না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
পাঁচ বছর আগে বাসর রাতে বর পালিয়ে যাওয়ার পর একাকী লড়াইয়ে জীবন গুছিয়ে নিয়েছিল রুহি। কিন্তু হঠাৎ একদিন সেই পলাতক স্বামী রাযীন ফিরে এসে পুরোনো দাম্পত্য জোড়া লাগানোর অদ্ভুত দাবি তোলে, যেখানে জড়িয়ে আছে অসুস্থ পিতার অপরাধবোধ আর ছায়ার মতো লেগে থাকা এক ছদ্মবেশী প্রেমিকের বিপজ্জনক অতীত। নিজের আত্মসম্মান বাঁচিয়ে রুহি কি পারবে এই পারিবারিক জটিলতার গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি পেতে, নাকি নিয়তির অমোঘ টানে সে জড়িয়ে পড়বে এক গভীর ভালোবাসার বন্ধনে?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৩৯ পর্ব)। সিজন ২ বা সিক্যুয়েল সম্পর্কিত যেকোনো ঘোষণা গল্পহাবের এই পাতায় সরাসরি প্রকাশ করা হবে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
বাস্তবধর্মী পারিবারিক মনস্তত্ত্ব
অভিজাত পরিবারের মুখোশের আড়ালে থাকা রেষারেষি, চাপা ক্ষোভ ও নিষিদ্ধ অতীতের মর্মান্তিক পরিণতি।
ধীরগতির প্রেমের রূপান্তর
অনিচ্ছার বিয়ে, ভুল বোঝাবুঝি এবং ঘৃণার ব্যবধান ভেঙে নিঃশব্দে এক অটুট নির্ভরতায় রূপ নেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান।
অপ্রত্যাশিত মোড় ও গোপন পরিচয়
প্রতিটি মোড়ে উন্মোচিত হওয়া ছদ্মবেশ, সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমীকরণ এবং টানটান পারিবারিক রহস্য।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6রুহি (রুমানা আনজুম)
নায়িকা (Protagonist)আত্মমর্যাদাশীল, পরিশ্রমী ও সংবেদনশীল এক ব্যাংক কর্মকর্তা। বিয়ের প্রথম রাতেই স্বামীর পলায়নের দুঃসহ আঘাত সয়ে একা দাঁড়িয়েছে। পিতার অঙ্গীকার রক্ষার তাগিদে অনিচ্ছাসত্ত্বেও পুনরায় শশুরবাড়িতে প্রবেশ করে পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করে।
রাযীন (রাশিদ শাহরিয়ার রাজ)
নায়ক (Male Lead)উচ্চশিক্ষিত, যুক্তিবাদী অথচ ভেতরে ভেতরে আহত এক যুবক। পরিবারের একনায়কতন্ত্র ও প্রেমিকার বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষোভে দেশ ছেড়েছিল। পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ ও আত্মগ্লানি মোচনে রুহিকে ফিরিয়ে এনে নিজের অজান্তেই তার গভীর প্রেমে নিমজ্জিত হয়।
শুভ (নিয়াজ শাহরিয়ার)
ছদ্মবেশী প্রেমিক / প্রতিপক্ষ (Antagonist)রাযীনের চাচাতো ভাই। নিজের অভিজাত পরিচয় গোপন করে চার বছর রুহির পাশে 'এতিম ও নিঃস্ব বন্ধু' সেজে থাকে। ভালোবাসা ও অধিকারবোধ যখন উন্মাদনায় রূপ নেয়, তখন সে রক্তের সম্পর্ক ভুলে যেকোনো সীমালঙ্ঘনে উদ্যত হয়।
আশরাফ শাহরিয়ার
পিতা / পরিবারের অভিভাবকঐতিহ্যবাহী পরিবারের কর্তা। অতীতের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের করুণ পরিণামে সন্তানদের হারিয়ে অসুস্থতার ছদ্মবেশ নেন, যাতে হারানো সম্পর্কগুলো পুনরায় এক ছাদের নিচে ফিরিয়ে আনতে পারেন।
শিখা
চাচী (Secondary Antagonist)অতীতের অপূরণীয় ক্ষতি আর ক্ষোভকে বুকে পুষে রাখা এক প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী। আশরাফের পরিবারকে ধ্বংস করতে এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সন্তানদের জীবনকেও বাজি রাখতে দ্বিধা করেন না।
