ভেজা শার্ট ও মাঝরাতের মুখোমুখি হিসাব

13 মিনিট পড়া 2,072 শব্দ
ভেজা শার্ট ও মাঝরাতের মুখোমুখি হিসাব

এই মেয়ে এই দাঁড়াও….

উপস্থিত সকলে সিয়ামের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে, মায়াও হা করে সেদিকেই তাকিয়ে আছে। শুধু সাইমা মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে। ওর প্রাণের বান্ধবির সাথে ওর ভাইয়ার এ হেন আচরণ দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছে ও।

~ও হ্যালো! কি বলছি?

কথা কি কানে গেছে?!!! সিয়াম মায়াকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলছে। মায়া আসছি বলে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে সিয়ামের দিকে। এদিকে সাইমার এটা সহ্য হচ্ছে না। মায়া যখন সিয়ামের শার্ট’টা পরিষ্কার করার জন্য ওর পাশে গিয়ে বসল, ঠিক তখনই সাইমা দৌঁড়ে গিয়ে মায়াকে বসা থেকে উঠিয়ে ফেলে।

-‘ একদম তুই এসব করবি না….(সাইমা)

~’ কিন্তু ওনার তো শার্টে…..(মায়া)

-‘ থাকুক লেগে, তাতে তোর কি? তোর কি ইচ্ছে করে ফেলছিস নাকি????(সাইমা)

* মানলাম ও ইচ্ছে করে ফেলে দেয়নি, কিন্তু যেভাবেই হোক ওর হাত থেকে তো পরেছে। যেহেতু ওর হাত থেকে পরে শার্ট’টা নষ্ট হয়েছে সেহেতু এটা ও পরিষ্কার করে দিবে..☺(সিয়াম)

★ভাইয়া, অসাবধানতায় হাত থেকে পরে গেছে, এতে মায়ার কোনো দোষ নেই। আর তাছাড়া বাসায় কাজের লোক থাকতে ও পরিষ্কার করবে কেন? ?(সাইমা)

* ও পরিষ্কার করবে কারন যেভাবেই হোক এটা ওর হাত থেকে পরেছে…?(সিয়াম)

★না, ও পরিষ্কার করবে না….?(সাইমা)

*ওকেই করতে হবে…(সিয়াম)

★ও করবে না। ?(সাইমা)

* ও করবে, করতে বাধ্য….?(সিয়াম)

★বললাম তো ও করবে না।?(সাইমা)

* ও করবে…..

করতেই হবে……(সিয়াম)

★তোর সাথে আজাইরা ঝগড়া করার মত এনার্জি আমার নেই। মায়া চলতো….

মায়া ওর হাতটা ছাড়িয়ে নিল সাইমার হাত থেকে….

~`মায়া, কি হলো??(সাইমা)

★ আমি ভাইয়ার শার্ট’টা নষ্ট করে দিলাম। আমার মনে হয় শার্ট’টা পরিষ্কার করাটা আমার অবশ্য করনীয়…(মাথ নিচু করে মায়া)

~`মানে কি? তুই..(…?..)…(সাইমা)

★হুম, আমি পরিষ্কার করব…..

ভাইয়া দিন। আমার পাশে গিয়ে বসে হাত বাড়িয়ে কথা’টা বলল। আমি তো হতবাক। এ হাত বাড়িয়ে আবার কি চাচ্ছে….

জিজ্ঞেস করলাম-

কি দিব?!!!

উত্তরে বলল- শার্ট’টা…

★মানে কি? আমি তোমাকে গায়ে থেকে শার্ট খুলে দিব???

~`হুম, দিবেন….

★ না, না আমি পারব না।☺☺

~`কেন পারবেন না`? আর না পারলেও পারতে হবে।

★ এই!! ছেলে বলে আমাদের কি লজ্জা নেই??… লজ্জা শুধু নারীদের’ই আছে নাকি?!!!?

