প্রজাপতির রং
স্বামীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সন্তান নাভানকে নিয়ে একাকী জীবনসংগ্রামে নামে নোভা। কিন্তু অতীতের ঘাতক যখন ফের ছায়া ফেলে আর মৃত স্বামীর অবিকল চেহারার এক অচেনা ব্যবসায়ী সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন কী অপেক্ষা করছে তার জীবনে? ভালোবাসা কি সত্যি প্রজাপতির মতো আলতো যত্নে ধরা দেবে নাকি হারিয়ে যাবে চিরতরে?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৪১ পর্ব)। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি কোনো ফি ছাড়াই বিনামূল্যে সরাসরি অনলাইনে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
রোমাঞ্চ ও রহস্যের যুগলবন্দী
একজন মৃত ঘোষিত সিবিআই অফিসারের অবিশ্বাস্য পুনরাগমন এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের নিখুঁত চিত্রনাট্য।
একাকী মায়ের আত্মসম্মানের লড়াই
সমাজের শত কটূক্তি ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সন্তানকে আগলে রাখা একজন সিঙ্গেল মাদারের বাস্তব ও মর্মস্পর্শী সংঘাত।
প্রজাপতির ভালোবাসার দর্শন
ভালোবাসাকে জোরে আঁকড়ে না ধরে বরং গভীর যত্নে কাছে রাখার এক অনুপম ও মায়াবী বার্তা।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5নোভা (RJ নোভানাজ)
নায়িকা (Protagonist)একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও লড়াকু নারী। অতীতের দুঃসহ ট্রমা ও স্বামীকে হারানোর বেদনা বুকে চেপে সন্তান নাভানকে নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার লড়াইয়ে অবিচল।
এনাজ আহমেদ / তাজরান তাজওয়ার (তাজ)
নায়ক (Male Lead)সাবেক সিবিআই কর্মকর্তা। শত্রুতার শিকার হয়ে আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর প্লাস্টিক সার্জারি ও নতুন পরিচয়ে ফিরে এসে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে আড়াল থেকে আগলে রাখতে মরিয়া এক প্রেমিক।
নাভান (এনান আহমেদ)
সন্তান (Core Character)নোভা ও এনাজের ফুটফুটে দুই বছরের ছেলে। অবুঝ হলেও বাবার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করে এবং নিজের মিষ্টি আচরণ দিয়ে সবার মন জয় করে।
তানভীর রহমান তায়াং
রক্ষক ও ভাই (Key Ally)গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং নোভার খালাতো ভাই। এনাজের প্রাণের বন্ধু, যে নোভার নিরাপত্তার জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।
রোশান দেওয়ান
প্রতিপক্ষ / শুভাকাঙ্ক্ষীপ্রভাবশালী তরুণ রাজনীতিবিদ ও এমপি। নোভার প্রতি একতরফা পজেসিভ প্রেম থাকলেও শেষ পর্যন্ত আত্মমর্যাদা ও প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয় দেয়।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
40 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: ছাইচাপা অতীত ও প্রজাপতির ফিরে আসা
মৃত্যুর ছায়া থেকে ফিরে আসা এনাজ, একাকী লড়াকু নোভা এবং একটি নিষ্পাপ সন্তানের আত্মিক বন্ধনের রুদ্ধশ্বাস অধ্যায়।
রক্তচক্ষুর ধাওয়া ও অজানার ডাক
ভারী বিয়ের লেহেঙ্গা আর কোলে দুই বছরের অবুঝ সন্তানকে আঁকড়ে ধরে শ্বাপদসংকুল পথ বেয়ে দৌড়াচ্ছে এক অসহায় মা। পেছনে রোশানের সশস্ত্র লোকজনের তপ্ত নিঃশ্বাস, আর সামনে নিভে আসা আলো। একটি রহস্যময় প্রজাপতির অনুসরণ করে কি সে পারবে সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে?
আশ্রয়ের রাত ও অন্ধকারের শপথ
অপরিচিত টিনের চালের নিচে সন্তানের জ্ঞান ফিরলেও বুকের ভেতর জমাট বাঁধা ভীতি কাটে না নোভার। এদিকে ডেরায় বসে টেবিল ভেঙে নোভার পালানোর খবর পেয়ে উন্মাদ হয়ে ওঠে প্রভাবশালী রোশান দেওয়ান। রাতের ঘন কুয়াশা ভেদ করে ভোর হতেই কোন অচেনা গন্তব্যে পা বাড়ায় এক কৃষ্ণবর্ণ বাইকার?
