ঈর্ষার আগুন

ঈর্ষার আগুন
আকাশঃ হইছে নিজের চাপা টা এবার বন্ধ করুন মিস মেঘলা। যা এবার আমার পাশের রুম টা ইরার জন্য খুলে দে আর পরিষ্কার করে দে…. মেঘলাঃ আমি কেন করব? আকাশঃ তুই ইরার কাজের মেয়ে তাই….দেখ মেঘলা এমনিতেই অনেক মার খেয়েছিস আর মারতে চাচ্ছিনা তাই মুখে মুখে কথা বলাটা এবার ছেড়ে দে বলেই আকাশ মেঘলাকে টেনে নিয়ে গেল তারপর কাজ করতে জোর করল। ইরার ঘর টা একদম আকাশের পাশের রুম আর মেঘলার রুমের মুখোমুখি এ ঘরের দরজা খোলা থাকলে মেঘলার ঘর থেকে সব দেখা যাবে। মেঘলার ঘর গোছানো শেষ হতে না হতেই আকাশ বলল যা গিয়ে আমাদের জন্য রান্না কর। মেঘলাঃ আমি কি রান্না করি নাকি? তাহলে আজ আমি কেন রান্না করব… আকাশ মেঘলাকে থাপ্পড় মেরে বলল মুখে মুখে কথা বলতে বারন করেছি না? যা বলছি রান্না কর, একটু এদিক থেকে ওদিক হলে তোকে আমি পাগলাগারদে পাঠাব…. মেঘলা গালে হাত দিয়ে মনে মনে আকাশকে বকা দিতে দিতে রান্না ঘরে গিয়ে রান্না শেষ করে আকাশ আর ইরাকে খেতে দিল। আকাশ ইরার হাত ধরে নিয়ে নিচে নামছে আকাশ আর ইরাকে পাশাপাশি দেখে মেঘলার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে… মেঘলাঃ আমি তো আকাশ কে ভালবাসি না তাহলে কেন ইরা আপুকে আকাশের পাশে মানতে পারছি না বুকের বাম পাশে কেন চিন চিন ব্যাথা অনুভব করছি? আকাশ এসে বলল মেঘলা খাবার দে… মেঘলা ২ টা প্লেটে খাবার দিচ্ছে দেখে ইরা বলল আরে মেঘলা ২ প্লেটে খাবার দিচ্ছ কেন আমরা তো এক প্লেটে খাব আকাশ আমায় খাইয়ে দিবে তাই না বেবি? মেঘলাঃ কি আজব ঘটনা তোমার হাতে কি মরিচা ধরেছে নাকি ভাইয়ার কেন খাইয়ে দিতে হবে? আকাশঃ ওই ইরা তোর ভাবি হতে চলেছে এসব কি ভাষায় কথা বলছিস ভদ্রভাবে কথা বল। আর হ্যা আমি খাইয়ে দিব তাতে তোর কিসের প্রবলেম তুই কথা বলছিস কেন…??? আকাশঃ বল মেঘলা বল প্লিজ… বলে দে মেঘলা তুই আমায় ভালবাসিস তাই তুই চাস না আমি ওকে খাওয়াই বল মেঘলা প্লিজ বল (মনে মনে) মেঘলাঃ প্রবলেম টা তো আমারই আপনার নয় তাই আমি কথা বলছি। যখন সবাই বলবে মেঘলার ভাই একটা প্রতিবন্ধীকে বিয়ে করেছে আমার ভাবি একটা প্রতিবন্ধী শুনতে কেমন লাগবে… মেঘলা সত্যিটা বলল না জন্য আকাশের খুব রাগ হল ধমক দিয়ে মেঘলাকে চুপ করিয়ে দিল তারপর মেঘলার উপড় রাগ করে ইরাকে খায়িয়ে দিতে শুরু করল। এসব ন্যাকামি মেঘলার সহ্য হল না তাই সেখান থেকে চলে গেল। আকাশঃ খুব খারাপ লেগেছে তাই না? মুখ টা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ইচ্ছে করছে একটু যদি আদর করে দিতে পারতাম কিন্তু আদর করতে গেলে তো হাজারটা বাজে কথা শুনাবি। তুই এভাবে কেন বদলে গেলি মেঘলা? আকাশ খাওয়া শেষ করে গিয়ে সোফায় বসল। তখন ইরা একটা কাগজ নিয়ে এসে বলল বেবি জানই তো বাবার অনেক ব্যাংক লোন হয়ে