কনফিউশন
শৈশবের রক্তক্ষয়ী ট্রমার স্মৃতি বুকে নিয়ে নিঃসঙ্গতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠা আরশির নীরব জীবনে ঝড়ের মতো প্রবেশ করে চঞ্চল ও স্পষ্টভাষী কাব্য। অস্ফুট ভালোবাসা আর দ্বিধাদ্বন্দ্বের খেলায় এক অদ্ভুত লুকোচুরির মাঝে ছোট্ট এক ভুল বোঝাবুঝি কি তাদের স্বপ্নকে চিরতরে ভেঙে দেবে, নাকি ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের যাত্রা শেষ হবে আজীবনের কান্নায়?
উপন্যাসটির প্রথম সিজন মোট ৪৮ পর্বে সমাপ্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ কাহিনীর সবগুলো পর্ব গল্পহাবে বিনামূল্যে পড়া যাবে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব
মনের গভীরে পুষে রাখা ভালোলাগা এবং অপ্রকাশিত অভিমান কীভাবে সম্পর্কের গতিপথ বদলে দেয় তার সংবেদনশীল উপস্থাপন।
দুটো ভিন্নধর্মী প্রেমের সমান্তরাল যাত্রা
একদিকে আরশি-কাব্যর নীরব, গভীর আত্মিক টান; অন্যদিকে তিরা-যাদিদের দাম্পত্য জীবনের বাস্তবমুখী ঘাত-প্রতিঘাত ও সত্যের পরীক্ষা।
হৃদয়বিদারক ট্র্যাজিক পরিণতি
ছোট্ট এক মিথ্যা ও সারপ্রাইজ দেওয়ার ভুল পরিকল্পনা কীভাবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজীবনের আক্ষেপে রূপ নেয় তার অবিস্মরণীয় সমাপ্তি।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6আরশি
নায়িকা (Protagonist)শৈশবে চোখের সামনে মা-বাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ট্রমা বয়ে বেড়ানো শান্ত, অন্তর্মুখী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক তরুণী; যার নীরব জীবনে কাব্য ভালোবাসার নতুন রং ছড়িয়ে দেয়।
কাব্য
নায়ক (Male Lead)স্বাধীনচেতা, গভীর জীবনবোধসম্পন্ন ও বইপ্রেমী সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। জীবনের জটিল অতীত আর নিজস্ব দ্বিধাদ্বন্দ্ব পেরিয়ে আরশির একনিষ্ঠ প্রেমে নিজেকে সঁপে দেয়।
তিরা
প্রধান পার্শ্বচরিত্রআরশির প্রাণবন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের কাজিন বোন। বারবার ক্ষণস্থায়ী প্রেমে মত্ত হওয়া তিরা কঠোর অনুশাসনের নেভি অফিসার যাদিদের প্রেমে পড়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
যাদিদ
প্রধান চরিত্রনৌবাহিনীর একজন নীতিবান, কঠোর ও কর্তব্যপরায়ণ অফিসার। তিরার প্রতি গভীর অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ও প্রবঞ্চনাকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারে না।
আনন্দ
গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রকাব্যর বড় ভাই ও প্রতিষ্ঠিত শান্ত স্বভাবের ব্যবসায়ী। পরিবারের ভালোবাসায় বড় হওয়া এক আদর্শবান চরিত্র, যার ভাগ্যের সুতো জড়িয়ে যায় আরশির জীবনের সাথে।
সাহিল ও রশ্নি
অভিভাবক চরিত্রআরশির ভাই ও ভাবি। মা-বাবাহীন আরশিকে নিঃশর্ত স্নেহ, ভালোবাসা ও পরম আশ্রয়ে আগলে রেখে তার ভবিষ্যতের জন্য ব্যাকুল এক অভিভাবক যুগল।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
48 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: দ্বিধার কুয়াশা ও ভাগ্যের পরিহাস
অন্তর্মুখী আরশি এবং মুক্তমনা কাব্যর মধ্যকার অস্ফুট ভালোবাসার সূচনা, দীর্ঘ দূরত্বের টানাপোড়েন এবং ভুল বোঝাবুঝির নির্মম পরিণতির সম্পূর্ণ আখ্যান।
অগোছালো পথচলার ধাক্কা
গ্রাম থেকে ফেরা তিরার উল্টো হেঁটে চলা মুহূর্তে এলোমেলো হয়ে যায় নিচতলার নতুন ভাড়াটের সাথে আচমকা এক ধাক্কায়। এক দেখাতেই কাব্যর প্রতি তিরার তীব্র আকর্ষণের সূচনা কি শান্ত স্বভাবের আরশির জীবনকেও কোনো অদৃশ্য ঝড়ের মুখোমুখি করবে?
