ইয়াসির আসলে তাকে নিয়ে লিভিংরুমে আলোচনায় বসলো ইয়াদ।ঢাকায় আশেপাশের কোনো জায়গায় ভ্রমণের জন্যে তারা আপাতত ভাবছে।ইয়াদ সোফায় নিজের গা এলিয়ে দিয়ে বললো,
–“আবহাওয়ার যা অবস্থা,রাস্তাঘাট খারাপ।যাবি,
শিউর?”
–“যাবো।আমার বুকে আনচান করছে।আমার ট্যুরে যাওয়া এখন বাধ্যতামূলক।”
ইয়াসির অন্যমনস্ক হয়ে জবাব দিলো।
–“আমার মনে হয়, না যাওয়া বেটার।বৃষ্টিতে অ্যাকসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।দেখি,আজ এবং কাল বৃষ্টির তেজ কেমন হয়!যদি কম থাকে,তাহলে যাবো।আর যদি বেশি হয়, তাহলে না।”
ইয়াদ কথাটা বলে ঘাড়ে হাত ঘষলো।
–“ঠিক আছে।তোর খেলার কি খবর?”
–“দুই সপ্তাহ পর থেকে আবার সিরিজ শুরু।”
ইয়াদ নিঃশ্বাস ছাড়লো মুখ দিয়ে।
–“বিরক্তিকর তাই না?”
–“নাহ,বরং আনন্দের। আই লাভ ক্রিকেট।এটা আমার একমাত্র নেশা।”
ইয়াদ ঠোঁট বাঁকা করে হাসলো কথাটা বলে।
দুই বন্ধু আলোচনায় ব্যস্ত।
খানিকক্ষণ বাদে সেখানে আগমন ঘটলো জিয়া এবং ডালিয়ার।আয়তনে বিশাল লিভিংরুমের অপর প্রান্তের সোফায় বসতেই,কাজের মহিলা দুইজন বড় আকারের ফুলদানি এবং শোপিজ এনে যথাযথ স্থানে রাখলো।তখনই ঘুম ঘুম চোখে মারিয়া ইয়াদের পাশে এসে বসে তার মাকে চিল্লিয়ে প্রশ্ন করলো,
–“আম্মি,কেউ কি আসবে?তোমার প্রিয় জিনিসপত্র রাখছো লিভিংরুমে!”
–“হাত মুখ না ধুয়ে এইখানে কি?উঠে আয় মা। কাল তোর ছোট ফুফু আসবে।”
ডালিয়া মারিয়ার সংস্পর্শে এসে তার গাল ছুঁয়ে বললো।
মারিয়া লাফিয়ে উঠলো আনন্দে,
–“সত্যি?তারা আসবে কালকে?রামিসা আপু আর দুআ আপুটাও কি আসবে?”
–“হ্যাঁ,সবাই আসবে।বৃষ্টির জন্যে আজ আসতে পারেনি।আগামীকাল আসবে বলে জানালো। তা ছাড়া,দুআ অসুস্থ হয়ে পড়ায় অন্য আত্মীয়ের বাসায় যেতে পারেনি মেয়েটা।কিন্তু আমি বারবার বলেছি তোর ফুফুকে,দুআ মেয়েটাকে যেনো আমাদের বাড়ীতে নিয়ে আসে।মেয়েটা ঢাকায় আসলেই শুধু অসুস্থ হয়ে পড়ে।আমি তাই বললাম,দরকার পড়লে আমাদের বাড়ীতে সারাদিন শুয়ে থাকবে;তাও যেনো নিয়ে আসে তাকে।”
মা এবং বোনের কথোপকথন শুনে অজানা কারণে ইয়াদ থমকে রইলো।আবারও তার আঁখিজোড়ায় দুআর মুখমন্ডল উঁকি দিচ্ছে বারংবার।ইয়াদ খেয়াল করলো অদ্ভুত ভাবে তার শরীরটা একটু তাপ ছড়াচ্ছে!
–“তারপর কি বললো ফুফু?”
মারিয়া পুনরায় প্রশ্ন করলো মাকে।
–“বললো,দুআ এখন মুটামুটি সুস্থ আছে।আর রামিসা ইয়াদের সাথে দেখা করার জন্যে পাগলপ্রায়।দুআ তার বন্ধুবি ছাড়া চলবে কিভাবে?আসবে আসবে।তুই ভাবিস না এতো।”
মারিয়া মাথা নাড়ালো আর বলে,
–“ঠিক আছে।আমরা অনেক মজা করবো। আম্মি,
একটু পরে যায়?আমি ভাইয়ার সাথে বসে থাকবো।”
–“মারু,যাও।হাত মুখ ধুয়ে আসো।”
ইয়াদের গম্ভীর কথায় মারিয়া কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়লো মায়ের পিছু পিছু।জিয়া কিছু না বলে লিভিংরুম থেকে বেরিয়ে গেলো ইয়াদের বাঁকা চাহনীতে।
–“দুআ কে?”