~আপনি না একটু বেশী’ই কথা বলেন ভাইয়া….

★ কম কথা বললে যে চলে না। ভেবে দেখছি কম কথা বললে আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমার বাবা মা কে নাতি-নাতনীর মুখ দেখাতে হলে বেশী কথা আমার বলতেই হবে…।না হলে এগিয়ে যেতে পারছি না সামনে। ☺☺

~`……..

★………..???

~`আচ্ছা, দিতে হবে না…

★দিতে হবে না এটা তো আমি বলিনি। এত বেশী বুঝ কেন?

~আমি তাহলে কি করতে পারি আপনার জন্য,স্যার?আমার সাথে আসো, বলছি কি করতে হবে….

~ঠিক আছে বলে মায়া সিয়ামের পিছু পিছু চলছে…

যেতে যেতে সিয়ামের পিছু পিছু সিয়ামের রুমের সামনে গিয়ে হাজির হলো মায়া…

-‘ কি হলো? এখানে এসে আটকে গেলে যে? ভিতরে এসো….

★না, মানে আপনি….

-‘ এবার তো অনুমতি দিলাম আসো….

মায়া আমার কথায় মাথা নিচু করে আমার রুমে আসলো।

তারপর গায়ের শার্ট’টা খুলে মায়া যেখানে বসে আছে সেখানে এগিয়ে গেলাম। পাগলী আমার লজ্জায় আমার দিকে তাকাতে পারছে না। ওর হাতে শার্ট’টা দিয়ে বললাম, এই নাও! এই শার্ট ধূয়ে দিবা….

মাথা নিচু করে কি যেন বলে সেখান থেকে দৌঁড়ে পালালো মায়া….

দু’দিন পর অফিসে যাওয়ার প্রাক্কালে মায়া’কে ডেকে প্রশ্ন করলাম-

শার্ট’টা শুকিয়েছে কি না?

গত দু’দিন ধরে শুধু একটা কথায় বলে আসছ, শার্ট শুকাইনি। আজ নিশ্চয় বলতে পারবা না শুকাইনি…

কি?!!!

শুকাইতে পারছ তো শার্ট?

★ভাইয়া…

~জি, ভাইয়া বলো….

★আসলে শার্ট’টা এখনো ধুইনি, আজকে ধূয়ে দিব, কালকে শার্টটা আপনাকে দিয়ে দিব….

~`মানে? শার্ট না ধূয়েই তুমি এতদিন আমার সাথে মিথ্যে কথা বলে আসছ? তুমি মিথ্যে কথা বলতে পারলে আমার সাথে..???

অবাক লাগছে তুমিও মিথ্যে কথা বলতে পারলে?!!!

★স্যরি,ভাইয়া….

~`কিছু না বলে চুপ করে অফিসে চলে গেলাম। এদিকে দুপুর হয়ে আসছে, মায়া এখনো অফিসে এসে আমার সাথে দেখা করেনি একবারও…

ও কি অফিসে আদৌ আসছে? দেখার জন্য ও যেখানে বসে সেখানটাই আসলাম। এসে দেখি, ওর আসন শূন্য পরে আছে। কনার থেকে জানতে পারলাম,

ও অফিসে আসছিল।

কিন্তু বিশেষ দরকারে আবার চলেও গেছে….

বাসায় ফোন দিয়ে জানতে পারলাম ও বাসায় নেই….

বাসায়ও যায়নি, অফিসেওও নেই…

তার মানে ও কি আমার কথায় কষ্ট পেয়েছে? আচ্ছা, ও ঐ পার্কে যায় নি তো?

ছুটে চললাম ঐ পার্কের দিকে। পার্কে গিয়েও ওকে পেলাম। এবার ভিতরটা কেমন যেন লাগছে। গাড়িতে উঠে বাসার ড্রাইভারকে ফোন দিলাম। ড্রাইভার কোথায় আছে জিজ্ঞেস করতেই বলল, স্যার! আমি তো এখন মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি…

-‘ মার্কেটের সামনে মানে? কিসের জন্য গিয়েছিস?

