সিজন 1 অধ্যায় 17 ড্রামা রহস্য #ঈর্ষা #গোপন রহস্য #প্রেমের ত্রিকোণ অরনী অবনী তাসিন শিলা

নতুন মুখের রহস্যময় আগমন

লেখক: সুলতানা তমা 6 মিনিট পড়া 905 শব্দ
নতুন মুখের রহস্যময় আগমন

–অরনী এই অরনী

–হুম

–এতো বেলা হয়ে গেছে এখনো শুয়ে আছিস ক্লাসে যাবি না

–না ভালো লাগছে না

–ক্লাসে চল ভালো লাগবে

–না

–চল বলছি

শিলা আমাকে টেনে ঘুম থেকে তুললো, রাতে যে কখন ঘুমিয়ে ছিলাম মনেই নেই, এখন এই পাগলীর জন্য ক্লাসে যেতে হবে আমার তো মোটেও ক্লাসে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না গেলেই তো তাসিনের চেহারা দেখতে হবে কিন্তু যাওয়া লাগবে শিলার জন্য, উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিলাম

–এই অরনী হলো তোর

–হ্যা চল

–কিছু খেয়ে নে

–ইচ্ছে নেই চল

কলেজের ভিতর ঢুকতেই শুনলাম তাসিন কে নিয়ে সবাই কি যেন বলাবলি করছে কিন্তু বিষয়টা কি বুঝতে পারলাম না, হঠাৎ পিছন থেকে শিলা কে তাসিন ডাক দিলো, আমি দাঁড়িয়ে রইলাম শিলা আর তাসিন দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে অনেক দূরে যেহেতু কি কথা বলছে শুনতে পাচ্ছি না, অনেক্ষণ পর শিলা আসলো

–কিরে কি কথা বললি

–শুনলে সহ্য করতে পারবি তো

–মানে

–সবাই কি বিষয় নিয়ে বলাবলি করছে জানিস

–না তো

–কলেজে একটি নতুন মেয়ে এসেছে নাম অবনী, এই মেয়ে ভাইয়া কে প্রপোজ করেছে ভাইয়াও রাজি আজ ওদের দুজনের প্রেম হলো

–তাতে আমার কি আমি কেন সহ্য করতে পারবো না

–কলেজে যে মেয়েরা ভাইয়া কে দেখে ক্রাশ খাইছিল তারা কষ্ট পাচ্ছে আর তুই উনার বউ হয়ে বলছিস তাতে কি

–আমি ওর ছয়মাসের বউ তাও শুধু কাগজে কলমে ও প্রেম করুক বা বিয়ে করুক আমার কিছু না

–দূর তোর সাথে এই বিষয়ে কথা না বলাই ভালো

–আমিও তো এটাই বলতে চাইছিলাম এসব আজাইরা বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই

–হুম ক্লাসে চল

ক্লাসে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছি আর পা নাচাচ্ছি এইটা আমার খুব পুরনো অভ্যাস মন খারাপ থাকলে এমন করি হঠাৎ শিলা ধাক্কা দিয়ে সামনে থাকাতে ইশারা করলো, সামনে তাকিয়ে তো আমি অবাক একটি মেয়ে সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে কিন্তু এই মেয়ের সাথে আমার চেহারার এতো মিল কেন দুজন এক জায়গায় দাঁড়ালে সবাই ভাববে আমরা দুবোন

–অরনী

–হুম

–এই মেয়ে কে জানিস

–কে

–অবনী তাসিন ভাইয়ার…

–বুঝেছি কিন্তু ওর সাথে আমার চেহারার এতো মিল কেন

–এক চেহারার মানুষ নাকি পৃথিবীতে সাতজন থাকে শুনেছি অবনী তো আর তোর মতো হুবহু না দেখতে কিছুটা তোর মতো

–তাও কেমন যেন আমার সাথে ওর চেহারা মিলে যাচ্ছে

–তোর সতিন হবে তো তাই হিহিহি

–ফাজলামো করবি না

–ওকে ক্লাস শুরু হবে হেডফোন রেখে ক্লাসে মন দে

–আর ক্লাসে মন তাসিনের ক্লাস করতে তো ইচ্ছেই হয়না আমার

–ওই উনি কিন্তু এখানে তোর টিচার নাম ধরে ডাকবি না

–হুহ

কোন কাজের শাস্তি হিসেবে যে তাসিন আমার টিচার হয়েছে আল্লাহ জানেন ওর ক্লাস করতে একদম ইচ্ছে হয়না তাই হেডফোন কান থেকে না খুলে উল্টো সাউন্ড বারিয়ে দিয়ে গান শুনতে লাগলাম সাথে তো পা নাচানি আছেই, তাসিন ক্লাসে ঢুকেই আমার কানে হেডফোন দেখে রাগি চোখে তাকালো পড়া চুরি তো ও দেখতে পারে না তাই হয়তো, ওকে আর একটু রাগানোর জন্য আমি ওর দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি দিলাম সাথে সাথে ও আমাকে দেখিয়ে অবনীর দিকে তাকিয়ে ওকে চোখ মারলো মেয়েটাও কেমন নির্লজ্জের মতো হাসছে উফফফ মন চাইছে সবার সামনেই তাসিনের গলা টিপে ধরি কিন্তু বর্তমানে ও আমার টিচার তাই রাগটা কন্ট্রোল করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে গান শুনতে লাগলাম

