তোকে চাই
অতীতের গভীর ক্ষত আর বিষাদের ছায়ায় বন্দি শুভ্রর জীবনে একরাশ আলো হয়ে আসে চঞ্চল তরুণী রোদ। তবে একতরফা অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি আর ভালোবাসার কঠিন দাবির মুখে তাদের এই অসম দাম্পত্য কি সত্যিকারের ভালোবাসার পূর্ণতা খুঁজে পাবে, নাকি অতীতের বিচ্ছেদ ছায়া হয়ে তাড়িয়ে বেড়াবে আজীবন?
তোকে চাই উপন্যাসের প্রথম সিজন (মোট ৪৬ পর্ব) সম্পূর্ণ প্রকাশিত ও সমাপ্ত হয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
ট্রমা ও মানসিক নিরাময়ের ধীরগতির প্রেম
অতীতের বেদনাদায়ক স্মৃতি ও ডিপ্রেশন থেকে কীভাবে নিঃস্বার্থ সাহচর্য মানুষকে নতুন জীবন দিতে পারে, তার এক অনুপম উপাখ্যান।
তীব্র পজেসিভনেস ও মান-অভিমানের খুনসুটি
বয়সের ব্যবধান ও ভুল বোঝাবুঝির ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা এক গম্ভীর রাশভারী পুরুষ এবং চঞ্চল কিশোরীর মিষ্টি দাম্পত্য রসায়ন।
পারিবারিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা
কেবল ব্যক্তিগত অনুরাগ নয়, যৌথ পরিবারের সুখ-দুঃখ ও শ্রদ্ধাবোধের সুদৃঢ় প্রেক্ষাপটে রচিত আখ্যান।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5রোদেলা (রোদ)
নায়িকা (Protagonist)চঞ্চল, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও আবেগপ্রবণ কিশোরী। পরিস্থিতির চাপে অল্প বয়সেই বিয়ে হলেও শুভ্রর মানসিক অস্থিরতায় তার ভরসার আশ্রয় হয়ে ওঠে।
আবরার আহমেদ শুভ্র
নায়ক (Male Lead)রাশভারী, ট্রমাগ্রস্ত কিন্তু প্রচণ্ড পজেসিভ স্বভাবের যুবক। অতীতের বিয়োগান্তক স্মৃতি বয়ে বেড়ালেও রোদের প্রতি গভীরে অতল মায়া ও ভালোবাসা লালন করে।
ইকবাল আহমেদ
শুভ্রর বাবা (মামু)স্নেহশীল ও দায়িত্ববান অভিভাবক। ছেলেকে বাঁচানোর তাগিদে এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের অংশ হিসেবে রোদকে পুত্রবধূ করে ঘরে তোলেন।
সাহেল
শুভ্রর বন্ধুশুভ্রর বাল্যবন্ধু; অনিচ্ছাকৃতভাবেই রোদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গল্পে এক তীব্র নাটকীয় মোড় তৈরি করে।
রুহি ও অভ্র
সহায়ক চরিত্ররোদের বড় বোন ও শুভ্রর বড় ভাই; যৌথ পরিবারের স্নেহ ও ভরসার স্তম্ভ।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
46 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: অভিমান ও অনুভূতির বন্ধন
অপ্রত্যাশিত বিয়ের আঘাত, তীব্র ভুল বোঝাবুঝি এবং ধীরে ধীরে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ভালোবাসার রোমাঞ্চকর উপাখ্যান।
অপ্রত্যাশিত বাসর ও নিঃশব্দ কান্না
বাসর রাতের নির্জনতায় একরাশ স্বপ্ন নয়, বরং অজানার আতঙ্ক নিয়ে বসে থাকে রোদেলা। কিন্তু শুভ্রর তীব্র অপমান ও টাকার লোভে বিয়ে করার তীক্ষ্ণ অভিযোগ মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দেয় রোদের আত্মসম্মান। এই অন্ধকারের শেষে কি কোনো আশার আলো লুকিয়ে আছে?