★স্যার, মায়া আপুমণির নাকি কিছু কেনাকাটা দরকার আর্জেন্ট। তাই ওকে নিয়ে আসছি…

-‘ ড্রাইভারের থেকে মার্কেটের নামটা জেনে ছুটে চললাম সেখানে। ১৫মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হলাম সেখানে।

ড্রাইভারের কথা মত উপরের তলায় গিয়ে গেলাম। ও কেনাকাটা করছে আর আমি তার ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে জিনিস দেখার নাম করে ওকে ফলো করছি….

ও কেনাকাটা করে চলে গেলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, মেয়েটা কি কিনেছে? বিক্রেতা বলল, একটা শার্ট….

ক্ষাণিকটা অবাক হলাম।

ও শার্ট দিয়ে কি করবে?

রাত্রে খাওয়া-দাওয়া শেষে ও যখন মায়ের সাথে গল্প করছিল তখন ওকে ডেকে এনে বললাম,

আমার শার্ট’টা দাও। আমার শার্ট আমি’ই ধূয়ে নিতে পারব। ও দাঁড়ান এখানে আমি আসছি বলে রুমের দিকে ছুটলো।

আমি আমার রুমে চলে গেলাম।কিছুক্ষণ পর আমার কাছে এসে বলল__

এই নিন ভাইয়া….

আপনার শার্ট……

শার্টের দিকে তাকিয়ে আমি অবাক। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল এ আমার দুইদিনের পুরনো শার্ট…

মনে হচ্ছে সদ্য মার্কেট থেকে কিনে আনা শার্ট….

এত সুন্দর করে কেউ শার্ট ভাজ করতে পারে ওকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না….

মেয়েটির ডায়েরী_

ওনি এখন আগের মত আমাকে আর ইগ্নোর করেন না। আর আমার সাথে একটু একটু কথাও বলেন।

যাক! আল্লাহ এতদিনে তাহলে ওনাকে সুবুদ্ধি দান করেছেন, এটা ভেবেই আল্লাহর প্রতি মনে মনে অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলাম।

সেদিন নববর্ষ উপলক্ষ্যে ওনি ওনার সকল বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত করেন। সাইমাও এসেছিল সেদিন শ্বশুরবাড়ি থেকে। আমাদের কলেজেরও কিছু বন্ধুরা এসেছিল সেদিন। যেহেতু অনুষ্ঠানটা রাত্রে উৎযাপন করা হবে, তাই পুরো ছাদ’টা লাল-নীল বাতি দিয়ে সাজানো হয়….

রাত্রে যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু হলো। সবাই যখন বিভিন্নভাবে দিনটা সেলিব্রেট করছে, আমি তখন ওদের খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত। সাইমাও আমার সাথে কাজে হেল্প করছিল। সবাই নেচে-গেয়ে হইহুল্লুর করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই সাইমা আর আমি ওদের ক্লান্তভাব দুর করার জন্য একে একে সবার হাতে সরবতের গ্লাস তুলে দিচ্ছি।

সিয়াম ভাইয়ার কাছে চলে এসেছি একদম। তাই ওনাকে সরবত দেওয়ার জন্য যেই না গ্লাসটা এগিয়ে দিলাম ওনার দিকে, ওমনি ওনি আমার হাতটা ধরে ফেললেন। হয়তো ভুল নয়তো ইচ্ছে করে কাজটা ওনি করছে। আমার পুরো শরীর অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল। ছেড়ে দিলাম গ্লাসটা। সাথে সাথে সেটা ওনার শরীরে ছিটকে গিয়ে পরল।

ওনি আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।

মনে মনে ভাবছি-

একি করলাম?!!!

ওনার এত সুন্দর শার্ট’টা নষ্ট করে দিলাম?

