থের কোনো চর কি এখনো তার পিছু নিয়েছে, নাকি কলেজের পুরোনো প্রতিপক্ষ রিতিকা খুলে দিচ্ছে নতুন এক অধ্যায়?
কনকনে হাওয়া আর বন্ধ কপাট
শীতের রাতে ব্যাচেলর ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতেই মায়ের ফোনে ফেটে পড়ে ঝিনুক—'সব দোষ বুঝি আমার?' মুখের ওপর সশব্দে দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শব্দে রিশুর নিঃসঙ্গ রাতের সাধনা কি গভীর ক্ষোভে রূপ নেবে?
মধ্যরাতের বিদ্যুৎ চমক
বরফশীতল জলে স্নান করতে গিয়ে গিজারের সুইচে হাত দিতেই শক খেয়ে আর্তনাদ করে ওঠে ঝিনুক। বন্ধ দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিশুর নির্ভেজাল রসিকতা আর উদ্বেগ কি তাদের মাঝের জড়তা কাটাতে পারবে?
ভোরের অ্যালার্মে কর্তব্যের ডাক
সদ্যস্নাত ঝিনুকের চঞ্চল রূপের মোহ বুকে চেপে ভোর না হতেই বাইক নিয়ে ট্রমা সেন্টারে ছুটে যায় ডা. অম্বরীশ। যে স্বামীর গায়ে এখনো গায়েহলুদের গন্ধ, সে কি রক্তের বন্যায় নিজের ব্যক্তিগত আবেগ হারিয়ে ফেলবে?
ঝিনুকের বুকে মুক্তোর বীজ
দিল্লির চার দেয়ালে বন্দিনী ঝিনুকের কান্না শুনে ফোন করেন আম্বালিকা। 'ঝিনুকের বুকে বালি ঢুকলে সে মুক্তো গড়ে তোলে'—শাশুড়ির এই দার্শনিক বাক্য কি ঝিনুককে আত্মবিশ্বাসের নতুন দিশা দেবে?
বারান্দায় অপেক্ষার প্রহর
তিনটি জটিল অপারেশন শেষে শরীর ক্লান্ত হলেও রিশুর মন পড়ে থাকে ঘরের একাকী মানুষটির কাছে। বিকেলে বাড়ি ফিরে দরজায় ঝিনুকের উদ্বিগ্ন চোখের দৃষ্টি কি রিশুকে এক অচেনা মমতায় বেঁধে ফেলবে?
নূপুরের ছন্দে পদধ্বনি
ঝিনুকের আলমারিভর্তি আধুনিক পোশাক দেখে রিশুর মনে জাগে কৌতূহল। বিকেলে বাজারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়া ঝিনুকের পায়ে পরা রুপোর নূপুরের নিক্কন কি রিশুর হৃদয়ে এক নতুন ঝঙ্কার তুলল?
রক্তের পরীক্ষা বনাম বিদ্রোহ
রবিবারের সকালে ঝিনুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিরিঞ্জ হাতে দাঁড়ায় ডাক্তার রিশু। ইনজেকশনের ভয়ে ঘর তোলপাড় করে দরজার আড়ালে পালানো ঝিনুকের শিশুসুলভ জেদ কি রিশুকে এক নির্ভেজাল হাসির আস্বাদ এনে দিল?
শপিং মলে রূপের দ্যুতি
দক্ষিণ দিল্লির শপিং মলে ঝিনুকের জন্য কেনাকাটা করতে গিয়ে রিশু আবিষ্কার করে এক চঞ্চলা কিশোরীকে। একের পর এক সালোয়ার-কামিজ ট্রায়ালের মাঝে স্ত্রীর চোখের তারায় কি ফুটে উঠবে অবাধ্য এক আবদার?