ইয়াসির নাস্তায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় প্রশ্ন করলো ইয়াদকে।
–“তোর কাজ কি তাতে?”
ইয়াদের পাল্টা প্রশ্নে বিরক্তির সুর।
–“রেগে যাচ্ছিস কেনো?জিজ্ঞেস করলাম শুধু।বল না, কে?”
ইয়াদের সাথে রসিকতার ফন্দি আটলো ইয়াসির।মারিয়া এবং ডালিয়ার কথা চলাকালীন ইয়াদকে অনেক প্রশ্ন করেছিলো ইয়াসির।কিন্তু ইয়াদ ছিলো ভাবলেশহীন।তার সম্পূর্ণ মনোনিবেশ ছিলো মারিয়া আর তার মায়ের কথায়।ইয়াসিরের চোখ এড়িয়ে যায়নি ব্যাপারটা।রামিসাকে ইয়াসির চিনে।গ্রামে তাদেরই বাড়ি গিয়েছিলো সে ইয়াদের সাথে।রামিসার কথা শুনে ইয়াদের ভাবলেশহীন হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।বাদবাকি প্রশ্ন উঠে দুআ নামের মেয়েটাতে।সেই জিনিস উদঘাটন করতেই ইয়াসিরের যতো চালাকি!
–“ইয়াসির!চুপ করে থাক।”
ইয়াদ ফুঁসে উঠলো।
–“ছবি আছে?দেখা না,প্লিজ!দুআ মেয়েটার নাম সুন্দর।দেখতে কেমন?অপ্সরী?”
–“বাড়াবাড়ি হচ্ছে,ইয়াসির।”
ইয়াসির এইবার হাসিতে ফেটে পড়লো,
–“মেয়েটা রামিসার বান্ধবী আন্টি বলেই দিলো।আমি তাও তোকে জিজ্ঞেস করলাম,কিন্তু জবাব পেলাম না।মেয়েটা রামিসার বান্ধুবী বুঝলাম।কিন্তু তোর কি?তুই কেনো এই মেয়ের ব্যাপারে এত হাইপার হচ্ছিস?”
ইয়াদ ইয়াসিরের প্রতি দৃষ্টি জ্ঞাপন করলো। সত্যিই তো!ইয়াদ কেনো দুআর ব্যাপারে ইয়াসিরের প্রশ্নে এতো উত্তেজিত হচ্ছে?ইয়াদ নিজের চুল টেনে ধরলো বাম হাতে,
–“এই তোর সমস্যা কি?বা হাতে দিবো একটা?ট্যুরের চিন্তা কর।”
ইয়াসির খুশিতে গদগদ,
–“সত্যি,ট্যুরে যাবি?”
–“বৃষ্টি কমলে।”
–“যায় বলিস।আমার মনে হয় না এইবার তুই যেতে পারবি ট্যুরে।প্রকৃতির বৃষ্টি থামলেও,মনের বৃষ্টির কারণে তোর ট্যুরে যাওয়া সম্ভব হবে না।উঠছি আমি।আজকের একটা তাজা খবর অন্যদের দিতে হবে।”
ইয়াসির উঠে পড়লো।
ইয়াদ তার কুঁচকে নেওয়া ভ্রুযুগল হালকা উপরে তুলে ইয়াসিরের জন্যে ছুড়লো এক হুমকি,
–“উল্টো পাল্টা বকবি তো,মেরে লাশ বানিয়ে ফেলবো।মুখ বন্ধ রাখবি।”
–“দেখা হবে বন্ধু,কারণে অকারণে।”
ইয়াসির ইয়াদের কথায় এক চোখ টিপে গানের সুর তুলে হনহনিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।মনে মনে কিছু কথা ভেবে ইয়াসির আজ একটু বেশিই খুশি।
ইয়াদ উঠে পড়লো।মাথা ভার লাগছে তার।দুআ মেয়েটার কথায় কেনো সে ইয়াসিরের সাথে রেগে গেলো এটাই নিজের বিবেক প্রশ্ন করছে তাকে।সামান্য দুই নাকি একবার ছবি দেখা,সেদিন পরিচয় বিহীন এক নজর আঁখি দেখে দুআ তার মস্তিষ্কের এমন হাল করেছে, যার দরুণ সে ইয়াসিরের সাথে রাগারাগি পর্যন্ত করলো!ইয়াদ বর্তমানে নিজের সাথে রেগে গেলো হঠাৎ।সে দুইহাত মুঠ করে বিড়বিড় করে বলে উঠলো,
–“আমি ট্যুরেই যাবো।কে আসবে না আসবে আমার কিছু যায় আসে…”
ইয়াদের আঁখিতে আবারও ভাসলো দুআর ক্লান্ত সুন্দর নেত্রযুগল। এতে সে বিরক্ত হয়ে অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো,
–“আহ, গড!”
