A Destination Wedding
আট বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভাইয়ের চরম বিশ্বাসঘাতকতার মাঝে দাঁড়িয়ে তরুণী ডিজাইনার আয়রা। ভালোবাসার ছদ্মবেশে তৈরি হওয়া এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র কি চিরতরে আলাদা করে দেবে আয়রা ও আরুশকে, নাকি সব ভুল বোঝাবুঝি পেরিয়ে পূর্ণতা পাবে তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রেম?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ১৬ পর্ব)। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি কোনো সাবস্ক্রিপশন বা পিডিএফ ডাউনলোড ছাড়াই সরাসরি ব্রাউজারে বিনামূল্যে পড়া যাচ্ছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
ছোটবেলার প্রেম ও দীর্ঘ বিচ্ছেদ
আট বছর ধরে হৃদয়ে পুষে রাখা নিষ্পাপ অনুভূতির টানাপোড়েন ও রহস্যময় পুনর্মিলন।
ভাইয়ের ঈর্ষা ও চক্রান্তের জাল
আপন ভাইয়ের চরম প্রতিহিংসা ও মুখোশধারীর ষড়যন্ত্রে বদলে যাওয়া সম্পর্কের গতিপথ।
নাটকীয় বিয়ের ক্লাইম্যাক্স
প্রতিটি মোড়ে অপ্রত্যাশিত রহস্যভেদ এবং চমকপ্রদ পরিণতির রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তি।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5আয়রা ইবনাত (সাইয়ারা)
নায়িকা (Protagonist)প্রতিভাবান ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্পষ্টভাষী তরুণী। অভিমানী হৃদয়ে বহুদিনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো এক আপসহীন চরিত্র।
নিহান আহমেদ আরুশ
নায়ক (Male Lead)তরুণ ফ্যাশন উদ্যোক্তা ও শিক্ষক। আয়রার প্রতি অতল ভালোবাসা আগলে রাখা রহস্যময় ও দায়িত্বশীল পুরুষ।
আদিয়াত আহমেদ আহিল
প্রধান খলচরিত্র (Antagonist)আরুশের আপন বড় ভাই। ভাইয়ের প্রতি প্রবল ঈর্ষা ও স্বার্থপরতায় নিজের পরিবার ধ্বংস করতেও দ্বিধাহীন।
তিয়াশা
গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রআরুশের মামাতো বোন ও আদিয়াতের প্রাক্তন স্ত্রী। প্রতারণার শিকার হয়েও সন্তানের জন্য রুখে দাঁড়ানো দৃঢ়চেতা নারী।
আরিয়ান ও ইভা
ঘনিষ্ঠ বন্ধুমহলবন্ধুত্বের গভীর বন্ধন ও একতরফা ভালোবাসার ত্যাগ পেরিয়ে এক ছাদের নিচে বাঁধা পড়া নবদম্পতি।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
16 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি ও মিলন
আট বছরের জমাট বাঁধা অভিমান, নির্মম ষড়যন্ত্রের জাল এবং সব বাধা পেরিয়ে ভালোবাসার চূড়ান্ত পরিণতি।
মঞ্চের আড়ালে রুদ্ধশ্বাস টানাপোড়েন
সেরা ফ্যাশন ডিজাইনারের ট্রফি হাতে নিয়েই স্তব্ধ হয়ে যায় আয়রা, যখন প্রধান অতিথি হিসেবে সামনে দাঁড়ায় তার অতীত। অনুষ্ঠান শেষে নির্জন অন্ধকার রুমে এক জোড়া পরিচিত হাতের স্পর্শে শিউরে ওঠে সে। ছয় মাসের পলাতক জীবনের পর আরুশের তীব্র অধিকারবোধের মুখে আয়রা কি পারবে নিজের লুকানো ক্ষোভ সামলাতে?
কাদার দাগ ও সামাজিক যোগাযোগে অচেনা বার্তা
দ্রুতগতির গাড়ির ছিটকে আসা কাদায় নষ্ট হয়ে যায় জামা, আর প্রতিশোধ নিতে আয়রা ছুড়ে মারে ইটের টুকরো। কিন্তু কাচ ভাঙা গাড়ি থেকে নেমে আসা ব্যক্তিটি যে সেই পুরোনো শত্রু হবে তা কে জানত? ঝগড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অচেনা তরুণের রহস্যময় বার্তা আয়রার জীবনে কী নতুন জট পাকাবে?
