সিজন 1 অধ্যায় 5 ড্রামা রোমান্টিক কমেডি #অভিমান #গান #ক্ষমা প্রার্থনা আনহা নাহিদ শাম্মি জাহিদ আবির সাফানা

পাহাড়সম জেদ ও অনুশোচনা

লেখক: আভন্তিকা আনহা 9 মিনিট পড়া 1,358 শব্দ
পাহাড়সম জেদ ও অনুশোচনা

নাহিদ অনুতপ্ত ভাবতে থাকে নিজেকে । তাই সে শাম্মি আর জাহিদকে নিয়ে আমার ফুপির বাড়ি আসতেছে আমাকে নিয়ে যেতে ।

.

.

এদিকে আমি মন খারাপ করে ফুপির বাড়িতে বসে ছিলাম ।

.

ফুপি : আনহা যায়ে দেখ তো গেটে কে ?

আমি : ওকে ।

.

গেট খুলে দেখি শাম্মি , জাহিদ আর নাহিদ শাম্মি কে দেখেই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম ।

আমি : ইনি কেনো এসেছে ? ( নাহিদের কথা জিজ্ঞেস করছিলাম )

শাম্মি : ও জানতে পারছে জান্নাতের সত্য টা ।

আমি : তো আমি কি করবো যেই মানুষ না জেনেই রিয়েক্ট করে আমি তার সাথে কোনো কথা বলবো না ।

নাহিদ : আই এম সরি আনহা । সত্যি না জেনে তোমাকে থাপ্পর মেরে দিছি ।

.

.

আমি কোনো কথা না বলে ভিতরে চলে আসলাম ।

ফুপি : কে আসছে ?

আমি : শাম্মি , একটা ফ্রেন্ড আর একটা টিকটিকি ( নাহিদ কে টিকটিকি বললাম )

নাহিদ ভাবছে “ভুল আমার ছিল । আমি রাগ ভাঙ্গিয়েই ছাড়বো”

আমি ভাবছি “কোনোদিন মাফ করবো না”

ফুপি : তোমরা যখন এসেছো কিছুদিন থাকো । ঘুরে বেড়াও ।

শাম্মি : জ্বী জ্বী ফুপি ।

.

রাতে খেতে বসলাম…..

শাম্মি আমার পাশে কিন্তু আমার সোজা নাহিদ বসলো ।

আমি তাকায় দেখি শাম্মি আর জাহিদ একে অপরের দিকে তাকায় আছে । আই মিন আখিওসে গোলি মারে টাইপ ।

.

চোখ ফেরাতে দেখি নাহিদ আমার দিকে তাকায় কান ধরে মাফ চাচ্ছে ।‌

আমি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিছি ।

.

.

নাহিদের পা কিছুটা আমার দিকে এগিয়ে ছিলো । চরম রাগে নাহিদের পায়ে লাথি দিলাম ।

নাহিদ : উহ্

ফুপি : কি হলো ।

নাহিদ : না কিছু না

আমি : আবার মুখ বাঁকা করে নিলাম ।

.

.

রাতে আমি আর শাম্মি এক রুমে ছিলাম ।

শাম্মি : মাফ করে দে নাহিদ কে ।

আমি : না না না কোনোদিন না ।

শাম্মি : উফ

আমি : আমি কিন্তু তোর সাথেও কথা বলবো না যদি আরেকবার জোড় করিস ।

শাম্মি : আচ্ছা ঘুমা কাল ঘুরতে যাবো ।

আমি : ওকে

.

.

সকালে উঠে…..

আমি আর সাফানা খেলতেছিলাম ( ফুপির মেয়ে ৩ বছর বয়স )

আমি : ওই বুড়ি কিটক্যাট খাবি ?

সাফা : হুম পিউ আপু খাবো দেও ( আমাকে পিউ আপু বলে )

আমি : দিবো না

সাফা : দাও

আমি : আমি তো দিবো না

.

আমার আর সাফার মারামারি শুরু ।

.

এমন সময় কে যেন বললো : তোমাকে আমি কিটক্যাট দিবো সাফা ।

.

আমি তাকিয়ে দেখি নাহিদ ।

সাফা : সত্যি ভাইয়া

নাহিদ : হুম এদিক এসো ।

আমি : ওই যাবি না ওইটা একটা টিকটিকি

সাফা : হিহি টিকটিকি ভাইয়া

নাহিদ : সাফা আসো এদিক তোমাকে খেলনাও দিবো ।

আমি : সাফা খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু এদিক আয় ।

সাফা : যে কিটক্যাট দিবে তার কাছে যাবো ।

আমি : এই দেখ আমার হাতেই আছে

.

