নীল শাড়ির চতুর সমীকরণ

লেখক: আভন্তিকা আনহা 8 মিনিট পড়া 1,193 শব্দ
নীল শাড়ির চতুর সমীকরণ

আমি ভাবছি “মি. নাহিদ কি পাগল হয়ে গেছে নাকি এমনে করে কেনো । আমাকে ভালোবাসে নাকি ? না না এটা হবে কেনো। কি যে হচ্ছে”

ফুপি : আনহা এক বিয়ে আছে আত্মীয়ের চল তুই আর এদের ও নিয়ে চল ।

আমি : ওকে

ফুপি : শাড়ি পড়ে চল ।

আমি : আমি শাড়ি কই পাবো ?

ফুপি : আমার তো আছে ওই গুলোর একটা পড়ে নিস । শাম্মিকেও একটা দিস ।

আমি : ওকে

.

আমি‌ আর শাম্মি শাড়ি পড়ে নিলাম । আমি নীল শাড়ি পড়লাম আর শাম্মিও নীলই পড়লো । আমি নীল চুড়ি , সাথে কাজল দিলাম আর সেই সাথে চুল ছেড়ে দিলাম , ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক ( লেখিকার সাজা টা খুব ভালো লাগে তাই নিজেকে কল্পনায় এভাবে সাজালাম )

শাম্মি : বাহ ম্যাডাম সেই তো লাগতেছে । সব ছেলে তো আজ বউ ছেড়ে আপনাকে দেখবে ।

আমি : যা ভাগ

আগে তুই দেখ জিজু কয়বার উস্টা খায় ।

শাম্মি : আচ্ছা চল ।

আমি : হুম চল

.

নিচে নেমে আসলাম । আমাকে দেখে নাহিদ থ ।

( এতো সুন্দর লাগছে আমার এলোকেশি কে )

.

ফুপি : বাহ দুজন কেই সুন্দর লাগতেছে ।

.

বিয়ে বাড়িতে……

আমি আর শাম্মি গল্প করতেছিলাম । এমন সময় এক ছেলে আসলো ।

ছেলেটি : হাই আমি রাজ

আমি : ও নাইস নেম ।

রাজ : আপনার নাম ?

আমি : জেনে লাভ ?

রাজ : বলেন না

আমি : পেত্নি

রাজ : হাহা সুন্দর নাম

আমি : হিহি আমি জানি । আমার নাম আনহা । সরি মজা করতেছিলাম ।৤

রাজ : হাহা ভালোই পারেন আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে ।

আমি : থেংকু ।

.

.

নাহিদ দেখলো এক ছেলে আনহার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে তাই নাহিদ জাহিদ কে নিয়ে সেখানে‌ গেলো ।

.

নাহিদ : কি হচ্ছে ?

রাজ : কে আপনি ?

নাহিদ : ফ্রেন্ড

রাজ : ওওওওওও

আমি : শাম্মি চল‌।

.

আমি আর শাম্মি চলে আসলাম ।

.

রাজ : আচ্ছা আমিও যাই

নাহিদ : না দাড়ান । শুনুন ও আমার গফ একটু রাগ করছে তাই কথা বলছে না । আপনি আবার নজর দিয়েন না ব্রো ( আন্দাজি কইলাম )

রাজ : ও আচ্ছা আচ্ছা

নাহিদ : হুমম

.

নাহিদ ভাবছে “না ওকে অন্য কারো হতে দেওয়া যাবে না ।

.

.

আমি একা একা হাঁটে বেড়াচ্ছিলাম এমন সময় আবির যেন কই থেকে উঠে আসলো । হিহি মানে চলে আসলো ।

আবির : তুই এখানে কি করছিস ?

আমি : বিয়ে ফুপি আনলো আমাকে ।

আবির : ও বর আমার বন্ধু

আমি : সেই তো কাপল টাকে মানিয়েছে

আবির : দোস্ত কার দেখতে হবে তো ।

আমি : যা ভাগ তুই তো বান্দর

আবির : ইনসাল্ট করো না গো মনে কষ্ট লাগে ।

আমি : হায় কপাল তুই এমনে কেমনে হইলি ?

আবির : তোমার প্রেমে গো সিনোরিতা

আমি : ফিল্মি পোকা ।

আবির : বাই দা রাস্তা তুই এখানে হঠাৎ আসলি যে ?

আমি : কেন আসতে পারবো না ?

আবির : না তা না কিছু কি হইছে ?

আমি : না কিছু না

আবির : মিথ্যে বলে লাভ কি ?

আমি : আসলে ……. ( সব বললাম )

আবির : ভুল হতে পারে দোস্ত ।‌ আমার মনে হয় ছেলেটা তোকে ভালোবেসে ফেলছে ।

আমি : না আমি বাসি না আর

আবির : যাই হোক তোর ভাবি পছন্দ হইছে পটায় দে

আমি : হায় রে এটা কয় নাম্বার ?

আবির : ৫৩ নাম্বার পছন্দ মনে হয়

আমি : ৬৭ নাম্বার হালা

আবির : যাই বল প্রথম ভালো লাগা তো তুই । তুই রাজি হয়ে যা আর হইবো না পছন্দ ।

আমি : ভাগ লুইচ্চা

.

.

নাহিদ আসলো….

