বৃষ্টিভেজা রাতের মায়া

লেখক: আভন্তিকা আনহা 7 মিনিট পড়া 1,026 শব্দ
বৃষ্টিভেজা রাতের মায়া

রাতে…….

আমি শাম্মি কে ফোন দিলাম ।

শাম্মি : বল

আমি : জাহিদ সেই গান করে তাই না । আমার সেই ভাল্লাগছে

শাম্মি : হুম কিন্তু

আমি : কি?

শাম্মি : কিছুনা ( আসলে শাম্মি জাহিদ কে পছন্দ করে )

আমি : কিছু লুকাচ্ছিস ?

শাম্মি : না কি লুকাবো

আমি : জাহিদ কে পছন্দ করিস তাই না ( আসলে আমি আগেই বুঝছি )

শাম্মি : না এমন কিছু না

আমি : আমার কাছে লুকাবা সোনা আমি তোকে সবচেয়ে বেশি চিনি ।

শাম্মি : হুম পছন্দ করি

আমি : আমি তো জানি ( হাসে হাসে )

শাম্মি : কেমনে

আমি : আমি তোকে বুঝি বুঝলি

শাম্মি : হুম দোস্ত এখন পটায় দে না

আমি : ভরসা রাখ

শাম্মি : ওকে

আমি : বেব্বি

শাম্মি : বল

আমি : আইসক্রিম খামু খাওয়া না

শাম্মি : ওকে

আমি : দুলাভাইরে ডাকতাছি দ্বারা

.

আমি ফোন টা রেখে জাহিদ রে ফোন দিলাম

আমি : ওই জাহিদ্দা

জাহিদ : কি রে কিটক্যাট ( আমি বেশি কিটক্যাট খাই । তাই অনেকে আমাকে কিটক্যাট বলে ডাকে )

আমি : চল আইসক্রিম খামু

জাহিদ : খাওয়াবি ?

আমি : শাম্মি খাওয়াবে

জাহিদ : শাম্মি আসতেছে ?

আমি : হ

জাহিদ : আইতাছি

.

.

দোকানে……

আমি : জাহিদ কি শুনতাছি এইসব

জাহিদ : কিই ?

আমি : তুই শাম্মি কে নাকি ভালোবাসিস ( একটু সিরিয়াস ভাবে )

জাহিদ : কি বলিস ( কিছুটা ভয় পেয়ে কারণ ও সত্যিই শাম্মি কে পছন্দ করে

শাম্মি : ওই আনহু থাম

আমি : না আমাকে বলতে দে

জাহিদ : না মানে

আমি : না মানে কি বাসলে বল

জাহিদ : ম-ম-মানে আ-আ-আ-আসলে হুম

আমি : আমি তো জানি হিহি

জাহিদ : মজা করছিলি ?

আমি : হ কজ আমি দেখছি তুই আড় চোখে শাম্মির দিকে তাকায় থাকিস আর শাম্মিও তোর দিকে তাকায় থাকে। তাই আজ অন্ধকারে ঢিল মারলাম আর লাগে গেলো । এখন ট্রিট দে তোরা

.

শাম্মি আর জাহিদ একসাথে আমার মাথায় মারলো আর বললো হারামিইইইইই ।

.

আমি : মারিস কেন ?

শাম্মি : এমন করলি কেন ?

আমি : এটা না করলে কোনোদিন কেউ কাউকে বলতে পারতি ?

জাহিদ : ও ঠিকই করছে

শাম্মি : হুম

.

ওরা দুজন একে অপরের দিকে তাকায় আছে ।

আমি : হ্যালো লাভ বার্ডস আমিও আছি । হুর আমি পালাই তোরা থাক ।

.

তারা : হুম ( না বুঝেই )

আমি : হায় কপাল আর থাকুম ই না

.

আমি দোকানদার আঙ্কেল এর কাছ থেইকা দুই বক্স আইসক্রিম আর‌ একটা কোন আইসক্রিম নিলাম আর বললাম বিল ওরা পে করবে ।

.

বলেই পালাইছি হিহি । পরে আমার কপালে মার আছে । তার আগে আইসক্রিম ।

.

আলসক্রিম খেতে খেতে যাচ্ছিলাম ।

এমন সময় জাহিদের ভুত কে আবার দেখলাম আর ভয়ে : তুই এখানে কেমনে

(আসলে ওটা নাহিদ ছিল । একটা কাজে বের হইছিল)

নাহিদ : হায় রে এই মেয়ে আবার ( আস্তে বললো )

আমি : ভুউউউউউউউউউউউত

নাহিদ : মানে

আমি : ভুত আমি আপনার কি ক্ষতি করছি ?

বারবার আমাকে দেখা দেন কিনু । ছোট মানুষ ভয় পাই না বুঝি । আপনাকে একটা কিটক্যাট দিমু তবুও আর আইসেন না আমার সামনে ।

নাহিদ : এ্যা ( এই মেয়ে আমাকে ভুত বলে কেন ? হায় কপাল )

আমি : এই নেন কিটক্যাট আর আমি ভাগলাম

.

