বৃষ্টির রাত ও জামাই আদর

লেখক: আভন্তিকা আনহা 5 মিনিট পড়া 730 শব্দ
সিজন ১ • পর্ব ৩ বৃষ্টির রাত ও জামাই আদর অ্যাংগ্রি হাজব্যান্ড

রুমে এসে জিহাদ আনহা কে নামিয়ে দিল

.

আনহা বাইরে যেতে ধরলো জিহাদ সামনে পথ আটকিয়ে

.

আমি : ইইই আমি ভিজবো সরুন

.

জিহাদ : নাহ জ্বর আসবে

আমি : না আমি যাবো

জিহাদ : ওই মেয়ে চুপ

আমি : আমি যাবো মানে যাবোই

.

জোড় করে যেতে ধরলাম রুমের ফ্লোর ও কিছুটা ভিজে পিছলা হয়ে গিয়েছিল পা পিছলে গেল কিন্তু কে যে ন ধরলো এমা জিহাদ আমাকে ধরে ও সহ পড়ে গেছে।

ও নিচে পড়ে আছে ওর ওপর আমি কি রোমান্টিক সিন কিন্তু অল্পতেই ভেঙ্গে দিলো।

জিহাদ: ঔ উঠো

আমি: হিহি

জিহাদ: হাসো কেন

আমি: এমনি

জিহাদ: ফাজিল মাইয়া

আমি: জানি

জিহাদ: জ্বর আসছিলো এখন আর ভিজতে হবে না এখনি তো পড়ে গেলে

আমি: নাহহ বৃষ্টি যতক্ষন হবে ততক্ষন ভিজবো

জিহাদ: যেতে দিব না

আমি: হু। আপনি খুব খারাপ

জিহাদ: তো

আমি: সমস্যা নেই ঠিক করে নিব।

তারপর রাতে বৃষ্টিতে ভিজার ইফেক্ট শুরু হয়ে গেল রাতের বেলা দুজনেরই হাচি শুরু হয়ে গেল পাল্লা দিচ্ছি কে কতো জোরে পারে। খাবার টেবিলে বসে

আমি: হাচ্চি

জিহাদ: হাচ্চি

মা বাবা সবাই দেখে হাসছে।

জিহাদ: হাসছো কেন

মামনি: তোদের কান্ড দেখে

জিহাদ: হাসার কি আছে ঠান্ডা তো লাগতেই পারে

মামনি: বউ এর সাথে ভিজলে ঠান্ডা তো লাগবেই

জিহাদ: আমি ইচ্ছা করে ভিজি নি

মামনি: ভিজেছিস তো

জিহাদ: দুররর তোমরা খাও আমি গেলাম

মানমি: না খেয়ে যা

চলে গেল না খেয়ে আমিও খেলাম না উঠে গেলাম। হাচ্চি

রুমে গিয়ে

আমি: না খেয়ে চলে আসলেন কেন

জিহাদ: তোমার কি তুমি খাও

আমি: আমি আপনার বউ

জিহাদ: মানি না আমি

আমি: যান খেয়ে নিন

জিহাদ: চুপ বেশি অধিকার দেখাবে না

আমি: দেখাব। কি করবেন

জিহাদ: যাও তো এখান থেকে ঘুমাবো

আমি: আমি ও না খেয়ে শুয়ে পড়লাম

জিহাদ: হাচ্চি

আমি: হাচ্চি

রাতে আমি শুয়ে শুয়ে কাদছি। আমার জন্য ওর ঠান্ডা লাগল। আর আমার জন্যই না খেয়ে ঘুমিয়ে গেল।

১ টার সময় ঘুমিয়ে গেছে সবাই কারো কান্নার আওয়াজে জিহাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখে আনহা ফুপিয়ে কান্না করছে। খারাপ লাগল জিহাদের ভাবছে কেমন জানি মায়াবি এই মেয়ে টা।

