সিজন 1 অধ্যায় 23 ট্র্যাজেডি সাসপেন্স #কষ্ট/যন্ত্রণা #অপ্রত্যাশিত সংবাদ রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান সূর্য

অশুভ সংবাদের তীব্র আঘাত

6 মিনিট পড়া 944 শব্দ
অশুভ সংবাদের তীব্র আঘাত

আবিরের কথা জিজ্ঞেস করতে আমি সূর্যকে ফোন দেই। প্রথম বারের মত ফোন কেটে গেল। দ্বিতীয়বার ফোন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এক পুরুষের কন্ঠে কানে ভেসে আসে।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করি সে সূর্য কিনা? সে প্রতিউত্তরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেয়। আমি আমার পরিচয় বলে আবিরের খবর জানতে চাই। অতঃ সূর্য যা বললো তাতে আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। সূর্য বলে।

.

— স্যার এক্সিডেন্ট করেছেন। তিনি এখন হসপিটালে এডমিট।

.

— কিভাবে কি?? কবে হলো এইসব?? ও এখন কোথায়?? I want to know everything!

.

— স্যার সেইদিন একটা কাজে ঢাকায় চলে আসে। অতঃপর ঢাকায় এসে জানতে পারেন যে তাকে একটা Song composing এর জন্য নিউইয়র্ক যেতে হবে। তাই তিনি সেইদিনই নিউইয়র্কের জন্য রওনা দেন।

নিউইয়র্ক পৌঁছে তিনি নিজে ড্রাইভ করেই যাচ্ছিলেন এমন সময় তার গাড়ির ব্রেক ফেল হয়ে যায় আর তিনি অন্য এক গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করেন। আর তার গাড়ি উল্টিয়ে যায়।

কাঁচ ঢুকে যায় বিভিন্ন জায়গায়। দুই হাত পুরো বাজে ভাবে কেটে যায়। গলায় পর্যন্ত কাঁচ ঢুকে যায়।

ওইখানের লোকাল পুলিশ তাকে হসপিটালে এডমিট করান আর তার মোবাইল থেকে আমার নাম্বার বের করে আমাকে ইনফর্ম করে। আমি তখন বাংলাদেশে ছিলাম। এই নিউজ শুনে আমি দ্রুত ছুটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে।

এইদিকে তাকে আইসিউতে নেওয়া হয়। অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষ হতে হতে আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছাই। অতঃপর ডাক্তার এসে বলে তিনি সুস্থ কিন্তু গলায় কাঁচ ঢুকার ফলে তিনি তার আওয়াজ হারিয়ে ফেলেছেন। সে আর কখনো কথা বলতে পারবে না। এতটুকু বলেই সূর্য কেঁদে দেয়।

.

আমিও পাথরের ন্যায় বসে থাকি। চোখ বেয়ে নেমে আসে অজস্র নোনা জল। যে মানুষটা কয়েকদিন আগেও আমার সামনে সুস্থ সবল ছিল তার আজ এই করুণ অবস্থা। আমি পরের আবিরের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে সূর্য জানায় যে এখন ঠিক আছে কিন্তু তাকে এখন অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আমি আরও কিছু কথা বলে রেখে দেই। সোশাল মিডিয়াতে কিছু বলা হয় নি। বললে হয়তো এতক্ষণে তোলপাড় লেগে যেত।

তারপর রিয়ানকে ফোন দিয়ে এইসব জানাই। রিয়ান জানায় যে সে এইসব আগে থেকেই জানে। এইবার আমি বড়সড় একটা শোকড খাই। আমি বিষ্ময়কর কন্ঠে বলি।

.

— আপনি এইসব সম্পর্কে জানেন?

.

— হ্যাঁ জানি।

.

— তাহলে আপনি আমায় কেন এইসব বলেন নি?

.

— পরিস্থিতি একটু ঠিক হলেই তোমায় জানাতাম আমি। তুমি এমনেই ইমোশনাল। এইসব তুমি সহ্য করতে পারতে না।

.

— তাও একবার আপনার আমাকে জানানো উচিৎ ছিল।

.

এই নিয়ে অনেক মেলোড্রামা হয়। রিয়ান বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে রিয়ানাকে কনভেনেস্ করার ট্রাই করে। কিন্তু রিয়ানা রাগ করে ফোন রেখে দেয়। আর বালিশে মুখ লুকিয়ে নিজের অশ্রু বিসর্জন দিতে থাকে। এক সময় সেইভাবেই ঘুমিয়ে পড়ে সে।

.

ঘুমের মধ্যেই সে অনুভব করতে থাকি যে কেউ আমায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে। আমি এইবার ভয়ে চিৎকার দিতে নেই। কিন্তু তার আগেই একটি হাত এসে আমার মুখ চেপে ধরে। আমি এইবার মোচড়ামুচড়ি শুরু করে দেই। তখন কানে একটি কন্ঠ ভেসে আসে।

.