গেছে তুমি প্লিজ এই বিল টা পে করে দাও। ইরার কথা শুনে মেঘলা এগিয়ে আসল, আকাশ মেঘলার দিকে একবার তাকিয়ে ইরাকে জিজ্ঞাস করল কত টাকার বিল? ইরাঃ খুব বেশি না এই জাস্ট দশ লাখের মত। আকাশঃ ঠিক আছে পেন দাও সাইন করে দিচ্ছি বলে দিও আমার চেম্বারে এসে যেন নিয়ে যায়। মেঘলাঃ আকাশ কি পাগল হয়ে গেছে এই মেয়ে কি পরিমান লোভি সেটা কি বোঝতে পারছে না? আকাশ সাইন করে বলল ইরা যাও রেডি হয়ে নাও আমরা ঘুরতে যাব। ইরাঃ ওয়াও থ্যাংক্স বেবস আমি এখুনি যাচ্ছি। আকাশ মেঘলার দিকে তাকিয়ে বলল এই তুই ও যা রেডি হয়ে আয় তুই ও যাবি আমাদের সাথে কথা বরাবি তো মার খাবি… ভাবিস না ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছি তোকে ইরার কাজ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছি। মেঘলা বাধ্য হয়েই রেডি হয়ে নিল। আকাশ আর ইরা সামনে বসেছে আর মেঘলা পিছনে। আকাশ মেঘলাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ইরার কেয়ার করছে হাত ধরে গাড়িতে তুলেছে সীট বেল্ট লাগিয়ে দিয়েছে। মেঘলা ইচ্ছা করেই সীট বেল্ট পরল না। মেঘলার আকাশের কাহীনি ভাল না লাগলেও কি আর করবে বসে বসে দেখছে। আর গাল ফুলাচ্ছে। অভিমানের পাহাড় বানাচ্ছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে আকাশ এটা দেখে খুব মজা পাচ্ছে কারন মেঘলাকে সে কস্ট দিতে চায়। গাড়ি চলছে আকাশ আর ইরা গল্প করতে করতে যাচ্ছে কিছুক্ষন পর আকাশ গ্লাসে চোখ রেখে দেখল যাকে জ্বালানোর জন্য সে ইরার সাথে হাজার রোমান্টিক কথা বলছে সে সেসব কিছু না শুনে ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছে। দেখেই আকাশের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। সে জোরে গাড়ির ব্রেক চাপলো। মেঘলা হুরমুর করে পড়ে গিয়ে সামনের সীটে ধাক্কা খেল। সাথে সাথেই কপাল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করল।মেঘলার ঘুমও ভেংগে গেল। আকাশ মেঘলাকে জাগানোর জন্য একটা ঝাঁকি দিতে চেয়েছিল কিন্তু মেঘলা যে সীট বেল্ট পড়ে নি সেটা আকাশ খেয়াল করে নি তাই এমন টা হল। আকাশ ধমক দিয়ে বলল ঠিক করে বসতে পারিস না দেখতো কি অবস্থা করেছিস? আকাশ গাড়ি থামিয়ে মেঘলাকে বাইরে এনে কপালে পানি দিতে লাগল। মেঘলাঃ জন্ম থেকেই যার কপাল পোড়া এই পানিতে কি সেই আগুন নিভবে আকাশ(মনে মনে) আকাশঃ তুই কি কিছু বল্লি মেঘলা? মেঘলাঃ কই নাত কিছু না বলি নি। চলুন যাই। আকাশঃ খুব ইচ্ছে করছে একটু জড়িয়ে ধরতে তুই কি বুঝিস না আমি তোকে কস্ট দিতে চাই না। কেন এভাবে সরে গেলি মেঘলা? তুই চাইলেই তো সুখের একটা জীবন হতে পারত আমাদের।