হাসপাতালের করিডোরে জোড়া চমক
বান্ধবীর আকস্মিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় আতঙ্কিত আয়রা। সেখানে রোগীর বেডের পাশে দাঁড়ানো সুদর্শন যুবকের পরিচয় জানতে গিয়ে তৈরি হয় মধুর মুহূর্ত। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকের মুখের দিকে তাকিয়ে আয়রা যখন জানতে পারে তার ফেসবুকের সেই অচেনা বন্ধুর পরিচয়, তখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে?
ক্লাসরুমের শিক্ষক ও ক্যাফের গম্ভীর নিস্তব্ধতা
নতুন গণিত শিক্ষকের অপেক্ষায় থাকা ক্লাসরুমে পা রাখতেই বজ্রাহত হয় আয়রা—কারণ শিক্ষক আর কেউ নয়, স্বয়ং আরুশ! লজ্জিত হয়ে ছুটে পালাতে গিয়ে ঘটে যায় চরম কেলেঙ্কারি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ক্যাফেতে বন্ধুদের আড্ডায় বিষণ্ণ মুখে হাজির হয় আদিয়াত। সবার সামনে কী এমন গুরুতর কথা বলতে চায় সে?
জনসমক্ষে প্রণয় নিবেদন ও রক্তিম নয়নের ক্ষোভ
সব বন্ধুদের সামনে আয়রার হাত চেপে ধরে নিজের গভীর ভালোবাসার কথা জানান দেয় আদিয়াত, একই সাথে ফাঁস করে নিজের আসন্ন বাগদানের সত্য। এই প্রস্তাবে পুরো টেবিল স্তব্ধ হয়ে গেলেও আরিয়ানের চোখ দিয়ে ঠিকরে বের হয় অদম্য ক্রোধ। আয়রা কি আদিয়াতকে হ্যাঁ বলবে, নাকি এই প্রস্তাবের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বিপদ?
এক ছাদের নিচে দুই মেরুর মুখোমুখী
লজ্জায় জড়সড় হয়ে হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সামনে ঘোমটা তুলতেই আঁতকে ওঠে আয়রা। আদিয়াতের এক বছরের ছোট ভাই হিসেবে সেখানে কুটিল হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং আরুশ! নির্জন রুমে আদিয়াতকে ভালোবাসার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতেই কেন তার কপাল ঘামে ভিজে ওঠে? আরিয়ানই বা কেন হঠাৎ এমন রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ?
অব্যক্ত ভালোবাসার চিঠি ও মৃত্যুর দুয়ার
ছাদে ট্রুথ অর ডেয়ার খেলার মাঝেই সাদাফের ফোনে আসে এক চরম দুঃসংবাদ—আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়ছে আরিয়ান! হাসপাতালে পৌঁছে পুলিশের হাত থেকে পাওয়া চিরকুটটি খুলে আয়রার পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। তিন বছরের গোপন ভালোবাসার পরিণতিতে আরিয়ানের এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের দায় কার? ইভাই বা কেন এতকাল সব লুকিয়ে রেখেছিল?
কঠিন শর্তের ফাঁদে নতুন সমীকরণ
কান্নাভেজা কণ্ঠে ইভা স্বীকার করে নেয় আরিয়ানের প্রতি তার নিঃশব্দ যন্ত্রণার কথা। কিন্তু আরিয়ানের জ্ঞান ফিরতেই আয়রা এমন এক আপসহীন ও চরম সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে যা সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। নিজের ভালোবাসাকে বলি দিয়ে কি আরিয়ান বাধ্য হবে এই অসম সম্পর্কে জড়াতে, নাকি তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে?
উৎসবের আলোয় নীল বসন ও বরফশীতল বাসর
গেট ধরা আর নিম-করলার শরবতের উপহাসে মুখরিত ইভা-আরিয়ানের রঙিন বিয়ের আসর। নীল শাড়ির মাদকতায় আয়াজ ও সাদাফের মনে দোলা লাগলেও বিয়ের পিঁড়িতে বসে থাকা আরিয়ানের চোখ কেবল একজনের দিকেই তাকিয়ে। অবশেষে বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হলেও ফুলশয্যার নিঃসঙ্গ সোফায় শুয়ে আরিয়ানের করা নির্মম ঘোষণা ইভার ভবিষ্যৎকে কোথায় ঠেলে দেবে?
আঁধারে আংটি বদল ও অনাকাঙ্ক্ষিত আগন্তুক
আমেরিকা থেকে আসা আপন খালাতো ভাই ও বোনদের ভালোবাসায় সেজে ওঠে আয়রা। জমকালো বাগদান মঞ্চে আদিয়াত যখন আংটি পরাতে যাবে, ঠিক তখনই নিভে যায় সমস্ত আলো! অন্ধকার কাটতেই আয়রা আবিষ্কার করে তার অনামিকায় জ্বলছে আংটি, আর সামনে দাঁড়িয়ে আরুশ! সেই হতভম্ব পরিবেশের মাঝে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা কোলে শিশুসহ মেয়েটি আসলে কে?
