আমার চন্দ্রাবতী
শরীরের ছোপ ছোপ জন্মদাগকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ ভেবে প্রেমের পথ থেকে চিরকাল দূরে সরে থেকেছে গ্রামীণ জমিদারকন্যা দুআ। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেট তারকা ইয়াদ বিন তেহরানের তীক্ষ্ণ নজর যখন দুআর শুভ্র সারল্যে নিবদ্ধ হয়, তখন রূপের অহংকার ভেঙে জেগে ওঠে এক দুর্নিবার অধিকারবোধ। এক বিখ্যাত তারকার বাঁধভাঙা ভালোবাসা কি মুছে দিতে পারবে দুআর মনের আজন্ম দ্বিধা, নাকি অতীত ও পারিবারিক শত্রুতা ছারখার করে দেবে তাদের সুখের স্বপ্ন?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৩৬ পর্ব)। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি কোনো কাটছাঁট ছাড়া GolpoHub-এ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপভোগ করুন।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
ক্রিকেটার ও গ্রামীণ সারল্যের প্রণয়
আন্তর্জাতিক মাঠের জনপ্রিয় তারকা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এক সাধারণ গ্রামীণ তরুণীর মধ্যকার এক অবিশ্বাস্য ও গভীর প্রেমকাহিনী।
শারীরিক ত্রুটি ছাপিয়ে নিঃশর্ত গ্রহণযোগ্যতা
বাহ্যিক রূপ নয়, বরং জন্মদাগ ও মানসিক দ্বিধাকে পরম ভালোবাসায় আপন করে নেওয়ার এক অনন্য আত্মিক বার্তা।
পারিবারিক টানাপোড়েন ও চরম সাসপেন্স
হিংস্র প্রতিশোধ, অগ্নিকাণ্ডের চক্রান্ত ও সামাজিক প্রতিকূলতার মাঝে এক অটুট সম্পর্কের বিজয়ের গল্প।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6দুআ ফারাবী (চন্দ্রাবতী)
নায়িকা (Protagonist)গ্রামের জমিদারের একমাত্র আদুরে কন্যা। অসম্ভব মায়াবী ও শুভ্র চেহারার অধিকারিণী হলেও সারা শরীরে থাকা জন্মগত ডোরাকাটা ছোপের কারণে ভালোবাসার স্পর্শকে চিরকাল ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চেয়েছে।
ইয়াদ বিন তেহরান
নায়ক (Male Lead)বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ও অধিনায়ক। রগচটা, কঠোর ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও অতীত ভুলের পর নারীমোহ বর্জনকারী যুবক, যে দুআর অপাপবিদ্ধ রূপ ও সারল্যে চরম আসক্ত ও পজেসিভ প্রেমিকে রূপ নেয়।
রিজোয়ান
দুআর কাকাতো ভাইবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও আদর্শ অভিভাবকসম ভাই। দুআর নিরাপত্তা ও সুখের জন্য সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকে এবং তার আত্মসম্মান রক্ষায় আপসহীন।
রামিসা
দুআর সই ও ইয়াদের কাজিনদুআর প্রাণোচ্ছ্বল ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। ইয়াদ ও দুআর ভেতরের দ্বিধা ও দূরত্ব ঘুচিয়ে তাদের ভালোবাসার মেলবন্ধন ঘটাতে প্রধান সূত্রধরের ভূমিকা পালন করে।
মাহি ও সঞ্জয়
দুআর বিশ্বস্ত বন্ধুমহলদুআর শৈশবের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। যেকোনো অপমান ও বাহ্যিক শত্রুতার মুখে দুআকে আগলে রাখতে তারা সর্বদা নির্ভীক।
ইশফাক ও তাসনিম
প্রতিপক্ষ ও ষড়যন্ত্রকারীইশফাক কামুক লালসা ও বংশীয় শত্রুতার বশে দুআকে কলঙ্কিত করতে চায়, আর তাসনিম পুরনো আক্রোশে দুআর অস্তিত্ব মুছে ফেলতে আগুনের ফাঁদ পাতে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
36 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: দাগের আড়ালে চন্দ্রমুখী ও ক্রিকেটারের প্রণয়
লুকানো জন্মদাগের গ্লানি বহন করা জমিদারকন্যা দুআ ফারাবীর জীবনে হঠাৎ ঝড়ের মতো এসে হাজির হয় তারকা ক্রিকেটার ইয়াদ বিন তেহরান; সৃষ্টি হয় দ্বিধা, অভিমান, বিপদ ও চূড়ান্ত ভালোবাসার এক অনন্য মহাকাব্য।
নিষিদ্ধ রূপের মায়া
আমবাগানে বন্ধুদের সাথে চঞ্চলতায় মেতে থাকা জমিদারকন্যা দুআ ফারাবীর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর আতঙ্ক। দেহের জন্মদাগ আড়াল করতে গিয়ে তীব্র গরমেও সে বন্দী থাকে লম্বা হাতার পোশাকে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের অন্ধকার মোহ ছেড়ে ক্রিকেটে নিজেকে সঁপে দেওয়া তারকা ইয়াদ বিন তেহরান কি কখনো বুঝতে পারবে এই গ্রামীণ শুভ্রতার মূল্য?