ঝিলিক
সৌরভের স্ত্রী / রাযীনের অতীতঅতীত ভুলের শিকার হয়ে জোরপূর্বক বিয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট এক নারী। তীব্র বৈবাহিক নির্যাতন ও অবহেলার মাঝেও একসময় নিজের আত্মসম্মান পুনরুদ্ধারে সাহসী হয়ে ওঠে এবং রাযীন-রুহির সংসার বাঁচাতে চালকের ভূমিকা পালন করে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
39 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: প্রাপ্তি ও প্রায়শ্চিত্ত
এক পরিত্যক্ত দাম্পত্যের পুনরায় সূচনা, ছদ্মবেশের পর্দা ফাঁস এবং পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নিঃশর্ত ভালোবাসার পূর্ণাঙ্গ আখ্যান।
অপ্রত্যাশিত চিরকুটের ডাক
পাঁচ বছর পর এক রহস্যময় চিরকুটের আহ্বানে কফিশপে হাজির হয় ক্লান্ত রুহি। যাকে ফেলে সে বহু পথ এগিয়ে এসেছিল, সেই পলাতক স্বামী রাযীন যখন আচমকা তার জীবনে ফিরে আসার অবাস্তব দাবি তোলে, তখন কি রুহির সাজানো পৃথিবী আবারও তছনছ হতে চলেছে?
অমোঘ সত্যের মুখে দ্বিধা
রাযীনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রুহি নিজেকে শান্ত করতে ঘরে ফেরে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা শুভ যখন গভীর উদ্বেগে তার খবর জানতে চায়, তখন রুহি এক চরম ও অপ্রিয় সত্য ফাঁস করতে বাধ্য হয়। কাগজের এই বৈবাহিক বন্ধন কি তাদের সম্পর্কের পথ রুদ্ধ করে দেবে?
পাঁচ মিনিটের কঠিন শর্ত
অফিসের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা রাযীনকে দেখে ক্ষোভে জ্বলে ওঠে রুহি। রাযীন যখন মাত্র পাঁচ মিনিটের অনুনয় করে ডিভোর্সের অদ্ভুত এক শর্ত হাজির করে, তখন কি রুহির মনে জন্ম নেবে নতুন কোনো সন্দেহ?
অবিশ্বাসের নিস্তব্ধ প্রাচীর
চার বছর ধরে ছায়ার মতো লেগে থাকা শুভ যখন রুহির প্রাক্তন স্বামীর খবরে অস্থির হয়ে বিয়ের তাগাদা দেয়, তখন রুহির মনে জন্ম নেয় অজানা সংশয়। রাযীনের হঠাৎ ফিরে আসার নেপথ্যে কি শুধুই আইনি বিচ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পারিবারিক সমীকরণ?
অসমাপ্ত প্রশ্নের ঘূর্ণাবর্ত
রাযীনের মুখের ওপর সমস্ত সম্পর্ক অস্বীকার করে রুহি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তার নতুন সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু ঘরে ফিরতেই বোনের খুনসুটির আড়ালে বাবার গম্ভীর মুখের দিকে তাকাতেই তার বুক কেন এক গভীর আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে?
পিতার দেওয়া গোপন অঙ্গীকার
পাঁচ বছর আগের এক অকথিত প্রতিশ্রুতির কথা প্রকাশ করে বাবা যখন রাযীনকে একটি শেষ সুযোগ দেওয়ার মিনতি জানান, তখন রুহির পায়ের তলার মাটি সরে যায়। বাবার সম্মান রক্ষা বনাম শুভর নিঃশর্ত ভালোবাসা—এই নিষ্ঠুর দ্বন্দ্বে রুহি কোন পথ বেছে নেবে?
বিচ্ছেদের অশ্রুসজল প্রহর
লেকের পাড়ে শুভর সঙ্গে দূরে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাকুল প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় রুহি। পরিবারের ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে সে যখন রাযীনের গাড়িতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়, তখন তার সমস্ত অনুভূতির ওপর নেমে আসা অন্ধকারের শেষ কোথায়?
