সন্দেহের চাদর ও মধ্যরাতের কাঁটা

9 মিনিট পড়া 1,307 শব্দ
সন্দেহের চাদর ও মধ্যরাতের কাঁটা

বাসা থেকে বের হয়ে কিছুদূর হাঁটলাম।রিক্সাও পাচ্ছি না।হঠাৎ কোথা থেকে সাব্বির এসে হাজির।

অনেকবার ওর বাইকে উঠার জন্য বলছিলো।কিন্তু আমি মানা করে দিই। এদিকে আমার ক্লাস একটু পরে শুরু হয়ে যাবে। ঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না হলে উনি আবার রেগে যাবেন। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে পরে উনি চেক করে যান আমি ঠিকভাবে ক্লাস করছি কিনা।অযথা উনার রাগ বাড়াতে চাই না।এদিকে সাব্বির ও অনেক জেদ করছে।ভাবলাম ক্লাসে উঠার জন্য ফ্রেন্ডের থেকে লিফট নিতেই পারি।তাই এরপরে আর না করলাম না।ওর বাইকে করে ভার্সিটি পৌঁছলাম।থ্যাংক গড ঠিক টাইমের অনেক আগেই পৌঁছে গেছি।

.

.

ক্লাসের ভিতর যখন ঢুকতে যাব তখন দেখি উনি বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।মনে হল আমাকে কিছু বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছেন।

“কি ব্যাপার মেঘ এখানে দাঁড়িয়ে গেলে যে?ক্লাসে যাবে না।”(সাব্বির)

“তুমি ক্লাসে যাও আমি এখনি আসছি।”

“তাড়াতাড়ি আসো।তোমাকে ছাড়া ক্লাসে মন বসে না “(আস্তে করে)…..(সাব্বির)

“কিছু বললা তুমি?”

“কয় না,কিছু বলি নাই।বলছি তাড়াতাড়ি ক্লাসে চলে আসিও।”(সাব্বির)

আমি উনার কাছে গেলেই উনি আমার হাত ধরে টেনে একটা ফাঁকা ক্লাসে নিয়ে গেলেন।

“আরে আমাকে এখানে কেন নিয়ে আসছেন?৫ মিনিট পর আমার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।”

“আমার বউয়ের সাথে প্রেম করবো তাই এখানে নিয়ে আসছি।কোন সমস্যা।”

“কিহ!”(জোরে চিল্লিয়ে)

উনার হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে, এই আস্তে।

“এত জোরে চিল্লানোর কি হলো?”

“সরি।আপনার ক্লাস নেই এখন।”

“না এখন আমার অফ টাইম চলছে। আচ্ছা মেঘ এত দেরি করলে যে?কতক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।বাসা থেকে এখানে আসতে এত টাইম লাগে।তোমাকে আর সাব্বিরকে একসাথে আসতে দেখলাম।তুমি কি ওর বাইকে করে আসছ?”

“আসলে আজকে বাসা থেকে রওনা দিতে দেরি হয়ে গেছে।তাই…”

“আর…..”

“আর কি?”

“সাব্বিরের সাথে আসলে যে?তুমি কি ওর বাইকে করে….?”

“না, ওর বাইকে কেন উঠতে যাব। গেইটে এসে দেখি সেও আসছে। দুইজনে একসাথে এসে পৌঁছছি।তার মানে এই নয় যে ওর বাইকে করে আসছি।”(মিথ্যা বললাম কারণ আমি এখন কিছু বুঝাতে চাইলে উল্টা আমার উপর রাগ করে বসবে।)

“ও আচ্ছা….।মেঘ ওই ছেলের সাথে তোমাকে যাতে আর মিশতে না দেখি।ওকে আমার বেশি সুবিধার মনে হয় না।তোমার দিকে ওর চোখের দৃষ্টি জানি কেমন।”

“মানে!?”

“তুমি বুঝবে না।ওর সাথে মিশতে বারণ করে দিয়েছি তার মানে ওর সাথে আর মিশবে না।বুঝতে পারছ?”

“হ্যা….”(মাথা নিচু করে)

হঠাৎ ই উনি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।

“আরে করছেনটা কি?”

“কিছু না আমার বউটাকে জড়িয়ে ধরছি। কোন সমস্যা তোমার?”

“হুহ ঢং!মুখ ভেঙ্গিয়ে। আলগা পিরিত।এখন প্রিয়া ম্যাডাম নাই তাই আমার সাথে আলগা পিরিত দেখাতে আসছে।বুঝি বুঝি সব বুঝি…….”

“মেঘ, ক্লাসে যাবে না”

“এরকম করে ধরে রাখলে কেমন করে যাব।”

“ও আচ্ছা, (মুচকি হেসে)।যাও ক্লাসে যাও।”

“হুম”

“মেঘ শুনো।”

“(আবার কেন ডাকে)।জ্বী”

আমার কাছে এসে কপালে ভালবাসার স্পর্শ দিলেন।

“সকালে এটা দিতে ভুলে গেছি।এখন দিয়ে দিলাম।যাও”

.

.