আলোর ঝলক ও অজানা আকর্ষণ
বিপিএলের জমকালো সন্ধ্যায় ক্রিকেট ফিক্সিংয়ের অপচেষ্টাকে দুমড়ে দিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায় ইয়াদ। বোনের পাঠানো একটি ছবিতে শুভ্র এক মুখের দিকে চোখ আটকে গেলেও তা হারিয়ে যায় নিমিষেই। ওদিকে চট্টগ্রামের এক ড্রয়িংরুমে বসে টিভির পর্দায় ইয়াদের লাফিয়ে ক্যাচ নেওয়ার দৃশ্য দেখে হঠাৎ অজানা শিহরণে কেঁপে ওঠে দুআ—এ কি কোনো বিপদের সূচনা?
অচেনা নামের প্রতিধ্বনি
ঢাকা যাওয়ার অনুমতি নিয়ে বাবার কঠোর শাসনের মুখে দাঁড়িয়ে ভাই রিজোয়ানের সহযোগিতায় জিতে যায় দুআ। অন্যদিকে ঢাকায় ফিরে পারিবারিক বিশৃঙ্খলার মুখে ছোটবোনের মুখে বারবার ‘দুআ’ নামটির প্রশংসা শুনে ইয়াদের মস্তিষ্কে অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ছবিটি কি সেই মেয়েরই ছিল, যাকে মারিয়া ভুল করে পাঠিয়েছিল?
ব্যস্ত সড়কের আকস্মিক সংঘাত
কাকীমার জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে হাসপাতালের কোলাহলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে দুআর। পিলারের পাশে থাকা কুকুরছানাকে দ্রুতগতির গাড়ির হাত থেকে বাঁচাতে মাঝরাস্তায় ছুটে যায় সে। চাকার তীব্র ঘর্ষণে বাইক থামিয়ে হেলমেট তুলে তাকায় স্বয়ং ইয়াদ। অজ্ঞান হয়ে ঢলে পড়া দুআকে কি চিনতে পারবে জাতীয় দলের এই অধিনায়ক?
গোপন দৃষ্টির বিষাক্ত জাল
চট্টগ্রামে ফিরে বাবার সাথে জিপে ঘুরতে গিয়ে কলেজ গেটে এক কুৎসিত লালসার শিকার হতে চলে দুআ; চিরশত্রু আবুর ছেলে ইশফাকের চোখ পড়ে তার রূপের ওপর। ওদিকে ঢাকায় বসে এক বিজ্ঞাপনে ওড়না পরা মেয়ের মুখে দুআর ভয়ার্ত চোখের স্মৃতি ফিরে পেয়ে অস্থির হয়ে ওঠে ইয়াদ। রামিসার ফোনে বাইকারের ছবিতে ইয়াদের চেহারা দেখে দুআ কি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারবে?
ঝড়ের পূর্বাভাসে অবরুদ্ধ মন
কলেজ ছুটির পর বন্ধুদের আড্ডায় ইশফাকের প্রকাশ্য অপমানজনক প্রস্তাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে দুআ। কোনোমতে রেহাই পেয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলেও গাড়িতে তাসনিম কাকীর কুটিল দৃষ্টি তাকে কুরে কুরে খায়। ওদিকে ঢাকায় আকাশভাঙা বৃষ্টির মাঝে নিজের ঘরে এক অচেনা উপস্থিতি দেখে চরম রূঢ়তায় ফেটে পড়ে ইয়াদ—কার আগমনে শুরু হতে চলেছে নতুন ঝড়?