মনে মনে নিজের উপর রাগ হচ্ছে।

ইস! আরেকটু সাবধানে কাজটা করলে তো এমন হতো না। সাইমার ডাক পরল। ধীর পায়ে সাইমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

ঠিক তখন’ই ওনি পিছন থেকে ডেকে বললেন-

এই মেয়ে,এই?!!!

দাঁড়াও…..

চমকে তাকালাম পিছনে…

সেদিন ওনি আমায় ওনার গায়ে থেকে শার্ট’টা খুলে দিয়েছিলেন, সেটা ধূয়ার জন্য। অবশ্য এ নিয়ে ওরা দুই ভাই-বোন ঝগড়াও করেছে প্রচুর। সাইমার মতে,

আমি ইচ্ছে করে সিয়াম ভাইয়ার শার্ট নষ্ট করিনি, তাই আমার পরিষ্কারের প্রশ্নই উঠে না। সিয়াম ভাইয়ার ভাষ্যমতে,

ইচ্ছে করেই হোক, অনিচ্ছাকৃত ভাবেই হোক,

আমার হাত থেকে সরবতটা পরে যেহেতু ওনার শার্ট নষ্ট হয়েছে তাই পরিষ্কারও আমায়’ই করতে হবে।

সেদিন ওনার শার্ট’টা পেয়ে কি যে খুশি হয়েছিলাম বলার মত না। মনে হয়ছিল রাজ্য জয় করে ফেলেছি।

রাত্রে ঘুমানোর আগে ওনার শার্ট বুকে না জড়িয়ে নিলে ঘুম’ই হতো না।

যখন ওনার কথা মনে হতো, তখন’ই শার্ট’টা নাকের কাছে নিয়ে শুকতাম। মনে হতো যেন ওনার গায়ের চিরচেনা সেই গন্ধ পাচ্ছি। শার্ট’টা ধূতে গিয়েও ধূতে পারিনি, যদি সাবানের সাথে মিশে শার্টে লেগে থাকা ওনার গায়ের গন্ধ’টা চলে যায়?!!!

যদি ওনার গায়ের গন্ধ আর না পাই..!!!

দু’দিন শার্ট শুকানোর মিথ্যে অজুহাত দিয়ে শার্ট আটকিয়ে রাখলেও সেদিন মিথ্যে বলতে পারিনি। ওনাকে বলেছিলাম-

শার্টটা ধূয়া হয়নি।

ওনি যে এতটা রেগে যাবেন বুঝতে পারিনি।

আমার মিথ্যে বলাটা ওনি মনে হয় মানতে পারেন নি, তাই আমাকে রেখে’ই অফিসে চলে গেলেন। আমি পিছন পিছন অফিসে গেলাম। কিন্তু কাজে মন টিকছেনা। না, না! আর আটকে রাখব না ওনার শার্ট…

ম্যানেজার আংকেলকে কাজের ফাইলটা বুঝিয়ে দিয়ে ড্রাইভারকে কল দিলাম। ড্রাইভার এসে আমায় নিয়ে গেলেন। পৌঁছে গেলাম কাছের মার্কেটে। সেখান থেকে অবিকল আরেকটা শার্ট কিনলাম…

Yes, perfect match!

এটাই দিব সিয়াম ভাইয়াকে… ওনি বুঝতেও পারবে না যে এটা ওনার শার্টের মত দেখতে কিন্তু নকল শার্ট…

সেদিন রাত্রে ওনি শার্ট চাইতেই দিয়ে দিলাম। ওনি যখন শার্ট নেড়েচেড়ে দেখছিলেন, তখন আমার কলিজা’টা শুকিয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল-

এই বুঝি ধরা পরে গেলাম…

কিন্তু নাহ!!!