অতীতের পুনর্মিলন ও বারান্দার অন্ধকার
বিয়ের ভিড়ে দীর্ঘ আটাশ বছর পর ফিরে আসা হারানো মামার আবেগঘন কান্না রোদের চোখে এক আশ্চর্য বিস্ময় জাগিয়ে তোলে। কিন্তু বাসর রাতের নির্মমতার পর ভোরের আলো ফুটতেই বারান্দার মাটিতে শুভ্রর ক্লান্ত, বিধ্বস্ত রূপ দেখে কেন বুক মুচড়ে ওঠে রোদের?
প্রথম স্মৃতির ঝলক ও তপ্ত কফি
প্রথম পরিচয়ের অদ্ভুত খুনসুটি আর শাসনে কাঁপন ধরা সেই স্মৃতি মনে পড়তেই শিউরে ওঠে রোদ। শাশুড়ির কথামতো এক কাপ তপ্ত কফি নিয়ে শুভ্রর ঘুম ভাঙাতে গিয়ে রোদের হাতের ওপর আছড়ে পড়ে শুভ্রর চরম ক্ষোভ। এই নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়?
দাবানল ও তীব্র প্রতিরোধ
পরিবারের আত্মসম্মানে আঘাত আসতেই আর মাথা নিচু করে থাকে না রোদ। শুভ্রর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কলার চেপে ধরে ছুড়ে দেয় সপাটে জবাব। কিন্তু ক্ষোভের পর নিজের ঘরেই চরম লজ্জাজনক এক ভুলে জড়িয়ে পড়ে কীভাবে নিজেকে বাঁচাবে সে?
রহস্যময় নীরবতা ও করুণ আহ্বান
অতীতের মজার এক কাণ্ডে ঘরের লোকজনের সামনে লজ্জায় লাল হওয়া রোদ ভেবেছিল শুভ্র হয়তো প্রতিশোধ নেবে। কিন্তু গম্ভীর, নিরুত্তাপ শুভ্র হঠাৎ কেন তাকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার আকুতি জানায়? এই শান্ত রূপের পেছনে কী লুকিয়ে আছে?
নির্জন প্রান্তর ও এক ভগ্ন হৃদয়
এক নির্জন খোলা মাঠে নিয়ে গিয়ে রোদকে জড়িয়ে শুভ্র কান্নায় ভেঙে পড়ে। নীলিমাকে হারানোর অসহ্য তীব্র বেদনায় পুড়ে ছারখার হওয়া মানুষটি যখন রোদকে ধরে ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবদার করে, তখন কিশোরী রোদ কীভাবে সামলাবে এই অতল ক্ষত?
রক্তাক্ত রাজপথ ও অপূরণীয় বিচ্ছেদ
কাজী অফিসে গোপন বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মুহূর্তে এক সেকেন্ডের অসতর্কতায় ধেয়ে আসা বেপরোয়া ট্রাক। চোখের সামনে রক্তে ভেসে যাওয়া নীলিমার নিথর দেহ কী ভয়াল ক্ষত এঁকে দিয়েছিল শুভ্রর জীবনে, যার বোঝায় আজ রোদকেও বলি হতে হয়েছে?
মুক্তির প্রতিশ্রুতি ও অলিখিত সীমানা
অসুস্থ শুভ্রকে আগলে রাখার পর জ্ঞান ফিরতেই শুভ্র জানায়, সে রোদকে কোনোদিন স্ত্রীর অধিকার দিয়ে বাঁধবে না। স্বপ্নের পথে স্বাধীনভাবে ওড়ার এমন নিষ্ঠুর মুক্তি পেয়ে কেন ভেতরটা আনন্দের বদলে কান্নায় ভেঙে পড়তে চায় রোদের?
মামুর গোপন আর্তি ও আত্মসম্মানের পণ
এডমিশন কোচিংয়ে ভর্তির সিদ্ধান্তের পেছনে মামুর ব্যাকুল স্বীকারোক্তি—রোদের চোখের মায়াই নাকি পারে শুভ্রকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে। কিন্তু শুভ্রর অনুগ্রহের টাকা দিয়ে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন না দেওয়ার যে পণ রোদ করেছে, তা কীভাবে পূরণ হবে?