সিঁড়ির বাঁকে প্রথম দৃষ্টিপাত
ইয়াদের রাজপ্রাসাদসম বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে মারিয়ার সাথে ভাব জমিয়ে ফেলে সহজ-সরল দুআ। ওদিকে বন্ধুদের সাথে ট্যুরের পরিকল্পনা করতে করতে সিঁড়ির মাথায় এসে দাঁড়ায় ইয়াদ। বেগুনি ওড়নার আড়ালে একফালি চাঁদের মতো স্নিগ্ধ মুখে ঘন চুলের খেলা দেখে যেন জমে বরফ হয়ে যায় তার শরীর—মুহূর্তেই কি বদলে যাবে তার জীবনের সব সমীকরণ?
দৃষ্টির সীমানায় নীরব বন্দনা
মারিয়া টেনে নিয়ে আসে ইয়াদকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুআর মুখোমুখি। দীর্ঘদেহী ক্রিকেটারের চোখের তীব্র মাদকতায় কুঁকড়ে যায় লজ্জাবতী দুআ। বোনের সাথে ইয়াদের প্রচণ্ড ঝগড়ার পর ক্ষুব্ধ ইয়াদ স্টাডি রুম থেকে বের হতেই ধাক্কা লাগে দুআর সাথে—একান্তে পাওয়া সেই সুযোগে ইয়াদের নরম প্রশ্নে কি কেঁপে উঠবে দুআর অবুঝ হৃদয়?
অপমানের দহন ও গোপন আঁখি
ভোরের ব্যালকনিতে একলা দাঁড়িয়ে থাকা দুআকে একা পেয়ে চরম আক্রোশে তার হাত মুচড়ে দেয় তাসনিম, স্মরণ করিয়ে দেয় তার ত্বকের গোপন দাগের কথা। কান্নায় ভেঙে পড়া দুআকে দেখে ভেতরে ভেতরে জ্বলে ওঠে ইয়াদ। মারিয়াকে দিয়ে কান্নার আসল কারণ খুঁজতে গিয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে ইয়াদের ফেলা তীব্র দৃষ্টি কি দুআর মনে নতুন কোনো ঝড়ের বার্তা দিচ্ছে?
বিদায়ের বিষাদ ও মোহমুক্তিহীন হৃদয়
পাঁচদিনের সফর শেষে লাল রঙের পোশাকে আবৃত শুভ্র মানবী যখন বিদায় নিতে দরজায় দাঁড়ায়, ইয়াদের পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যায়। বিদায়বেলায় প্রেয়সীর ছলছল দৃষ্টি বুকে বিঁধে রেখে ঘরে ফিরে সোফায় লুটিয়ে পড়ে তারকা ক্রিকেটার। বন্ধুকে ফোনে চিত্কার করে ইয়াদ জানিয়ে দেয়—যেকোনো মূল্যে তার চন্দ্রাবতীকে চাই-ই চাই! শুরু হতে চলেছে কি কোনো পাগলামি?
অন্ধকারের আক্রমণ ও ব্যাকুল ছুটে আসা
পরীক্ষা শেষে রেস্টুরেন্টের নিরিবিলি করিডোরে হঠাৎ দুআর হাত চেপে ধরে হিংস্র ইশফাক। ধস্তাধস্তিতে দুআ মেঝেতে ছিটকে পড়লে রামিসার ক্যামেরাবন্দী কান্নার ভিডিও অজান্তেই পৌঁছে যায় ঢাকায় ইয়াদের কাছে। ম্যাচ জিতে পার্টিতে থাকা ইয়াদ প্রেয়সীর চোখের জল দেখে বন্ধুদের নির্দেশ দেয় মধ্যরাতেই গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ছুটতে—কী ঘটতে চলেছে সেখানে?
তিতলি কটেজে প্রেমের আগমন
ভোররাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে রত্নাপুরের তিতলি কটেজে আশ্রয় নেয় ইয়াদ। ফোনে রামিসার কাছে দুআর ত্বকের গোপন দাগের সত্যতা জেনেও ইয়াদের ভালোবাসা একচুল টলে না, বরং তা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। বন্ধুদের নিয়ে কটেজসংলগ্ন পাহাড়ে ঘুরতে এসে হঠাৎ সামনে দুআকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থমকে যায় ইয়াদ—মেঘলা পাহাড়ে এবার কী ঘটতে যাচ্ছে?
