কৃষ্ণকলি
গায়ের কালো রঙের হীনম্মন্যতায় ভালোবাসার বাঁধন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল মায়া। দীর্ঘ ছয় বছর পর নিয়তির অদ্ভুত খেলায় সেই বাঁধনের পরিবারেই আশ্রয় মেলে তার। পরিচয় গোপন রেখে স্নেহের বাঁধনে জড়িয়ে থাকা মায়া কি পারবে তার হৃদয়ের কৃষ্ণকলিকে প্রকাশ করতে, নাকি অপ্রকাশিত প্রেমের আড়ালেই হারিয়ে যাবে আজীবন?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ১৩ পর্ব)। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি কোনো চার্জ বা ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনে বিনামূল্যে পড়া যাচ্ছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
রূপের ঊর্ধ্বে মনের অনুরাগের আখ্যান
শারীরিক বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক কুসংস্কার পেরিয়ে আত্মিক ভালোবাসার গভীর সৌন্দর্যের জয়গান।
হৃদয়ছোঁয়া পারিবারিক আবহ ও মানবিকতা
রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও স্নেহ, মমতা ও বিশ্বাসের এক অনন্য যৌথ পারিবারিক মেলবন্ধন।
পরিচয় লুকোচুরির তীব্র রোমাঞ্চ
একই ছাদের নিচে থেকেও নিজের পরিচয় গোপন রাখা এবং অতীতের আবেগঘন স্মৃতির নাটকীয় সংঘাত।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5মায়া (কৃষ্ণকলি / মিষ্টি)
নায়িকা (Protagonist)গভীর আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ও কোমল হৃদয়ের তরুণী। গায়ের কালো রঙের কারণে হীনম্মন্যতায় ভুগে নিজের দীর্ঘদিনের ভালোবাসাকে গোপন রাখতে বাধ্য হয়।
বাঁধন
নায়ক (Male Lead)সুদর্শন ও আবেগপ্রবণ যুবক। অচেনা প্রেমিকা মায়ার হঠাৎ অন্তর্ধানের ক্ষতে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অভিমান ও ভালোবাসা বয়ে বেড়িয়েছে।
শফিক সাহেব
বাঁধনের বাবা ও মায়ার প্রবাসী বন্ধুদীর্ঘ আঠারো বছর প্রবাসে থাকা মুক্তমনা ব্যক্তিত্ব। দূর পরবাস থেকেও যিনি মায়ার ভার্চুয়াল অভিভাবক ও পরম শুভাকাঙ্ক্ষী।
ডাঃ নুসরাত
মায়ার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীস্পষ্টভাষী, নির্ভীক ও বন্ধুবৎসল তরুণ চিকিৎসক। মায়ার অধিকার ও সুখের জন্য যেকোনো ঝুঁকি নিতে দ্বিধাহীন।
শাহনাজ বেগম
বাঁধনের মাস্নেহময়ী ও মমতাময়ী গৃহিণী। অচেনা মায়াকে প্রথম দেখাতেই কন্যার আসনে বসিয়ে মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
13 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: মায়ার বাঁধন ও কৃষ্ণকলি
দীর্ঘ বিরহের পর অচেনা পরিচয়ে একই ছাদের নিচে আসা মায়া ও বাঁধনের ভুল বোঝাবুঝি, আত্মত্যাগ এবং পুনর্মিলনের পূর্ণাঙ্গ আখ্যান।
ছয় বছর পর অচেনা দেখা
দীর্ঘ ছয় বছর পর হঠাৎ রাজপথে বাঁধনের মুখোমুখি হয় মায়া। কিন্তু নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে সে নিজেকে রবিঠাকুরের কৃষ্ণকলি হিসেবে পরিচয় দেয়। অতীতের নির্মম স্মৃতি আর গায়ের রঙের হীনম্মন্যতা কি তাদের মাঝে চিরদিনের ব্যবধান হয়েই থাকবে?
সন্ধ্যা নামার অচেনা আশ্রয়
চাকরি পেলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে সন্ধ্যার নির্জন বাসস্টপে একা বসে থাকে মায়া। ঠিক তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে এক স্নেহময়ী মায়ের উপস্থিতি তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়। সেই অচেনা আশ্রয়ই কি তাকে আবারও বাঁধনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে?
মিষ্টি নাম ও রাতের সুর
নতুন পরিবারে মায়ার নাম হয় মিষ্টি। ভালোবাসার পরম যত্নে বাঁধনের নিজ হাতে রান্না করা খাবার এবং গভীর রাতের হৃদয়স্পর্শী কুরআন তিলাওয়াত সবার মন জয় করে নেয়। কিন্তু একই ছাদের নিচে থেকেও মায়ার মনের গোপন হাহাকার কি কেউ শুনতে পাবে?