পুরনো ছায়া ও ঠিকানাবিহীন সংসার
রেস্টুরেন্টে হুট করেই এসে দাঁড়ায় প্রয়াত স্বামী এনাজের অতীতের এক সহকর্মী মোরশেদ, যার চোখে নাভানকে দেখে উপচে পড়ে অদ্ভুত মুগ্ধতা। অন্যদিকে ‘ঠিকানাবিহীন’ নামের অভিজাত বাড়ির বারান্দায় বসে থাকা মুরাদ সাহেবের পরিবারের ভেতর লুকিয়ে থাকা কোন অতীত আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে?
রক্তের টান ও ভোরের কুয়াশা
মাঝরাতে সন্তানকে হারানোর এক দুঃস্বপ্নে শিউরে উঠে জেগে ওঠে নোভা, আর ভোরের উদ্যানে জগিং করতে গিয়ে বেঞ্চে একা বসা নাভানের মুখোমুখি হয় তাজরান। একই রঙের পোশাক আর অবিকল চেনা চোখের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতর যে অচেনা দোলাচল জাগে, তা কি রক্তের অনিবার্য টান?
শিকারির দৃষ্টি ও কর্পোরেট ছক
কাঁচের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে রোশান পণ করে নোভাকে নিজের খাঁচায় বন্দী করার, যেখানে ব্যর্থতার কোনো ক্ষমা নেই। অন্যদিকে ভাইদের ব্যবসায় নতুন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা আসতেই ভাগ্যের কোন গোপন সুতো নোভার জীবনকে টেনে নিতে শুরু করে নতুন এক কর্মক্ষেত্রের দিকে?
রেডিওর অলিগলি ও বিষাদের প্রহর
স্টুডিওর ভেতরে সাইমনের অস্বাভাবিক আচরণ নোভার মনের ভেতর সন্দেহ জাগিয়ে তোলে, অথচ বাইরে অপেক্ষা করছে আরও বড় বাস্তবতার আঘাত। পার্কের নির্জন বেঞ্চে বসে ভাইয়ের কাছে ফেলে আসা বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে নোভা কি প্রস্তুত সেই পুরোনো ক্ষত আবার উন্মোচন করতে?
কালরাতের অগ্নিকুণ্ড ও না-মেলা হিসেব
আড়াই বছর আগের এক মেঘলা বিকেলে ব্রিজের ওপর নিজের চোখের সামনে স্বামীকে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার নির্মম দৃশ্য আজও নোভার নিঃশ্বাস আটকে দেয়। পুলিশ ও তদন্ত সংস্থা যেখানে লাশ ছাড়াই ফাইল বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে তায়াংয়ের এই নতুন অনুসন্ধান কি নতুন কোনো বিপদ ডেকে আনবে?
শেয়ারবাজারের জুয়া ও গোপন ক্ষত
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার অতীত ভীতিকে উপেক্ষা করে মিটিংরুমে শেয়ার ব্যবসার অবিশ্বাস্য ঝুঁকি নেওয়ার ঘোষণা দেয় তাজরান। বাবার তীব্র ক্ষোভ আর সহযোগীদের আতঙ্কের মুখে দাঁড়িয়ে তাজরানের এই বেপরোয়া পদক্ষেপের পেছনে কি সত্যিই কেবল ব্যবসার লাভ, নাকি লুকিয়ে আছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য?
কটূক্তির বিষ ও অনুতাপের আঁধার
রেডিওর মাইক্রোফোনে প্রজাপতির ভালোবাসার সংজ্ঞা দিয়ে ঘরে ফিরতেই ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীদের বিষাক্ত অপবাদের মুখে পড়তে হয় নোভাকে। তীব্র অপমানের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে অবুঝ সন্তানের ওপর, কিন্তু অন্ধকার ঘরে হঠাৎ ভেসে আসা চিরচেনা উষ্ণ নিঃশ্বাস কি শুধুই বিভ্রম, নাকি কোনো বাস্তব অস্তিত্ব?