চায়ের আমন্ত্রণে প্রথম স্পর্শ
কাব্যর বাসায় জোর করে আরশিকে টেনে নিয়ে যায় তিরা। কিন্তু তিরার অজস্র প্রশ্নের ভিড়ে কাব্যর দৃষ্টি কেন বারবার স্থির হয়ে যাচ্ছিল বুকশেলফের সামনে দাঁড়ানো ভাবলেশহীন আরশির নীরবতায়? এই নীরব টান কি নতুন কোনো দূরত্বের ইঙ্গিত?
বিষাদের শান্ত দিঘি
কাব্যর অতিরিক্ত ধূমপান নিয়ে আরশির তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ আর ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিষাদময় চোখের ভাষা কাব্যকে আলোড়িত করে। আরশির ফেসবুক প্রোফাইলের হাসহীন ছবিগুলো কি কাব্যর ভেতরে লুকিয়ে থাকা কৌতূহলকে আরো উসকে দেবে?
ভোরবেলাকার মায়াবী দৃষ্টি
কাজের লোকের অজুহাতে দোতলায় এসে ঘুমভাঙা অগোছালো আরশিকে দেখে থমকে যায় কাব্য। নিখুঁত চা তৈরির গোপন রহস্য শেখার আবদারে কি আরশির মন গলবে, নাকি এই নৈকট্য তিরা ও আরশির মাঝে কোনো সূক্ষ্ম ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করবে?
মেঘের ডাক ও গোপন নজর
বৃষ্টিভেজা রাতে অন্ধকার বাগানে দাঁড়িয়ে আরশির জানালা বন্ধ করার দৃশ্য অপলক দেখে কাব্য। এদিকে ফেসবুকে কাব্যর এক রসিক স্ট্যাটাস দেখে তিরা হেসে খুন হলেও আরশি কেন তীব্র বিরক্তি আর ক্ষোভে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
অযাচিত সাহায্যের হাত
রোদে পুড়ে ঘেমে একাকার হয়ে বাজার নিয়ে ফেরা আরশিকে দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না কাব্য। চারটে ভারী ব্যাগ একাই উপরে তুলে দেওয়ার পর আরশির নিজ থেকে করা চায়ের আমন্ত্রণ কি তাদের দূরত্বের বরফ গলাতে পারবে?
শর্তহীন প্রত্যাখ্যানের দেয়াল
কাব্যর সাথে ফটোশুটে যেতে আরশির সাফ অস্বীকৃতি তিরার পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করে দেয়। তবে ভাবি রশ্নির মুখে কাব্যর পরিবারের প্রশংসা আর আড্ডার গল্প শুনে আরশির অবচেতন মনে কি কাব্যর প্রতি কোনো নতুন ভাবনার জন্ম নেবে?
বুকমার্কের অদৃশ্য অনুভূতি
আরশির মাইগ্রেনের যন্ত্রণার কথা শুনেই নিজের প্রাণের সিগারেটের সাথে গভীর দ্বন্দ্বে পড়ে কাব্য। অন্যদিকে কাব্যর ধার দেওয়া বইয়ের পাতার হস্তনির্মিত বুকমার্কে কাব্যর মননশীল চিন্তা পড়ে আরশির স্তব্ধ হৃদয়ে কি নতুন কোনো অনুভূতির কাঁপন লাগবে?