গাড়ির জানালায় বাবার অতীত
কলেজ থেকে ফেরার পথে বাঁধনের পাশে বসে তার জীবনের গোপন ক্ষত জানতে পারে মায়া। দুরন্ত গিটারিস্ট বাবার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পেছনের করুণ গল্প শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় সে। এই বেদনার সাথে কি জড়িয়ে আছে মায়ার নিজেরও কোনো অতীত?
ছয় বছর পর নীল আলোর ডাক
মাতৃতুল্য বাড়িওয়ালির সম্মানে নিজের প্রিয় রেডিওর জগৎ চিরতরে ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় মায়া। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর পর পুরনো আইডিতে লগইন করতেই ভেসে ওঠে সেই বহু পুরোনো প্রবাসী বন্ধু শফিকের বার্তা। ওপার থেকে আসা অপ্রত্যাশিত প্রশ্নটি কী ছিল?
মধ্যরাতের উন্মাদ অভিযান
বন্ধু শফিকের ফোনে নিজের নীল কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে মায়া। তখনই বান্ধবী নুসরাতের কাছে ফাঁস হয়ে যায় মায়ার গোপন জীবনের চরম সত্য। সত্য জেনে ক্ষোভে ফেটে পড়া নুসরাত কি মাঝরাতে সবকিছু ওলটপালট করে দেবে?
অচেনা কণ্ঠে মায়ার বাঁধন
মাঝরাতে আতঙ্ক নিয়ে বাঁধনের বাড়িতে উপস্থিত হয় মায়া ও নুসরাত। খাবার টেবিলে নুসরাতের করুণ অতীতের কথা শুনে তাকেও আপন করে নেয় বাঁধনের পরিবার। কিন্তু পরদিন জিনিসপত্র আনতে গিয়ে গেটের সামনে নুসরাতের মুখ ফসকে বের হওয়া ডাকটি কি বাঁধনকে চমকে দিল?
দীঘির পাড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত
পহেলা বৈশাখে বাঁধনের পৈতৃক জমিদার বাড়িতে হাজির হয় সবাই। লোডশেডিংয়ের স্নিগ্ধ রাতে দীঘির পাড়ে বসে সবার অনুরোধে গান ধরে মায়া। সুদূরের পাড়ে ফিরে যাওয়ার সেই বেদনামাখা গান কি বাঁধনের অবচেতন মনকে স্পর্শ করতে পেরেছিল?
পলাশ তলায় তিক্ত আক্রোশ
দীঘির পাড়ে বাঁধনকে একা পেয়ে তার হারানো মায়ার কথা জানতে চায় নুসরাত। কিন্তু মায়াকে নিয়ে বাঁধনের বুকফাটা ঘৃণা ও তিক্ত মন্তব্য শুনে নিজের রাগ ধরে রাখতে পারে না নুসরাত। বাঁধনের এই চরম আক্রোশের আড়ালে কি শুধুই অভিমান লুকিয়ে?
পর্দার আড়ালের ভাঙা স্বপ্ন
বাঁধনের কনেরূপে নুসরাতকে পছন্দ করার ঘোষণা শুনে পর্দার আড়ালে স্তব্ধ হয়ে যায় মায়া। কালো মেয়ে হওয়ার অপবাদ আর আত্মত্যাগের আগুনে দগ্ধ হয়ে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। কিন্তু দেওয়ালে টানানো নতুন ছবিটি দেখে মায়ার পায়ের নিচের মাটি কেন সরে গেল?
বিমানবন্দরে সত্যের বিস্ফোরণ
বিয়ে ভাঙার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে বন্ধু শফিককে রিসিভ করতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে নুসরাত। পুরো পরিবারের সামনে আঠারো বছর পর ফিরে আসা শফিক যখন মায়া ও বাঁধনের সত্য প্রকাশ করে, তখন বাঁধনের মায়ের শূন্য কক্ষে কেবল হাহাকারই কি অবশিষ্ট থাকে?
ঘামে ভেজা ওড়না ও ভীরু স্পর্শ
ভাইয়ের বাড়িতে পুরো শ্বশুরবাড়ির অপ্রত্যাশিত আগমনে হতভম্ব হয়ে পড়ে মায়া। ভেজা শরীরে তোয়ালে ফিরিয়ে দিয়ে মায়ার ওড়না দিয়ে মুখ মোছার আবদার করে বসে দুষ্টু বাঁধন। পায়ের পাতা উঁচু করে নাগাল পেতে গিয়ে মায়া কার বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল?
সবুজ বেনারসি ও মায়াবী হাসি
বাসর রাতে ক্লান্তির ভান করে মায়াকে কাঁদিয়ে ছেড়েছিল বাঁধন। কিন্তু একটু পরেই সবুজ বেনারসি, রেশমি চুড়ি আর একজোড়া নূপুরের সাথে অদ্ভুত সেই চেয়ারটি সামনে এনে বাঁধন এমন কী বলল, যাতে লজ্জায় মায়ার চোখে নেমে এলো স্বস্তির হাসি?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।