ধরা আমি পরিনি।

প্রতিদিনের মত সেদিন রাত্রেও ঘুমানোর আগে ওনার শার্টটা বুকে জড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ।

সেদিন খুব ক্লান্ত ছিলাম, তাই দরজা খুলা রেখে কখন যে ঘুমিয়ে পরছি বুঝতে পারিনি। মাঝরাত্রে মনে হলো-

দরজাটা তো লাগানো হয়নি?!!!

তাড়াতাড়ি উঠে দরজা’টা লাগিয়ে বিছানায় উঠতেই চমকে যায়। মনে হচ্ছে-

কেউ একজন আমার রুমের সোফায় বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে লাইট’টা জ্বালালাম।

তারপর যা দেখলাম তা দেখে না চমকে পারলাম না।

সিয়াম স্যার স্যরি ভাইয়া সোফায় বসে আছে। ওনার পরনে আমার দেওয়া সেই শার্ট আর হাতে অবিকল সেই রকম আরেক’টা শার্ট…

Oh, my god!

ওনার কাছে এইরকম আরেকটা শার্ট এলো কি করে? তাহলে কি ওনার এইরকম আরো শার্ট আছে? ওনাকে কিছু না বলে তাড়াহুড়ো করে বিছানায় খুঁজতেছি ওনার সেই শার্ট’টা, যা আমি প্রতি রাত্রে বুকে নিয়ে ঘুমাই….

~’ এটাই সেই শার্ট, যা তুমি রাত্রে জাপটে ধরে ঘুমাও…কথাটা পিছন থেকে সিয়াম ভাইয়া বললেন। আমি পিছন ফিরে তাকালাম। ওনি হাসছে আর আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আর আমার বুকটা ধুরোধুরো করে কাঁপছে….

ওনি আমার দিকে এগিয়ে আসছেন, আর আমি পিছু হাটছি….

যেতে যেতে বিছানার একদম সাথে চলে যায়। ওনিও কাছে চলে আসে। আমি বিছানায় ধপাস করে বসে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলি….

~কয়দিন ধরে চলছে এসব?

অকস্মাৎ এ প্রশ্ন শুনে চোখ দুটো খুললাম। সিয়াম ভাইয়া আমার ঠিক পাশে বসেই আমায় প্রশ্নটা করছে….

বসা থেকে উঠতে যাব, তখন’ই ওনি আমার হাতটা ধরে ফেললেন। ওনার দিকে তাকালে ওনি বলেন-

আমি প্রশ্ন করছি, প্রশ্নের উত্তর দিবা….

তা না করে উঠছ কেন?!!!

না, মানে আপনার সাথে কালকে কথা হবে সকালে, এখন না… কাঁপা কন্ঠে কথাটা বলি। না, না প্রশ্নটা যেহেতু আমি এখন করছি, উত্তরটাও এখনি চাই…

আর জানো তো, আর যা বলি তাই করি।

সো, পালিয়ে লাভ নেই।

বলে ফেলো। জোর গলায় ওনি কথাটা বললেন।

-‘ ভাইয়া, প্লিজ…

দয়া করেন, এখন না।

আপনি যা বলবেন, তারই উত্তর দিব সকালে। আপনি প্লিজ এখন চলে যান। কেউ দেখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে…

কথাগুলো বলেই আমি বসা থেকে উঠে চলে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনি ওনি আমায় হাত ধরে টান মারলেন।

এমন জোরে টান মারলেন যে আমি ওনার উপর আর ওনি বিছানার উপর শুয়ে পরলেন….

দু’জনেই দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছি। কারো মুখে’ই কোনো কথা নেই….

এভাবে বেশকিছু ক্ষণ থাকার পর আমি যেই না উঠতে যাব, তখনি ওনি আমায় আরো জোরে জাপটে ধরে একটানে ওনার কাছে খুব কাছে নিয়ে গেলেন। আমি কিছু বলতে যাব, তখন’ই ওনি আমার মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বললেন। একদফা টাস্কি খেলাম এটা দেখে।

আমি চুপ করে আছি….

হঠাৎ করেই ওনি আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন-

বলো! এবার বলো!!!