বুদ্ধির ফাঁদে বয়সের খেলা
তিরাকে নিজের পথ থেকে সরাতে নিজেকে ছত্রিশ বছরের প্রৌঢ় বানিয়ে অবিশ্বাস্য গল্প ফাঁদে কাব্য। তিরা বোকা বনে গেলেও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির আরশি বুঝে ফেলে পুরো নাটক। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—তিরাকে দূরে সরিয়ে কাব্য কার কাছে পৌঁছাতে চায়?
দূরত্ব ভাঙার অসম সাহস
এক মাসের স্বেচ্ছাবন্দীত্ব ভেঙে অনলাইন বইয়ের ডেলিভারি নিতে নেমে কাব্যর মুখোমুখি হয় আরশি। সাহায্য করতে চাওয়া কাব্যকে আরশি যখন ব্যঙ্গ করে 'আঙ্কেল' বলে ডাকল, তখন কাব্যর মুখের সেই হতভম্ব ভাব কি দুজনের রসায়নে নতুন মোড় আনবে?
চাবি ঘোরানোর মিষ্টি চাতুরী
ছাদের পানির চাবি বন্ধ করে আরশির সাথে দেখা করার ছুতো তৈরি করে কাব্য। সদ্য গোসল সেরে বের হওয়া স্নিগ্ধ আরশিকে দেখে স্তব্ধ কাব্যর এই চাতুর্য আরশি ধরে ফেলার পর মনে মনে কী প্রতিঘাতের পরিকল্পনা করে?
অচেনা পথের যৌথ যাত্রা
ভাবির কোল আলো করে ফুটফুটে মেয়ে আসার রাতে হাসপাতাল থেকে আরশিকে নিয়ে এক গাড়িতে বাড়ি ফেরে কাব্য। বন্ধ গাড়ির ভেতর সিগারেটের গন্ধ আর গোপন দ্বিধায় আরশির জানালা খুলে দেওয়া কি তাদের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দেবে?
বিপরীত স্রোতের দ্বন্দ্ব
সারারাত নির্ঘুম কেটে যায় কাব্যর; আরশির জন্য সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার লড়াই আর নিজের অনুভূতির গোলকধাঁধায় পড়ে সে। ওদিকে খুলনায় যাদিদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চঞ্চল তিরা কি প্রথমবারের মতো তার অস্থির হৃদয়কে স্থির করতে পারবে?
অপ্রত্যাশিত সফরের প্রস্তাব
তিরার বিয়েতে খুলনা যাওয়ার প্রাক্কালে আরশির ট্রেনের সহযাত্রী হওয়ার আবদার জানায় কাব্য। নিজের ফ্ল্যাটে আরশিকে চা বানিয়ে খাওয়ানোর মুহূর্তে কাব্যর সিগারেট কমানোর প্রমাণ পেয়ে আরশির মন কি এবার নিঃশব্দে হার মানবে?
ভোরের ট্রেনের নীরব সহযাত্রী
অপরিচিত কোনো যুবকের সাথে নয়, বরং একই কেবিনে চারশত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে আরশির মুখোমুখি বসে কাব্য। ট্রেনের চাকার ঘর্ঘর শব্দ আর উন্মুক্ত জানালার বাতাসে আরশির কাঁপা হাত আর ভেতরের তীব্র আলোড়ন কাব্য কি ধরে ফেলবে?
একই কাপের অস্ফুট স্পর্শ
কেবিনের মধ্যে আরশির ফ্লাস্ক থেকে একই কাপে কোনো দ্বিধা ছাড়া চা ঢেলে নেয় আরশি। কাব্যর সিগারেটের আসক্তির পেছনে থাকা পারিবারিক গল্প আর তনিকার স্মৃতির ছায়ায় দাঁড়িয়ে কাব্য কি বুঝবে আরশি তাকে কতটা নিজের করে নিচ্ছে?
ক্যামেরার ফ্রেমে ঘুমন্ত মায়া
আরশির মাইগ্রেন বাঁচাতে ট্রেনের স্টেশনে নেমে চকলেটের আশ্রয় নেয় কাব্য। কেবিনে ফিরে ঘুমন্ত আরশির এলোমেলো রূপটি ক্যামেরাবন্দী করার পর যখন কাব্য জানতে চায় আরশি কেন কখনো গাঢ় রঙ পরে না, তখন আরশির উত্তরে কেন স্তব্ধ হয় কাব্য?
