সিজন 1 অধ্যায় 21 পারিবারিক ড্রামা #গোপন রহস্য #সন্দেহ #শ্বশুরবাড়ি তমা আকাশ আকাশের মা রাকিব

কালো টাকার প্রাসাদ ও মমতাময়ী ছায়া

6 মিনিট পড়া 940 শব্দ
কালো টাকার প্রাসাদ ও মমতাময়ী ছায়া

আকাশ মেঘার সাথে কথা বলে ফোন রেখে আসলো

–তমা তুমি খাটে ঘুমিয়ে পড় আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি

–আমি সোফায় ঘুমাতে পারবো তুমি খাটে ঘুমাও

–তুমি এখন আমার মেহমান তুমি খাটে ঘুমাও

–ঠিক আছে আজকে আমি খাটে ঘুমাই আপনি সোফায় ঘুমান কাল আমি সোফায় ঘুমাব আপনি খাটে ঘুমাবেন এভাবেই ভাগাভাগি করে ঘুমাব

–ওকে এখন ঘুমিয়ে পরো

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ৯টা বেজে গেছে অথচ কেউ ডাকে নি হঠাৎ চোখ পড়লো বারান্দায় আকাশ দারিয়ে ফোনে কথা বলছে, উঠে ওর কাছে গেলাম

–এতক্ষণ ঘুমাইছি ডাকোনি কেন

–এমনি

–মন খারাপ

–হুম

–কেন

–আমার পরিচিত এক উকিল আছে তার কাছে ফোন দিয়েছিলাম বললো ছয় মাসের আগে ডিভোর্স পেপার আসবে না

–ছয় মাস দেখতে দেখতে চলে যাবে

–কিন্তু মেঘা কি মানবে

–আমি আপুকে বুঝিয়ে বলবো

–ঠিক আছে ফ্রেশ হয়ে নিচে আস নাস্তা করবে

–ওকে

গোসল করে একটা শাড়ি পড়লাম একটু সেজে নিচে গেলাম দেখি সবাই নাস্তার টেবিলে বসা সবাই বলতে শাশুড়ি মা, মামা আর আকাশ আর দুইটা কাজের মেয়ে কাজ করছে, এইটা যে বিয়ে বাড়ি দেখে বুঝার উপায় নেই

মা: বউমা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছ কেন আস এখানে

আমি: আসছি (গিয়ে একটা চেয়ারে বসলাম)

মা: আমরা তিনজন আর দুইটা কাজের মেয়ে ছাড়া আর কাউকে দেখছ না তাই অভাক হয়েছ আসলে তোমাদের বিয়েতে কাউকে দাওয়াত দেয়া হয়নি আকাশ মানা করেছে তাই

মামা: আপা (আমার শাশুড়ি) আমি ভাবছি দুই একদিনের মধ্যেই সবাইকে দাওয়াত দিয়ে ধুমধাম করে ওদের বৌভাত করবো

আকাশ: এসবের কোনো প্রয়োজন নেই মামা আমাদের জন্য যা করেছ যথেষ্ট করেছ

মামা: এটা কেমন কথা আকাশ আত্মীয়স্বজন কে জানাতে হবে না আর আমার বন্ধুবান্ধব দের কি বলবো যখন তারা জানবে আমার একমাত্র ভাগ্নে কে কোনো অনুষ্ঠান ছড়া বিয়ে করিয়েছি

আকাশ: তোমার বন্ধু গুলো তো তোমার মতই হবে ওদের কে এখানে আনতে হবে না আর আত্মীয়স্বজন কে ফোন করে জানিয়ে দাও ওরা এসে তমা কে দেখে যাক

মা: আকাশ তোর মামা যখন চাচ্ছে….

আকাশ: আমার ইচ্ছের বিরুদ্বে অনেক কিছু করেছ তোমরা আর না প্লিজ বলেই নাস্তা না করেই উঠে চলে গেল

মামা: বউমা ওর ব্যবহারে কিছু মনে করো না ও একটু এমনি

আমি: মামা উনি যখন চাচ্ছেন না তাহলে বৌভাতের কোনো প্রয়োজন নেই

মামা: ঠিক আছে

মা: বউমা নাস্তা করে আমার রোমে এসো বলেই চলে গেলেন

আমি বসে আছি আর মামা বসে নাস্তা করছেন হঠাৎ মামার দিকে চোখ পড়লো উনি আমার দিকে আবার খারাপ নজরে থাকিয়ে আছেন আমি তাড়াতাড়ি উঠে মায়ের রোমে চলে গেলাম মনে মনে ভাবছি এইটা নাকি মামা শশুড় এইটা তো একটা আস্ত লুইচ্ছা বিয়ের আগে নামটা ভালই দিয়েছিলাম বেহায়া রাকিব হিহিহি

আমি: মা আসব

মা: আসো বউমা অনুমতি লাগে নাকি

–আপনি তো নাস্তা না করেই চলে আসলেন নাস্তা করবেন না

–না মা খিদে চলে গেছে এমনটা প্রায় দিন হয় যখন খাবার টেবিলে বসে রাকিবের সাথে আকাশ রাগারাগি করে