লোনের অদ্ভুত শর্ত ও অদম্য হাসির দমক
শুভ্রর কোল দখল করে বসে পড়া রোদের শিশুসুলভ জেদের মুখে টাকা নেওয়ার এক বিচিত্র সমাধান বের করে শুভ্র। লোন নেওয়ার সেই চুক্তি পাকা হতেই চার দেয়াল কাঁপিয়ে শুভ্রর সেই বিরল বাঁধভাঙা হাসির রহস্য কী ছিল?
গাড়ির বন্দিশালা ও ওড়নার জিম্মি
টেনে নাক টেনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া শুভ্রর ওপর চোখ ফেরাতে পারে না রোদ। কিন্তু বারবার চেয়ে দেখার শাস্তিস্বরূপ চলন্ত গাড়ি থামিয়ে শুভ্র যখন রোদের ওড়না কেড়ে নিয়ে নিজের শর্ত জুড়ে দেয়, তখন রোদের কপালে কী অপেক্ষা করছে?
চায়ের কাপের হাঙ্গামা ও মধ্যরাতের আদেশ
কফি বাতিল করে দুধ চা, দুধ চা বাতিল করে লাল চা—শুভ্রর একের পর এক হুকুমের জ্বালায় অতিষ্ঠ রোদ শেষমেশ কলার চেপে চা মুখে ঢেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু বিছানা ছেড়ে সোফায় শোয়ার অমানবিক আদেশ দিতেই তৈরি হয় এক নতুন ভয়ংকর পরিস্থিতি।
জাতীয় সংগীতের রাগিনী ও অলিখিত অধিকার
খাটের তলায় ঘুমানোর ভয় দেখিয়ে শুভ্র যখন গান গেয়ে পা টিপে দেওয়ার ফরমান জারি করে, তখন জাতীয় সংগীত গেয়ে নিজের ক্ষোভ ঝাড়ে রোদ। পরদিন সকালে চোখ মেলতেই শুভ্রর ঠোঁটের খুব কাছে এসে থামে রোদ—কী ঘটবে এই আকস্মিক পদক্ষেপে?
ঠোঁটের ক্ষত ও মধ্যরাতের আবদার
আচমকা কামড় বসিয়ে ওয়াশরুমে পালিয়েও শুভ্রর দেওয়াল ঘেঁষা ক্রোধ থেকে বাঁচতে পারেনি রোদ। তবে খাবার টেবিলে সেই ক্ষোভ উলটো শুভ্রর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নেয় সে। মাঝরাতে আবার হেঁটে গিয়ে আইসক্রিম খাওয়ার বায়না কি কোনো বিপদের সূচনা?
মধ্যরাতের বখাটে ও রুদ্রমূর্তি
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোদের দিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছুড়ে হাত বাড়াতেই এক নিমেষে বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে শুভ্র। যে ফুলের গায়ে ভ্রমর বসলেও সহ্য হয় না, সেই ফুলকে স্পর্শ করার অপরাধে বখাটেদের কী নিদারুণ পরিণতি উপহার দেয় সে?
কোলে ওঠার আবদার ও অচেনা আগন্তুক
শুভ্রর কোল থেকে ফেলে দেওয়ায় কোমরে চোট পেয়ে রাস্তায় বসে থাকা রোদকে সাহায্য করতে আসে এক অচেনা যুবক। কিন্তু শুভ্র ফিরে এসে জোর করে রিকশায় তুলে নেয় রোদকে। পরদিন বাইকের পেছনে বসতেই শুভ্রর বন্ধুদের সামনে রোদের কোন পরিচয় প্রকাশ পায়?
ফুপ্পির মেয়ে পরিচয় ও আইসক্রিমের আমন্ত্রণ
স্ত্রীর বদলে বন্ধুদের সামনে শুধুই 'ফুপ্পির মেয়ে' পরিচয় দেওয়ায় ক্ষোভে-অপমানে ফেটে পড়ে রোদ। প্রতিশোধ নিতে শুভ্রকে ভাইয়া ডেকে সাহেলের সাথে আইসক্রিম খাওয়ার কথা বলতেই তুফানের বেগে বাইক নিয়ে উদয় হয় শুভ্র। কী করবে এবার শুভ্র?