__________________________
ঢাকা শহর যেনো দুআর জম।দুর্বলতার কারণে সে বেড়াতে পারেনি।এই রুমটাতে ছিলো এই কয়দিন।রিজোয়ান নিজেই নেয়নি দুআকে,বিশ্রাম করার উদ্দেশ্যে।অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ দুআ ভালবোধ করছে প্রচুর।তাই আজ রিজোয়ানের নির্দেশে যখন শুনেছে সে বেড়াতে যাবে,তখন তার অসুস্থ শরীর যেনো আরো চাঙ্গা হয়ে উঠলো।এইদিকে মেঘলা গগণটাতে আর বৃষ্টির আভাস নেই।তাই তারা যতো দ্রুত সম্ভব যাত্রা শুরু করার তাড়া লাগালো। পরিবেশ শান্ত,দুআর ছোট্ট মন অশান্ত।ইয়াদের সম্মুখীন হবে আজ সে? অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য! দুআ একটুও এটা বিশ্বাস করতে পারছে না।সেদিনের জন্য ধন্যবাদ দিবে কি সে ইয়াদকে?পরক্ষণে সে চিন্তা করলো,
–“আমি যে সেই মেয়েটা এটা উনি কখনোই জানবেন না।আর না উনি সেই ঘটনার কথা মনে রাখবেন?ইয়াদের সামনেই আমি যাবো না।যাওয়ার কোনো দরকার আমি দেখছিই না।কেমন যেনো অদ্ভুত লাগছে আমার!কুল দুআ। অন্য কোনো ব্যপার চিন্তা কর।”
আবাসিক এলাকায় ঢুকতেই গাড়ির কোলাহল,ব্যস্ত শহরের জনজাট সব যেনো কোথায় পালালো।দুআ বুঝতে পারলো,বাহিরের ঢাকা শহর আর আবাসিক এলাকার ভেতরকার অবস্থা একেবারে উল্টো।যতো ভেতরে এগুচ্ছে তারা ততো পরিবেশটা শান্ত মনে হচ্ছে তার।কালো সোনালী রঙের বিশাল ফটক।সেটা ভেদ করেই গাড়ি প্রবেশ করলো ভেতরে।খুবই সুন্দর পরিপাটি একটা বাড়ি এবং এর চারপাশ।শুভ্র রঙের দুইতলা দালানের দরজা, জানালা এবং ব্যালকনির গ্রিলের রং কালো। এতে যেনো দালানের রূপটা আরো মোহনীয় করেছে।একপাশে বড় গ্যারাজের এক দরজা খোলা,অন্যটা বন্ধ।বাগানের দিকটায় দুআ চোখ বুলাতে পারলো না। হাঁটার গতির সাথে তাল মিলাতে পারেনি সে বাগান পরিদর্শন করার।সামান্য সময়ে দুআর চোখ এই সম্পূর্ণ জায়গার ভ্রমণ করতে পারলো না।
ঘরের ভেতরের সবটাই সফেদ রঙের।আসবাবপত্র সবই কালো এবং খয়েরী রং দ্বারা আবৃত।সাইজে সবকিছুই যেনো একটু বেশি বড়।সত্যি বলতে,দুআর কাছে এই ঘরটা রাজমহল বলে মনে হচ্ছে। তাদের দুই তলা ভবন একদম সাদাসিদে তো এইখানে এই দুই তলা ভবনটা একদম আধুনিকতায় ও চাকচিক্যে ভরপুর।তবে,এই ভবনের চেয়ে দুআর মন টানছে তার নিজস্ব ভবনের দিকে।
ডালিয়া,জিয়া এবং মারিয়ার ব্যবহার অমায়িক।তাদের এতো আন্তরিকতা আশা করেনি দুআ।ডালিয়ার স্বামী তথা ইয়াদের বাবার সাথে তাদের মিললো না।জনাব সাজ্জাদ বরাবরই গ্রাম এবং গ্রামের মানুষদের একটু কম পছন্দ করে।শহরের আবহাওয়ায় আর দাম্ভিকতার কারণে উনি মানুষ কম যন্ত্র বেশি।তাই,কাজের বাহানায় উনি গত রাতেই শহরের অন্য এলাকায় পাড়ি জমালেন।
মারিয়া দুআর সাথে বেশ ভাব জমিয়ে ফেললো।দুআর চুপচাপ এবং মিষ্টি ব্যবহারে মারিয়া হয়ে গেলো দুআর ভক্ত।দুআ নিজেও মারিয়ার সাথে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছে।তারা সিঁড়ির পাশে অবস্থিত ছোট টেবিলের ধারে বসে আছে।মারিয়ার প্রিয় জায়গা এটা। ছোট টেবিলের পাশে গদি দেওয়া আছে।আপাতত তারা সেই গদির উপরই বসে আলোচনায় মশগুল।
–“ইয়াদ ভাইয়ের ঘুম আজ ভাঙবে না?”