অতীত ক্ষতের অকস্মাৎ আঘাত
খুলনায় পৌঁছানোর পর সকালে হলুদের কাপড়ে আরশির অনীহা দেখে ফুপি যখন সবার সামনে পুরোনো 'দুর্ঘটনা'র কথা টেনে কটু কথা শোনায়, তখন আরশির নিভৃত চুরমার হৃদয় দেখে কাব্যর বুক কি কোনো অজানা যন্ত্রণায় হাহাকার করে উঠবে না?
উৎসবের ভিড়ে একা মন
মার্কেট ঘুরে মিষ্টি খাওয়ার রিকশাভ্রমণও আরশির মনের অন্ধকার দূর করতে পারে না। বিয়ের আসরে জমকালো পাঞ্জাবি পরা কাব্যর চাহনি পেছনে ফেলে আরশি কেন তড়িঘড়ি ঢাকা ফেরার বিমান ধরে? এদিকে বাসরঘরে যাদিদের রহস্যময় স্বীকারোক্তি তিরার কেমন অনুভূতি জাগায়?
শিকড়ের টানে তিক্ত অতীত
কক্সবাজারের যৌথ পরিবারে সারপ্রাইজ দিয়ে হাজির হয়েও মায়ের কাছে তনিকার লিভ-টুগেদারের অভিশাপের খোটা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় কাব্য। নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়েও কি কাব্য তার পরিবারের চোখে আজীবন দোষীই রয়ে যাবে?
ফিরে আসার অতল শূন্যতা
পরিবারের উৎসবমুখর আয়োজন ফেলে ক্ষোভে ঢাকার বাসে উঠে পড়ে কাব্য। ওদিকে ঢাকাতে অন্ধকার ঘরে শুয়ে দিন কাটানো আরশির অবচেতন হৃদয়ে কাব্যর নাম বারবার উঁকি দিলে ভাবি রশ্নির প্রশ্নের মুখে আরশি কি নিজের মনকে স্বীকার করতে পারবে?
লাল শাড়ি ও অন্ধকারের স্বপ্ন
গভীর রাতে এক দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙে কাব্যর—লাল শাড়িতে আরশির হাত ধরে বনের মাঝে হাঁটতে গিয়ে সে নিজে এক গভীর গর্তে তলিয়ে যাচ্ছে, আর আরশি একা চিৎকার করছে! অবচেতন মনের এই সংকেত কি আসন্ন কোনো মহাবিপদের পদধ্বনি?
গুণমুগ্ধের উপহার ও নতুন আলো
যাদিদের কর্তব্যে চলে যাওয়ার পর তিরার পাগলের মতো কান্না আরশির ভেতর প্রেমের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সেই নিঃস্তব্ধতার মাঝে জন্মদিনে পার্সেল হয়ে আসা কাব্যর পাঠানো বইয়ের পাতায় 'গুণমুগ্ধ' শব্দটিতে কি আরশির বরফ জমা মনে বসন্ত নামবে?
কুয়াশাভেজা ভোরের আকস্মিক টান
ভোরের ফাঁকা রাস্তায় কাব্যর পাশাপাশি হাঁটার সময় বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় পড়ে যায় আরশি। আরশির ছিঁড়ে যাওয়া জামার হাতা ঢেকে তাকে আলগোছে টেনে তোলার সেই আকস্মিক উষ্ণ স্পর্শ কি আরশির বুকে নিষিদ্ধ কাঁপন ধরাবে?
রক্তিম ক্ষত ও গোপন স্মৃতি
পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটিয়ে আরশিকে রান্নাঘরে ডেকে আনে কাব্য। আলমারির ড্রয়ারে ফার্স্ট এইড খুঁজতে গিয়ে আরশির চোখে পড়া সেই অচেনা শাড়িটি কার? কাব্য কি এবার তার জীবনের অন্ধকার অতীত আরশির সামনে খুলবে?