ত্রিশটি আইসক্রিম ও রিকশার সংঘর্ষ
সাহেলের সামনে থেকে রোদকে তুলে নিয়ে গিয়ে পার্লারে ত্রিশটি আইসক্রিম একাই শেষ করার হুকুম জারি করে শুভ্র। পরিচয় লুকানোর অজুহাত নিয়ে তর্ক করতে করতে অভিমানী রোদ রিকশায় চড়তেই শুভ্রর বাইকের সামনে ঘটে যায় ভয়ংকর অঘটন।
রক্তাক্ত আর্তনাদ ও একতরফা অধিকার
রাস্তার পিচে ছিলে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত হাত শক্ত করে চেপে ধরা শুভ্রর কলার চেপে ধরে কান্নায় চিৎকার করে ওঠে রোদ। ভালোবাসার কোনো অধিকার নেই, স্ত্রীর স্বীকৃতি নেই, তবে কেন এই একতরফা শাসন? নিশ্চুপ শুভ্রর বুকে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে রোদ।
মধ্যরাতের কফি ও অচেনা তরুণী
অসুস্থ রোদকে গভীর রাতে নিজের হাতে নিখুঁত কফি বানিয়ে খাওয়ায় শুভ্র, যা সে একদা নীলিমার জন্য শিখেছিল। পরদিন কোচিং শেষে এক পার্কে শুভ্রর সাথে দেখা করতে গিয়ে রোদ স্তম্ভিত হয়ে দেখে—এক অচেনা তরুণী ঝড়ের বেগে এসে শুভ্রকে জড়িয়ে কাঁদছে!
জ্বলন্ত চোখ ও ঈর্ষার আগুন
মিথিলার কান্নায় সান্ত্বনা দেওয়া শুভ্রকে দেখে ভেতরটা পুড়ে ছারখার হয়ে যায় রোদের। গাড়িতে উঠে চরিত্রহীন বলে শুভ্রকে তীব্র খোঁচা দিতেই ব্রেক কষে শুভ্র। রোদকে থামিয়ে দিয়ে শুভ্র জানতে চায়—সে কি সত্যিই তীব্র ঈর্ষায় জ্বলছে?
অপ্রত্যাশিত স্পর্শ ও ছাদের গোপন সংলাপ
মিথিলার প্রতারিত জীবনের করুণ সত্য জানতে পেরে অপরাধবোধে ভোগে রোদ। গাড়ির সিটে আলতো চুমু দিতে গিয়ে শুভ্রর ঠোঁটে আকস্মিক স্পর্শে থমকে যায় দুজনই। রাতে কফির ট্রে নিয়ে ছাদে যেতেই শুভ্রর মুখে নিজের নাম শুনে থমকে দাঁড়ায় রোদ।
ভালোবাসা নাকি তীব্র প্রয়োজন?
ছাদে দাঁড়িয়ে শুভ্র তার বন্ধুদের কাছে স্পষ্ট করে—সে নীলিমাকে ভুলতে চায় না, কিন্তু রোদকে ছাড়া তার বেঁচে থাকাও অসম্ভব। তাকে হারানোর ভয় শুভ্রকে পাগলের মতো তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে ভালোবাসার নামে এই অদ্ভুত 'প্রয়োজন' শুনে কীভাবে বাঁচবে রোদ?
জ্বরের ঘোরে আঁকড়ে ধরা ও স্মৃতির বিভ্রান্তি
নীলিমার স্মৃতিতে ফের তীব্র জ্বরে আক্রান্ত শুভ্র রোদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নীলি ভেবে আকুতি জানায়। সারারাত চোখের জল ফেলে শুভ্রর সেবা করলেও সকালে উঠেই শুভ্রর কাঠখোট্টা বকুনি সব আবেগ চুরমার করে দেয়। তবে রেস্তোরাঁয় শুভ্রর সাথে মিথিলাকে দেখে কেন পথ ঘুরে যায় রোদের?