–মা বাদ দিন উনি যখন চাচ্ছেন না অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই আর আমিও এসব জামেলা চাচ্ছি না

–ঠিক আছে মা, শুনো তোমাকে যে কারনে রোমে ডেকেছি

–কি মা

–আসলে আকাশ মেঘা নামের একটি মেয়েকে ভালবাসে আমিও ওর ভালোবাসা মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু রাকিব বললো তোমাকেই এই বাড়ির বউ করে আনবে তাই বাধ্য হয়ে মেঘা কে অস্বীকার করতে হয়েছে, তোমাকে দেখার পর আমারও পছন্দ হয়েছে তাই আর বাঁধা দেইনি জানি আকাশ অনেক কষ্ট পেয়েছে কি করবো বল রাকিব এত বছর ধরে আমাদের লালনপালন করছে ওর কথা ফেলি কি করে

–সবই ঠিক আছে মা কিন্তু কারো মন ভাঙ্গা ঠিক না এই বিয়েতে আকাশ মেঘা দুজনেরই মন ভেঙ্গেছে আপনি চাইলেই ওদের বিয়ে দিতে পারতেন

–হয়তো পারতাম কিন্তু এই বাসা ছেড়ে চলে যেতে হতো আকাশ তো কোনো চাকরি করে না কোথায় যাবো আর আকাশের ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে রাকিব এর কথা মেনে নিয়েছি

–আকাশ যদি আমাকে মেনে না নেয় তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন

–আকাশ খুব জেদি জানিনা কখনো তোমাকে মেনে নিবে কিনা আমাকে ক্ষমা করে দিয় মা তোমার জীবনটা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিলাম

–এতে আপনার কি দোষ মামার ইচ্ছেতেই তো বিয়েটা হয়েছে

–শুধু রাকিবের ইচ্ছায় না তোমার মায়ের ইচ্ছাতেও হয়েছে

–আম্মুর

–হ্যা তোমার আম্মু প্রায় দিন এই বাসায় আসে, রাকিব আর তোমার মা নাকি দুই বন্ধু আমি প্রথম ওদের কথা বলতে শুনেছিলাম তোমাদের বিয়ে নিয়ে

–ওহ

–শুনেছি ও তোমার আপন মা না

–হুম

–আমি আজকে থেকে তোর মা

–সত্যি বলছেন

–হ্যা

–আচ্ছা মা আপনার মেয়ে যদি কখনো কোনো বড় ভুল করে ক্ষমা করবেন তো

–সন্তানের সব ভুল মা ক্ষমা করে কিন্তু এই কথা বলছিস কেন

–এমনি খিদে লেগেছে চলেন নাস্তা করবো

–চল

মা কে নিয়ে নাস্তা করে রোমে আসলাম, বারান্দায় গিয়ে দাড়ালাম ভাবছি মা মেঘা কে পছন্দ করেন মামার কারনে আমাকে এনেছেন এখন আমি যদি ওদের মিলিয়ে দেই অবশ্যই মা মেনে নিবেন মামা না মানলে কোনো সমস্যা নেই কারন এই ছয় মাসে আকাশ যেকোনো একটা চাকরী খুঁজে নিবে তখন আর ওদের এই বাসায় থাকতে হবে না

আচ্ছা ওদের মিলিয়ে দেয়া কি ঠিক হবে সবাই আমাকে খারাপ ভাববে না তো…?

দূর যার যা খুশি ভাবুক আমার কি আমি ওদের মিলিয়ে দেবো এইটা ছাড়া রাস্তা নেই

যদি মেঘা আর আকাশ কে মিলিয়ে দেই তাহলে তারা সুখী হবে আর যদি এমন ভাবে চলতে থাকে তাহলে আমি মেঘা আকাশ তিনজনই কষ্ট পাবো আর যদি ওদের মিলিয়ে না দিয়ে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাই তাহলেও সবাই কষ্ট পাবে

আকাশ যেমন আমাকে কখনো মেনে নিতে পারবে না তেমনি আমার পক্ষেও আকাশ কে মেনে নেওয়া সম্ভব না কিভাবে মেনে নিবো আমি তো এখনো শ্রাবনকে ভালবাসি ওকে ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না, শ্রাবনের কথা মনে পরতেই চোখ দুইটা ঝাপসা হয়ে গেলো জানিনা ও এখন কোথায় আছে কেমন আছে মোবাইলটাও অফ হয়তো সিম চেঞ্জ করে ফেলছে, আচ্ছা ও আমার সাথে এমন করলো কেন…? আমার কি দোষ ছিল আমি তো শুধু ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম ও কেন সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে চলে গেল…? ও তো এমনটা না করলেও পারতো

চোখের পানি মুছে রোমে যাওয়ার জন্য পিছন ফিরলাম দেখি আকাশ দারিয়ে আছে

–তুমি কাঁদছিলে

–কই না তো

–আমি দেখেছি লুকাতে হবে না

–হুম

–কাঁদছিলে কেন

–এমনি

–তোমার বফ এর কথা মনে পরেছে বুঝি

–বুঝলে কিভাবে

–এভাবে মানুষ ভালোবাসার মানুষের জন্যই কাদে

–হয়তো

অধ্যায় 21 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!