(মনে মনে) মেঘলা গিয়ে গাড়িতে বসল। আকাশ আর ইরার সাথে কোন কথা বলল না। দেখতে দেখতে তারা মেলায় পৌছে গেল। আকাশ ইরাকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বলল মেঘলাকে একটু ভয় দেখাই? ইরা খুশিতেই অনুমতি দিল। আকাশঃ তাহলে তুমি এখানেই থাকো। মেলায় সব ঘুরে ঘুরে দেখো আমি একটু আসছি। আকাশঃ এই মেঘলা চল… মেঘলাঃ কোথায় যাব? আকাশঃ রাইডে চড়বি। মেঘলাঃ ইরা আপু যাবে না। আকাশঃ না..তুই আর আমি যাব বলেই আকাশ মেঘলাকে নিয়ে রাইডে চড়ে বসলো। মেঘলা জানত না এখানে কি হতে চলেছে। রাইড চলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। রাইড একটা টানেলে ঢুকল। মেঘলাঃ এটা কেমন রাইড বলতে না বলতেই আবছা আলোতে কিছু অদ্ভুত চেহারার আবির্ভাব হলো যা দেখেই মেঘলা চেঁচিয়ে উঠল। তারমানে আমরা ভুতের ট্রেনে চড়েছি… আকাশ হাসতে হাসতে বলল হুম। মেঘলাঃ আপনি জানেন আমি এসব ভয় পাই তাও কেন…??আমি নামবো প্লিজ আমাকে নামিয়ে দিন। আকাশঃ এখানে তুই চেঁচালেও কেউ তোর কথা শুনতে পাবে না তাই যতক্ষন না রাইড শেষ হচ্ছে চুপচাপ বসে থাক কিছুই হবে না। চারদিকে আবছা আলো, ভয়ানক শব্দ তার সাথে ভয়ংকর সব মুর্তি তার মাঝখান দিয়ে ট্রেন চলছে মেঘলা ভয়ে আকাশকে জড়িয়ে ধরেছে… আকাশঃ এটাই তো চাইছিলাম। ভালভাবে বল্লে তো জড়িয়ে ধরবি না। সময় কত ভয়ানক, আজ তোকে জড়িয়ে ধরার জন্যেও অযুহাত খুজতে হয়। মেঘলা চোখ বন্ধকরে আকাশকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করছে তাড়াতাড়ি যেন রাইডের সময় পার হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই রাইড চলা বন্ধ হয়ে গেল। মেঘলা খেয়াল করে দেখল রাইডের সামনে পিছনে আর কেউ নেই শুধু সে আর আকাশেই। মেঘলা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল এখানে আর কেউ নেই কেন? আর এই রাইড চলাই বা বন্ধ হয়ে গেল কেন?আমরা বের হব না? আকাশঃ হয়ত কোন সমস্যা হয়েছে ঠিক হলে বের হব। মেঘলাঃ কি বলছেন এসব এখন যদি এই ভুতগুলি উল্টো পালটা কিছু করে? আকাশঃ বোকা কোথাকার এগুলি মানুষ….ভুত নয় শুধু মুখোশ পড়েছে। মেঘলা সে যাই হোক তাড়াতাড়ি এখান থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করুন আমার ভয় লাগছে। আকাশ মেঘলাকে জড়িয়ে ধরে বলল চোখ বন্ধ করে থাক ভয় করবে না। মেঘলাও আকাশকে আঁশটে পিশটে পেঁচিয়ে ধরে রেখেছে। বেশ কিছুক্ষন পর আকাশ আর মেঘলা বের হয়ে আসল। আসতেই ইরা আকাশের উপড় খবরদারি শুরু করে দিল। ইরাঃ এটা কেমন রাইড যেখানে অন্য কেউ চড়তে পাড়বে না শুধু তোমরা ২ জন চড়েছো বাকি সব সীট খালি তার মধ্যে ভিতরে এত সময় নিয়ে কি করছিলে তোমরা? আকাশঃ আজব আমি অন্য কারো সাথে রাইডে কেন চড়ব? আকাশ চৌধুরীর একটা স্ট্যাটাস আছে ওকে? আর রাইডে কোন গন্ডগোল হলে আমাদের কি করার আছে? কিন্তু তুমি আমার কাছে কইফত চাওয়ার কে? ইরাঃ আকাশ শোনো তোমাদের মধ্যে যদি কিছু