জিহাদ: আনহা

আনহা: হু বলেন

জিহাদ: না খেয়ে ঘুমিয়েছো কেন

আনহা: আপনি না খেলে আমিও খাবো না।

জিহাদ: আমার সাথে তোমার তাল মিলিয়ে চলতে হবে

আনহা: হুমম আমি আপনার বউ তাই

জিহাদ: ঔষুধ খেয়েছো

আমি: না। আপনিও তো খান নি

জিহাদ: ঐ চুপ আমারর টা আমি বুঝব।

আমি: হু

জিহাদ: যাও খেয়ে নাও।

আমি: হুমম। আপনিও চলেন

জিহাদ: তুমি যাও

আমি: তাহলে আমিও খাবো না

জিহাদ: নিরুপায় হয়ে জিহাদ কে যেতেই হলো। দুজনে একসাথে ডিনার করে ঔষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। আস্তে আস্তে জিহাদ ও মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে। জিহাদ মনে মনে ভাবে নাহহ মায়ায় জড়ানো যাবে না মেয়েরা সব এক ।

.

পরের দিন…….

মামনি : জিহাদ

জিহাদ : হুম

মামনি : আনহা কে নিয়ে ওর বাবার বাড়ি থেকে ঘুরে আয়

জিহাদ : কিন্তু

মামনি : চুপচাপ যা

জিহাদ : আচ্ছা

.

এদিকে আমি মামনি কে ইশারায় ধন্যবাদ জানালাম

.

রওয়ানা হলাম ।

.

বাড়িতে ঢুকতেই জামাই আদর পাইলো জিহাদ ।

দুররর বুঝি না বিয়ের পর বাড়ির মেয়ের কি দাম থাকে না নাকি । কি আর করার জ্বলতেছি আমি । এদিকে কাজিন গুলো মজা নিচ্ছে ।

.

ও কিছু বলতেও পারছে না । ওর এই অবস্থা দেখে আমি না হেসে পারলাম না ।

.

রাতে……

জিহাদ : তোমার বোন রা এমন কেন দুররর ভাল্লাগে না

আমি : হিহি ভালো হইছে

জিহাদ : আমি বাড়ি যাবো

আমি : ও তাই ওয়েট আম্মু কে বলি যে উনার জামাই বাড়ি যাবে

জিহাদ : আম্মু কে ডাকো কেন উনি মন খারাপ করবে না

আমি : তুমি তো বাড়ি যাবা দাড়াও বলি আম্মুউ

যেই চিৎকার দিতে যাবো মুখে হাত দিলো আমার জিহাদ

জিহাদ : ওই মেয়ে চুপ

আমি : উউউউউ

জিহাদ হাত সরিয়ে : চুপ

আমি : ওকে বাবু

জিহাদ : কিইইইইইই

আমি : কি গো জানটুস

জিহাদ : এই‌ মেয়ে এসব কি বলো

আমি : নিজের বরকেই বলি

জিহাদ : হুররর

.

বলে চলে আসলো বাইরে

.

বাইরে….

প্রেয়সি ধরলো ওকে : দুলাভাই

জিহাদ : কি

প্রেয়সি : চলো ফুচকা খেতে যাই

জিহাদ : এখন ?

প্রেয়সি : হুমমম

জিহাদ : আচ্ছা

( প্রেয়সি আমার ছোট বোন ক্লাশ ৪ এ পড়ে আর জিহাদ বাচ্চা দের ভালোবাসে তাই রাজি হলো )

প্রেয়সি : আপু কে রেডি হতে বলি

জিহাদ : ওকে

.

ফুচকার দোকানে…..

সবাই নিজের নিজের ফুচকা খাচ্ছি

আমি : প্রেয়সি চল দেখি কে আগে খায়

প্রেয়সি : ওকে আমিই জিতবো

আমি : দেখা যাবে

প্রেয়সি আর আমি ফুচকা শেষ করলাম ।

আমার শেষ আমি জিতছি

প্রেয়সি : দুর

আমি : হিহি

.

জিহাদ ভাবছে মনে হচ্ছে দুটোই পিচ্চি

অধ্যায় 3 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!