পিচ্ছিল পাহাড়ে আস্থার স্পর্শ
পাহাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি নামলে টঙের দোকানে দুআর মুখোমুখি হয় ইয়াদ। বৃষ্টির পর পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ নামতে গিয়ে ভয়ার্ত দুআ কান্নায় ভেঙে পড়লে বন্ধুরা তাকে একলা ফেলে এগিয়ে যায়। এবার স্বয়ং ইয়াদ এসে নিজের কাঁধে হাত রাখতে বলে দুআকে—বিখ্যাত তারকার বলিষ্ঠ কাঁধ ধরে নিচে নামতে গিয়ে দুআর ভেতরকার ভয় কি ভালোবাসায় রূপান্তরিত হবে?
ক্ষোভের বিস্ফোরণ ও অভয়বাণী
কটেজের ছাতা ফেরত দেওয়ার অছিলায় রামিসার সাথে কটেজে এসে পৌঁছায় দুআ। ঠিক তখনই ঘরে লুকানো মাইক্রোফোন আবিষ্কার করে ক্ষিপ্ত বাঘের মতো কর্মচারীকে পেটাতে পেটাতে রিসেপশনে টেনে আনে ইয়াদ। রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ার্ত দুআ চমকে উঠলে মুহূর্তেই শান্ত হয়ে ইয়াদ জানিয়ে দেয়—সারা দুনিয়ার ওপর রাগলেও দুআর ওপর সে কখনো রাগবে না!
রুদ্ধদ্বারে হৃদস্পন্দনের বোঝাপড়া
ঢাকায় ফেরার পূর্বে ফুফুর বাসায় খেতে গিয়ে তাসনিমের নির্মম আক্রমণের শিকার হতে চলে দুআ। ঠিক সময়ে ঘরে ঢুকে তাসনিমকে হটিয়ে দিয়ে দুআর মাথায় ওড়না টেনে দেয় ইয়াদ। একা ঘরে দুআর কাঁধ ছুঁয়ে গভীর আবেগে কাছে টেনে নেয় সে—বিদায়ের মুহূর্তে এই ক্রিকেটারের উন্মত্ত চাহনি দুআর হৃদয়ে কী তুফান তুলে দিয়ে গেল?
কলঙ্কহীন চাঁদের সুপ্ত প্রতীক্ষা
দিন গড়িয়ে গেলেও ইয়াদের কোনো ফোন না পেয়ে বুকভাঙ্গা অভিমানে দিন কাটাতে থাকে দুআ। ডালা সাজানোর সময় জেনির মুখে নিজের দাগযুক্ত রূপের সাথে চাঁদের কলঙ্কের অপরূপ তুলনা শুনে চমকে ওঠে সে। ওদিকে ঢাকায় ফিরে বন্ধুর শোক আর বোনের উচ্ছৃঙ্খলতা সামলে গভীর রাতে দুআর স্মরণে ছটফট করতে থাকে ইয়াদ—এই নীরবতার অবসান কবে হবে?
মধ্যরাতের অকপট স্বীকারোক্তি
রামিসার পাঠানো ছবিতে দুআর উন্মুক্ত হাতের ডোরাকাটা দাগের অনবদ্য সৌন্দর্য দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না ইয়াদ। গভীর রাতে হঠাৎ ফোন বাজতেই তন্দ্রাচ্ছন্ন দুআ শুনতে পায় প্রেমিকের সেই মাদকতাময় গর্জন—'আই লাভ ইউ দুআ, তোমার রূপ নয়, তোমার দাগেও আমি খুন হয়েছি!' প্রথম ভালোবাসার এই তীব্র স্বীকারোক্তি কি সহ্য করতে পারবে দুআর অবুঝ মন?
ক্ষমার আলোয় সত্যের উন্মোচন
স্বপ্নের ঘোরে থাকা দুআ কললিস্ট দেখে নিশ্চিত হয় যে ইয়াদের প্রস্তাব সত্যি। বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগির পর আবার ফোনে নিজের বেপরোয়া অতীতের অন্ধকার দিক অকপটে স্বীকার করে ইয়াদ—একমাত্র দুআর পবিত্রতায় নিজেকে নতুন করে বাঁধার আকুতি জানায় সে। তার এই সততা কি দুআর মনের সব দ্বিধাকে এক নিমেষে চিরতরে মুছে দিল?