সুগন্ধার প্রাসাদে আগমন
দীর্ঘ পথের ক্লান্তি ও অসুস্থতায় বিধ্বস্ত রুহিকে নিয়ে সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বিশাল প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়ায় রাযীন। বমির দুর্গন্ধ আর এলোমেলো বেশভূষার জন্য রাযীনের তীব্র বাক্যবাণ সয়ে রুহি যখন অচেনা রাজপ্রাসাদে পা রাখে, সেখানে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে?
পরিচিতির আড়ালে চাপা উত্তেজনা
হলরুমে দাঁড়িয়ে অচেনা আত্মীয়দের আড়ম্বরপূর্ণ বেশভূষার মাঝে চরম অস্বস্তিতে পড়ে রুহি। রাযীনের বড় জা ঝিলিকের চপল সম্ভাষণ শুনে রাযীন কেন ঝড়ের বেগে দোতলায় পালিয়ে গেল? আর প্রথম রাতেই এক বিছানা ভাগাভাগি করতে রুহির চরম অসম্মতি কী পরিণতি ডেকে আনবে?
রুদ্ধদ্বারে পঙ্গুত্বের আঘাত
শাশুড়ির নির্দেশে ভারী অলংকারে সেজে বহু মানুষের প্রশংসার মুখোমুখি হয় রুহি। কিন্তু পূর্বের কামরায় পা রেখেই যখন সে আবিষ্কার করে তার কারণে পিতা হিসেবে অনুতপ্ত আশরাফ আঙ্কেল আজ প্যারালাইজড হয়ে নিথর বিছানায় পড়ে আছেন, তখন রুহির বুক ভেঙে যায় কেন?
চুক্তির আবরণে অভিনয়
পিতার দুরারোগ্য ক্যান্সার আর অন্তিম অনুতাপের কথা বলে রুহির সামনে এক নিখুঁত অভিনয়ের প্রস্তাব রাখে রাযীন। পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ হওয়া পর্যন্ত তারা স্বামী-স্ত্রী সেজে থাকবে—কিন্তু এই কৃত্রিম নাটকের অন্তরালে দুজনের লুকানো সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী?
পারিবারিক ঐতিহ্যের অদৃশ্য ফাটল
এস অ্যান্ড এস সাম্রাজ্যের জৌলুসের আড়ালে ছাদের তালাবদ্ধ এক রহস্যময় কামরা রুহির নজরে আসে। রাতে ননদ রেনু এসে ঘরের দরজা আটকে যখন পরিবারের ভেতরের চরম বৈরিতা আর তার ওপর এক অদ্ভুত নির্ভরতার কথা জানায়, তখন কোন সত্যের গন্ধ পায় রুহি?
স্মৃতির ফ্রেমহীন শূন্য দেওয়াল
জমকালো বউভাত অনুষ্ঠানের পর সকালের নাস্তার টেবিলে রুহি সহজভাবে জানতে চায় পরিবারে সবার কোনো যৌথ ছবি নেই কেন। একটি সাধারণ প্রশ্নের মুখে পুরো খাবার টেবিল কেন হঠাৎ পিনপতন নীরবতায় স্তব্ধ হয়ে গেল? কেন সবাই তার ওপর রুষ্ট হলো?
অতীতের ছায়া ও শুভ্র মুখোশ
ঝিলিকের মুখে রাযীনের অতীত প্রেমের স্বীকারোক্তি শুনে গাড়িতে রাযীনকে চেপে ধরে রুহি। কিন্তু বাড়ি ফিরতেই যখন মেজো ভাইয়ের নিরুদ্দেশ ছেলে নিয়াজের ফিরে আসার তোড়জোড় চোখে পড়ে, তখন হলরুমে নিয়াজকে দেখতে গিয়ে রুহির পৃথিবী কেন হঠাৎ দুলে ওঠে?
রক্তাক্ত পতনের বিভ্রান্তি
তীব্র মানসিক আঘাতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে কপাল ফেটে রক্তে ভেসে যায় রুহি। হাসপাতালে রাযীনের নিরবচ্ছিন্ন যত্ন ও উদ্বেগের মাঝেও তার মাথায় ঘুরতে থাকে শুভই কি তবে নিয়াজ? ওদিকে শিখার কাছে নিজের সবচেয়ে দামি জিনিস ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে শুভ কোন চরম চাল চালল?