বৃষ্টির স্মৃতি ও একতরফা মোহ
অবুঝ সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্নার রাতে বান্ধবীদের জোরজবরদস্তিতে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চোখ বোলায় নোভা, যার ওপরে লেখা অদ্ভুত দুই নাম। অন্যদিকে সুদূর কানাডায় বসে থাকা রোশানের মনের ক্যানভাসে বৃষ্টির ফোঁটা ফিরিয়ে আনে বহু বছর আগের সেই প্রথম দেখায় ভালোলাগার তীব্র উন্মাদনা।
কণ্ঠস্বরের কাঁপুনি ও চেনা অবয়ব
সাদা পোশাকে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে থাই গ্লাসের ওপাশে দাঁড়ানো মানুষটির পেছনের অবয়ব আর দাঁড়ানোর ভঙ্গি দেখে থমকে যায় নোভার সমস্ত ইন্দ্রিয়। যে কণ্ঠস্বর শোনার জন্য আড়াই বছর তার বুক হাহাকার করেছে, সেই গভীর কণ্ঠ যখন ঘরে ডেকে নেয়, তখন নোভা কি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারবে?
তিলের রহস্য ও বাটারফ্লাই ডাক
চেহারায় কোনো মিল না থাকলেও হাতের তিল, পানির গ্লাস ধরার কাঁপুনি আর চোখের ভাষা নোভাকে বাধ্য করে প্রতিটি পদক্ষেপে পরীক্ষা নিতে। হঠাৎ ঘর থেকে বেরোনোর মুখে ‘বাটারফ্লাই’ ডাকটি শুনে নোভার হৃৎপিণ্ড কেঁপে উঠলেও কাঁচের ওপাশে এক অচেনা দেয়াল কি সত্য প্রকাশে বাধা দেবে?
অচেনা অতিথি ও ডায়েরির পাতা
সাতসকালে নোভার বাসার দরজায় ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হয় রোশান দেওয়ান, অথচ ঘরে ঢুকে অবুঝ নাভানের সাথে তার অদ্ভুত খুনসুটি অন্য এক বিস্ময়ের জন্ম দেয়। অন্যদিকে নিজের কেবিনে বসে নোভার ফেলে যাওয়া নীল ডায়েরির ভেজা পাতার অক্ষরগুলো পড়তে গিয়ে কেন চোখের জল ধরে রাখতে পারে না তাজরান?
বেনামী হুমকি ও অন্ধকারের ছায়া
পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় রোশানের মোবাইলে আসে এক অজ্ঞাত শুভাকাঙ্ক্ষীর কল, যার দাবি তায়াংকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে হবে। রোশান কি নোভার নিরাপত্তার বিনিময়ে এমন রক্তক্ষয়ী খেলায় পা বাড়াবে, নাকি জানালার বাইরে সোডিয়াম আলোয় সরে যাওয়া ছায়ামূর্তি বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস?
প্রথম কর্মদিবস ও লিফটের ফাঁদ
অফিসের প্রথম দিনেই লিফটের ভেতর চুইংগাম চিবানো এক অদ্ভুত তরুণের মুখোমুখি হয়ে অস্বস্তিতে পড়ে নোভা। কিন্তু আদরের হাত থেকে সবুজ ফাইল আর গোপন কাগজের টুকরো নিয়ে তাজরানের নির্জন কেবিনে পা রাখতেই কোন অপ্রত্যাশিত ঝড়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে সে?
দেয়ালের সান্নিধ্য ও ঘামের গন্ধ
কেবিনের দরজা বন্ধ হতেই দেয়ালের সাথে নোভাকে চেপে ধরে তীব্র অধিকারবোধে ফেটে পড়ে তাজরান—কেন সে নিজেকে আবারও সাদা পোশাকে ঢেকেছে? কানের কাছে উষ্ণ নিঃশ্বাস আর বহু বছর আগের সেই চেনা বদভ্যাসের স্পর্শ কি নোভার সমস্ত সন্দেহকে চূড়ান্ত সত্যে রূপ দেবে?
অনুভূতির জলছবি ও অতর্কিত স্পর্শ
রেডিওর মাইক্রোফোনে ভালোবাসা নিয়ে কথা বলে অফিসে একা বসে স্মৃতির ভেলায় ভাসছিল নোভা, কিন্তু ক্যান্টিন থেকে ফেরার পথে নিস্তব্ধ করিডোরে হঠাৎ এক জোড়া বলিষ্ঠ হাত তাকে আড়ালে টেনে নেয়। কে এই ছায়ামূর্তি—পুরনো কোনো শত্রু নাকি অফিসের কোনো গোপন রহস্য?