অফ টাইমে ক্লাসের বাইরে এসে দেখি উনি আর প্রিয়া ম্যাডাম গল্প করছেন।আমি বুঝতে পারি না ম্যাডামের সাথে উনার এত কথা কিসের?খুব রাগ উঠে যায় মাঝেমাঝে এইসব সীন দেখলে।না পারি কাউকে এই দূঃখের কথা বলতে না পারি সইতে।

চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি।ভালো লাগছে না কিছু। আবার এদিকে সাগরের টেনশন মনের ভিতর কাজ করছে।ও আমার মোবাইল নম্বর কি করে পেল? ওকে আমার নম্বরটা কে দিলো?

“কি রে মেঘ এত কি ভাবছিস?”

“কিছু না।”

“শুন না ২দিন আগে না সাগর ভাইয়া আমাকে কল দিয়েছিলো।”

“কি!”

“হ্যা উনি আমাকে বলল,জরুরী কাজে তোকে কল দিতে হবে।তোর নতুন নম্বরটা নাকি উনি মোবাইলে সেইভ করতে ভুলে গেছেন।আর নম্বরটাও ভুলে গেছেন।তাই আমার থেকে তোর নম্বরটা চাইলো। কেমন বর রে তোর মোবাইল নম্বর সেইভ করতে মনে থাকে না, নম্বর ভুলে যায়।”

“কি!ও চাইলেই তোকে নম্বর দিতে হবে নাকি?”

“এরকম রিয়েক্ট কেন করছিস।তোর বরকেই না নম্বর দিয়েছি অপরিচিত কাউকে তো দেয় নি।”এই বলে রাগ করে ও চলে গেল।

কি করে যে বলি সাগর আমার কেউ না।আর আমার স্বামী তাসপিয়াকেও বলেনি যে আমরা দুজন সম্পর্কের দিক দিয়ে এখন স্বামী-স্ত্রী। কি করে এখন তাসপিয়াকে এই কথাটা বলি তন্ময় স্যার আমার কি হয়? অবশ্য এই কথা বলবো কি করে? উনি নিজেও তো কাউকে কিছু বলেননি।তাহলে এত বড় সত্য কথা বলার দুঃসাহস আমি কি করে দেখায়।চুপচাপ থাকা ছাড়া আমার যে আর কিছু করার নেই।

.

.

“মেঘ, are u ok?”

“yap.”

“তাহলে তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?কিছু হয়েছে?আর তাসপিয়াকে দেখলাম রেগে চলে গেল?”

“না তেমন কিছু না।ওই আরকি একটু রাগ করেছে।”

“আসো তো দেখি কেন রাগ করল?ওর রাগ কমানোর ঔষুধও আমার জানা আছে।চলো ওর রাগ ভাঙ্গিয়ে আসি।”

শেষে অনেক কষ্টে ওর রাগ ভাঙ্গাতে পারলাম।অবশ্য আমি না সাব্বিরি এই কাজটা ভালো করে করেছে।আজকে তাসপিয়া,আমি আর সাব্বির ঘুরতে যাব ক্লাস শেষে।মহারানী এই খুশিতে রাগ ভেঙ্গে ফেলেছ।যেহেতু ওর লাভারের সাথে ঘুরতে যাবে। তাই ওর মনে লাড্ডু ফুটেছে।

.

.

“হ্যালো,”

“হুম বলো মেঘ,”

“বলছিলাম যে,আজকে আমি আপনার সাথে যাচ্ছি না।তাসপিয়ার সাথে বাসায় যাব।ওর মনটা খারাপ।তাই ওকে নিয়ে আজকে ঘুরতে যাব। এরপরে বাসায় চলে আসবো। আপনি বাসায় চলে যান।”

“আচ্ছা, এই ব্যাপার।আমিও তোমার সাথে যাই।”

“হুহ “(আপনি আমার সাথে আসলে তাসপিয়ার মনে অনেক প্রশ্ন আসবে।মনে মনে অনেক কিছু ভাববে।আপনি যদি সবাইকে বলতেন আমি আপনার স্ত্রী তাহলে আজকে আমাদের সাথে ঘুরতে পারতেন।শুধু শুধু আপনাকে ঝামেলায় ফেলতে চায় না)।না আপনার আসা লাগবে না।আপনি এখন অনেক ক্লান্ত, বাসায় চলে যান। ”

“আচ্ছা।সন্ধ্যার আগে বাসায় চলে আসবে।দেরি যাতে না হয়।নাহলে আমি খুব টেনশনে থাকবো।”

“জ্বী”

.

.

“জানিস মেঘ একটু আগে দেখে আসলাম তন্ময় স্যারের গাড়িতে করে স্যার আর প্রিয়া ম্যাডাম যাচ্ছে। তোকে বললাম না উনাদের মধ্যে রিলেশন চলছে।এবার বিশ্বাস করলিতো আমার কথা।নাহলে স্যারের গাড়িতে করে ম্যাডাম কেন যাবেন।”

“কিহ!”