ভাঙা পায়েল ও অবাধ্য পালানোর শপথ
সাহেলের উপহার দেওয়া নুপূর আর নিজের ফোন ঘরে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে থাকতে দেখে শুভ্রর সামনে রুখে দাঁড়ায় রোদ। শুভ্রর উগ্র ক্ষোভ আর রোদের বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার অনড় জেদ এক চরম সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয় দুজনের সম্পর্ককে।
লাল শাড়ির মোহ ও চরম অনুশাসন
মামানির সাথে বাপের বাড়ি যাওয়ার আগে শুভ্রর একের পর এক শর্ত ও পাহারা। কিন্তু লাল কাতান শাড়িতে রোদকে অনিন্দ্যসুন্দর লাগতেই হঠাৎ শুভ্র শাড়ি পাল্টানোর জোর হুকুম জারি করে কেন? এই রূপের পেছনে কি শুধুই শাসন, নাকি অসীম ভীতি?
ভোরের আগমন ও দরজার ওপাশে বিষাদ
কৌশলে নিজের বাবার বাড়িতে থেকে যাওয়ার পর হঠাৎ ভোর ছয়টায় শুভ্রর আকস্মিক আগমন। তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে শুভ্র যখন একা ফিরে যায়, তখন দূরত্বের দুই সপ্তাহে একটা ফোনও না পেয়ে কেন ব্যাকুল হয়ে ওঠে রোদের মন?
মাঝরাস্তায় ছিনতাই ও রোদের বন্দিত্ব
স্যারের বাসা থেকে ফেরার পথে সিএনজির সামনে আচমকা গাড়ি থামিয়ে দাঁড়ায় উশকোখুশকো, রাতজাগা শুভ্র। কোনো কথা না শুনে সোজা কোলে তুলে গাড়িতে বন্দি করে সে রোদকে। উইদাউট রিজন দূরে থাকার কী ভয়ংকর শাস্তি এবার পেতে হবে রোদকে?
তোকে চাই ও স্পষ্ট ঘোষণা
বাড়িতে কোলে করে নামিয়ে এনে এক অদ্ভুত দাবি তোলে শুভ্র—সে কোনোদিন সন্তান নেবে না। সন্তান নেওয়ার ঝুঁকি রোদকে বিপদে ফেলতে পারে এই অন্ধ আশঙ্কায় শুভ্র চিৎকার করে জানিয়ে দেয়, 'আমার শুধু তোকে চাই!' এই ভালোবাসার গভীরতা কতটা ভয়ংকর?
হাসপাতালের পাগলামি ও তেলের পরশ
রোদের সামান্য আঘাতের পর অপারেশনের দিন শুভ্রর কাণ্ডজ্ঞানহীন পাগলামিতে বাধ্য হয়ে বাড়ি নিয়ে আসা হয় তাকে। রাতের আঁধারে যত্ন করে তেল মেখে দুই কাঁধে বেণী ঝুলিয়ে দিয়ে শুভ্র যখন বলে ওঠে, 'গুলুমুলু পুচকি বউ'—তখন সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়?
অচেনা টান ও গভীর রাতের মায়া
এডমিশন পরীক্ষার তুমুল ব্যস্ততার মাঝেও শুভ্রর অনাবিল যত্ন আর ভালোবাসার প্রকাশ যেন রোদকে মোহাচ্ছন্ন করে তোলে। যে মানুষটা একসময় দেখতেই পারত না, তার প্রতিটি ছোঁয়া আর শাসনে মিশে থাকা এই গভীর মায়া কি কোনো স্থায়ী পরিণতি পাবে?
দুঃস্বপ্নের আর্তনাদ ও অদ্ভুত বন্ধন
মাঝরাতে নীলিমা রোদকে কেড়ে নিয়ে যাবে এমন দুঃস্বপ্নে কেঁপে ওঠে শুভ্র। নিজের ওড়না দিয়ে শুভ্রর হাত নিজের সাথে বেঁধে ফেলার পাগলামি দেখে রোদ হতভম্ব হয়ে যায়। পরদিন সকালে ড্রয়িংরুমে সাহেলের পরিবার এসে রোদের বিয়ের প্রস্তাব তুলতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বাড়ি!