ঈর্ষার আগুন ও পাহাড়সম অভিমান
রোশানের সাথে নোভাকে ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কেবিনের ভেতরের সমস্ত সংযম হারিয়ে ফেলে তাজরান। কিন্তু আড়াই বছরের জমে থাকা যন্ত্রণা আর অবহেলার জবাব দিতে গিয়ে নোভা যখন চিৎকার করে অস্বীকার করে তার অস্তিত্বকে, তখন কার বুক বেশি রক্তাক্ত হয়?
চুক্তির শেকল ও পরোক্ষ পরোয়ানা
চাকরি ছাড়ার নোটিশ দিতে গিয়ে তিন মাসের বাধ্যতামূলক চুক্তির জালে আটকে পড়ে নোভা, আর এনাজও হঠাৎ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমায় দূর পরবাসে। এর মাঝেই রোশানের ফোনে ভেসে আসে সেই ঘাতকের নারকীয় আল্টিমেটাম—নায়িকা আর তার সন্তানকে লাশ বানানোর খেলা কি শুরু হয়ে গেল?
আলিঙ্গনের দৃশ্য ও ভাঙা বিশ্বাস
এক সপ্তাহ পর অফিসে ফিরেই ফাইল নিয়ে কেবিনের সামনে যেতেই থমকে যায় নোভার পায়ের পাতা—এক যুবতী জড়িয়ে ধরে আছে তাজরানকে! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পেরে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া নোভা কি তার সব ভালোবাসার বিসর্জন দিতে চলেছে?
মুখোশের আড়াল ও দরজার ওপারে
তাজরানের পালিত পরিবারের বন্ধুকে খুঁজে বের করে তায়াং জানতে পারে আড়াই বছর আগের সেই আগুনে পোড়া অজ্ঞাত যুবকের অবিশ্বাস্য ইতিহাস। সত্য জানতে সেই বাড়ির ঠিকানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই নোভার ফ্ল্যাটে এসে হাজির হয় এরিনের হবু বর—কিন্তু সে কে?
ভাসুরের পরিচয় ও রাতের আক্রমণ
নিজের ড্রয়িংরুমে আরিয়ানের মুখে হঠাৎ ‘ভাবী সাহেবা’ ডাক শুনে হতচকিত হয়ে পড়ে নোভা ও এরিন। অন্যদিকে গভীর রাতে অফিসের কাজ সেরে লিফট থেকে নামতেই তাজরানের গলা চেপে ধরে এক অন্ধকারের শিকারী—মৃত্যু কি আবার দরজায় কড়া নাড়ল?
ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান
‘ঠিকানাবিহীন’ বাড়ির বাগানে পা রাখতেই মুরাদ ও জুলেখা বেগমের অশ্রুসজল অভ্যর্থনায় বদলে যায় সমস্ত হিসাব। মুসকানের মুখের সত্য আর তায়াংয়ের রাতের সেই ভুলের স্বীকারোক্তির পর মুরাদ সাহেব যখন বলতে শুরু করেন ঝুম বৃষ্টির রাতের কাহিনি, তখন নোভার চোখের সামনে কী উন্মোচিত হবে?
অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ
সেদিন ব্রিজের ওপর পেট্রোলের আগুনের পর নেমে আসা প্রবল বর্ষণ আর এক অচেনা কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যান কীভাবে রক্ষা করেছিল এনাজের প্রাণ? মুরাদ সাহেবের মুখে সেই অলৌকিক গল্প শোনার মাঝেই তায়াংয়ের ফোনে আসা এক গোপন বার্তা কেন তাদের মুহূর্তেই টেনে নেয় রাজপথে?
শ্রোতার বেশে প্রিয়জন
ভোর সকালে রেডিও স্টেশনের ওয়েটিং রুমে কোনো অচেনা লিসেনার নয়, স্বয়ং বসের উপস্থিতিতে স্তব্ধ হয়ে যায় নোভা। শর্তের বেড়াজালে ঠোঁটের স্পর্শ দাবি করতেই এমন কোন চতুর ফাঁদ পাতল নোভা, যার চড়ম খেসারত দিতে হলো তাজরানের আত্মসম্মানকে?
ডায়েরির আঘাত ও নিশ্চুপ প্রহরা
রোশানের গাড়িতে করে অফিসে আসতেই কেবিনের ভেতর তাজরানের রাগের পারদ চরমে ওঠে, কিন্তু টেবিলের ওপর নিজের ডায়েরি দেখে পাল্টা আক্রমণ করে বসে নোভা। মাথার ওপর ডায়েরির সজোরে আঘাত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্লান্ত নোভার ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে তাজরানের চোখে কী বার্তা ভেসে ওঠে?