হাতে মাখা প্রথম স্বাদ
দিল্লির রাস্তায় ফুচকা খাওয়ার আবদারে মেতে ওঠে ঝিনুক। নিজের হাতে তুলে দিয়ে ডাক্তার স্বামীকে ফুচকা খাইয়ে দেওয়ার সেই মুহূর্তে দুজনের আঙুলের স্পর্শে কি দূরত্বের দেয়াল ভাঙতে শুরু করবে?
লন্ডন সেমিনারের বার্তা
রয়্যাল ন্যাশনাল হাসপাতালে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণপত্র আসে রিশুর টেবিলে। অন্যদিকে নিঃসঙ্গ ঝিনুকের কাছে পুরোনো ব্যাচমেট রিতিকার ফোন এক অজানা পার্টির প্রলোভন জাগিয়ে তোলে।
বন্ধুর আগমনে চমক
হঠাৎ ইন্দ্রজিৎ ও শালিনী এসে উপস্থিত হয় ফ্ল্যাটে। নতুন বউকে নিয়ে বাইরে পাঁচতারা রেস্তোরাঁয় ডিনারের তোড়জোড় শুরু হতেই রিশু ও ঝিনুকের ঘরোয়া জীবনে কি এক উৎসবের রং লাগবে?
লাল শাড়ির মোহময়ী রূপ
জিন্সের বদলে ওয়াইন রেড সিল্কের শাড়িতে সেজে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ঝিনুক। তার রূপের মাদকতায় কি আত্মভোলা হয়ে পড়বে গম্ভীর ডাক্তার, গাড়ির অন্ধকারে যার কাঁধ স্পর্শ করে বসেছিল সে?
ছাদবাগানের মাতাল হাওয়া
পাঁচতারার রুফটপে বরফশীতল হাওয়ার বিপরীতে জ্বলে ওঠে বনফায়ার। দামী ফ্রেঞ্চ ওয়াইন আর স্কচের মাদকতায় উন্মাতাল হয়ে শালিনীর সাথে ডান্স ফ্লোরে নেচে ওঠা ঝিনুককে দেখে রিশুর হৃদয় কি নিয়ন্ত্রণ হারাবে?
অন্ধকার ক্যাবের উষ্ণ শ্বাস
নেশার ঘোরে রিশুর বুকে ঢলে পড়ে ঝিনুক কাতর আবদার করে—'আজ রাতে কিন্তু তোমায় জাগতে হবে!' ট্যাক্সির পেছনের সিটে স্ত্রীর নধর দেহের তাপে মাতাল রিশু কি নিজের সংযম ধরে রাখতে পারবে?
ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ
শোয়ার ঘরে এসে অভিমানের অশ্রু ঝরিয়ে ঝিনুক স্বীকার করে তার একাকীত্ব। পরম মমতায় তার চোখের জল মুছে দিয়ে রিশু যখন প্রথমবারের মতো কপালে গভীর চুম্বন এঁকে দেয়, তখন কি ঝিনুকের সব ক্ষত মুছে যাবে?
মধ্যরাতের চা আর স্বীকারোক্তি
মাঝরাতে রান্নাঘরে তুলসীপাতার চা বানাতে গিয়ে শৈশবের নাচের স্বপ্ন হারানোর কথা বলে কেঁদে ফেলে ঝিনুক। পার্থের পাশবিক অত্যাচারের স্মৃতি যখন তাকে ছিন্নভিন্ন করছে, তখন রিশুর বলিষ্ঠ আলিঙ্গন কি তাকে দেবে পরম নির্ভরতা?
দশ গোনার বাঁধভাঙা টান
ভোরের বিছানায় উষ্ণ আলিঙ্গনে ঘুম ভাঙে দুজনের। ডিউটিতে যাওয়ার মুখে 'দশ পর্যন্ত গোনো' বলে নেমে যাওয়া রিশুর বুকে হঠাৎ ঝিনুকের ঝাঁপিয়ে পড়া এবং এক উন্মত্ত চুম্বন কি তাদের এক অনন্ত বন্ধনে বেঁধে দিল?
ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ
রিশুর ভালোবাসায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ঝিনুক নিজেকে সাজিয়ে তোলে চাবুক ফিগারের ব্লু জিন্স ও হাই বুটে। রিতিকাকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার স্বামীকে এমন অপ্রত্যাশিত চমক দিতে যাওয়া কি কোনো নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস?
চেম্বারের সামনে রাজকন্যা
হাসপাতালের উপচে পড়া ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্যাশনেবল ঝিনুককে দেখে থমকে যায় ডা. অম্বরীশের চোখ। চেম্বারের বাইরে সবার সামনে রূপবতী স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে কি রিশুর ডাক্তারির রাশভারী রূপ হারিয়ে যাবে?
পার্কিং লটে অতীতের ছায়া
স্ত্রীর জন্য সোনার মুক্তার লকেট কিনে ফেরার পথে পার্কিং লটে রিশুর মুখোমুখি হয় বিবাহবিচ্ছিন্না চন্দ্রিকা। পুরোনো ভুলের ক্ষমা চেয়ে সে যখন আবার কাছে আসতে চায়, তখন রিশু কি তাকে নির্মম সত্যের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে?
মুক্তোর লকেটে ভালোবাসার মোহর
বাজার থেকে ঘরে ফিরে ঝিনুকের মসৃণ গলায় মুক্তোর হার পরিয়ে দেয় রিশু। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কামোন্মাদ উষ্ণ স্পর্শে জড়িয়ে ধরে রিশু কি তার প্রেয়সীকে জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যাত্রার জন্য প্রস্তুত করবে?
দুই কপোতের আদিম মেলা
শীতল রাতের ঘরে হিটারের তাপে একাকার হয়ে যায় দুটি তৃষ্ণার্ত দেহ। সব দ্বিধা ও আড়ষ্টতার বাঁধন খুলে ফেলে তারা কি ডুবে যাবে এক অনিঃশেষ কামনার সাগরে?
অগ্নিস্নানে আত্মাহুতি
প্রেমিকের প্রতিটি আদরে ঝিনুকের সমস্ত অস্তিত্ব শিহরিত হয়ে ওঠে। অতীতের সব অপমান আর কালো দাগ কি ভালোবাসার এই তীব্র স্রোতে চিরতরে ধুয়ে যাবে?
চরম মিলনের মোহনা
অনিবার্য এক প্লাবনে নিজেদের সমর্পণ করে দুটি অশান্ত আত্মা। ভালোবাসার তীব্র দহনে ঝিনুকের সর্বাঙ্গে কি নেমে আসবে এক স্বর্গীয় পূর্ণতার শান্তি?
তৃপ্তির পর আকস্মিক সুর
নিস্তেজ দেহে একে অপরের বুকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় ঝিনুক স্বীকার করে—'তুমি ছাড়া আমি যমের দুয়ারেও যেতে প্রস্তুত!' কিন্তু সেই চরম পরম মুহূর্তেই হঠাৎ বেজে ওঠা ফোনের সুরে কি কোনো অশনি সঙ্কেত লুকিয়ে?
মাছের বাজারে তীক্ষ্ণ নজর
দিয়া ও ঝিলিকের দিল্লি আসার খবর পাকাপাকি হতেই মাছ কিনতে বাজারে যায় রিশু ও ঝিনুক। সেখানে দূর থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা অচেনা নারীটি যে চন্দ্রিকা, তা জানার পর ঝিনুকের মনে কি সন্দেহের মেঘ জমবে?
ছোট্ট বোনের গোপন ইশারা
বিমানবন্দরে দিয়া ও ঝিলিককে আনতে গিয়ে তাদের এক অদ্ভুত ইশারা চোখে পড়ে ঝিনুকের। দুই কিশোরী কি অচেনা কোনো যুবকের সাথে নতুন প্রেমের খেলায় মেতে বড় কোনো ভুল করতে চলেছে?