থাকে তাহলে এখুনি বলে দাও আমাকে নিয়ে তোমরা খেলতে পারো না। বিয়ের আগে এসে হুট করে বলবে বিয়ে করবে না সেটা তো হতে পারেনা তাই না? আমারও তো মান সম্মান আছে নাকি? মেঘলাঃ আমাদের মধ্যে কিছু নেই আপু তুমি চিন্তা করো না এমন কিছু হবে না। আমি প্রতিজ্ঞা করে বলছি এমন কিছু হতে আমি দিব না। আর আমি উনাকে একদমি পছন্দ করি না তাহলে বিয়ে কেন করব? মেঘলার প্রতিটা কথা আকাশের মনে তীরের মত আঘাত করছে। মেঘলার প্রতিজ্ঞার কথা শুনে মেঘলাকে নিজের করে পাওয়ার সব আশা ছেড়ে দিল। আকাশঃ মিথ্যা আমি বলতে পারি না আর ছলনা করার ইচ্ছাও আমার নেই যা বলার সরাসরি বলি আমি মেঘলাকে ভালবাসি নিজের চেয়েও বেশি ভালবাসি মেঘলা একবার বল্লে আমি শুধু বিয়ে কেন হাসতে হাসতে নিজেকেউ শেষ করে দিতে পারি। আকাশ মেঘলা সামনে হাঁটু ঘেরে বসে বলল জীবনের শেষবার তোকে জিজ্ঞাস করছি তুই কি আমার হবি? দেখ মেঘলা আমি সবার সামনে ২ হাত বাড়িয়ে তোর কাছে ভিক্ষা চাইছি, তুই আমায় আমাকে ফিরিয়ে দিস না প্লিজ মেঘলা….আমার উপর দয়া কর… আকাশের চোখ থেকে পানি পরছে। আকাশ ঠিক মত কথা বলতে পারছে না কথা জড়িয়ে যাচ্ছে….সবাই মিলে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। এতকিছুর পরেও মেঘলার মন গলল না সে নির্দয়ের মত বলল আমি একটু আগেই প্রতিজ্ঞা করেছি… আমি আর কখনো আপনার জীবনে ফিরব না। তাই শুধু শুধু সিনক্রিয়েট করবেন না উঠুন। আকাশ চোখ মুছে উঠে দাঁড়িয়ে বলল ১ বার ভুল করলে সুযোগ দেওয়া যায় ২য় বার ক্ষমা করা যায় ৩য় বার অনুরোধ করা যায় আমি আজ ৩ টা ধাপেই পেরিয়ে গেলাম। এবার তুই বুঝবি জীবন কি জিনিস…আজকের পর ভুলে যাব আমি মেঘলা নামের কাউকে চিনতাম… আমার ফ্যামিলি, আমার চরিত্র বা যেকোন সন্দেহ যে সমস্যায় থাক না কেন তুই আমাকে বলতে পারতি তুই আজ জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল টা করলি যার মাসুল সারাজীবন ধরে দিতে হবে। আমি সুখি হব মেঘলা আর তুই সেটা চোখের সামনেই দেখবি। আমার কাছে তুই আজ মরে গেছিস। ইরা আমি মেঘলাকে ভালবাসতাম কিন্তু আজ ওর প্রতিজ্ঞার কথা শুনে মনে হচ্ছে ভুল মানুষ কে ভালবেসে ফেলেছি। মেঘলা আজ আমার কাছে মরে গেছে। এরপর কি তুমি আমায় বিয়ে করবে? যদি আমার অতীত মেনে নিয়ে বিয়ে করতে পারো বলো। আর যদি না পারো সেটাও বলো। কারন আমি আগামি ৭ দিনের মধ্যেই বিয়ে করব সেটা তুমি হও বা অন্য কেউ। ইরা এসে আকাশ কে জড়িয়ে ধরে বলল তুমি যেমন মেঘলাকে ভালবাসো আমিও তেমন তোমায় ভালবাসি ২ বছর আগে থেকেই তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি আজ তা কি করে ভেংগে দেই বলো তোমার অতীত যাই থাকুক আমি তোমার সাথেই থাকতে চাই আকাশ…

অধ্যায় 30 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!