কালো বাইকের পেট্রোল ও অবিশ্বাসের বিষ
বৃষ্টির সন্ধ্যায় ফাঁকা রাস্তায় বাইক থেকে নোভার গায়ে ছিটকে আসে ঝাঁঝালো পেট্রোল, আর পেছনে দিয়াশলাই হাতে ধাওয়া করে ঘাতকের দল। গলির আড়ালে লুকিয়ে বাঁচার আশায় তাকিয়ে দেখেই নোভার পায়ের তলার মাটি সরে যায়—নিজের ভাই তায়াং দাঁড়িয়ে আছে ঘাতকদের সাথে টাকা লেনদেনে?
বন্দিনী নোভা ও পুরানো আক্রোশ
পুরনো গুদামঘরের চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় চোখ খুলতেই সাইমনের আসল মুখোশ খসে পড়ে—ধর্ষক ভাইয়ের এনকাউন্টারের প্রতিশোধ নিতেই পাতা হয়েছে এই নীল নকশা! তায়াংকে ফাঁসানোর চাল আর এনাজকে ফাঁদে ফেলার চক্রান্তের মুখে দাঁড়িয়ে নোভা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন দরজায় পা রাখা বড় ভাইটি আসলে কে?
মোরশেদ ওয়াসিমের মুখোশ ও প্রতিশোধের ছক
যে মানুষটিকে রেস্টুরেন্টে নাভানের প্রতি পিতৃস্নেহ দেখাতে দেখেছিল নোভা, সেই মোরশেদ ওয়াসিমই সমস্ত ধ্বংসের মাস্টারমাইন্ড! নিজের অপরাধী ভাইকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে আইন কর্মকর্তার পুরো পরিবারকে ধূলিসাৎ করার এই নারকীয় খেলার শেষ কোথায়?
বীরদর্পের প্রবেশ ও চুলের আড়ালে ব্লেড
পিস্তলের নলের মুখে ধরা পড়েও এনাজের শান্ত চাহনি আর চুইংগাম চিবানোর নাটকীয় আচরণ স্তব্ধ করে দেয় সবাইকে। আয়নায় চুল ঠিক করার অছিলায় চুলের ভেতর কোন মরণাস্ত্র লুকিয়ে নিল সে, আর নোভার মুখের দিকে চেয়ে ছুঁড়ে দেওয়া সেই চুমুর আড়ালে কী সংকেত ছিল?
রক্তস্নাত অধ্যায় ও ডিভোর্সের চড়
সেকেন্ডের ব্যবধানে গলার রগ কেটে সাইমনের পতন আর রোশানের গুলিতে মোরশেদের নিথর দেহ কি সমস্ত বিপদের সমাপ্তি টানে? কিন্তু ফেরার পথে গাড়িতে ‘নাভান কে’ এই প্রশ্নের উত্তরে নোভা যখন ডিভোর্সের হুমকি দেয়, তখন এনাজের হাতের তীব্র চড়ের সাথে কেন কান্নায় ভেঙে পড়ে আড়াই বছরের নিঃসঙ্গ আত্মা?
পাঁচ মিনিটের ডাক ও অনুশোচনার রাত
বান্ধবীদের যুক্তির মুখে নিজের একগুঁয়েমির ভুল বুঝতে পেরে অপরাধবোধে দগ্ধ হতে থাকে নোভা। গভীর রাতে বাসার নিচে গাড়ির হর্ন দিয়ে এনাজের দেওয়া পাঁচ মিনিটের আল্টিমেটামে নিচে নামতেই কেন নিঃশব্দে নোভার কাঁধে মুখ গুঁজে কেঁদে ওঠে এক কঠিন পুরুষ?
ভুল সংবাদের অবসান ও রক্তিম আলিঙ্গন
হাশেম চাচার স্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের গর্ভপাতের মিথ্যা সংবাদ বিশ্বাস করে আড়াই বছর ধরে সন্তানের শোক বয়ে বেড়াচ্ছিল এনাজ! রাতের নিস্তব্ধতায় নোভা যখন দোতলা থেকে ঘুমন্ত নাভানকে এনে বাবার বুকে তুলে দেয়, তখন ‘বাবা’ ডাক শুনে কেমন উন্মাদনায় ভেসে যায় এনাজের পৃথিবী?