জোৎস্নায় উন্মোচিত অন্ধকার
জোৎস্নাপ্লাবিত ছাদের নির্জনতায় দাঁড়িয়ে আরশির চোখে চোখ রেখে তনিকার সাথে লিভ-টুগেদারের দুঃসহ সত্যিটা অকপটে স্বীকার করে কাব্য। আত্মসম্মান ও ব্রেকাপের সেই কাঁচির আঘাতের গল্প শুনে আরশির কোমল চোখে কি ঘৃণা ফুটে উঠবে, নাকি অন্যকিছু?
নীরবতার কঠিন প্রতিজ্ঞা
"যার কণ্ঠ শুনে দিন শুরু হয় তাকে সত্য জানানো প্রয়োজন"—কাব্যর এমন গভীর স্বীকারোক্তির পর আরশি যখন জানতে চায় সে ভুল বুঝলে কাব্য ভুল ভাঙাবে কিনা, তখন কাব্যর অনমনীয় 'না' শুনে আরশির মনের ভেতরের আশঙ্কা কেন বেড়ে যায়?
দ্বিধাদ্বন্দ্বের নির্ঘুম রজনী
যাদিদের সাবমেরিনে পোস্টিং তিরাকে আশাহত করে তোলে। অন্যদিকে কাব্যর অতীতের কালো দাগ জেনেও তার প্রতি আরশির অপরিসীম শ্রদ্ধা আর ভালোলাগা কেন তাকে এক নতুন দ্বিধায় ফেলে দেয়? কাব্যর ভালোবাসায় কি কোনো লুকোনো সংশয় আছে?
নিষিদ্ধ সময়ে চুপিচুপি আগমন
পরীক্ষার চাপের মাঝে কাব্যকে একনজর দেখার ব্যাকুলতায় গভীর রাতে চুপিচুপি কাব্যর ফ্ল্যাটে চলে যায় আরশি। 'হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম' হাতে দিয়ে হলুদ শাড়ি পরার শর্ত দেওয়া কাব্যকে দেখে আরশির বুক কেন অজানা পুলকে কেঁপে ওঠে?
মোমের আলোয় দুটি চোখ
ঝুমবৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যুৎহীন ঘরে মোমের আবছা আলোয় আরশির ভেজা রূপ দেখে আত্মহারা হয়ে পড়ে সুইডেনগামী কাব্য। আরশির গাল ছুঁয়ে চোখে চোখ রেখে এক অপার্থিব ভালোবাসার তৃষ্ণা মেটানোর এই ক্ষণ কি চিরকালের জন্য তাদের স্মৃতিতে রয়ে যাবে?
মধ্যরাতের তপ্ত বিস্ফোরণ
ক্লান্ত যাদিদ কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়ায় তিরার তীব্র চিৎকারে ফোন কলটি মুহূর্তে পরিণত হয় তিক্ততায়। ক্ষিপ্ত যাদিদের ডিভোর্সের হুমকি কি তিরার অন্ধ আবেগকে এক ভয়ংকর অতল অন্ধকারে ছুড়ে ফেলে দেবে?
হলুদ শাড়ির গোপন প্রস্তুতি
জীবনে কোনোদিন শাড়ি না পরা আরশি ভাবির কাছে আবদার করে হলুদ শাড়ির। রান্নাঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে আরশির মুখে প্যানকেকের গোলা লেপ্টে দিয়ে কাব্যর সেই অদ্ভুত খুনসুটি কি বিদায়ের প্রাক্কালে তাদের মনে বাঁধভাঙা ব্যাকুলতা এনে দেবে?
ছাদের কোণে সম্পর্কের পাঠ
ছাদের আড্ডায় তিরাকে ডিফেন্স অফিসারের ত্যাগের স্বরূপ বুঝিয়ে যাদিদের দিকটা বুঝতে শেখায় কাব্য। তিরা অনুশোচনায় কাঁদতে কাঁদতে নেমে যাওয়ার পর ছাদের নিভৃত সিঁড়িকক্ষে আরশির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাব্যর বুক কেন এক আকাশ সমান ভালোবাসায় ফুলে ওঠে?