কথাটা ওনি এমনভাবে ফিসফিসিয়ে বললেন যে, আমার হৃদকম্পন বেড়ে গেছে নিমিশেই….

ওনি ফিসফিসিয়ে একের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছেন,আর আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছি….

পারছিলাম না আর…

এমন ভাবে কেউ কাউকে ধরে রাখে?!!!

এমন নিবিড় ভাবে ওনি আমায় জড়িয়ে আছেন যে, আমার হৃদকম্পনটা ক্রমাগত বেড়েই চলছিল….

আর ওনি আমায় এমন ভাবে জড়িয়ে ছিলেন যে, ওনার বুকের সাথে আমার বুকটা সম্পূর্ণ লেপ্টে ছিল…

নাহ! আর মনে হয় পারছি না। এবার বোধ হয় মরেই যাব….

চোখ দুটো ধীরে ধীরে খুললাম। তাকিয়ে দেখি, আমার মুখের কাছে ওনার মুখ….

একদৃষ্টিতে তাকিয়েদু’জনেই দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছি। কারো মুখে’ই কোনো কথা নেই….

এভাবে বেশকিছু ক্ষণ থাকার পর আমি যেই না উঠতে যাব, তখনি ওনি আমায় আরো জোরে জাপটে ধরে একটানে ওনার কাছে খুব কাছে নিয়ে গেলেন। আমি কিছু বলতে যাব, তখন’ই ওনি আমার মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বললেন। একদফা টাস্কি খেলাম এটা দেখে।

আমি চুপ করে আছি….

হঠাৎ করেই ওনি আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন-

বলো! এবার বলো!!!

কথাটা ওনি এমনভাবে ফিসফিসিয়ে বললেন যে, আমার হৃদকম্পন বেড়ে গেছে নিমিশেই….

ওনি ফিসফিসিয়ে একের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছেন,আর আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছি….

পারছিলাম না আর… আছেন….

ছাড়েন বলতেই ছেড়ে দিল আমাকে….

মনে হচ্ছে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। শুয়া থেকে উঠে বসে পরলাম। বসে বসে হাফাচ্ছি।

কিছুক্ষণ পর ওনিও শুয়া থেকে উঠে আমার পাশে বসলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে আচমকা আমার হাতের উপর হাত রাখলেন।

একবার হাতের দিকে তাকিয়ে ওনার দিকে তাকালাম। ওনি তখন অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন।

মুখটা আমি’ই খুললাম__

” ঘুমাবেন না?”

ধীর কন্ঠে ওনার জবাব_

হুম, সেই জন্য’ই তো এসেছি। আমি আবারো জিজ্ঞেস করলাম__

” ঘুমাবেন না?”

ওনি আবারো আগের ভঙ্গিতে বললেন__

ঘুমাবো বলেই তো এসেছি…

~`মানে কি? ঘুমাবেন বলে এসেছেন মানে?

★ এসেছি মানে, এসেছি। আর আমি এই রুমে’ই ঘুমাবো।

~`ওহ, আচ্ছা! আপনি ঘুমান আমি যায় তাহলে….

★কোথায় যাচ্ছ? কোথাও যাবে না। এখানে আমার সাথে ঘুমোবে….(হাত ধরে সিয়াম)

~`এখানে আপনার সাথে ঘুমাবো মানে?(কাঁপা কন্ঠে মায়া)

★ মানে বুঝতে পারছ না?!!!

~`না…

★এখানে এই বিছানায় তোমার বুকে যদি শার্ট ঘুমাতে পারে, তবে আমি কেন নয়?!!! আমি কি অন্যায় করলাম যে আমাকে তোমার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা হবে? আর ঐ শার্টের মধ্যে কি এমন আছে যা আমার মধ্যে নেই….

মায়া সিয়ামের কথা শুনে বড়সড় Shocked খেল…

অধ্যায় 13 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!