উপহারের দ্যুতি ও পুতুল বেবীর বায়না
গলায় সোনার চেইনে এন+এ খোদাই করা লকেট পরিয়ে দিয়ে নোভার সমস্ত ক্লান্তি মুছে দেয় এনাজ, কিন্তু পরক্ষণেই অফিস কেবিনে জুড়ে দেয় এক অদ্ভুত আবদার। অবুঝ নাভানকে শিখিয়ে দিয়ে বাবা-ছেলের একজোট হয়ে ‘পুতুল বেবী’ চাওয়ার এই ষড়যন্ত্রে নোভা কীভাবে আত্মরক্ষা করবে?
শপিংমলের খুনসুটি ও পজেসিভ ভালোবাসা
শপিংমলের করিডোরে মুসকান ও আদরের গোপন প্রেমের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায় নোভা, কিন্তু তার পরেই এক অপরিচিত মহিলার অদ্ভুত প্রস্তাবে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে এনাজ। স্ত্রীর দিকে অন্যের মুগ্ধ দৃষ্টি সহ্য করতে না পেরে টানতে টানতে বোরখার দোকানে নিয়ে গিয়ে এনাজ কোন শাসনের জাল বিছিয়ে দেয়?
শিশিরভেজা সকাল ও পুরোনো প্রেম
শীতের সকালে খালি পায়ে স্কার্ট পরে দৌড়ে আসা ক্লাস নাইনের সেই চঞ্চল কিশোরী কীভাবে অচেনা এক তরুণের মনে সারাজীবনের জন্য ঘর বেঁধেছিল? বহু বছর আগের সেই স্মৃতি রোমন্থন শেষে ব্যালকনি থেকে একই পোশাকে বাবা-ছেলের ছন্দে ছন্দে জগিংয়ের দৃশ্য নোভার চোখে কোন প্রশান্তি এনে দেয়?
সফলতার উৎসব ও তীব্র অধিকারবোধ
পার্টির আলোর ঝলকানিতে রোশানের সাথে জারার উপস্থিতি যখন সব অস্বস্তির অবসান ঘটায়, তখনই নোভার হাতে রোশানের অপ্রত্যাশিত চুম্বন ডেকে আনে এক মহা বিপদ। এনাজের রক্তচক্ষুর সামনে বেসিনে নিয়ে গিয়ে দশ মিনিট ধরে হাত ধোয়ার এই উগ্র ভালোবাসার মাঝেই দরজায় কে এসে দাঁড়ায়?
ভাইদের মিলন ও চার জুটির বন্ধন
সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এনামের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন দুই ভাইয়ের আড়াই বছরের বিচ্ছেদকে নিমেষেই ভাসিয়ে দেয় আবেগের বন্যায়। আর সেই মঞ্চেই একে একে ছয়টি জুটির আংটি বদলের মধ্য দিয়ে রচিত হয় এক অবিস্মরণীয় ভালোবাসার উৎসব।
পাঁচ মাস পর ও নতুন প্রাণের আগমন
নতুন চার রুমের ফ্ল্যাটে দুই জা আর দুই ভাইয়ের ভরপুর সুখের সংসারে নোভা এখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গ্রাম থেকে আসা বাবা-মা আর বোন ইভাকে নিয়ে যখন রাতের খাবারের টেবিলে হাসির রোল ওঠে, তখন সেই টেবিলে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া একটি প্রশ্নে সবাই কেন একসাথে দাবি করে বসে—তাদের এবার কন্যা সন্তানই চাই?
ভালোবাসার শেষ ঠিকানা ও প্রজাপতির রং
মাঝরাতে স্ত্রীর চুলে বিলি কেটে পরম যত্নে খাবার মুখে তুলে দেয় এনাজ, আর পেটে কান পেতে কথা বলে তার অনাগত কন্যার সাথে। ভালোবাসাকে প্রজাপতির মতো আলতোও নয়, শক্তও নয়—কেবল অগাধ যত্নে আগলে রাখার যে শিক্ষা এনাজ দিয়েছিল, সেই প্রজাপতির রঙে কীভাবে রঙিন হয়ে ওঠে তাদের আজীবনের সুখের ঠিকানা?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রজাপতির রং (Projapotir Rong) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
প্রজাপতির রং উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সমাপ্ত?
উপন্যাসে তাজরান তাজওয়ার এবং এনাজ কি একই ব্যক্তি?
প্রজাপতির রং উপন্যাসটি অনলাইনে বিনামূল্যে পড়া যাবে কি?
প্রজাপতির রং উপন্যাসের সিজন ২ কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