নীল পাঞ্জাবি আর হলুদ শাড়ি
হলুদ শাড়িতে অপরূপা আরশিকে গাড়িতে দেখে বিহ্বল কাব্য তাৎক্ষণিকভাবে নিজের নীল পাঞ্জাবি পরে নেয়। আরশির আঙুলের ফাঁকে নিজের আঙুল গলিয়ে দিয়ে কাব্য যখন অনুমতি চায় চিরতরে হাত ধরে রাখার, আরশির কম্পিত হৃদয় কী উত্তর দেবে?
রক্তমাখা স্মৃতি ও কান্নার বাঁধ
নৌকার ছলাৎ ছলাৎ জলে আরশি চোখের জলে খুলে দেয় তার ছোটবেলার ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন—চোখের সামনে বাবা-মাকে কুপিয়ে মারার সেই ট্রমা। অন্যদিকে খুলনায় আচমকা যাদিদের আগমন দেখে উত্তেজনায় জ্ঞান হারানো তিরা কি সত্যি নিজের ভালোবাসাকে ফিরে পেল?
বিদায়ের প্রাক্কালে কালো মেঘ
কাব্যর বাসা ছাড়ার জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে পাঁচ বছরের জন্য দূরে যাওয়ার বেদনায় আরশির মুখে বিষাদের ছায়া নামে। ওদিকে নেপালের হানিমুন শেষে ফিরে যাদিদের হঠাৎ সেই কঠিন প্রশ্ন—তিরা কি তার কাছে কোনো অতীত লুকিয়েছিল?
অবিশ্বাসের ধ্বংসস্তূপ
তিরার এক্স বয়ফ্রেন্ডের ঘনিষ্ঠ ছবি আর আবেগময় চিঠিগুলো মুখের ওপর ছুড়ে মারে যাদিদ। ক্ষমা চেয়ে পায়ে লুটিয়ে পড়া সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে উপেক্ষা করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া যাদিদ কি তিরাকে কোনো ভয়ংকর আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিল?
অপমানের বিষ ও চিঠির ভাষা
হোটেলের ঘর থেকে তিরার নির্ঘুম ঘরের আলোর দিকে তাকিয়ে জ্বলতে থাকে যাদিদ। আরশির পরামর্শে তিরা নিজের শৈশব থেকে শুরু হওয়া সব ভুলের অকপট স্বীকারোক্তি লিখে পোস্ট করে যাদিদের ঠিকানায়; কিন্তু সেই চিঠি কি যাদিদের মনের পাথর গলাতে পারবে?
সীমানা পেরিয়ে শেষ স্পর্শ
সুইডেন যাওয়ার আগের রাতে পাঁচিলের দেয়াল টপকে মাঝরাতে আরশির সাথে দেখা করতে ছুটে আসে কাব্য। বিদায়ের শেষ ক্ষণে আরশির শুভ্র কপালে পরম ভালোবাসার দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিয়ে কাব্যর চলে যাওয়া কি এক দীর্ঘ বিরহের সূচনা করল?
দূর পরবাসের লাল লিপস্টিক
সুইডেন থেকে আরশির জন্য জার্মান লাল লিপস্টিক পাঠিয়ে চিঠি লেখে কাব্য; যে আরশি কখনো সাজেনি, সেও কাব্যর জন্য ঠোঁট রাঙিয়ে ছবি পাঠায়। ওদিকে নিঃসঙ্গ তিরা জানতে পারে সে গর্ভবতী; এই সংবাদ কি তার ভেঙে যাওয়া সংসারকে জোড়া লাগাবে?
অনাগত প্রাণের নীরব হাহাকার
সন্তান আগমনের খবর পেয়েও যাদিদের পাথর হৃদয় এক ফোঁটাও গলে না, তিরার ফোন মেসেজের কোনো উত্তর সে দেয় না। গর্ভের নিষ্পাপ বাচ্চার ওপর এমন নিষ্ঠুর অবিচার দেখে ক্লান্ত তিরা কি সমস্ত যোগাযোগের আশা এবার চিরতরে ত্যাগ করল?