আট বছরের গোপন টান ও নিখুঁত প্রতিচ্ছবি
আট বছর আগের জন্মদিন পার্টির সেই 'রোজ কুইন' আর 'মি. পারফেক্ট'-এর মিষ্টি স্মৃতি প্রকাশ্যে আনে আরুশ। কিন্তু সেই সোনালী অতীতের আড়ালে বেরিয়ে আসে আদিয়াতের ভয়াবহ প্রতিহিংসা, গোপন বিবাহ এবং সন্তানসহ এক অবলা নারীকে ফেলে আসার বিকৃত ইতিহাস। নিজের ভাইয়ের এই নোংরা মুখোশ উন্মোচনের পর আসরে কেন বেজে উঠল এক বিকট শব্দ?
রক্তিম চড়ের আঘাত ও গৃহত্যাগের ফরমান
তীব্র রাগে ফেটে পড়ে আয়রা পর পর দুটি চড়ে স্তব্ধ করে দেয় আসর—যার একটি আদিয়াতের গালে এবং অপরটি খোদ আরুশের মুখে! নিজেকে পুতুল মনে করা ক্ষুব্ধ আয়রা ঘর ছেড়ে উধাও হয়ে যায়। অন্যদিকে নিজের বাবার চরম ধিক্কার ও ত্যাজ্য ঘোষণার মুখে পড়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয় কুচক্রী আদিয়াত। আঘাতের এই ক্ষত কি আয়রাকে দূরে সরিয়ে দেবে চিরতরে?
নদীর মোহনায় আলিঙ্গন ও গুলির শব্দে ত্রাস
নদীর পাড়ে বসে কাঁদতে থাকা আয়রাকে পরম মমতায় নিজের বাহুডোরে জড়িয়ে ধরে আরুশ, নিমিষেই মুছে দেয় বহুদিনের মান-অভিমান। শান্তিতে যখন এক মাস কেটে গেল, ঠিক তখনই আমেরিকা থেকে আচমকা সারপ্রাইজ দিতে আসে বিন্দিকে বিয়ে করা শুভ। কিন্তু হাসপাতালের আইসিইউ থেকে আসা চরম দুঃসংবাদ কীভাবে তাদের সাজানো পৃথিবীকে মুহূর্তে ওলটপালট করে দিল?
অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ও নিরুদ্দেশের চিঠি
আইসিইউতে শুয়ে শুভ জানায়, তার ওপর গুলিবর্ষণকারী নিজেকে 'নিহান আহমেদ আরুশ' বলে দাবি করেছিল! বোনের চরম অপবাদ আর বিশ্বাসের ভাঙনে ভেঙে পড়ে আয়রা আরুশকে কষে চড় মেরে চিরতরে দেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমায়। কিন্তু আরুশ যখন ভিডিও ফুটেজে আদিয়াতের ছদ্মবেশ ও চক্রান্ত উন্মোচন করে, ততক্ষণে কি বড্ড দেরি হয়ে যায়নি?
পাঁচ বছরের দীর্ঘশ্বাস ও বিয়ের আসরে শেষ প্রশ্ন
পাঁচ বছর পর নামকরা ডিজাইনার হয়ে ফিরে এসে আয়রা শাড়ির শো-রুমে দেখতে পায় আরুশ ও অন্য এক সুন্দরীর বিয়ের কেনাকাটা! তিয়াশার কাছে পাঁচ বছর আগের সত্য ও আদিয়াতের কারাবাসের খবর শুনে অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে আয়রা। তিন দিন পর ঝলমলে বিয়েবাড়িতে কাজি সাহেব যখন আরুশের কবুল নেওয়া শেষ করে কনের দিকে তাকালেন, তখন কী ঘটতে চলেছে?
শুভ্র গাউনের চমক ও জোছনা রাতে অমর পূর্ণতা
কনের আসনে কবুল ধ্বনি শুনে সবাই তাকিয়ে দেখে সাদা বারবি গাউনে জান্নাতি হুর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আয়রা স্বয়ং! পাঁচ বছরের দূরত্ব ঘোচাতে আরুশ ও পরিবারের সাজানো এই মাস্টারপ্ল্যান পূর্ণতা পায় এক অবিস্মরণীয় মিলনে। ব্রিজের ওপর চাঁদের আলোয় হাতে হাত রেখে প্রিয় সুরের মূর্ছনায় বিলীন হওয়া দুই হৃদয়ের এই ভালোবাসাই কি তাদের আসল গন্তব্য?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।