নাহিদের কাছে ছিলো না ।

তাই সাফা আমার কাছেই এলো ।

আর আমি নাহিদের দিকে তাকায় যুদ্ধ বিজয়ের মতো হাসি দিলাম ।

.

নাহিদ : যাই হোক ইনার মায়াবী হাসি হারায় নি ।

আমি : সাফা চল ।

.

.

আমি আর‌ সাফা চলে গেলাম ।

কিছু সময় পর আমরা ঘুরতে বের হলাম

.

আমি : শাম্মি বেবি আইসক্রিম খাবি

শাম্মি : হ

আমি : দ্বারা

.

চারটা নিয়ে আসলাম ।

শাম্মি : নাহিদের জন্য আনছিস ?

আমি : যাই হোক নজর লাগে যদি তাই আনছি ।

নাহিদ : মিথ্যেও বলতে পারে না । ( মনে মনে )

আমি : হুহ

.

আমরা ঘুরছিলাম । এমন সময় কে জানি আমার চোখ ঢেকে ধরলো ।

আমি : ওই কে রে

জবাব দিলো : গেস কর তো কে ?

আমি : আবির ?

আবির : হুম কেমনে বুঝলি ( হাত ছড়িয়ে )

আমি : ছোট বেলার ফ্রেন্ড সহজে ভুলা যায় নাকি ?

আবির : ওমা আপনি তো দেখছি ভালোই বড় হইছেন

আমি : হবো না পিচ্চি থাকবো নাকি

আবির : হাহা আয় আমার ফ্রেন্ড দের সাথে পরিচয় করাই । সবাই ওদিক আড্ডা দিচ্ছে । আর এই তিনজন কারা ?

আমি : এটা শাম্মি , এটা জাহিদ , এটা জাহিদের ভাই

আবির : ওয়াও যমজ সেই তো ।

.

আমি : হুম

.

ওদিক গেলাম ।

আবির আমাকে সবার সাথে পরিচয় করালো ।

.

.

আবির : এটা আনহা আমার ছোট বেলার ফ্রেন্ড যদিও আমার চেয়ে ৩ বছর ছোট । জানিস আনহা সেই গান পারে ?

সবাই : তাহলে শুনাতে বল তো

আবির : হুম অবশ্যই শুনাবে

আমি : না না এখন না

আবির : শোনাতেই হবে

.

সবার রিকোয়েস্টে গাওয়া স্টার্ট করলাম ।

.

“পৃথিবীর যতো সুখ যতো ভালোবাসা

সবই যে তোমায় দিবো

একটাই আশা ।

তুমি ভুলে যেও না আমাকে

আমি ভালোবাসি তোমাকে ।

.

দুয়ারে দাড়িয়ে বিরহ বাড়িয়ে

সুখেতে জড়াবো আমি ।

সেই সুখেরই ভেলায় ভেসে স্বপ্ন সাজায়

এক পলকে পৌঁছে যাবো

রূপকথারই দেশে ।

তুমি ভুলে যেও না আমাকে

আমি ভালোবাসি তোমাকে । ”

.

সবাই তালি দিল ।

আবির : সেই দোস্ত

আমি : থেংকু

.

.

নাহিদ শকড্ এটা তো‌ এলোকেশির গলা ।

তাহলে কি আনহাই । হায় আল্লাহ আমি এতো বড় ভুল করলাম ।

.

.

শাম্মি : কি হলো ভাইয়া ?

নাহিদ : শাম্মি আমার একটা কথা বলো তো ?

শাম্মি : কি

নাহিদ : জান্নাত কি গান পারতো ?

শাম্মি : না জান্নাত গান পারতো না যতদূর জানি ।‌

নাহিদ : আনহার বাসার আশে পাশে কি আর কেউ গান পারে ?

শাম্মি : না ওই পারায় গান শুধু আনহা পারে । কারণ আনহাই শুধু গানকে ভালোবাসে ।

নাহিদ : ও মাই গড এতো বড় মিস্টেক

শাম্মি : মানে ?

নাহিদ সব বললো….