ঘরে ফেরা ও নিস্তব্ধতার বার্তা
হাসপাতাল থেকে ফিরে শুভর আসল পরিচয় জানার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে রুহি। রাযীন অফিসে চলে যাওয়ার পর ক্লান্ত শরীরে গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতেই আচমকা শয্যাপাশে এক চেনা পুরুষের উষ্ণ স্পর্শ ও ফিসফিসানি শুনে রুহির শরীরের রক্ত কেন হিম হয়ে গেল?
ছদ্মবেশের নিষ্ঠুর স্বীকারোক্তি
দেবর নিয়াজ হিসেবে নিজের কামরায় দাঁড়িয়ে থাকা শুভর মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলে রুহি। চার বছর ধরে এতিমের ভান করে সহানুভূতি ও ভালোবাসার যে জাল শুভ বুনেছিল, তার মুখে সেই বিকৃত সাফাই শুনে রুহি তীব্র ঘৃণায় তাকে বের করে দিলে কোন নতুন বিপদের সূচনা হয়?
বালুকাবেলায় মাতাল প্রহর
দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে রাযীনের সাথে কক্সবাজারে পা রাখে রুহি। কিন্তু সমুদ্রের বুকে যখন সে একা পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন আচমকা পেছন থেকে জাপটে ধরে শুভ তাকে কোন ভয়াল সতর্কবার্তা শোনালো?
প্রকাশ্যে অপমানের তীব্র চড়
হোটেলের লবিতে ভেঙে পড়ে রাযীনের বুকে কান্নায় লুটিয়ে পড়ে রুহি। চট্টগ্রামে ফিরে আসার পর রাযীন যখন তার ব্যাংক বদলির সুখবর দেয়, তখনই সন্ধ্যায় ছোট আব্বার বজ্রহুঙ্কারে কেঁপে ওঠে বাড়ি। শত কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রশ্নে সবার সামনে কার গালে আঘাত পড়ল?
তপ্ত বরফের কোমল স্পর্শ
ছোট আব্বার আঘাতের মুখে সৌরভের গোপন অর্থ আত্মসাতের খবর ফাঁস করে দেয় রাযীন। নিভৃত কামরায় ফিরে রাযীনের আঘাতপ্রাপ্ত লালচে গালে বরফ লাগাতে গিয়ে রুহি যখন নিজের জন্য তার আত্মত্যাগের গভীরতা টের পায়, তখন তাদের মাঝে কোন অচেনা শিহরণ জন্ম নেয়?
অন্ধকারের আর্তনাদ
দুই ইঞ্চিরও কম ব্যবধানে দুটি তপ্ত ওষ্ঠের মিলনের ঠিক আগের মুহূর্তে দরজায় করাঘাত করে শাশুড়ি। এক কামরায় যখন অপূর্ণ ভালোবাসার আক্ষেপ, ঠিক তখনই পাশের কামরায় সৌরভের নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কার আর্তনাদ দেওয়ালের ওপারে মিলিয়ে যায়?
ক্ষতের আড়ালে লুকানো সত্যি
ছাদে বই পড়ার সময় শুভর হিংস্র হুমকির মুখে রুহির বুক কেঁপে ওঠে। দুপুরে ঝিলিকের বাহুতে কালশিটে মারধরের দাগ দেখে রুহি যখন অতীত সম্পর্কের কথা জানতে চায়, তখন ঝিলিকের কোন সাবধানবাণী রুহির মনের সমস্ত শান্তি কেড়ে নেয়?
ঊষালগ্নে প্রথম আত্মমগ্নতা
ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় রাযীনের বুকে নিজেকে আবদ্ধ পেয়ে এক অপূর্ব সমর্পণে চোখ বুজে ফেলে রুহি। কিন্তু খাবার টেবিলে তাদের মধ্যকার এই প্রগাঢ় নৈকট্য দেখে শুভ যখন ক্ষোভে নিজের কামরার সবকিছু ভাঙচুর শুরু করে, তখন শিখা তাকে কী ভয়ংকর প্রতিশ্রুতি দেয়?
উত্তরাধিকার ও বিষাক্ত হুঁশিয়ারি
শশুর আশরাফ ও শাশুড়ি রোজী বংশের রক্ত ও ভবিষ্যৎ সন্তানের কামনায় অমূল্য পারিবারিক গহনা পরিয়ে দেয় রুহিকে। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তের পরেই শুভ যখন কামরায় ঢুকে রাযীনের অতীত নিয়ে বিষাক্ত ইঙ্গিত ছুঁড়ে দেয়, তখন রুহির মনে কোন সংশয়ের মেঘ জমে?