দিছি দৌড় ।

.

তারপরে বাড়িতে…..

আম্মু : কই গেছিলি ?

আমি : আইসক্রিম কিনতে

আম্মু : ওহ

আমি : প্রেয়সি কই

আম্মু : রুমে

আমি : ওই বক্স টা রাখো আমি আর প্রেয়সি এই বক্স টা খামু

আম্মু : বেশি খাইস না রাতে ঠান্ডা লাগবে

আমি : কিচ্ছু হইবো না

.

আইসক্রিম খাওয়া শেষে ছাদে গেলাম ।

গিটার হাতে ।

গান গাচ্ছিলাম । এমন সময় নাহিদ আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল । আবার শুনতে পায় এলোকেশির গাওয়া গান ।

স্তব্ধ হয়ে যায় সে । চুপ করে শুনতে থাকে । হঠাৎ গান বন্ধ হয়ে যায় ।

.

.

আসলে আম্মু ডেকেছিল সেই সময়। তাই আমি চলে যাই । কিন্তু নাহিদের হুস ফেরে গান থামতেই । সে খুঁজতে থাকে কিন্তু কারো চিহ্ন পায় না । কারণ আমি তো চলে এসেছিলাম ।

.

নাহিদ নিজেকে বলে : হুর বোকা আগে কে গাচ্ছে দেখতি তারপর ওর গানে ডুব দিতি । গাধা । কিন্তু একটা জিনিস সিওর ও আশেপাশেই থাকে ।

.

নাহিদ চলে যায় ।

.

.

এদিকে নাহিদের বাড়িতে…..

জাহিদ : ভাই তোর ভাবি পাইছি

নাহিদ : ওয়াও খুব ভালো তো

জাহিদ : হ থেংকস টু কিটক্যাট থুক্কু আনহা ।

নাহিদ : ওই গুন্ডি মেয়েটা বাপরে

জাহিদ : কি বলিস

নাহিদ : হ আর বলিস না ( বললো কি কি হইছে )

জাহিদ : হাহা সেই তো ।

মজার কাহিনী জানিস । শাম্মি আর আমার ভালোবাসাও ধাক্কার মাধ্যমে শুরু । তোরও ভাগ্যে মনে হয় আনহা । শাম্মির বেস্টু

নাহিদ : আরে না । আমি আরেকজন কে ভালোবাসি ।

জাহিদ : ওমা কেমনে আমার ভাইও আবার প্রেম করে ।

নাহিদ : হুম এলোকেশি সে । তার গাওয়া গান মুগ্ধ করে

জাহিদ : আনহাও সুন্দর যদিও ওরে চুল ছাড়া অবস্থায় দেখি নি তাই বলতে পারছি না ওর চুল কেমন । কিন্তু ও সেই গান গায় । শুনবি দ্বারা ।

নাহিদ : আচ্ছা শুনা

.

জাহিদ গান অন করবে । এমন সময় তাদের মা ডাক দিলো ।

.

গান টা শোনা হলো না । সেই সাথে নাহিদও জানতে পারলো না যে যেই এলোকেশির স্বপ্নে সে মশগুল সে আর কেউ নয় আনহা ।

.

পরেরদিন….

প্রচন্দ বৃষ্টি হচ্ছিল । জাহিদ বের হয়েছিল কি জানি করতে । এমন সময় দেখলো একটি মেয়ে ছাতার আড়ালে কিন্তু চেহারা পুরোটা দেখলো না । মেয়েটি তার ছাতাটি এক বৃদ্ধা কে দিয়ে দিলো । মেয়েটা অপর প্রান্তে ঘুরে ছিলো । তাই দেখতে পেল না ।

.

কিছু সময় পর দেখলো মেয়েটি আনহা ।

ভাবলো…. ফাজিল মেয়েটা ওতোটাও খারাপ না ।

নাহিদ চলে গেলো । মনের মাঝে নিয়ে গেলো ওই এলোকেশির স্মৃতি ।

.

এরপর থেকে নাহিদ এলোকেশি কে খুঁজতে লাগলো । খোঁজ নিল কিন্তু ওই জায়গায় ২ টা মেয়ে থাকতো প্রায় সমবয়সী । নাহিদ বুঝলো তার এলোকেশি ওই দুটো মেয়ের মাঝে একজন কিন্তু কে ?

পরে জানলো ওই দুটো মেয়ের একজন আনহা আরেকজন জান্নাত নামের এক মেয়ে ।

.

কিন্তু এলোকেশি কে এটাই ছিলো নাহিদের কাছে প্রশ্ন ।

.

.

.

কিন্তু নাহিদের কাছে ওতো সময় ছিল না । তার ভার্সিটি শুরু হওয়ার সময় কাছে আসলো । তাই তাকে ঢাকা ফিরে যেতে হলো । কিন্তু সে মনে গেঁথে নিয়ে গেলো এলোকেশির স্বপ্ন ।

অধ্যায় 3 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!