— হুসস, রিয়ুপাখি। এইটা আমি রিয়ান।

.

রিয়ানের গলা শুনে আমি শান্ত হয়ে যাই। রিয়ান এইবার আমায় ছেড়ে দিয়ে উঠে বসে। তারপর রুমের লাইট জ্বালিয়ে দেয়। আমি ছোট ছোট চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর বলি,

.

— আপনি এত রাতে এইখানে কি করছেন?? ঘরেই বা ঢুকলেন কি করে??

.

— ভুলে যেও না এই বাসার ডুপ্লিকেট চাবি আমার কাছে আছে। আর তা তুমি এই আমায় দিয়েছিল, আমার এইখানে আশা যাওয়াতে কোন প্রবলেম না হয় তাই।

.

— তাই বলে এই মধ্যরাতে যে কাউরো বাসায় ঢুকে যাবেন?? এইটা কোথাকার মেনারস্??

.

রিয়ান আমার পাশে এসে বসে আমার গালে হাত রেখে বলে।

— অন্য কাউরো বাসায় তো ঢুকি নি!! নিজের বউয়ের বাসায় ঢুকেছি। যে এখন আমার থেকে রাগ। ভীষণ রাগ!! তার রাগ ভাঙাতে এসেছি আমি।

.

আমি এক ঝাটকায় তার হাত সরিয়ে বলি।

— ছুঁবেন না আমায়!! আপনি কেন আমায় আগে আবিরের কথা বলেন নি!! কেন লুকিয়ে গেলেন!! আমি কি আপনার কেউ না!!

.

রিয়ান এইবার আমায় তার সাথে চেপে ধরলেন,

— আমি বুঝি নি তুমি এত কষ্ট পাবে। সরি আগে বলি বলে। ভেবেছিলাম পরিস্থিতি কিছু ঠিক হলে বলবো। আমি আবিরের জন্য বেস্ট ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করেছি সেখানে। ওর কোন প্রবলেম হবে না। হি উইল বি ফাইন!!

.

আমি এইবার রিয়ানকে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠি। যত যাই হোক আবির আমার বন্ধু ছিল। ওর এই অবস্থাটা জেনে নিজেরই অনেক বেশি খারাপ লাগছে৷

আমি কান্না মিশ্রিত কণ্ঠেই বলি।

.

— প্লিজ আর কখনো কোন কথা লুকাবেন না। কষ্ট হয় আমার।

.

— ওকে আর কিছু লুকাবো না সরি!! এখন কান্না বন্ধ করো। যা হয়ে গিয়েছে তা আমরা বদলাতে পারবো না। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আল্লাহ এর কাছে দোয়া করো যেন ও ঠিক হয়ে যায়।

.

আমি ছোট করে “হুম” বলি। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না আর আমার। বেশ বাজে লাগছে। কেন হলো এমন? আমি চুপচাপ রিয়ানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ি।

রিয়ান আমায় শান্ত করার জন্য গুনগুন করতে শুরু করে।

.

.

??

.

Sun zaalima mere

Saanu koi dar na

Ki samjhega zamaana

Tu vi si kamli

Main vi sa kamla

Ishqe da rog sayana

Ishqe da rog sayana..

Sun mere humsafar

Kya tujhe itni si bhi khabar

Sun mere humsafar

Kya tujhe itni si bhi khabar

Ki teri saansein chalti jidhar

Rahunga bas wahin umrr bhar

Rahunga bas wahin umrr bhar, haaye

[পছন্দের একটি গান❤]

.

.

??

.

রিয়ান খেয়াল করে রিয়ানা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেছে। তা দেখে কিছুটা স্বস্থির নিশ্বাস নেয় সে।

কিন্তু রিয়ানের মনে এইবার ভয় ঢুকতে শুরু করে। রিয়ুপাখি যে এতটুকুতেই এত রিয়েক্ট করছে। যদি সে সত্যিটা জানে তাহলে কি আদো তাকে ক্ষমা করতে পারবে??

হয়তো না!! না আমার সত্য কখনো রিয়ানার সামনে আসতে পারবে না। রিয়ানাকে এই সত্য থেকে আড়াল রাখতেই হবে এতে যত যাই করতে হোক না কেন আমার।

রিয়ুপাখি কখনো এইসব জানবে না। আমি তাঁকে এইসব জানতে দিব না। কখনো না। (মনে মনে)

.

.

??

.

সকালে নিজের উপর তরল কিছু অনুভব করতেই জেগে উঠে বসে আমি। তারপর চারপাশে তাকিয়ে খালি রক্ত আর রক্ত। নিজের শরীরে থাকা জামাও রক্তে পরিপূর্ণ।

এইবার আমি “রক্ত, রক্ত” বলে চেঁচিয়ে উঠি।

অধ্যায় 23 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!