–এই মেয়ে তোমার নাম কি (কথাটা শুনে পাশে তাকালাম হাসবো নাকি কাঁদব এখন তাসিন আমার নাম জিজ্ঞেস করছে)

–কি হলো চুপ হয়ে আছ কেন

–(শিলার দিকে তাকালাম আমার মতো ওর একি অবস্থা অবাক হয়ে তাসিনের দিকে তাকিয়ে আছে)

–এই মেয়ে কথা কান দিয়ে যায় না ওহ যাবে কিভাবে কানে তো হেডফোন লাগানো

–(চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকালাম)

–দাও ফোন আর হেডফোন আমার কাছে দাও ক্লাস শেষে নিয়ে যেও (বলেই ফোনটা আর হেডফোন নিয়ে গেলো তারপর আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে বললো “বলেছিলাম না পড়া চুরি করতে পারবা না এখন মন দিয়ে ক্লাস কর”)

তাসিন ফোন নিয়ে চলে গেলো আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে বসে ভাবতেছি ওর এই কাজের শাস্তি কি দেওয়া যায়

–অরনী

–কি কানের কাছে ফিসফিস করছিস কেন

–আরে রাগিস না একটা বিষয় ভেবে দেখেছিস

–কি

–ভাইয়া তোকে যেমন ভালোবাসে তুইও যদি তেমন ভালোবাসতি তাহলে আজকের ক্লাসটা হেব্বি হতো

–মানে

–স্বামী টিচার আর বউ ছাত্রী হিহিহি

–তোর ফাজলামো ছাড়াচ্ছি

–দেখ অবনী মেয়েটা তোর দিকে বার বার তাকাচ্ছে (অবনীর দিকে তাকালাম মেয়েটা আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, ওর প্রতি আগে একটু হিংসা হলেও এখন ওর চোখ দুটি দেখে কেমন যেন মায়া লাগছে, আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি বুঝতে পেরে মিষ্টি করে একটি হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে ফেললো)

–কিরে কি হয়েছে হিংসা হচ্ছে

–নারে কেমন যেন মায়া লাগছে আচ্ছা অবনীর বাসা কোথায় ওর বাবার নাম কি

–লন্ডন থেকে এসেছে জানি আর কিছু জানিনা

–হুম

ক্লাস শেষে লাইব্রেরীর দিকে গেলাম হঠাৎ তাসিনের কন্ঠ শুনে দাঁড়িয়ে পড়লাম, কার সাথে যেন কথা বলছে

–তুমি এমন করলে হবে নাকি

–কি করলাম

–ওর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলে তো বুঝে ফেলবে

–আর থাকাবো না

–তুমি দূর্বল হয়ে পরলে আমার সব প্ল্যান বেস্তে যাবে বুঝার চেষ্টা করো

–বুঝি তো কিন্তু

–প্লিজ এখন থামো ও এদিকে আসলে শুনে ফেলবে তোমাকে যা বলার ফোনে বলবো

–হুম

হঠাৎ শিলা আমার হাত ধরে টেনে মাঠে নিয়ে এলো

–এভাবে টেনে আনলি কেন

–ওরা এখন প্রেম করছে তাই ওদের কথা আমাদের শুনা উচিত না

–কিন্তু তাসিন কি যেন বলছিল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে কেন এমন করলে বুঝে যাবে তারমানে কি অবনী আমার দিকে তাকিয়ে ছিল বলে ও এসব বলেছে কিন্তু আমি কি বুঝে যাবো

–দুর অজতা তোর বিষয় ভাবছিস ওরা অন্য কিছু নিয়ে হয়তো কথা বলছিল

–না কেমন যেন রহস্য লাগছে আর তাসিন কি যেন প্ল্যান এর কথা বলছিল

–তুই না বললি এসব আজাইরা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো ঠিক না তাহলে এখন ভাবছিস কেন চুপ করে বসে থাক ওদের কে ওদের মতো থাকতে দে

–হুম

চুপ করে বসে আছি টিকি কিন্তু মাথা থেকে একটা কথা সরাতে পারছি না তাসিন কিসের প্ল্যানের কথা বলছিল…

অধ্যায় 17 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!