দূরত্বের অন্তরালে অভিসন্ধি
শিখার পরামর্শে রাযীন ও রুহিকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। নিজের অতীতের সম্পর্ক নিয়ে রুহির খোলামেলা প্রশ্নের জবাবে রাযীন যখন ভালোবাসাকে এক অদ্ভুত সামাজিক অভ্যাস বলে দাবি করে, তখন রুহির মন কোন অনিশ্চয়তায় দুলে ওঠে?
ভোরের নাস্তায় অম্লমধুর খুনসুটি
বারিধারার ফ্ল্যাটে একা একা রান্নাঘরে পুড়ে যাওয়া চায়ের ধোঁয়া কাটিয়ে রাযীনের দক্ষ হাতের রান্না দেখে তাজ্জব বনে যায় রুহি। পারিবারিক ছায়া ছাড়া নির্জন এই ফ্ল্যাটে রাযীন যখন তার রান্নার বিনিময়ে রুহির কাছে এক অচেনা উপহার দাবি করে, তখন কী ঘটে?
ছাদঘরের রুদ্ধশ্বাস ট্র্যাজেডি
ঢাকার শান্ত বিকেলে রুহির প্রশ্নের মুখে রাযীন উন্মোচন করে তাদের পরিবারের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। ছাদের সেই বন্ধ কামরায় বড় ভাই আলিফের আত্মহত্যা এবং চাচাতো বোন নুরীর পাগল হয়ে যাওয়ার পেছনের নিষিদ্ধ ভালোবাসার সত্য জেনে রুহি কেন শিউরে উঠল?
অনাগত প্রাণের মৃদু স্পন্দন
এক মাসের মধুর স্মৃতি বুকে নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে গর্ভে অনাগত সন্তানের উপস্থিতি টের পায় রুহি। কিন্তু এই পরম আনন্দ সংবাদেও রাযীনের নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া এবং শুভ্রর আহত বাঘের মতো নীরব দৃষ্টি কি রুহির জীবনে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
সিঁড়ির বাঁকে লুকানো অভিশাপ
গর্ভপাতের নির্মম সত্য জানিয়ে সৌরভের গালে চপেটাঘাত করে ঝিলিক। ওদিকে দরজার আড়াল থেকে শিখা ও বেনুর ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের কথা শুনতে পেয়ে ভয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে যখন পা পিছলে যায় রুহির, তখন তার অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ কি চিরতরে মুছে যাবে?
পতনমুখ থেকে আকস্মিক উদ্ধার
মৃত্যুর হাতছানি পেরিয়ে জ্ঞান ফিরতেই রুহি জানতে পারে শুভর তৎপরতায় তার সন্তান বেঁচে গেছে। কিন্তু যে শুভ তার জীবন নষ্ট করতে চেয়েছিল, সে কেন তাকে বাঁচালো? ওদিকে রোজী যখন শিখার হাত ধরে রুহির কোনো ক্ষতি না করার আকুল মিনতি জানায়, শিখা কী জবাব দেয়?
মৃত্যুর বার্তা ও প্রতিশ্রুতির আগুন
পাগলাগারদে নুরীর করুণ মৃত্যুর খবর নিয়ে আশরাফের রুমে হাজির হয় শিখা, বিষাক্ত কণ্ঠে জানিয়ে দেয় দ্বিগুণ প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি। সাড়ে আট মাসের গর্ভবতী রুহির হঠাৎ তীব্র প্রসববেদনা শুরু হলে মধ্যরাতে রাযীন তাকে নিয়ে কোন অগ্নিপরীক্ষায় নামে?
ক্ষমার অযোগ্য ব্ল্যাকমেইল
বোনের মৃত্যুর শোকের মাঝে দাঁড়িয়ে সৌরভের স্মৃতিচারণে উন্মোচিত হয় পাঁচ বছর আগের সেই ভয়ংকর চক্রান্ত—কীভাবে সে ঝিলিককে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিল। ওদিকে শুভ যখন মায়ের কাছে স্পষ্ট জানায় যে সে রুহির পথ থেকে সরে এসেছে, তখন শিখা কেন তাকে এক অদ্ভুত হুঁশিয়ারি দেয়?