মারিয়া তখন দুআর কালো দীঘল চুল ছুঁয়ে দেখছিলো।রামিসার প্রশ্নে সে দুআর চুলে হাত বুলিয়ে জবাব দিলো,
–“কিজানি?আজও সকালে ছাদে ক্রিকেট প্র্যাক্টিস করে ভাইয়া ঘুমিয়ে পড়েছে হঠাৎ।উঠে পড়বে হয়তো।”
–“ওহ!অনেকদিন ভাইয়ার সাথে দেখা হয়নি।”
রামিসার পানে চেয়ে মুচকি হাসলো মারিয়া।এরপর সে দুআর মুখের সম্মুখে নিজের মুখখানা এনে তাকে প্রশ্ন করলো,
–“তোমার মাথার কাপড় ফেলে একটা হেয়ার স্টাইল করে দিই আপু?”
দুআ মারিয়ার গাল চেপে বললো,
–“আচ্ছা,মারিয়া।”
–“তুমি আমাকে ভাইয়ার মতো ‘মারু’ ডাকবে,প্লিজ?”
–“আমি?হ্যাঁ,ডাকবো।”
দুআ কেনো তার ভাইয়ের মতো মারু ডাকবে,এই প্রশ্নটা দুআর মনেই থেকে গেলো।জড়তার কারণে সে আর প্রশ্নটা করলো না।
–“এই তুই আমার জানুর সাথে এতো ননাই করছিস কেনো?”
–“দুআ আপুকে আমার অনেক ভালো লেগেছে।তোমার চেয়েও ভালো আপু।তাই আমাকে আপু ‘মারু’ ডাকবে।”
–“ইস,ঢং।এই দুআ,তুই শুধু আমার।”
–“মারু এবং রামিসা ছাড়া আমি সবার।”
দুআ হেসে বললো।
দুআর ফাইজলামি বুঝতে পেরে বাকি দুইজনই ফিক করে হেসে উঠলো।
‘
ঘুমের ঘোরেই মোবাইলের শব্দ অনুসরন করে কানে ফোন লাগালো ইয়াদ। অপর পাশ থেকে ইয়াসির বলে উঠলো,
–“তুই আজ ফোন ধরছিস না কেনো?”
–“ঘুম ছিলাম।বল না,কি হয়েছে?”
ইয়াদের কণ্ঠ ঘুম মাখানো।
–“তোকে হাজারটা ফোন করে এখন পেলাম।এর পূর্বে মারিয়ার কাছে দিয়েছিলাম ফোন তোর খোঁজ করতে।শুনেছি তোদের বাসায় মেহমান এসেছে?দুআ মেয়েটাও নাকি এসেছে!”
–“বাজে বকিস না।এখনো আসেনি হয়তো কেউ।আসলে আম্মি এসে জ্বালাতন করতো।”
ইয়াদ আড়মোড়া ভেঙে বললো।বিছানা থেকে পা নামিয়ে সে নিচে যাওয়ার জন্যে এগুলো।
–“এসেছে রে এসেছে।গিয়ে দেখ।শুনলাম কাল নাকি দুআ মেয়েটার জন্যে তুই ইয়াসিরকে ধমক দিয়েছিস?”
–“স্পন্দন?”
ইয়াদের অবাক প্রশ্ন।
–“এইযে,আমিও আছি।কাহিনী কি বস?”
–“ফারসিভ!সবাই একসাথে করছিস কি?”