শাম্মি : ভাইয়া অনেক বড় ভুল করে ফেলছেন । আনহা অনেক জেদি । ও সহজে রাগ করে না কিন্তু একবার বেশি করলে আর ভাঙ্গে না ।

নাহিদ : না আমি ওর রাগ ভেঙ্গেই ছাড়বো ।

.

সব শেষে বাড়ি ফিরলাম ।

.

নাহিদ ভাবছে “কেনো জানি এখন আনহার সব ব্যবহার বেশ ভালো লাগছে । হয়তো আমার খোঁজা এলোকেশি টি আনহা এটা জানার কারণেই এমন হচ্ছে”

.

রাতে টিভি দেখছিলাম….

নাহিদ : আনহা আমাকে প্লিজ মাফ করে দাও ।

আমি : মাফ করা এতোই সোজা

নাহিদ : প্লিজ

আমি : না

.

বলেই চলে আসতেছিলাম ।

.

মেঝেতে পানি পড়ে ছিল দেখি নি আর পড়ে গেলাম ।

আমি : আম্মু গো ।

.

.

নাহিদ দেখলো আনহা পড়ে গেছে ।

নাহিদ : হাহা আমাকে মাফ করো নি তাই শাস্তি দিলো আল্লাহ

আমি : হুর

.

উঠতে গেলাম কিন্তু পায়ে ব্যাথা উঠলো ।

আমি : আম্মু

নাহিদ : দ্বারাও‌ আমি দেখি

.

বলেই কোলে তুলে নিল ।

আমি : নামাও আমাকে‌ ।‌

নাহিদ : ওকে

বলেই নামিয়ে দিলো ।

আমি চলতে পারছিলাম না । তাই শাম্মি কে ডাকলাম ।

.

.

শাম্মি : কি রে নিচে পড়ে আছিস কেনো‌?

আমি : পা মচকে গেছে ঘরে নিয়ে‌ চল ।

.

শাম্মির হাত ধরে ঘরে গেলাম ।

.

.

.

রুমে নাহিদ এলো কিছু সময় পর ।

নাহিদ : শাম্মি ওকে এই স্প্রে টা লাগায় দাও

আমি : না আমি কোনো স্প্রে লাগাবো না

শাম্মি : ওই লাগা নইলে মারবো

আমি : হুরররর

.

পরেরদিন ভালো হয়ে গেলাম ব্যাথা ভাগছে ।

.

আমি ফুপি কে নাস্তা বানাতে হেল্প করছিলাম ।

এমন সময় নাহিদ আসলো ।

.

নাহিদ : ফুপি একটু পানি দেন তো ।

ফুপি : আনহা পানি দে তো ওকে ।

আমি : হুর কিছু বললাম না কিন্তু লুকিয়ে পানির মধ্যে লবণ দিয়ে দিলাম‌।

.

নাহিদ পানি খেতেই : লবণ লবণ করে কেন নিশ্চই আনহা করছে এরকম ( মনে‌ মনে )

.

নাহিদ আনহার দিকে তাকালো ।

দেখে আমি মুচকি মুচকি হাসতেছি ।

.

নাহিদ কিছু না বলেই চলে গেলো ।

.

কিছু সময় পর….

আমি আর সাফা আবার খেলতেছিলাম এমন সময় আবার আমার হাত লেগে কি জানি ভাঙ্গে গেল ।

আমি : হায় রে কি যে ভাঙ্গে ফেললাম

.

তাকায় দেখি আমি আবার নাহিদের চশমা ভাঙ্গে ফেলছি ।

.

নাহিদ : হাহা আমার চশমাগুলোর সাথে মনে হয় তোমার শত্রুতা আছে বারবার তোমার হাতেই ভাঙ্গে ।

আমি : হুহ ভালো সরি

নাহিদ : হাহা বাদ দাও

সাফা নাও কিটক্যাট

সাফা : থেংকু

নাহিদ : এটা তোমার আপু কেও দেয় ( নাহিদ ভাবছে জানি এটা মানা করতে পারবা না । শাম্মি বলছে কিটক্যাট তোমার অনেক প্রিয় )

আমি : ( আমি ভাবছি হুর আমি এইটা না করি কেমনে । যাই হোক কিটক্যাট কে না বলুম না )

.

আমি কিটক্যাট নিয়ে দৌড় ।

.

নাহিদ হাসছে আর বলছে : মিস এলোকেশি তুমি তো আমারই

অধ্যায় 5 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!