রক্তিম ভোরে নতুনের আগমন
আঠারো ঘণ্টার অবর্ণনীয় প্রসবযন্ত্রণা শেষে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় রুহি। ছোট্ট রাহির স্পর্শে রাযীনের মাতৃত্ব-পিপাসু হৃদয়ে নেমে আসে অদ্ভুত এক মায়া। কিন্তু পরিবারের এই মহাসুখের মাঝেই শিখা যখন আশরাফের সুস্থতার আসল রহস্য ধরে ফেলে, তখন কী বিপর্যয় ঘটতে চলেছে?
ভরদুপুরে নিভে যাওয়া আলো
সন্তানের প্রতি রাযীনের গভীর অনুরাগে নতুন দাম্পত্যের রঙে রঙিন হচ্ছিল রুহি। কিন্তু ভরদুপুরে অফিসে যাওয়ার আগে শিখা ও শুভর ঘরে শুভর অতীতের প্রেমিকার নাম শুনে এবং আশরাফের ঘরের দরজায় পিতার সুস্থতার নাটক দেখে রাযীনের ভেতরকার সব বিশ্বাস কীভাবে চুরমার হয়ে গেল?
নিস্তব্ধ কুয়াশায় অন্তর্ধান
সকালে ঘুম ভেঙে রুহি দেখে পাশের শূন্য খাট, রাহি আর রাযীন কোথাও নেই। ফোন বন্ধ, ঘর ফাঁকা—মাত্র দুই মাসের অবুঝ সন্তানকে নিয়ে রাযীনের আকস্মিক অন্তর্ধান পুরো বাড়ি তছনছ করে দেয়। তবে কি ক্ষোভের আগুনে রাযীন চিরতরে সন্তানকে কেড়ে নিল?
মুখোশ উন্মোচনের রুদ্ধশ্বাস ক্ষণ
নিজের পঙ্গুত্বের মিথ্যে খোলস ভেঙে নিচে নেমে এসে শিখার দীর্ঘদিনের কুৎসিত প্রতিহিংসার পর্দা ফাঁস করে দেন আশরাফ। ঠিক তখনই ঝিলিকের অনুরোধে রাহি কোলে ঘরে ফেরে রাযীন। রুহি নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাযীনের দিক থেকে কেন মুখ ফিরিয়ে নিল?
মুক্ত ডানার উন্মুক্ত আকাশ
পরিবারের ভাঙন ঠেকিয়ে নাসিরাবাদের বাড়িতে নির্বাসিত হতে হয় শিখা ও আফজালকে। সৌরভের বিকৃত অহংকারকে চূর্ণ করে ডিভোর্স ও প্যারিসে নতুন জীবনের ঘোষণা দেয় ঝিলিক। আর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে শুভ কি তার অতীতের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারবে?
ভাঙা কাঁচের জোড়া লাগা
রোজীর কান্না আর আশরাফের ক্ষমাপ্রার্থনা পেরিয়ে রুহির রুদ্ধ কামরার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রাযীন। শুভর সঙ্গে সম্পর্কের সত্য গোপন করা বনাম অবুঝ সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার অপরাধবোধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রুহির এক তীর্যক প্রশ্নে রাযীন কি তার মনের লুকানো প্রেমকে খুঁজে পেল?
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
তিন বছর পর রাহির তৃতীয় জন্মদিনের রাতে রবীন্দ্রসংগীতের সুরে ভেসে যাওয়া ঘরে নতুন এক কন্যার আগমনের প্রহর গোনে রুহি। রাযীনের অপার সোহাগ আর গভীর আশ্বাসের মাঝে আশ্রয় নিয়ে না-চাওয়া এক পরম প্রাপ্তির সুখে কীভাবে পূর্ণতা পেল তাদের এক সমুদ্র প্রেম?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
না চাহিলে যারে পাওয়া যায় উপন্যাসটির মূল উপজীব্য কী?
না চাহিলে যারে পাওয়া যায় উপন্যাসের মোট পর্ব সংখ্যা কত?
উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
না চাহিলে যারে পাওয়া যায় উপন্যাসটি কি অনলাইনে বিনামূল্যে পড়া যায় নাকি PDF প্রয়োজন?
না চাহিলে যারে পাওয়া যায় উপন্যাসের কোনো পরবর্তী সিজন বা সিক্যুয়েল আসবে কি?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