সিংহের গর্জন ও স্ত্রীর মর্যাদা
সাহেলের মুখের ওপর নিজের স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে শুভ্র জানিয়ে দেয়—রোদ শুধুই তার। কিন্তু খাবার টেবিলে বড় খালামনির কদর্য অপমান ও খোটার মুখে শুভ্র যেভাবে নিজের হাতে রোদকে খাইয়ে দিয়ে খালামনিকে ধুয়ে দেয়, তা সবার মনে কেমন বিস্ময় জাগায়?
প্রেমের স্বীকারোক্তি ও দেয়ালের বাঁধন
অফিসে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ রোদের মুখ থেকে ঝরে পড়ে ভালোবাসার প্রথম স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। চরম অপ্রস্তুত শুভ্র গাড়ি নিয়ে বেরিয়েও মাঝরাস্তায় ফিরে আসে রোদকে একা ছাড়ার ভয়ে। আর উপহার হিসেবে দেয়ালে টাঙিয়ে দেয় তাদের প্রথম মিষ্টি ফ্রেমবন্দি স্মৃতি।
রসগোল্লার উপমা ও প্রতিশোধের কামড়
রোদকে 'রসগোল্লা' আর 'গুলুমুলু পুচকি' বলে শুভ্রর খুনসুটি। কিন্তু রাতে বোনের সাথে ঘুমোতে গিয়ে শুভ্রর জোর করে কোলে তুলে রুমে নিয়ে যাওয়া এবং বাপের বাড়ি যাওয়ার শাসনে গলায় কামড় বসিয়ে দেওয়া কি শুভ্রর জন্য নতুন বিপত্তি আনবে না?
ছাদের নির্জনতা ও দ্বিতীয় জন্মের টান
গভীর রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে রোদ প্রশ্ন করে—নীলিমা ফিরে এলে কি শুভ্র তাকে ছুড়ে ফেলে দেবে? শুভ্রর চোখে জল এসে যায়; স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নীলিমা তার অনুভূতিতে বাঁচলেও রোদের নিঃশ্বাস ছাড়া তার আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। এই নিবিড় ভালোবাসায় রোদ কীভাবে সাড়া দেবে?
গলার দাগের কেলেঙ্কারি ও গোপন পাসওয়ার্ড
গলায় কামড়ের দাগ দেখে শাশুড়ি মায়ের বেবি প্ল্যানিংয়ের খোঁচায় শুভ্রর কাশি থামে না। মেজাজ খারাপ করে বসে থাকা রোদের রাগ ভাঙাতে শুভ্র যখন নিজের ফোনের গোপন পাসওয়ার্ড মুখ ফুটে বলতে বাধ্য হয়, তখন 'মাই পুচকি' শুনে রোদের ভেতরের ঝড় কেমন রূপ নেয়?
নদীর মোহনায় ছুটি ও দ্বিতীয় প্রেম
নদীর জলে পা ভিজিয়ে গলা ছেড়ে প্রিয় গান গাওয়া আর আইসক্রিমের ভাগাভাগি। সেই মায়াবী সন্ধ্যায় শুভ্র অকপটে জানিয়ে দেয়—'দ্বিতীয়বার ভালোবাসা যায় এটা তোমার থেকেই শিখেছি রোদ।' এই প্রথম কোনো সংশয় ছাড়া ভালোবাসা কি তাদের জীবনে পূর্ণতা আনবে?
গোপন রিপোর্ট ও আতঙ্কের প্রলয়
এডমিশন টেস্টের পর রোদের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গোপন রিপোর্ট শুভ্রর হাতে আসতেই ঘরে প্রলয় নেমে আসে। ফুলদানি ছুড়ে ভেঙে শুভ্র চিৎকার করে জানায়, সে রোদকে হারানোর কোনো ঝুঁকি নেবে না, তার কেবল রোদকে চাই! কিন্তু অসুস্থ রোদ জ্ঞান হারাতেই শুভ্রর সব রাগ কোথায় হারিয়ে যায়?
