অফিডিয়ান / অধ্যায় 50

বিশ্বাস ভাঙার যন্ত্রণা

লেখক: রানী আমিনা 1 মিনিট পড়া
বিশ্বাস ভাঙার যন্ত্রণা

সাফওয়ান বিছানা থেকে নেমে দাড়ানোর পর রুমাইশা সহাস্যে ওর থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে দাড়ালো। আর এরপর নিজের ডান দিকে চোখ পড়তেই চমকে গেলো রুমাইশা। হাস্যজ্বল মুখখানায় অমানিশা নেমে এলো ওর মুহুর্তেই। হতবাক হয়ে ও তাকিয়ে রইলো ওর ডান দিকের দেয়ালে ঠেকিয়ে রাখা ফুল ভিউ মিররের দিকে

বিস্মিত নয়নে সেদিকে আরও একটু এগিয়ে গেলো রুমাইশা, নিজেকে আরও খুটিয়ে দেখার জন্য। আয়নার একদম কাছে গিয়ে দাড়ালো ও।

রুমাইশা কে এইভাবে নিজেকে দেখতে দেখে সাফওয়ান ধীর পায়ে এসে দাড়ালো ওর পেছনে। চোখে মুখে ওর অপরাধবোধ ফুটে উঠেছে স্পষ্ট ভাবে। থমথমে মুখে রুমাইশার আয়নায় ফুটে ওঠা প্রতিচ্ছবি টা দেখতে লাগলো ও।

রুমাইশা হতবিহ্বল হয়ে একবার নিজেকে দেখলো তো আর একবার সাফওয়ান কে। সাফওয়ান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো, কি বলে রিমু কে ও স্বান্তনা দিবে সেটা ও নিজেও জানে না! রিমু কে স্বান্তনা দেওয়ার মতো মুখ নেই ওর। সেদিন নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ না হারালে আজ এই দিন টা দেখতে হতো না। যা হচ্ছে সবকিছুর জন্য ও নিজেই দায়ী, সেই প্রথম থেকেই!

আয়নার দিক থেকে রুমাইশা ঘুরে দাড়ালো সাফওয়ানের দিকে। মুখ টা উচু করে সাফওয়ানের দিকে দেখলো ও। ওর সম্মোহনী দৃষ্টি পড়লো সাফওয়ানের মুখের ওপর। সাফওয়ান তাকাতে পারলো না রুমাইশার ওই চোখের দিকে৷ অপরাধবোধ ছেকে ধরেছে ওকে। রিমুকে ও কি জবাব দিবে!

কিন্তু সাফওয়ান কে অবাক করে দিয়ে রুমাইশা আজ অন্যান্য দিনের মতো ভেঙে পড়লো না। ওর চোখ দুইটাও আজ আর লোনা পানিতে টইটম্বুর হলো না। পায়ের গোড়ালি উচু করে, ওর থেকে প্রায় দেড় ফুট অধিক উচ্চতার সাফওয়ানের কাধে নিজের হাত দুইটা উঠিয়ে দিয়ে, সাফওয়ানের গলা জড়িয়ে ধরলো ও। তারপর আদুরে গলায় বলল,

— আপনার গগলসের মতো একটা গগলস আমার জন্যও বানিয়ে দিন! তারপর দুজনে মিলে একইরকম গেটাপে বের হবো বাইরে। কাপল ড্রেস! কেমন হবে বলুন তো?

কিন্তু রুমাইশার এই আদুরে কথাতে সাফওয়ানের মুখের অভিব্যক্তির কোনো পরিবর্তন হলো না। আগের চাইতে যেন আর ও বেশি আঁধার নামলো ওর চোখে মুখে৷ ওর মাথার ভেতর শুধু একটা কথাই ঘুরছে, নিজের অভিশপ্ত জীবনে রিমু কে টেনে এনে ও চরম ভুল করেছে। সেদিন যদি রাফসানের কথা শুনে আর না আগাতো তাহলেই ভালো হতো। আজকের এইদিন টা আর দেখতে হতো না।

সাফওয়ানের মন টা যেন ভেঙে গেলো। রিমুর ওই কাজল কালো চোখ দুইটার কথা মনে পড়লেই ওর সমস্ত বুক জুড়ে হাহাকার বয়ে যাচ্ছে৷ ভাগ্যের পরিহাসে আজ সবকিছু স্রোতের বিপরীতে চলছে৷ রুমাইশা ছিলো ওর সব সমস্যার সমাধান৷ ওর সমস্ত অসুখের একমাত্র আরোগ্য স্থল।

কিন্তু সেদিনের ল্যাবের ঘটনার পর থেকে রুমাইশার সাথে একবার ও ইন্টিমেট হয়নি ও৷ তাই ও জানে না রুমাইশার শরীরে ওর জন্য আর একটুও মেডিসিন বাকি আছে কিনা! নাকি সবই চেঞ্জ হয়ে গেছে!

ওর নিজের শরীরের অবস্থাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন৷ নরম হয়ে যাওয়া চামড়া গুলো আবার খসখসে হতে শুরু করেছে৷ দাঁত গুলোর ভেতর কেমন যেন শিরশির করছে সারাটাক্ষন। আবার আগের মতো নৃশংস হতে ইচ্ছা করছে ওর৷

গতকাল রাতে ওই ছেলে গুলোকে মেরে ও যে মানসিক তৃপ্তি পেয়েছে সেটা ধারণার বাইরে৷

রুমাইশার শারিরীক অবস্থা বুঝতে হলে রিমুর সাথে ওর একান্তে সময় কাটাতে হবে, কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আর আজ আবার রাফসান আসবে বিকেলে, এসে নিয়ে যাবে ওকে! আবার কবে ওদের দেখা হবে সেটার ও কোনো নিশ্চয়তা নেই। রুমাইশা এসব কিছুই জানে না। ও যদি জানে সাফওয়ান ওকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাবার বাড়তে পাঠিয়ে দিচ্ছে তাহলে রিমু কখনোই যেতে চাইবে না।

সাফওয়ান এসব ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ওর ঠান্ডা নিঃশ্বাস পড়লো রুমাইশার মুখের ওপর৷ বুকের ভেতর ওর অদ্ভুত রকমের সুক্ষ্ম একটা যন্ত্রনা তরঙ্গের মতো প্রবাহিত হচ্ছে সমস্ত হৃদয় জুড়ে৷ ধীর গতিতে নিজের হাত দুইটা দিয়ে ওর গলা জড়িয়ে রাখা রুমাইশার হাত দুইটা ধরে নিচে নামিয়ে দিলো সাফওয়ান৷ তারপর খুব জোর করে মুখ ফুটে বলল,

— আমি রাফসান কে এখনি ফোন দিয়ে �