থার্টি ফার্স্টের রঙিন ফাঁদ
থার্টি ফার্স্ট নাইটে ক্লাবে যাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে পুরো বাড়ি। বিউটিশিয়ান ডেকে যখন সাজগোজ তুঙ্গে, তখনই হাসপাতালে রিশুর জন্য এসে পৌঁছায় এক আশঙ্কাজনক ইমার্জেন্সি কেস। পার্টি কি তবে অনিশ্চয়তায় ডুবল?
উন্মাতাল রাতের আলোকচ্ছটা
বারগেন্ডি বডিকন গাউনে সেজে ক্লাবে পৌঁছায় ঝিনুক ও বোনেরা। ওটির ঘাম মুছে দেরিতে ক্লাবে পা রেখে রিশু যখন ডান্স ফ্লোরের দিকে তাকায়, তখন তার চোখে কি দৃশ্য ধরা পড়বে?
দাবানল আর ভাঙা শাসন
ডান্স ফ্লোরে মদের ঘোরে অচেনা যুবকের আলিঙ্গনে লীন দিয়াকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে রিশু। প্রকাশ্য রাস্তায় সপাটে এক চড় বসিয়ে যখন ঝিনুকের দিকে আঙুল তোলে, তখন কি চিরতরে ভেঙে যাবে তাদের সদ্য বোনা প্রেম?
একাকী রাতের অন্তিম সুর
ফ্ল্যাটে ফিরে ঝিনুককে ছাড়াই আগামী সকালের বিমানে তিনজনকে কলকাতা পাঠানোর টিকিট কেটে নেয় রিশু। সারা রাত জেগে ঘরের দুই প্রান্তে বসে থাকা দুটি মানুষ কি কোনোদিন মনের ক্ষোভের আগুন নেভাতে পারবে?
অশ্রুভেজা শূন্য রানওয়ে
বিমানবন্দরের কাঁচের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রিশুর দিকে অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানায় ঝিনুক। কলকাতায় নিজের বাবার বাড়ি না গিয়ে শাশুড়ি আম্বালিকার বুকে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ার রহস্য কী?
সত্যের কঠিন আয়না
দিল্লির এক চাইনিজ রেস্তোরাঁয় রিশুর মুখোমুখি বসে রিতিকা খুলে দেয় ঝিনুকের জীবনের গোপন ইতিহাস। পার্থের কর্মফল আর ঝিনুকের কোমল অন্তরের সত্য শুনে রিশুর চিকিৎসক মনের অহংকার কি চূর্ণ হবে?
বৃষ্টির রাতে কঠিন চপেটাঘাত
ঝড়ের রাতে রিশুর ফ্ল্যাটে এসে রিতিকা যখন আবেগ ও নিঃসঙ্গতার মুখে এক অপ্রত্যাশিত চড় কষিয়ে বলে—'তুমি বই পড়তে জানো, মানুষ পড়তে শেখোনি!' তখন কি রিশু তার ভুলের গভীরতা বুঝতে পারবে?
শেষের পাতায় নতুন শুরু
লন্ডন যাওয়ার আগের মাঝরাতে রিশুর কান্নায় ভেঙে পড়ে ফোনের ওপাশ—'ঝুনু, তোমায় ছাড়া পারছি না!' ভোররাতের ফ্লাইটে পালিয়ে আসা প্রেমের মিলন আর পাঁচ বছর পরের কোলজুড়ানো মুক্তোর হাসিতে কি পূর্ণতা পেল তাদের জীবন?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
শেষের পাতায় শুরু (Sesher Patay Shuru) উপন্যাসটির মূল ভাববস্তু কী?
উপন্যাসটির মোট কয়টি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সম্পূর্ণ?
শেষের পাতায় শুরু উপন্যাসের লেখক কে?
উপন্যাসটি পড়ার জন্য কি কোনো পিডিএফ ডাউনলোড করার প্রয়োজন আছে?
গল্পের নায়ক-নায়িকা অম্বরীশ ও ঝিনুকের সম্পর্কের শেষ পরিণতি কী হয়?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