কার্পেটের দুর্গ ও আগামীর রাজকন্যা
রোদ যাতে পা পিছলে না পড়ে, সেজন্য গোটা বাড়ি কার্পেটে মুড়িয়ে দেয় অতি-উদ্বিগ্ন শুভ্র। অফিস ছেড়ে বাড়ি বসে থাকার এই পাগলামির পর রাতের আঁধারে রোদের কোলে মাথা রেখে অনাগত রাজকন্যার সাথে বাবার অনুশাসনের কথপোকথন কী বার্তা দেয়?
ভয়াল দুঃস্বপ্ন ও শক্ত আলিঙ্গন
মাঝরাতে গর্ভপাতের দুঃস্বপ্নে চিৎকার করে ঘুম ভেঙে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে রোদ। শুভ্র রোদের কপালে চুমু দিয়ে আশ্বস্ত করে—সে নিজের জান দিয়ে আগলে রাখবে তাদের সন্তানকে। অনাগত মেয়েকে বাঁচাতে শুভ্রর এই প্রতিজ্ঞা কি রোদের মনের সব ভয় মুছে দিতে পারবে?
রান্নাঘরের হুলস্থুল ও পাহারা দেওয়ার ছায়া
ছুটির দিনে অসুস্থ শাশুড়ির কষ্ট লাঘবে রান্নাঘরে নামতেই শুভ্র এসে হাজির। ওস্তাদি মারতে গিয়ে নিজে সবজি ধুয়ে রোদের মুখে জোর করে ফল গুঁজে দেওয়ার এই পাগলামি কি কোনোদিন শেষ হবে? রাতে বই পড়ার পেছনে শুভ্রর ছায়ার মতো হাঁটার রহস্য কী?
ডাক্তারের সতর্কতা ও আকস্মিক বার্তা
গায়েনী ডাক্তারের চেম্বারে রোদের কম বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি শুনে শুভ্রর মুখের রক্ত শুকিয়ে যায়। কিন্তু বাইরে এসে সাহেল ও নাবিলার সাথে অপ্রত্যাশিত দেখা হওয়া ক্ষণিকের স্বস্তি এনে দিলেও, রুহির অপূর্ণ ডেলিভারি পেইনের জরুরি খবর ঘরে ঘরে কেমন ঝড় তুলবে?
ওটির বাইরে রুদ্ধশ্বাস প্রহর
তিন ঘণ্টা ওটির বাইরে অভ্র ভাইয়ার পাগলামি আর রক্তক্ষরণের আশঙ্কায় গোটা পরিবারের থমকে যাওয়া পরিস্থিতি। শুভ্র রোদের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলে—'বউমনির কষ্ট দেখে আমার আত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে, তোমাকে হারানোর কথা আমি ভাবতেই পারি না।' কীভাবে কাটবে এই মেঘ?
নতুন প্রাণের আগমন ও অনাগত শুভ্রতা
রুহির কোল আলো করে রাফসান আহমেদ তৌফিকের আগমনে উৎসবে ভাসে দুই পরিবার। চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে শুভ্র রোদের অনাগত কন্যার নাম ঘোষণা করে—'রোধৌশী আহমেদ শুভ্রতা'। নতুন প্রাণের এই স্পর্শে তাদের সম্পর্কের সব মেঘ কি চিরতরে মিলিয়ে গেল?
শুভ্রতার হাসি ও তোকে চাই চিরন্তন
প্রসব বেদনার সময় শুভ্রর বেহুঁশ হয়ে পড়া আর ফুটফুটে শুভ্রতার জন্মের পর তিন বছরের মধুর সংসার। ছোট্ট মেয়ের আধো আধো কথা আর তৌফিকের খুনসুটির মাঝে শুভ্র জড়িয়ে ধরে জানিয়ে দেয়—আশি বছরের বুড়ি হয়ে গেলেও রোদ থাকবে শুধুই তার পুচকি। চিরদিনের জন্য শুধু 'তোকে চাই'!
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
তোকে চাই (Toke Chai) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
তোকে চাই উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
তোকে চাই উপন্যাসের লেখিকা কে?
তোকে চাই উপন্যাসটি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায়?
তোকে চাই সিজন ২ কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