আলোকোজ্জ্বল সন্ধ্যায় গোপন প্রতিজ্ঞা
রিজোয়ানের বাগদানের আলোকসজ্জায় মোড়ানো সন্ধ্যায় মেজেন্ডা পোশাকে পরীর মতো সেজে আসে দুআ। পেছনের অন্ধকার পুকুরপাড়ে আলো-আঁধারির মাঝে হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর পাঞ্জাবি পরিহিত এক বলিষ্ঠ যুবক। থুতনি তুলে চোখের গভীরে তাকিয়ে কানের কাছে ওড়না ঠিক করে দিয়ে ইয়াদ কি জানিয়ে দিল তাদের মিলনের অমোঘ ভবিষ্যৎ?
কাঁটার আঘাত ও মমতার পরশ
অনুষ্ঠানে বনেদি পরিবারের মালকিন দুআর ত্বকের দাগ নিয়ে খোঁটা দিলে কড়া জবাব দেন আহেলি বেগম। ওদিকে দুআর কানে রক্তের দাগ দেখে নিজ হাতে টিস্যু দিয়ে মুছে ব্যথানাশক খাওয়ায় ইয়াদ। বিকেলে ধানক্ষেতে ঘুরতে গিয়ে দুআর পায়ে বিঁধে থাকা কাঁটা তুলে দিতে গিয়ে প্রেমিক পুরুষ যে ব্যাকুলতা দেখায়, তা কি দুআর হৃদয়কে সম্পূর্ণ গলিয়ে দিল না?
কাচের চুড়ি ও সতর্কবার্তা
মাইশার হলুদের সন্ধ্যায় যাওয়ার আগে ভাই রিজোয়ান দুআকে জানিয়ে দেয় যে সে ইয়াদের ভালোবাসার কথা জানে এবং তাদের সম্পর্ককে পূর্ণ সমর্থন করে। ভাইয়ের এমন ভরসায় আনন্দিত হলেও ইয়াদের দেওয়া কাচের চুড়ি ও সতর্কবার্তার কথা মনে করে দুআর ভেতরটা কাঁপতে থাকে—আজ কি তবে ইয়াদের প্রেমের চূড়ান্ত দাবি সামনে আসবে?
ভাঙা কাঁচের মাঝে দৃঢ় আলিঙ্গন
হলুদের ভিড়ে দুআকে রুমে একা পেয়ে নিজ হাতে কাচের চুড়ি পরিয়ে দেয় ইয়াদ। ঠিক তখনই ঘরে ঢুকে জিয়া ইয়াদের অতীত নিয়ে বিষোদ্গার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে আলমারিতে ঘুষি মেরে হাত রক্তাক্ত করে ফেলে ইয়াদ। রক্তমাখা হাত চেপে ধরে শান্ত করতে গিয়ে দুআ জড়িয়ে পড়ে ইয়াদের শক্ত বাহুডোরে—এই উন্মত্ত আলিঙ্গন কি তাদের বিচ্ছেদের পথ রুদ্ধ করল?
উল্লাসের মাঝে অতর্কিত মারণফাঁদ
আলিঙ্গনমুক্ত হয়ে লাজে রাঙা দুআ যখন নিচে নামে, ইয়াদের মাদকতাময় দৃষ্টি তাকে অবিরত অনুসরণ করে। কোলাহল ও মাথা ব্যথায় কাতর হয়ে মেকআপ তুলতে রামিসার ফাঁকা ঘরে প্রবেশ করে দুআ। সেই সুযোগে ঘরের বাইরে থেকে জানালার পর্দায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে দরজা টেনে ধরে কুচক্রী তাসনিম—আগুনের লেলিহান শিখায় কি ভস্ম হয়ে যাবে নিষ্পাপ দুআ?