নাহিদ : আনহা তোমার সাথে কথা ছিল কিছু ।

আমি : আমার নাই ।

নাহিদ : প্লিজ ইটস ইমপরটেন্ট

আমি : আবির যা তো

আবির : ওকে বউ ( মজা করে )

আমি : ( হালা নির্ঘাত মজা নিলো ) ভাগ হালা লুইচ্চা

নাহিদ : সরি আবার এতোদিন ধরে বলছি প্লিজ বুঝো

আমি : সেদিন কতোটা কষ্ট আমি পেয়েছিলাম জানেন ?

নাহিদ : মাফ করো একটু রাগ বেশি আমার ।

আমি : হুম

নাহিদ : আমি তোমাকে ভালোবাসি

আমি : জান্নাত কই গেলো ?

দুইদিনে ওর প্রতি ভালোবাসা শেষ

নাহিদ : ওটা ভুল ছিল । আমি যাকে খুঁজছিলাম তা ও না তুমি । জাহিদ আর শাম্মি দুজনই জানে ।

আমি : প্রমাণ কি ( রেগে আন্দাজি বললাম )

নাহিদ : দেখতে চাও ?

আমি : হুম

নাহিদ : ওয়েট এন ওয়াচ

আমি : হুহ

.

.

আমি আন্দাজি আউল ফাউল বকতেছিলাম । হায় রে ওয় সত্যি সত্যি কিছু করলে কি হবে । বেশিই রাগ ঝাড়ে ফেলছি ।

.

নাহিদ রেগে রাস্তা দিয়ে পুকুরের ওদিক যাচ্ছিলো । ঝাপ দিয়ে আনহা কে দেখাবে তাই ।

আমিও নাহিদের পিছনে দৌড় ।

আর কি যে হলো মনে নাই আমি চোখ খুলে দেখি হসপিতালে ।

.

( ওই টাইমে একটা কার এর সামনে পড়ে গেছিলাম । কার ব্রেক ঠিক ই মারা হইছিলো কিন্তু একটু ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছিলাম । এতে একটু মাথায় আঘাত পাই । নাহিদ আমাকে হসপিতালে নিয়ে যায় কিন্তু ও নিজেকে দোষী মনে করে ফেলে ।‌)

সেদিনের পর নাহিদ আমার সামনে আর আসে না ।

.

আমি যতোবার ওকে ডাকি ও চলে যায় ।

.

বারবার আমার থেকে লুকিয়ে চলে

.

প্রায় ৩ মাস পর….

আজ নাহিদ কে ধরেই ফেললাম ।

আমি : ওই এমন করো কেন আমার সাথে ?

নাহিদ : কি করি ?

আমি : বারবার লুকিয়ে চলো ।

নাহিদ : না

আমি : ভালোবাসি গো তোমাকে

নাহিদ : সরি আমার গফ আছে

আমি : ওহ ওকে

নাহিদ : হুম বাই

.

.

আমি জানি ওয় মিথ্যা বলছে । মিথ্যা বললে ও মাথা নিচু করে থাকে । আমি তো আর ছাড়ার পাত্রি বা ।

.

ওদের বাড়ি গেলাম । আন্টি অনেক ভালো । আমাকে আগে থেকেই চিনে ।

আমি : আন্টি আমি নাহিদ কে ভালোবাসি । ও নিজেও আমাকে ভালোবাসে কিন্তু এর মাঝে এই এই এই‌ হইছে ( সব বললাম )

এবার কি করবো বলো ?

আন্টি : পাগলি মেয়ে আমি তো আগে থেকেই জানি জাহিদ বলছিলো ।

আমি : সত্যি

আন্টি : হুম

আমি : আইডিয়া দেন

আন্টি : …….. এটা কর ( কি আইডিয়া সামনে শুনুন )

.

.

নাহিদ আসলো….

আমি : নাহিদ অনেক হইছে এবার আর তোমার রাগ না

নাহিদ : আমি যাই আমার কাজ আছে

আমি : ওয়েট

.

ক্লোরোফোম দিয়ে দিলাম । কিডন্যাপ করাই আইডিয়া‌ ছিল ।

.

নাহিদের জ্ঞান ফিরলো । আন্টি কসম টসম দিয়ে বিয়ে করায় দিলো আমাদের ।

.

বাসরে….

নাহিদ কে জোড় করে রুমে পাঠানো হলো ।

নাহিদ এমন ভাব করছে কিছুই হয় নি আর আমাকে দেখতেই পাচ্ছে না । গান গাচ্ছে । আমি তো থ ।

.

এবার সবচেয়ে আজব ওয় শুয়ে পড়লো ।

না আর না ।

.

আমি : ওই‌ উঠ

নাহিদ : কে রে ওও বউ তুমি

আমি : আম্মু গো কিচ্ছে ।

নাহিদ : বউ ও বউ কি হইছে

আমি : তুমি এমন বিহেভ করছো কেন ?

নাহিদ : কেন বউ

আমি : তোমার তো রাগ হওয়ার কথা

নাহিদ : কেনো রাগ করবো কেন আমার প্লানেই তো সব হলো ।

আমি : মানে

নাহিদ : মানে শাম্মি আমাকে এই আইডিয়া দিছিলো । তাই তোমাকে ইগনোর করলাম আর আম্মুকেও বলছিলাম । তাই তো এতো কিছু হইলো । বাই দা ওয়ে ক্লোরোফোম এর সেন্ট টা সেই ফগ ফগ ।

আমি : শাম্মি রে আমি খাইছি ।

আগে তোমারে

.

বলেই কিল ঘুষি ।

.

.

#শেষ

পুরোটাই কাল্পনিক ।

অধ্যায় 6 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!