–“ট্যুরে যাব বলে ভাবছি।কিন্তু,তুই আসবি কি আসবি না এই নিয়ে একটু দ্বিধায় আছি।”
ইয়াসির বললো।
–“বৃষ্টি তো আজ থেমেছে।যাওয়া যায়।”
ইয়াদ বিনা দ্বিধায় জানালো।
–“শিউর?”
ফারসিভের প্রশ্নে আর উত্তর দেওয়া হলো না ইয়াদের। সিঁড়ির মাথায় দাঁড়াতেই এক রমণী প্রতি স্তব্ধ হয়ে গেলো তার নেত্রযুগল।মাথায় ঘুরঘুর করা ছবির সেই বাস্তব প্রতিচ্ছবি জলজ্যান্ত বসে আছে ইয়াদের চক্ষুর সম্মুখে।দুআর লম্বা ঘন চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মারিয়া।মাথার কাপড় পড়ে যাওয়ায় বিচলিত হয়ে আবারও মাথায় কাপড় খানা তুলে দিলো দুআ নামের মেয়েটা।বেগুনি রঙের ওড়নার আড়ালে তার শুভ্র চেহারা বিদ্যমান।কথার ছলে মুখের সামনের চুলটা খুব যত্ন সহকারে সরিয়ে নিচ্ছে সে।ইয়াদ স্বাভাবিক নেই।সরাসরি দুআকে দেখে অস্থির লাগছে তার।দুআর মুখটায় পবিত্রতায় ঘেরা।হাসিটাও তার চমৎকার।অট্টহাসিতে হাত দিয়ে ঠোঁট জোড়া চেপে ধরছে সে।ইয়াদ নিষ্পলক চেয়ে রইলো তার পানে।এই দেখার যেনো অন্ত নেই।মোবাইলে বলা “হ্যালো, হ্যালো” ইয়াদের কর্ণগহ্বরে এলে তার হুঁশ হয়।সে সরে আসে সিঁড়ির দিক থেকে।
–“বল।”
ইয়াদ বুকে হাত রাখলো।বুকটা আজ অতিরিক্ত শব্দ করছে উত্তেজনায়।
স্পন্দন প্রশ্ন করে,
–“দেখেছিস তাহলে দুআকে? তা,ট্যুরে যাবি?”
–“নাহ,ওয়েদার ভালো নেই।কয়েকদিন পরে যাবো।”
ইয়াদ ভেবে চিন্তে জবাব দিলো।
–“দেখেছিস,আমি বলেছিলাম না এই ছেলে কিছু লুকাচ্ছে!দুআ মেয়েটার জন্যে সে ট্যুর ক্যানসেল করে দিলো।”
ইয়াসির হেসে বলে।
–“চুপ থাক।আমি এমনিতেই বলেছি।”
ইয়াদ ট্রাউজারের পকেটে হাত রাখে।দ্রুত পা চালিয়ে হাঁটছে সে।উদ্দেশ্য,তার রুম।
–“বুঝি ভাই বুঝি।এইবার হয়তো একটা বিয়ের সানাই বাজবে?”
ফারসিভ বললো।
–“কি?মাথা ঠিক আছে?পাগল হয়েছিস তোরা।রাখছি।”
ইয়াদ বিরক্ত হলো যেনো।
–“আচ্ছা, চালতাহু দুআও মেঁ ইয়াদ রাখনা।”
স্পন্দন,ইয়াসির,ফারসিভ সবাই একসাথে গেয়ে উঠলো।
ইয়াদ ইংরেজি এক গালি উচ্চারণ করলো,
–“ফাঁ*!”
পুনরায় সবার অট্টহাসি শুনলে ইয়াদ ফোন কেটে দিলো।দুআর চেহারা স্মরণ করলে ইয়াদ বুঝতে পারলো গতকালের মতো তার দেহ থেকে একটা তাপ বেরুচ্ছে।বিছানায় উবুত হয়ে শুয়ে পড়লো সে।নিজ মনে সে আওড়াতে লাগলো,
–“মেয়েটা এতো শুভ্র কেনো?কেনো তার মুখশ্রী এতো মনোরম!পবিত্রতার সবটাই যেনো মেয়েটার মুখে এসে জড়ো হয়েছে।এতো মেয়ে দেখলাম,কিন্তু চেহারায় এমন পবিত্রতার ছোঁয়া কখনোই দেখিনি।মেয়েটার মুখশ্রী, সত্যি যেনো একফালি চাঁদ!আসর গড!হচ্ছেটা কি আমার সাথে?”