“হুম,দুইজনের জুড়ি ভালো জমবে রে…।”

“আরে,মেঘ কি ব্যাপার কি ভাবছ।চলো দেরি হয়ে যাচ্ছে। নাহলে বাসায় পৌঁছতে দেরি হয়ে যাবে তোমার।”(সাব্বির)

“হ্যা চলো,,”

রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে ৩জনে পার্কে ঘুরতে গেলাম।কেন জানি মনে হচ্ছে সাব্বির আমার দিকে বারবার তাকাচ্ছে।ওর তাকানোর ধরণটা আমাকে খুব অস্বস্তিতে ফেলছে।আর আমার পাগলি বান্ধবী তাসপিয়া একমনে ওর জীবনের গল্পগুলো শুনিয়ে সাব্বিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।বেচারী বান্ধবী আমার কত কি না করছে এই ছেলেটার মন পাওয়ার জন্য।কিন্তু দেখো এই ছেলেটার কোন পাত্তাই নেই।শুধু আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। অনেক ঘুরাঘুরির পর তাসপিয়া আর আমি বাসার দিকে রওনা দিলাম।বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

.

.

বাসায় এসে দেখি উনি অনেক রেগে আগুন হয়ে আছেন।সারছে আজকেও মনে হয় উনাকে রাগিয়ে দিলাম।

“কি ব্যাপার মেঘ, এত লেট কেন?তোমাকে বলেছিলাম না সন্ধ্যার আগে বাসায় চলে আসতে।”

“আসলে,,রাস্তায় জ্যাম ছিলো, তাই,,”

উনার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি রাগ এখনো কমে নি।

“মেঘ তুমি যে আমার বউ সেটা কি বারবার ভুলে যাও। বাড়ির বউ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরে থাকবে সেটা কি ভালো দেখায়।আজকাল রাস্তাঘাটে কত কি ঘটে। মেয়েমানুষ হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় ঘুরাফেরা করলে কত কি বিপদ হতে পারে সে খবর তোমার জানা আছে।এত বড় মেয়ে হয়ে গেছ এগুলো কি এখনো বুঝ না।”

“সরি আসলে বুঝতে পারি নি এত দেরি হয়ে যাবে। আর কখনো এরকম দেরি করে বাসায় আসবো না।”

“হুম মনে থাকে যেন কথাটা।”

“জ্বী মনে থাকবে।”

.

.

অনেক রাত করে আমার মোবাইলে unknown নাম্বার থেকে কল আসলো। এত রাতে আবার কে কল দিলো

“হ্যালো,”

“হ্যালো মেঘ”

“আপনি!এত রাতে অন্য ঘরের বউকে কল দিতে আপনার লজ্জা লাগে না।”

“না, করে না। কারণ আমি তোমাকে ভালবাসি।”

“আমার সাথে এত অন্যায় করার পরও এইসব কথা বলেন।আপনার লজ্জা থাকা উচিত এই বলে কল কেটে দিলাম।”

.

.

ঘুম আসছে না কিছুতে। বারান্দায় চলে আসলাম।কি হচ্ছে এইসব আমার সাথে।এতদিন পর সাগর কেন আমাকে কল দিয়ে বিরক্ত করছে।কি চায় ও আমার কাছে?

হঠাৎ মনে হল কেউ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে।

আমি ভয়ে যখনি চিৎকার দিতে যাব তখনি আমার মুখ চেপে কেউ ধরল।

“এই আমি আমি।

……(অবাক হয়ে)

“উফ এত ভয় পাও কেন?”

“আপনি!এত রাতে এখানে কি?”

“একি প্রশ্নতো আমারও।তুমি এখানে এত রাতে কি করছ?”

“ঘুম আসছে না তাই।আপনি ঘুমাতে যান।”এই বলে একদৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি।

উনি আমাকে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমার ঘাড়ে চুমো দিলেন।এক অজানা শিহরণে কেঁপে উঠলাম।

“মেঘ তুমি কি কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত।এমন কোন বিষয় কি আমার থেকে লুকাচ্ছ যা তোমাকে মনে মনে কষ্ট দিচ্ছে।দেখো যদি এরকম কিছু হয় আমাকে বলতে পারো।আমি তোমাকে যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করবো।”

“না, তেমন কিছু না।”

“জানতাম আমাকে বলবে না।”

“আচ্ছা চলো আর রাত জাগতে হবে না,নাহলে শরীর খারাপ করবে।”

“আমার ঘুম আসবে না।”

“আচ্ছা আমিও দেখি কেমন করে তোমার ঘুম আসে না “এই বলে আমাকে কোলে তুলে নিলেন।আমাকে উনার বুকে নিয়ে চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন অনেক্ষণ ধরে।

এরপরে এমনিতেই চোখে ঘুম চলে আসলো।

(বি.দ্র=১৮ পার্ট আজকে দিয়ে দিলাম।আজকে ফ্যামিলির সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু সকাল থেকেই বাইরে বৃষ্টি পড়ার কারণে যেতে পারেনি।তাই কালকে যাব।সেজন্য কালকে নেক্সট পার্ট দিতে পারবো না।রবিবারে নেক্সট পার্ট দিবো।)

অধ্যায় 18 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!