লেলিহান শিখা ও জীবনের উদ্ধার
ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসা দুআ স্টিলের ফুলদানি দিয়ে দরজায় আঘাত করতে থাকে। শব্দ শুনে ছুটে এসে লাথি মেরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ইয়াদ। জ্বলন্ত শাড়ির আঁচল একটানে ছিঁড়ে ফেলে অচেতন দুআকে কোলে তুলে নিয়ে আসে সে। সকালের আলো ফুটতেই জ্ঞান ফেরে দুআর—প্রেমিক পুরুষের সেই নিবেদিত উদ্ধার কি চিরদিনের মতো বদলে দিল তাদের পথ?
পাঁচ মাসের বিরহ ও অভিমানী অশ্রু
বিয়ের পর পাঁচ মাস কেটে যায় কিন্তু ক্রিকেটের ব্যস্ততায় গ্রামে আসার সুযোগ পায় না ইয়াদ। গভীর ক্ষোভে মোবাইল বন্ধ করে রাখে দুআ। রামিসার ফোনে ইয়াদের ধমক আর ব্যাকুল কণ্ঠে দুআর কান্না ভেঙে পড়ে। অসুস্থ মাইশার খবর নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমায় দুআ—দীর্ঘ বিরহের পর এবার কি তাদের দেখা হবে?
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বক্ষতলে ঠাঁই
মারিয়ার ফোনে কথা বলে দুআ যখন চোখের জল মুছছে, ঠিক তখনই দরজার নব ঘুরিয়ে ঘরে ঢোকে কালো শার্ট পরিহিত এক দীর্ঘদেহী মানব। এক মুহূর্তও না ভেবে ইয়াদের বুকে আছড়ে পড়ে দুআ। সাজ্জাদ সাহেব ঘরে ঢুকে তাচ্ছিল্য করলে বুক ফুলিয়ে ইয়াদ জানিয়ে দেয়—এই মেয়েই তাদের বাড়ির বউ হবে! ইয়াদের এই অটল জেদের পর কী ঘটতে চলেছে?
অচেনা সমীকরণ ও দ্বিধার দোলাচল
ইয়াদকে না জানিয়েই চট্টগ্রামের জমিদার বাড়িতে সরাসরি ছেলের জন্য দুআর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয় সাজ্জাদ সাহেব। এই খবর পেয়ে ইন্ডিয়া থেকে ঢাকায় ফিরে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় ইয়াদ—তার ধারণা বাবা হয়তো জমিদারের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। যেকোনো মূল্যে আজই দুআকে বিয়ে করার চূড়ান্ত সংকল্প নিয়ে গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ছোটে সে!
ঝোড়ো হাওয়ায় আকস্মিক আগমন
জ্বরে কাতর হয়ে একা জমিদার বাড়ির সোফায় শুয়ে থাকা দুআর সামনে ঝড়ের মাঝে আচমকা এসে দাঁড়ায় ইয়াদ। প্রেয়সীকে কোলে তুলে নিয়ে গভীর আবেগে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে সে জানতে পারে—বাবা অপমান নয়, বিয়ের প্রস্তাবই দিতে এসেছিল! আর কালবিলম্ব না করে আজই পুরো পরিবার নিয়ে দুআকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত জানায় সে!
চাঁদের আলোয় অনন্ত বন্ধন
ইদ্রিস জমিদারের আপত্তি ও নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে স্পষ্ট ভাষায় ইয়াদ জানায়—দুআকে ছাড়া সে বাঁচবে না। অবশেষে কাজী ডেকে মেজেন্ডা বেনারসিতে সাজানো দুআর সাথে সম্পন্ন হয় ইয়াদের আকদ। বাসর রাতে ব্যালকনির চাঁদের আলোয় উদোম গায়ে বসে দুআকে নিজের বাহুতে জড়িয়ে প্রেমের চরম পূর্ণতা দেয় ইয়াদ।
নববধূর বিরহ ও দূরন্ত আহ্বান
সকালের আলোয় অর্ধাঙ্গিনীর দাগমাখা হাতে আদরের পরশ দিতে দিতে জাতীয় দলের জরুরি ডাক পায় ইয়াদ। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে রেখে যাওয়ার মুহূর্তে দুআর চোখের জলে ভিজে ওঠে তার বুক। তবে গাড়িতে ওঠার সময় ইয়াদ পুরো দেশকে তাদের বিয়ের খবর জানিয়ে দেয়। ওদিকে তাদের এই সুখে আগুন জ্বালাতে প্রতিশোধের ছক কষে ইশফাক!