শাশুড়ির স্নেহ ও কঠিন সত্য
চার মাস ধরে তিরার চোখের জল ও মনমরা অবস্থা দেখে কারণ জানতে ব্যাকুল হন রেহানা আলম। সব সত্যি জানার পর নিজের ছেলের এমন পাষাণ আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনে যাদিদকে ধমকালে যাদিদ উল্টো যে রূঢ় কথা শোনায়, তাতে কি কোনো আশার আলো বাকি থাকে?
উপেক্ষার প্রাচীরে বন্দী মাতৃত্ব
আরশি খুলনায় এসে যাদিদকে ফোন করে তিরাকে রেহাই দেওয়ার দাবি জানালে যাদিদের উদ্ধত জবাবে ডিভোর্সের পরামর্শ দেয় আরশি। কিন্তু তিরা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। শেষমেশ রেহানা আলমের পাঠানো তিরার গোপন ভিডিও দেখে যাদিদের ভেতর কীসের ঝড় ওঠে?
চরম পরিণতির রুদ্ধশ্বাস ক্ষণ
ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরা যাদিদের সামনে থেকে বাঁচতে বাথরুমে ঢুকে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে তিরা! দরজা ভেঙে তিরাকে উদ্ধার করে যাদিদের মারা সেই ক্ষিপ্ত চড় আর কান্না কি মৃত্যুর মুখ থেকে ভালোবাসার চরম সত্যকে ফিরিয়ে আনবে?
অনুশোচনার অশ্রু ও আলিঙ্গন
গভীর রাতে বাচ্চার নড়াচড়ায় তিরাকে বুকে জড়িয়ে সমস্ত অভিমানের দেয়াল ভেঙে ফেলে যাদিদ। ক্ষমা সে অনেক আগেই করে দিয়েছিল—তবে নিজেকে কষ্ট দিতে গিয়ে ভালোবাসার এই নির্মম পরীক্ষা কি দুজনের জীবনে স্থায়ী শান্তি এনে দিতে পারবে?
পাঁচ বছর পরের আকস্মিক আঘাত
পাঁচটি বছর নীরবে পার হয়ে আরশি আজ ইন্টার্ন ডাক্তার। ভাইয়ের পছন্দের বিয়ের চাপ সামলাতে না পেরে ফোন করে বিয়ের কথা বলতেই সুইডেন থেকে কাব্যর রূঢ় উত্তর—"আমি আমাদের বিয়ে নিয়ে কখনো কিছু ভাবিনি!" আরশির বিশ্বাসের পৃথিবী কি মুহূর্তেই ধসে গেল না?
ভুলের চোরাবালি ও আকাশপথের লড়াই
সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে মিথ্যা বলা কাব্য টের পায় সর্বনাশের মাত্রা—আরশি তৎক্ষণাৎ অন্য ছেলের সাথে বিয়েতে রাজি হয়ে ফোন ফেসবুক সব বন্ধ করে দিয়েছে! স্টকহোম থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর এই মরণপণ দৌড়ে কাব্য কি সময়মতো পৌঁছাতে পারবে?
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস
এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকায় ছুটে এসে কাব্য শোনে গতকাল রাতেই আরশির বিয়ে হয়ে গেছে! স্বপ্নভঙ্গ বুকে কক্সবাজারে নিজের বাড়ি ফিরে ড্রয়িংরুমে নতুন বউ বেশে লাল শাড়িতে আরশিকে নিজের বড় ভাইয়ের পাশে বসা দেখে কি কাব্যর বহুদিনের সেই দুঃস্বপ্নই সত্যি হয়ে গেল?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
কনফিউশন (Confusion) উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু কী?
কনফিউশন উপন্যাসে মোট কতটি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সমাপ্ত?
কনফিউশন উপন্যাসের লেখিকা কে?
কনফিউশন উপন্যাসটি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায়?
কনফিউশন উপন্যাসের শেষ পরিণতি কী সুখকর নাকি বিষাদময়?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