কুয়াশাঢাকা ছাদে অনন্ত আশ্রয়
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচ জিতে বোনের সাথে সতীর্থ রিয়াদের বিয়ের কথা পাকা করে মধ্যরাতেই শ্বশুরবাড়িতে ছোটে ইয়াদ। অভিমানে না খেয়ে থাকা বউয়ের মান ভাঙিয়ে মাঝরাতে কুয়াশাচ্ছন্ন ছাদে চাদর মুড়ি দিয়ে নিয়ে যায় সে। ঠান্ডার মাঝে ইয়াদের বলিষ্ঠ বুকের ওমে মুখ লুকিয়ে দুআ কি খুঁজে পাবে পৃথিবীর সব সুখ?
নতুন জীবনের আগমনী বার্তা
মাইশার প্রসব বেদনায় হাসপাতালে এসে অনাহারে থাকা দুআ হঠাৎ অচেতন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। ওদিকে ইদ্রিস জমিদারকে মারতে গিয়ে পুলিশের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে ইশফাকের পাঠানো ট্রাক ড্রাইভার। হাসপাতালে ডাক্তার যখন দুআর গর্ভধারণের সুসংবাদ দেয়, তখন দুআর মনে আনন্দের চেয়ে বেশি ভয় জাগে—অসময়ের এই খবর কি ইয়াদ মেনে নিবে?
অনাগত প্রাণের মায়াবী স্বীকারোক্তি
চট্টগ্রামে ফিরে দুআর মুখে বাচ্চার কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ইয়াদ—তাকে এতো অমানুষ কেন ভাবল দুআ? পরম ভালোবাসায় প্রেয়সীর পেটে অধর ছুঁয়ে দিয়ে সে জানিয়ে দেয়, এই সন্তান তাদের দুজনেরই। জমিদার বাবাকে সরাসরি জানিয়ে দুআকে নিয়ে ঢাকায় নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হয় ইয়াদ!
রাজধানীতে পদার্পণ ও নতুন সংসার
ফ্লাইটে করে অসুস্থ দুআকে পাঁজাকোলা করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে ইয়াদ। পরিবারের অপছন্দের মানুষের সামনে বউয়ের সম্মান বজায় রেখে শ্বশুরবাড়ির সকলকে আমন্ত্রণ জানায়। জিয়ার বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশে নিজের ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে দুআকে পরম যত্নে আগলে রাখে সে। এবার কি তাদের বহুকাঙ্ক্ষিত রিসিপশন শান্তিতে সম্পন্ন হবে?
যন্ত্রণার রাতে মমতাময়ী ছায়া
রিসিপশনের আগের গভীর রাতে অসহ্য পেট ও পায়ের ব্যথায় কাঁদতে থাকে দুআ। কাঁচা ঘুম ভেঙে উঠে পরম মমতায় প্রেয়সীর পা মালিশ করে দিয়ে বুকে জড়িয়ে ঘুম পাড়ায় ইয়াদ। সকালে ডাক্তার এসে কড়া বেডরেস্টের নির্দেশ দিলে রিসিপশনে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য দুআকে স্টেজে হাজির করে ইয়াদ। পাঁচ মাস পর দুআ মাতৃত্বের নতুন ধাপে পৌঁছায়।
একফালি সুখ ও আমার চন্দ্রাবতী
ইয়াদের জন্মদিনে শত কষ্ট ভুলে নিজ হাতে চকলেট কেক বানিয়ে চমক দেয় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা দুআ। রাতে ঝুম বৃষ্টির মাঝে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে প্রেয়সীর স্ফীত পেটে অনাগত রাজকন্যার নড়াচড়া অনুভব করে তৃপ্তির কান্না কাঁদে ইয়াদ। দুআকে বক্ষমাঝারে বিলীন করে তারকা ক্রিকেটার ফিসফিসিয়ে জানিয়ে দেয়—'হৃদয়ের গহীনে একফালি সুখ তুমি, আমার চন্দ্রাবতী!'
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
আমার চন্দ্রাবতী (Amar Chondraboti) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
আমার চন্দ্রাবতী উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সমাপ্ত?
আমার চন্দ্রাবতী উপন্যাসের লেখিকা কে?
আমার চন্দ্রাবতী উপন্যাসটি কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যাবে?
আমার চন্দ্রাবতী সিজন ২ কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